মো: আদনান হোসেন রিফাত
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম ও পরিচয়
রংপুরের এক শান্ত গ্রামের নাম দহিগঞ্জ। এখানে জন্ম নেয় মো: আদনান হোসেন রিফাত, ২০০৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ছেলেটির জন্ম এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ঘরে, যেখানে স্বপ্ন দেখার অবকাশ কম, কিন্তু আশা ছিল অফুরান। পিতা মো: রোস্তম আলী একজন পরিশ্রমী মানুষ, বয়স এখন ৫২। মা মোছা: অঞ্জুমা বেগম গৃহিণী, বয়স ৪২, সংসারের সকল ভার এক হাতে সামলে নেন তিনি। রিফাতের পরিবারে রয়েছে পাঁচ সদস্য। বড় ভাই আনোয়ার হোসেন, ২৮ বছর বয়সে একটি ছোট ব্যবসা চালান, যা পরিবারটির একমাত্র আয়ের উৎস। বড় বোন রুজমা আক্তার রংপুর গভঃ কলেজে সম্মান ২য় বর্ষে পড়ছেন। রিফাত নিজে আফানউল্লাহ হাই স্কুল, মাহিগঞ্জ-এর এসএসসি পরীক্ষার্থী, পড়াশোনায় ভালো এবং সমাজ-সচেতন এক কিশোর। রিফাত বড় ভাই ও বোনের আদর্শ মেনে চলেন, স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষার, নিজের গ্রাম ও দেশের জন্য কিছু করার। রংপুর জেলার কোতয়ালি ইউনিয়নের এই কিশোরটি অল্প বয়সেই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী মনোভাবের অধিকারী, যিনি অন্যায়ের প্রতিবাদে নীরব থাকতে পারেন না।
আন্দোলনের পেছনের গল্প
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার। যাতে মেধাবীদের মূল্যায়ন করা যায়। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার আন্দোলনকে থামানোর জন্য দমন পিড়ন শুরু করে। কিন্তু তখন প্রচন্ড গণ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সংসদে দাড়িয়ে রাগবশত কোটা বাতিল ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল এটার স্থায়ী যৌক্তিক সংস্কার কিন্তু তিনি তা না করে বরং কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ হাইকোর্টের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। যার কারনে ২০২৪ সালে এসে শিক্ষার্থীরা আবারো আন্দোলন শুরু করে। এবারের আন্দোলন ছিল সাজানো-গোছানো। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের ছিল অনড়। কিন্তু এবারও শিক্ষার্থীদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। নিরস্র শিক্ষার্থীদের উপর স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী আওয়ামী যুব লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীরা আক্রমণ করে। বিশেষ করে ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে সারা দেশে বিক্ষোভের দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন জেলা উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস। ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে দানা বাঁধছিল এক ঐতিহাসিক ছাত্রআন্দোলন—কোটা সংস্কার আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা চাইছিলো চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা, সবার জন্য সমান সুযোগ।
আন্দোলনটা শুধু শহরের বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, গ্রাম ও মফস্বলের কিশোরদের মনেও তা জাগিয়ে তুলেছিলো প্রতিবাদের আগুন।আদনানও বাদ যায়নি। প্রতিদিন ফেসবুকে ঢাকার ছাত্রদের ভিডিও দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠতো। ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। সকাল থেকেই রংপুরের কাচারিবাজারে একত্র হচ্ছিল স্থানীয় স্কুল, কলেজের শত শত শিক্ষার্থী। রিফাত স্কুলের ব্যাগ ফেলে রেখে সেদিন বন্ধুদের নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে মিছিলে অংশ নেয়। তার মতো এতটুকু ছেলে, কিন্তু চোখে আগুন স্লোগান তুলছিল,
এই বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই মিছিলে হঠাৎ হামলে পড়ে পুলিশ এবং সরকারের দোসর আওয়ামী বাহিনী।
রক্তাক্ত বিকেল
১৯ জুলাই ২০২৪, বিকেল ৫টা। রংপুর শহরের কাচারিবাজার যেন এক রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। কিছুক্ষণ পরই ছররা গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। একদিকে ছিলো নিরস্র ছাত্র-জনতা যারা স্লোগান তুলেছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে অন্যদিকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশবাহিনী এবং তার দোসর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা দেশি-বিদেশে অস্ত্র, রড, হকিস্টিক, চাপাতি, কিরিচ, রাইফেল নিয়ে ছাত্র হত্যার প্রস্তুতি নিয়েছিল। ছাত্রদের শান্তিপুর্ণ মিছিলে পুলিশের মুহুর্মুহু টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং ছোররা গুলিতে ছাত্ররা ছত্রভংগ হয়ে যায়। রিফাতও দৌড়ে পালাতে থাকে। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মাথা, গলা, পিঠ ও উরুতে ছররা গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। ছেলেটা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলো, কিন্তু কারো সাহায্য করার সুযোগ ছিল না, পুলিশ পিছু পিছু ধেয়ে আসছিল। কয়েকজন ছাত্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে ধরে নিয়ে আসে। তারপর নিকটস্থ প্রাইম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তার শরীরে প্রায় ১২ু১৩টি ছররা গুলি রয়ে বিদ্ধ হয়েছিল।
