মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: শিক্ষক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
শিক্ষকেরা মাথার তাজ
মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল
ক্রমিক: ৩২২
আইডি: রংপুর বিভাগ ১২৮
নিঃশব্দে বয়ে যাওয়া জীবন
রংপুর শহরের নিউ আদর্শপাড়ার আলমনগরে থাকে মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল। বয়স এখন ৪৫ পেরিয়ে ৪৬-এর দোরগোড়ায়। কিন্তু চোখে-মুখে শান্ত প্রকৃতির মায়া। তার জীবনটা একেবারেই সাদামাটা। ভোরে ওঠেন, নামাজ পড়েন, তারপর রওনা হন তার প্রিয় কর্মস্থল “ইসলামি সংগীত একাডেমি”তে, যেখানে তিনি ইসলামী শিক্ষা দেন ছেলেমেয়েদের। জীবনের চলার পথটা ছিল খুব সুন্দর সাজানো। তার পরিবার ছোট্ট, কিন্তু গভীর ভালোবাসার বন্ধনে গাঁথা স্ত্রী, দুই সন্তান, এবং তিনি নিজে। বড় মেয়ে নকিবা নিগার, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী; স্বপ্ন দেখে অনেক বড় হবার। আর ছোট ছেলে, মেহরান, মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সী।
খেলাধুলা, হাসিখুশি আর বাবার কোলে ঘুমানোর মাঝেই যার পৃথিবী সীমাবদ্ধ। পিতা মো: আব্দুর রহমান মন্ডল অনেক আগেই মারা গেছেন। মা জরিনা বেগম, এখন ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা, যিনি একসময় ছিলেন সংসারের মেরুদণ্ড। এখন গৃহিণীর পরিচয়ে ছেলের সংসারে শান্তিপূর্ণ সময় কাটাচ্ছেন। মো: নুরুল ইসলামের জীবনযাপন একেবারে সাধারণ একজন শিক্ষক পরিবারের মতো। বেতনের টাকায় চলে সংসার, কোনো বাড়তি বিলাসিতা নেই, শুধু দায়িত্ব আর ভালোবাসা।খেলাধুলা, হাসিখুশি আর বাবার কোলে ঘুমানোর মাঝেই যার পৃথিবী সীমাবদ্ধ। পিতা মো: আব্দুর রহমান মন্ডল অনেক আগেই মারা গেছেন। মা জরিনা বেগম, এখন ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা, যিনি একসময় ছিলেন সংসারের মেরুদণ্ড। এখন গৃহিণীর পরিচয়ে ছেলের সংসারে শান্তিপূর্ণ সময় কাটাচ্ছেন। মো: নুরুল ইসলামের জীবনযাপন একেবারে সাধারণ একজন শিক্ষক পরিবারের মতো। বেতনের টাকায় চলে সংসার, কোনো বাড়তি বিলাসিতা নেই, শুধু দায়িত্ব আর ভালোবাসা।
নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করেন। তিনি একজন গীতিকার, সুরকার ও ইসলামী সংগীত শিক্ষক। ‘ছাউনি’ ‘বায়না’ ও আমল নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। আর্থিক অভাবে এখন পত্রিকাগুলো বন্ধ আছে সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমি ডোনার পেলে পত্রিকাগুলো সম্পাদনা করে নতুন লেখা উপহার দিয়ে জীবন কাটাতে চান। তার খুবই ইচ্ছা অবহেলিত রংপুর অঞ্চলে জাতীয় মানের একটি ইউটিউব চ্যানেল প্রতিষ্ঠিত করে ইসলামী সংগীত চর্চার ধারা অব্যাহত রেখে নতুন নতুন জাতীয় মানের শিল্পী তৈরি করা।
