হোম / আহতদের তালিকা / মুরাদ হোসেন
মুরাদ হোসেন

মুরাদ হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী, এস এসসি পরীক্ষার্থী, ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
২০০৬ সালের ১০ আগস্ট, নীলফামারীর বাহালিপাড়ায় এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় এক শিশু। নাম রাখা হয় মুরাদ হোসেন। বাবা জালাল উদ্দিন একজন কৃষক, বয়স পঞ্চান্ন, আর মা আবেদা সুলতানা, বয়স পঁইতাল্লিশ, গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলান। তিন ভাইবোনের মধ্যে মুরাদ ছিলো সবচেয়ে চিন্তাশীল আর সংবেদনশীল। ছোট থেকেই তার চোখে ছিলো প্রশ্ন, মনে ছিলো প্রতিবাদের বীজ।
বর্তমানে মুরাদ রংপুর সিটি করপোরেশনের ফতেহপুর গ্রামে পরিবারসহ বসবাস করছে। সে ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বইয়ের পাতার বাইরে সে যেমন ছিলো জ্ঞানপিপাসু, তেমনি সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও ছিলো সোচ্চার। কৃষিজ আয়ের উপর নির্ভরশীল এই পরিবারে মুরাদ কখনো বিলাসিতা দেখেনি, কিন্তু আত্মমর্যাদায় সে ছিলো অটল।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিলো তার জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়। এই আন্দোলনে স্কুল পড়ুয়া হয়েও সে কাঁধে তুলে নেয় প্রতিবাদের ব্যানার। যখন শহরের রাজপথে হাজারো কণ্ঠ এক হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছিলো, তখন মুরাদ ছিলো তাদের অগ্রসারিতে। তার ক্ষুদ্র দেহে ছিলো অদম্য সাহস, যে সাহসে অনেক বড়রাও পিছিয়ে যায়।
একদিন, আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলিতে সে আহত হয়। সেই যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্তেও সে স্লোগান থামায়নি। তার মুখে ছিলো একটাই কথা— “ভয় পাই না, ন্যায়ের জন্য লড়ছি।” আহত অবস্থায় তার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, এবং অনেকের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে।
আজ মুরাদ হোসেন শুধু একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী নয়, সে একটি আন্দোলনের নাম, একটি প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি। চেতনার আগুনে দগ্ধ হয়েও সে এখনো সামনে তাকিয়ে আছে, কারণ তার স্বপ্ন একটা সুন্দর, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।
আন্দোলনে অংশগ্রহন: ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিলো কিশোর মুরাদ হোসেনের জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায়। বয়সে তরুণ, পরিচয়ে স্কুলপড়ুয়া, কিন্তু মননে ছিলো আগুন জ্বলা এক প্রতিবাদী চেতনা। ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মুরাদ তখন রংপুর শহরের উত্তাল রাজপথে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। আন্দোলনের শুরু থেকেই সে ছিলো সরব, দৃঢ়, এবং অগ্রণী। কখনো এক পা পিছিয়ে যায়নি। বিশেষ করে শহীদ আবু সাইদের বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড তার কিশোর হৃদয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো সে আগুন আর নিভেনি।
১৯ জুলাই, রংপুরের কোর্টবাপাড়া এলাকায় চলছিলো এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল। জনতার গর্জনে কেঁপে উঠছিলো রাজপথ। ঠিক সেই মুহূর্তে, পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলির ঝাঁকে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় নিরীহ মিছিল। মুরাদও পড়ে যায় সেই রক্তাক্ত আঘাতের মুখে। বাম পায়ে গুলি লাগে পায়ের মাংস ঝাঝড়া হয়ে যায়, রক্তে ভিজে যায় রাজপথ।
কিন্তু যন্ত্রণায় কাতর শরীরেও থেমে যায়নি তার কণ্ঠ।
তার মুখে তখনো উচ্চারিত হচ্ছিলো সেই অবিচল শপথ—
“ভয় পাই না, ন্যায়ের জন্য লড়ছি।”
এই সাহসিক উচ্চারণ কেবল উপস্থিত জনতাকেই নয়, নাড়িয়ে দিয়েছিলো হাজারো মানুষের বিবেক। আহত অবস্থায় তার রক্তমাখা ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। মুহূর্তেই সে হয়ে ওঠে এক প্রতিরোধের প্রতীক, তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা, রংপুরের মাটি থেকে জেগে ওঠা এক নামহীন নায়ক।
মুরাদ হোসেনের ক্ষুদ্র দেহে যে সাহস ছিলো, তা অনেক পরিণত ও প্রবীণদের হৃদয়ে অনুপস্থিত। তার লড়াই শুধু নিজ অধিকার বা নিরাপত্তার জন্য নয়—তা ছিলো একটি বৈষম্যহীন, মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথ। আর সেই শপথের মূল্য সে দিয়েছিলো নিজের রক্ত দিয়ে।
চিকিৎসার অবস্থা: আহত হওয়ার পর রংপুর মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই অপারেশনের মাধ্যমে অনেকগুলো গুলি বের করা হয়। চিকিৎসা বাবদ পরিবারের প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মত ব্যয় হয়। আরো উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে ভিতরে থাকা গুলিগুলো বের করতে হবে। বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন
প্রস্তাবনা: উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শরীর থেকে ছোররা গুলি বের করা। শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা।
নাম : মুরাদ হোসেন
জন্মতারিখ : ১০/০৮/২০০৬
জন্মস্থান : বাহালিপাড়া, নীলফামারী
পেশা : শিক্ষার্থী, এস এসসি পরীক্ষার্থী, ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পূর্ব ফতেপুর, রংপুর সিটি, রংপুর সদর, জেলা: রংপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: পূর্ব ফতেপুর, রংপুর সিটি, রংপুর সদর, জেলা: রংপুর

পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : জালাল উদ্দিন
পেশা ও বয়স : কৃষক -৫৫
মায়ের নাম : আবেদা সুলতানা
পেশা ও বয়স : গৃহীনি- ৪৫
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : কৃষি
সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ঘটনার স্থান : কোর্ট মসজিদ, রংপুর
তারিখ : ১৯/০৭/২৪
আক্রমণকারী : ঘাতক পুলিশ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