চিকিৎসা
বিকেলের রক্তাক্ত সেই ঘটনার পর যখন আদনান হোসেন রিফাত মাটিতে পড়ে ছিল, তখন চারপাশে ছিল শুধু ধোঁয়া, চিৎকার আর সাইরেনের শব্দ। স্কুলব্যাগ ফেলে যে ছেলেটি সকালবেলা স্বপ্ন নিয়ে মিছিলে গিয়েছিল, সে তখন জ্ঞান হারানো অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তায় মাথা, গলা, পিঠ ও উরুতে ছররা গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে। একপাশ থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছে, অন্যপাশে তার নিস্পন্দ দেহ। কয়েকজন সহপাঠী তাকে ধরে নিয়ে যায় প্রাইম মেডিকেল হাসপাতে। সেই সময়ে হাসপাতালগুলোতে ছিল ভয়ংকর পরিবেশ। যারা আহত হচ্ছিল হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে চিকিৎসা দিতে চাচ্ছিল না। একদিকে পুলিশ প্রশাসনের ভয় অন্য দিকে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া। সব মিলিয়ে হাসপাতাল গুলাই ছিল আতঙ্ক। রিফাতকে প্রথমে প্রাইম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে তাকে পালিয়ে আসতে হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি কিছুদিন চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করে দেওয়া।
নাম : মো: আদনান হোসেন রিফাত
জন্ম তারিখ : ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : আফানুউল্লাহ হাই স্কুল,মাহিগঞ্জ (এসএসসি পরীক্ষার্থী)
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম : দহিগঞ্জ, ইউনিয়ন : কোতয়ালি, থানা : রংপুর সদর, জেলা : রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রোস্তম আলী
মায়ের নাম : মোছা: অঞ্জুমা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ৫২ বছর
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪২
আয়ের উৎস : ভাইয়ের ব্যবসা থেকে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাইবোন বিবরণ
১. আনোয়ার হোসেন, বয়স: ২৮, পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক: ভাই
২. রুজমা আক্তার, বয়স: ২৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: সম্মান ২য় বর্ষ, প্রতিষ্ঠান: রংপুর গভ. কলেজ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : কাচারিবাজার, রংপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৫ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
রংপুরের এক শান্ত গ্রামের নাম দহিগঞ্জ। এখানে জন্ম নেয় মো: আদনান হোসেন রিফাত, ২০০৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ছেলেটির জন্ম এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ঘরে, যেখানে স্বপ্ন দেখার অবকাশ কম, কিন্তু আশা ছিল অফুরান। পিতা মো: রোস্তম আলী একজন পরিশ্রমী মানুষ, বয়স এখন ৫২। মা মোছা: অঞ্জুমা বেগম গৃহিণী, বয়স ৪২, সংসারের সকল ভার এক হাতে সামলে নেন তিনি। রিফাতের পরিবারে রয়েছে পাঁচ সদস্য। বড় ভাই আনোয়ার হোসেন, ২৮ বছর বয়সে একটি ছোট ব্যবসা চালান, যা পরিবারটির একমাত্র আয়ের উৎস। বড় বোন রুজমা আক্তার রংপুর গভঃ কলেজে সম্মান ২য় বর্ষে পড়ছেন। রিফাত নিজে আফানউল্লাহ হাই স্কুল, মাহিগঞ্জ-এর এসএসসি পরীক্ষার্থী, পড়াশোনায় ভালো এবং সমাজ-সচেতন এক কিশোর। রিফাত বড় ভাই ও বোনের আদর্শ মেনে চলেন, স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষার, নিজের গ্রাম ও দেশের জন্য কিছু করার। রংপুর জেলার কোতয়ালি ইউনিয়নের এই কিশোরটি অল্প বয়সেই হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী মনোভাবের অধিকারী, যিনি অন্যায়ের প্রতিবাদে নীরব থাকতে পারেন না।
আন্দোলনের পেছনের গল্প
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার। যাতে মেধাবীদের মূল্যায়ন করা যায়। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার আন্দোলনকে থামানোর জন্য দমন পিড়ন শুরু করে। কিন্তু তখন প্রচন্ড গণ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সংসদে দাড়িয়ে রাগবশত কোটা বাতিল ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল এটার স্থায়ী যৌক্তিক সংস্কার কিন্তু তিনি তা না করে বরং কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ হাইকোর্টের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। যার কারনে ২০২৪ সালে এসে শিক্ষার্থীরা আবারো আন্দোলন শুরু করে। এবারের আন্দোলন ছিল সাজানো-গোছানো। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের ছিল অনড়। কিন্তু এবারও শিক্ষার্থীদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। নিরস্র শিক্ষার্থীদের উপর স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী আওয়ামী যুব লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীরা আক্রমণ করে। বিশেষ করে ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে সারা দেশে বিক্ষোভের দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন জেলা উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস। ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে পুরো বাংলাদেশ জুড়ে দানা বাঁধছিল এক ঐতিহাসিক ছাত্রআন্দোলন—কোটা সংস্কার আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা চাইছিলো চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা, সবার জন্য সমান সুযোগ।