তার লেখা কিছু জনপ্রিয় ইসলামী সংগীত:
তোমার মহিমা যত এই দুনিয়ায়।
ঈদ এলো ফুলে দুলে ধূলীর ধরায়।
তুমি পাশে আছো মাগো তবু লাগে ভয়।
চুপ চুপ চুপ থাকো মায়ের কথা হয়ে নতো।
আমাকে নিয়ে যাবো ওগো বন্ধু স্বপ্নের সোনালী নীড়ে।
আমার হৃদয় ভরা ভালোবাসা প্রেমে মাখামাখি।
স্বপ্নের রংধনু তুমি।
অথৈ নদী দিতে পারি ছাড়তে হবে নাও।
বনবিথীকার দেশ আমার মন কাড়িল।
আরও অনেক প্রতিনিয়ত তিনি লিখে যাচ্ছে শীঘ্রই তার লেখা কবিতা গান, গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
আবু সাঈদের মৃত্যুতে তিনি লিখেন:
আবু সাঈদের দুই হাত বিপ্লবী ডানা
ঐক্যের ডাক সাহস প্রতীক
মুক্তির নিশানা
আবু সাঈদ-
জুলাই শহীদের ইমাম আবু সাঈদ
সালাম সালাম সকল বীর শহীদ
তুমি বিজয় কাব্যের মহানায়ক
সেই ইতিহাস জানা\
আবু সাঈদ-
তোমার হাতে ছিলো বিজয়ী হাত
বুকে ছিলে গায়েবী বীরের বুক
তোমার শাহাদাতের লেখা হলো
সকল মজলুমের মুক্তির সুখ
তোমার (শরীর ভরা) অগ্নি সাহস
স্বৈরাচার ধ্বংসের পরমাণু প্রেরণা\
শহীদদের সেনাপতি তুমি
রক্ত ছুঁয়ে চুয়ে স্বাক্ষী ভূমি
আবার রক্তে দলিল হলো স্বাধীনতা
নতুন বাংলাদেশ পেলো ছাত্র-জনতা
আহা কি মায়া শহীদের রক্তে
মা-শিশুরাও দৌড়ে যুদ্ধে আসে
স্বৈরাচারীর সাজানো মসনদ
বিপ্লবের ঘূর্ণিতে যায় ভেসে
বুকে বুকে লেখা রবে তোমার সাহস
বুক ঊঁচু চেতনা\
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বেফাঁস কথাবার্তা
ও উগ্র মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে
২০২২ সালেই লেখেন:
প্রথমত
একটি শব্দে পরাজয় হয়!
যা দেখল বিশ্বময়।
একটি শব্দ প্রতিটি মানুষের
মনে আগুন ধরিয়ে দেয়,
অন্তর জ্বালায় কখন সে
প্রতিবাদের পথে দৌড়ে আসে
তা নিজেও জানে না!
শুধু নিজেকে দেখে লক্ষ লক্ষ লোকের
গর্জে ওঠা স্নোগানে
তার ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত যেন মুক্তির মিনার’।
সে অবাক হয়।
লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়ে নিজেকে দেখি
‘আমিও এখানে’।
এভাবে প্রত্যেক প্রতিবাদীর অজান্তে
আত্মত্যাগের বিনিময়ে আসে
কাংখিত বিজয়।
একটি শব্দে একটি কথায়
গর্জে ওঠে মাটি ও মানুষ।
দ্বিতীয়ত
একটি শব্দ অত্যাচারির মুখ ফসকে
বেরিয়ে আসে
আপন পাপের পরমাণু হয়ে
আমজনতার কানে কানে
যার জ্বালায় আগুন ধরে মনে।
শুধুমাত্র একটি শব্দ!
একটি কথা!
অবাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসে
আত্মঘাতী বোমা হয়ে
যার বিষ্ফোরণে-
‘জরা জীবনও জেগে ওঠে!
শুধুমাত্র একটি শব্দ!
একটি কথা!
অনেক রক্ত
অনেক প্রাণ
একটি শব্দ
স্বাক্ষর হয়ে থাকে
কালে কালে কালান্তর!
