হোম / আহতদের তালিকা / সৈকত হাসান শিমুল
সৈকত হাসান শিমুল

সৈকত হাসান শিমুল

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী, রংপুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইন রংপুর

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
সৈকত হাসান শিমুল রংপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের সাহসী কিশোর, যিনি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একটি নতুন বাংলাদেশের। তার জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে, রংপুর সদর উপজেলার তাজহাট ইউনিয়নের ধর্মাদাসদোলা গাড়া গ্রামে। তিনি বর্তমানে দর্শনা হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সৈকতের বেড়ে ওঠা হয় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা আখতারুজ্জামান একজন কায়িক শ্রমজীবী, যিনি পরিশ্রম করে সংসার চালান। মা রোজিনা বেগম, বয়স ৫৫, একজন গৃহিণী যিনি সংসারের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন নিঃশব্দে। সাত সদস্যের পরিবারে শিমুলের অবস্থান ছিল মজবুত ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে, সৈকত হাসান শিমুল হয়ে ওঠে সাহসের প্রতীক। যখন চারদিক থমথমে, শাসনের ছায়া গাঢ়, তখন শিমুল তার এলাকার কিশোরদের সংগঠিত করে রাস্তায় নামে। তার কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদের ভাষা, চোখে ছিল পরিবর্তনের প্রত্যয়।

একজন কিশোর হয়েও সে প্রমাণ করেছে যে বয়স নয়, মনের জোরই আসল শক্তি। তার সাহসিকতা, সংগঠকসুলভ ভূমিকা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় অংশগ্রহণ তাকে দিয়েছে “জুলাই যোদ্ধার পরিচিতি। শিমুল আজ শুধু একজন ছাত্র নয়, সে রংপুরের ধর্মাদাসদোলা গাড়ার গর্ব, সারাদেশের কিশোর আন্দোলনের অনুপ্রেরণা।
আন্দোলনে অংশগ্রহন: জুলাই ২০২৪—দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার জাগরণ, রংপুর তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল হাজারো কণ্ঠ। সেই উত্তাল সময়ে, স্বাধীনচেতা এক কিশোর সৈকত শিমুল তার বন্ধুদের নিয়ে প্রতিদিন আন্দোলনের সম্মুখভাগে থাকত। তার চোখে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দীপ্ত সাহস, মনে ছিল দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।
১৮ জুলাই, তাজহাট থানার সামনে মডার্ন মোড়ে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর হঠাৎ অতর্কিতে গুলি চালায় পুলিশ। সেই গুলির একটি সৈকতের পায়ে এসে বিদ্ধ হয়। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে—বোধ হারিয়ে ফেলে, পা নাড়াতে পারে না, ব্যথায় ছটফট করতে থাকে। আশপাশে থাকা বড় ভাইয়েরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি কোল্ড স্টোরের ট্রাকে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সৈকত ছিল বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান। তার এমন অবস্থায় পরিবার ভেঙে পড়ে। চোখে অশ্রু, বুকে শোক আর অনিশ্চয়তা তাদের দিন কাটতে থাকে উদ্বেগ আর প্রার্থনায়। কিন্তু এই কিশোর থেমে যায়নি। তার শরীর ছিন্নভিন্ন হলেও মন আজও জেগে আছে দেশের জন্য।
আন্দোলনে সৈকতের এই আত্মত্যাগ নিছক একটি ব্যক্তিগত কষ্ট নয় এ এক জাতীয় গর্বের প্রতিচ্ছবি। সে ছিল আওয়ামী বিরোধী সংগ্রামের এক অগ্রপথিক, যার সাহসিকতা নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। সৈকত শিমুল আজ প্রশ্ন রেখে গেছে জাতির সামনে তরুণদের রক্তে লেখা এই ইতিহাসের মূল্য আমরা কিভাবে রাখব?
চিকিৎসার অবস্থা


দেশপ্রেমের টানে আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া শিমুল আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আন্দোলনের মিছিলে গুলির শিকার হয়ে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ১২ দিন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপেক্ষা করতে হয় তাকে ব্যথায় ছটফট করতে করতেই পার হয়ে যায় এক-একটা রাত। অমানবিক হয়রানি, অব্যবস্থাপনা আর সীমিত চিকিৎসাসেবার মধ্য দিয়ে ২৯ জুলাই তার দেহে অপারেশন করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, চিকিৎসক জানান বুলেট সরাসরি পায়ে লাগে এবং হাড় ভেঙে গুড়িগুড়ি হয়ে যায় এবং বুলেটের একটি অংশ পায়ের মেইন ভেইনে আটকে যায়, ফলে এটি অপসারণ করা দুঃস্কর। অতঃপর অস্ত্রোপচারে পায়ে রড বসানো হয় এবং চিকিৎসা এখনো চলমান সরকারি চিকিৎসা ব্যয়ই দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লক্ষ টাকা যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা ছিল রীতিমতো অসম্ভব।
তবুও সংগ্রাম থেমে নেই। তবে সামনে আরও একটি বড় অপারেশন দরকার, যেটি তার প্রাণ বাঁচাতে অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসার পাশাপাশি, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে না ডুবে যায় এই দায়িত্ব আমাদের সবার। তার পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এখনই প্রয়োজন শিক্ষা বৃত্তি, যাতে এই সাহসী শিশু নিজের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া এবং দেশসেবার ব্রত আবারও জাগিয়ে তুলতে পারে।
কর্মসংস্থান ও বাজেট প্রস্তাবনা: শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করলে স্বচ্ছলতার সাথে পড়ালেখা চালানো সম্ভব।
নাম : সৈকত হাসান শিমুল
জন্ম তারিখ : ২৪/০১/২০০৯
পেশা : শিক্ষার্থী, রংপুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইন রংপুর
জেলা : রংপুর
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ধর্মদাশ দোলাপাড়া, ইউনিয়ন: তাজহাট রংপুর সদর, রংপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ধর্মাদাসদোলা গাড়া, ইউনিয়ন: তাজহাট রংপুর সদর, রংপুর

পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : আখতারুজ্জামান
পিতার পেশা ও বয়স : ব্যবসা, ৪৫
মায়ের নাম : আরশাদী বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী,৪০
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : ব্যবসা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