আন্দোলনটা শুধু শহরের বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, গ্রাম ও মফস্বলের কিশোরদের মনেও তা জাগিয়ে তুলেছিলো প্রতিবাদের আগুন।আদনানও বাদ যায়নি। প্রতিদিন ফেসবুকে ঢাকার ছাত্রদের ভিডিও দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠতো। ১৯ জুলাই ছিল শুক্রবার। সকাল থেকেই রংপুরের কাচারিবাজারে একত্র হচ্ছিল স্থানীয় স্কুল, কলেজের শত শত শিক্ষার্থী। রিফাত স্কুলের ব্যাগ ফেলে রেখে সেদিন বন্ধুদের নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে মিছিলে অংশ নেয়। তার মতো এতটুকু ছেলে, কিন্তু চোখে আগুন স্লোগান তুলছিল,
এই বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই মিছিলে হঠাৎ হামলে পড়ে পুলিশ এবং সরকারের দোসর আওয়ামী বাহিনী।
রক্তাক্ত বিকেল
১৯ জুলাই ২০২৪, বিকেল ৫টা। রংপুর শহরের কাচারিবাজার যেন এক রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। কিছুক্ষণ পরই ছররা গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। একদিকে ছিলো নিরস্র ছাত্র-জনতা যারা স্লোগান তুলেছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে অন্যদিকে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশবাহিনী এবং তার দোসর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। তারা দেশি-বিদেশে অস্ত্র, রড, হকিস্টিক, চাপাতি, কিরিচ, রাইফেল নিয়ে ছাত্র হত্যার প্রস্তুতি নিয়েছিল। ছাত্রদের শান্তিপুর্ণ মিছিলে পুলিশের মুহুর্মুহু টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং ছোররা গুলিতে ছাত্ররা ছত্রভংগ হয়ে যায়। রিফাতও দৌড়ে পালাতে থাকে। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মাথা, গলা, পিঠ ও উরুতে ছররা গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল। ছেলেটা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলো, কিন্তু কারো সাহায্য করার সুযোগ ছিল না, পুলিশ পিছু পিছু ধেয়ে আসছিল। কয়েকজন ছাত্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে ধরে নিয়ে আসে। তারপর নিকটস্থ প্রাইম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তার শরীরে প্রায় ১২ু১৩টি ছররা গুলি রয়ে বিদ্ধ হয়েছিল।
চিকিৎসা
বিকেলের রক্তাক্ত সেই ঘটনার পর যখন আদনান হোসেন রিফাত মাটিতে পড়ে ছিল, তখন চারপাশে ছিল শুধু ধোঁয়া, চিৎকার আর সাইরেনের শব্দ। স্কুলব্যাগ ফেলে যে ছেলেটি সকালবেলা স্বপ্ন নিয়ে মিছিলে গিয়েছিল, সে তখন জ্ঞান হারানো অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তায় মাথা, গলা, পিঠ ও উরুতে ছররা গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে। একপাশ থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছে, অন্যপাশে তার নিস্পন্দ দেহ। কয়েকজন সহপাঠী তাকে ধরে নিয়ে যায় প্রাইম মেডিকেল হাসপাতে। সেই সময়ে হাসপাতালগুলোতে ছিল ভয়ংকর পরিবেশ। যারা আহত হচ্ছিল হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ তাদেরকে চিকিৎসা দিতে চাচ্ছিল না। একদিকে পুলিশ প্রশাসনের ভয় অন্য দিকে ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া। সব মিলিয়ে হাসপাতাল গুলাই ছিল আতঙ্ক। রিফাতকে প্রথমে প্রাইম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে তাকে পালিয়ে আসতে হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি কিছুদিন চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
স্কলারশিপ এর ব্যবস্থা করে দেওয়া।
নাম : মো: আদনান হোসেন রিফাত
জন্ম তারিখ : ২৬ ডিসেম্বর ২০০৯
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : আফানুউল্লাহ হাই স্কুল,মাহিগঞ্জ (এসএসসি পরীক্ষার্থী)
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম : দহিগঞ্জ, ইউনিয়ন : কোতয়ালি, থানা : রংপুর সদর, জেলা : রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রোস্তম আলী
মায়ের নাম : মোছা: অঞ্জুমা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : ৫২ বছর
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪২
আয়ের উৎস : ভাইয়ের ব্যবসা থেকে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাইবোন বিবরণ
১. আনোয়ার হোসেন, বয়স: ২৮, পেশা: ব্যবসা, সম্পর্ক: ভাই
২. রুজমা আক্তার, বয়স: ২৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: সম্মান ২য় বর্ষ, প্রতিষ্ঠান: রংপুর গভ. কলেজ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : কাচারিবাজার, রংপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৫ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