১২-০৬-২২, বেলা: ২:৩০
নজরুল চত্বর, রংপুর মহানগর
আন্দোলনের সময় ১৬-০৮-২০২৪ পোস্ট করেছিলেন। প্রচুর পরিমাণ শেয়ার হতে থাকে। পরবর্তীতে জীবন হানির আশংকায় ডিলিট করেন। তার ২০২২ সালে লেখা কবিতাটি বাস্তরে রুপ নেবে এটা ছিলো অকল্পনীয়। ততদিন কবিতাটি ফ্যাসিষ্ট সরকারের ভয়ে প্রকাশ করেননি। তিনি নূর নকীব মন্ডল নামে লেখেন। ঘঁৎ ঘধশরন গধহফধষ নামে এড়ড়মষব ঈযৎড়সব-এ সার্চ দিলেই বিভিন্ন চ্যানেল প্রকাশ হওয়ার তার লেখা ও সুর করা ইসলামী সঙ্গীত শুনতে পারবেন।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
নুরুল ইসলাম রাজনীতি করেন না। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই মানবধর্ম। তার একাডেমির কিছু ছাত্র-ছাত্রী যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে কিছু জানতে চায়, তিনি তাদের ইতিহাস বুঝিয়ে বলেন, “আন্দোলন করা অন্যায় নয়, যদি তা শান্তিপূর্ণ হয়।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ক্রমাগত বৈষম্য, নিয়োগে দুর্নীতি এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সরকার ছাত্রদের দাবি অগ্রাহ্য করে আসছিল। বিশেষ করে চাকরির বাজারে ক্ষমতাসীন দলের অনুগতদের প্রাধান্য, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও বিশেষ কোটার নামে অনিয়ম এসব বিষয় নিয়ে বেকার তরুণরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০২৪ সালে শুরু হয় এক নতুন আন্দোলন যা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, সকল নিয়োগে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতির কঠোর শাস্তি, ছাত্র-নির্যাতনের বিচার, মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার বন্ধ করা।
প্রতিবাদের বিস্ফোরণ
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল সব জায়গায় একযোগে ছাত্ররা রাস্তায় নামে। মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার সবকিছু এক সাথে চলতে থাকে। ঢাকার শাহবাগ, টিএসসি, এবং নিউমার্কেট এলাকা হয়ে উঠে প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। রংপুরে কলেজ মোড়, সিটি বাজার, মডার্ন মোড়, রাজশাহীতে সাহেববাজার, চারুকলা, চট্টগ্রামে জিইসি মোড়, কলেজ রোড ও কোর্ট পয়েন্টে চলছিল প্রতিদিনের আন্দোলন।
প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালালেও ১৭ জুলাই থেকে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকার আন্দোলনকারীদের “ষড়যন্ত্রকারী”, “জঙ্গি”, “রাজাকার” বলে আখ্যায়িত করে। শুরু হয় নিপীড়নের নগ্ন রূপ। ১৭ জুলাই ২০২৪ সাল, দুপুর ৩টা। রংপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা সিটি বাজারের সামনে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলো। একদিকে ছিল ছাত্র-জনতা অন্যদিকে ছিল স্বৈরাচারী পুলিশ ও আওয়ামী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। স্বৈরাচারী সরকার চেয়েছিল এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করতে, কিন্তু ছাত্ররা দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে আন্দোলনের গতি বাড়াতে থাকে। সেদিন রংপুরের সিটি বাজারের সামনের দৃশ্য ছিল খুবই ভয়াবহ। সকাল হতেই ছাত্র-জনতা এক হতে শুরু করেন সিটি বাজারে। সেখানকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পুলিশ, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগ হকিস্টিক, রড এবং দেশি-বিদেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সাথে অবস্থান নেয়। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে থাকলে এক পর্যায়ে পুলিশ আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ারগ্যাস রাবার বুলেট এবং ছররা গুলি ছাড়ে। সাথে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যাকে পাচ্ছিল তাকে রড, হকিস্টিক এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করছিল। একদিকে গুলির শব্দ অন্যদিকে ছাত্রলীগের ভয়াবহ আক্রমণে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এলোপাতাড়ি গুলি করলে নুরুল ইসলাম মন্ডলের শরীরে অনেকগুলো ছররা গুলি লাগে। তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। ছাত্র-জনতা তাকে ধরে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা: সে সময় অর্থাৎ সতেরই জুলাইয়ের দিকে চিকিৎসা করানো ছিল খুবই কঠিন ব্যাপার। কারণ হাসপাতালগুলোতেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীরা হুমকি দিচ্ছিলো। তিনি ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হসপিটালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। সেখান থেকেই অপারেশন করে তার ছররা গুলি বের করা হয়। তার মাথায় এখনো ব্যথা অনুভূত হয়।
প্রস্তাব : সারা শরীরে এখনো ব্যথা। বিশেষ করে মাথায় ও নাকে আঘাত জনিত কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
নাম : মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল
জন্ম তারিখ : ২ জানুয়ারি ১৯৭৯
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষক
প্রতিষ্ঠান : ইসলামি সংগীত একাডেমি
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: নিউ আদর্শপাড়া, ইউনিয়ন: আলমনগর, থানা: সদর, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আব্দুর রহমান মন্ডল, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: জরিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬৫
আয়ের উৎস : বেতন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. নকিবা নিগার, বয়স: ১১ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৬ষ্ঠ, সম্পর্ক: মেয়ে
২. মেহরান মন্ডল, বয়স: ৪.৫ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : সিটি বাজারের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ১৭ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা : তার শরীরে এখনো বেশ কিছু ছররা গুলি আছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে গুলিগুলো বের করা প্রয়োজন।
মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল
ক্রমিক: ৩২২
আইডি: রংপুর বিভাগ ১২৮
নিঃশব্দে বয়ে যাওয়া জীবন
রংপুর শহরের নিউ আদর্শপাড়ার আলমনগরে থাকে মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল। বয়স এখন ৪৫ পেরিয়ে ৪৬-এর দোরগোড়ায়। কিন্তু চোখে-মুখে শান্ত প্রকৃতির মায়া। তার জীবনটা একেবারেই সাদামাটা। ভোরে ওঠেন, নামাজ পড়েন, তারপর রওনা হন তার প্রিয় কর্মস্থল “ইসলামি সংগীত একাডেমি”তে, যেখানে তিনি ইসলামী শিক্ষা দেন ছেলেমেয়েদের। জীবনের চলার পথটা ছিল খুব সুন্দর সাজানো। তার পরিবার ছোট্ট, কিন্তু গভীর ভালোবাসার বন্ধনে গাঁথা স্ত্রী, দুই সন্তান, এবং তিনি নিজে। বড় মেয়ে নকিবা নিগার, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী; স্বপ্ন দেখে অনেক বড় হবার। আর ছোট ছেলে, মেহরান, মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সী।
খেলাধুলা, হাসিখুশি আর বাবার কোলে ঘুমানোর মাঝেই যার পৃথিবী সীমাবদ্ধ। পিতা মো: আব্দুর রহমান মন্ডল অনেক আগেই মারা গেছেন। মা জরিনা বেগম, এখন ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা, যিনি একসময় ছিলেন সংসারের মেরুদণ্ড। এখন গৃহিণীর পরিচয়ে ছেলের সংসারে শান্তিপূর্ণ সময় কাটাচ্ছেন। মো: নুরুল ইসলামের জীবনযাপন একেবারে সাধারণ একজন শিক্ষক পরিবারের মতো। বেতনের টাকায় চলে সংসার, কোনো বাড়তি বিলাসিতা নেই, শুধু দায়িত্ব আর ভালোবাসা।খেলাধুলা, হাসিখুশি আর বাবার কোলে ঘুমানোর মাঝেই যার পৃথিবী সীমাবদ্ধ। পিতা মো: আব্দুর রহমান মন্ডল অনেক আগেই মারা গেছেন। মা জরিনা বেগম, এখন ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা, যিনি একসময় ছিলেন সংসারের মেরুদণ্ড। এখন গৃহিণীর পরিচয়ে ছেলের সংসারে শান্তিপূর্ণ সময় কাটাচ্ছেন। মো: নুরুল ইসলামের জীবনযাপন একেবারে সাধারণ একজন শিক্ষক পরিবারের মতো। বেতনের টাকায় চলে সংসার, কোনো বাড়তি বিলাসিতা নেই, শুধু দায়িত্ব আর ভালোবাসা।
নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করেন। তিনি একজন গীতিকার, সুরকার ও ইসলামী সংগীত শিক্ষক। ‘ছাউনি’ ‘বায়না’ ও আমল নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। আর্থিক অভাবে এখন পত্রিকাগুলো বন্ধ আছে সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমি ডোনার পেলে পত্রিকাগুলো সম্পাদনা করে নতুন লেখা উপহার দিয়ে জীবন কাটাতে চান। তার খুবই ইচ্ছা অবহেলিত রংপুর অঞ্চলে জাতীয় মানের একটি ইউটিউব চ্যানেল প্রতিষ্ঠিত করে ইসলামী সংগীত চর্চার ধারা অব্যাহত রেখে নতুন নতুন জাতীয় মানের শিল্পী তৈরি করা।
তার লেখা কিছু জনপ্রিয় ইসলামী সংগীত:
তোমার মহিমা যত এই দুনিয়ায়।
ঈদ এলো ফুলে দুলে ধূলীর ধরায়।
তুমি পাশে আছো মাগো তবু লাগে ভয়।
চুপ চুপ চুপ থাকো মায়ের কথা হয়ে নতো।
আমাকে নিয়ে যাবো ওগো বন্ধু স্বপ্নের সোনালী নীড়ে।
আমার হৃদয় ভরা ভালোবাসা প্রেমে মাখামাখি।
স্বপ্নের রংধনু তুমি।
অথৈ নদী দিতে পারি ছাড়তে হবে নাও।
বনবিথীকার দেশ আমার মন কাড়িল।
আরও অনেক প্রতিনিয়ত তিনি লিখে যাচ্ছে শীঘ্রই তার লেখা কবিতা গান, গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
আবু সাঈদের মৃত্যুতে তিনি লিখেন:
আবু সাঈদের দুই হাত বিপ্লবী ডানা
ঐক্যের ডাক সাহস প্রতীক
মুক্তির নিশানা
আবু সাঈদ-
জুলাই শহীদের ইমাম আবু সাঈদ
সালাম সালাম সকল বীর শহীদ
তুমি বিজয় কাব্যের মহানায়ক
সেই ইতিহাস জানা\
আবু সাঈদ-
তোমার হাতে ছিলো বিজয়ী হাত
বুকে ছিলে গায়েবী বীরের বুক
তোমার শাহাদাতের লেখা হলো
সকল মজলুমের মুক্তির সুখ
তোমার (শরীর ভরা) অগ্নি সাহস
স্বৈরাচার ধ্বংসের পরমাণু প্রেরণা\
শহীদদের সেনাপতি তুমি
রক্ত ছুঁয়ে চুয়ে স্বাক্ষী ভূমি
আবার রক্তে দলিল হলো স্বাধীনতা
নতুন বাংলাদেশ পেলো ছাত্র-জনতা
আহা কি মায়া শহীদের রক্তে
মা-শিশুরাও দৌড়ে যুদ্ধে আসে
স্বৈরাচারীর সাজানো মসনদ
বিপ্লবের ঘূর্ণিতে যায় ভেসে
বুকে বুকে লেখা রবে তোমার সাহস
বুক ঊঁচু চেতনা\
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বেফাঁস কথাবার্তা
ও উগ্র মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে
২০২২ সালেই লেখেন:
প্রথমত
একটি শব্দে পরাজয় হয়!
যা দেখল বিশ্বময়।
একটি শব্দ প্রতিটি মানুষের
মনে আগুন ধরিয়ে দেয়,
অন্তর জ্বালায় কখন সে
প্রতিবাদের পথে দৌড়ে আসে
তা নিজেও জানে না!
শুধু নিজেকে দেখে লক্ষ লক্ষ লোকের
গর্জে ওঠা স্নোগানে
তার ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত যেন মুক্তির মিনার’।
সে অবাক হয়।
লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়ে নিজেকে দেখি
‘আমিও এখানে’।
এভাবে প্রত্যেক প্রতিবাদীর অজান্তে
আত্মত্যাগের বিনিময়ে আসে
কাংখিত বিজয়।
একটি শব্দে একটি কথায়
গর্জে ওঠে মাটি ও মানুষ।
দ্বিতীয়ত
একটি শব্দ অত্যাচারির মুখ ফসকে
বেরিয়ে আসে
আপন পাপের পরমাণু হয়ে
আমজনতার কানে কানে
যার জ্বালায় আগুন ধরে মনে।
শুধুমাত্র একটি শব্দ!
একটি কথা!
অবাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসে
আত্মঘাতী বোমা হয়ে
যার বিষ্ফোরণে-
‘জরা জীবনও জেগে ওঠে!
শুধুমাত্র একটি শব্দ!
একটি কথা!
অনেক রক্ত
অনেক প্রাণ
একটি শব্দ
স্বাক্ষর হয়ে থাকে
কালে কালে কালান্তর!
১২-০৬-২২, বেলা: ২:৩০
নজরুল চত্বর, রংপুর মহানগর
আন্দোলনের সময় ১৬-০৮-২০২৪ পোস্ট করেছিলেন। প্রচুর পরিমাণ শেয়ার হতে থাকে। পরবর্তীতে জীবন হানির আশংকায় ডিলিট করেন। তার ২০২২ সালে লেখা কবিতাটি বাস্তরে রুপ নেবে এটা ছিলো অকল্পনীয়। ততদিন কবিতাটি ফ্যাসিষ্ট সরকারের ভয়ে প্রকাশ করেননি। তিনি নূর নকীব মন্ডল নামে লেখেন। ঘঁৎ ঘধশরন গধহফধষ নামে এড়ড়মষব ঈযৎড়সব-এ সার্চ দিলেই বিভিন্ন চ্যানেল প্রকাশ হওয়ার তার লেখা ও সুর করা ইসলামী সঙ্গীত শুনতে পারবেন।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
নুরুল ইসলাম রাজনীতি করেন না। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই মানবধর্ম। তার একাডেমির কিছু ছাত্র-ছাত্রী যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে কিছু জানতে চায়, তিনি তাদের ইতিহাস বুঝিয়ে বলেন, “আন্দোলন করা অন্যায় নয়, যদি তা শান্তিপূর্ণ হয়।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ক্রমাগত বৈষম্য, নিয়োগে দুর্নীতি এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সরকার ছাত্রদের দাবি অগ্রাহ্য করে আসছিল। বিশেষ করে চাকরির বাজারে ক্ষমতাসীন দলের অনুগতদের প্রাধান্য, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও বিশেষ কোটার নামে অনিয়ম এসব বিষয় নিয়ে বেকার তরুণরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০২৪ সালে শুরু হয় এক নতুন আন্দোলন যা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এই আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, সকল নিয়োগে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন, প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতির কঠোর শাস্তি, ছাত্র-নির্যাতনের বিচার, মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার বন্ধ করা।
প্রতিবাদের বিস্ফোরণ
২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল সব জায়গায় একযোগে ছাত্ররা রাস্তায় নামে। মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার সবকিছু এক সাথে চলতে থাকে। ঢাকার শাহবাগ, টিএসসি, এবং নিউমার্কেট এলাকা হয়ে উঠে প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। রংপুরে কলেজ মোড়, সিটি বাজার, মডার্ন মোড়, রাজশাহীতে সাহেববাজার, চারুকলা, চট্টগ্রামে জিইসি মোড়, কলেজ রোড ও কোর্ট পয়েন্টে চলছিল প্রতিদিনের আন্দোলন।
প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালালেও ১৭ জুলাই থেকে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকার আন্দোলনকারীদের “ষড়যন্ত্রকারী”, “জঙ্গি”, “রাজাকার” বলে আখ্যায়িত করে। শুরু হয় নিপীড়নের নগ্ন রূপ। ১৭ জুলাই ২০২৪ সাল, দুপুর ৩টা। রংপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা সিটি বাজারের সামনে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলো। একদিকে ছিল ছাত্র-জনতা অন্যদিকে ছিল স্বৈরাচারী পুলিশ ও আওয়ামী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। স্বৈরাচারী সরকার চেয়েছিল এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করতে, কিন্তু ছাত্ররা দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে আন্দোলনের গতি বাড়াতে থাকে। সেদিন রংপুরের সিটি বাজারের সামনের দৃশ্য ছিল খুবই ভয়াবহ। সকাল হতেই ছাত্র-জনতা এক হতে শুরু করেন সিটি বাজারে। সেখানকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পুলিশ, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগ হকিস্টিক, রড এবং দেশি-বিদেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের সাথে অবস্থান নেয়। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে থাকলে এক পর্যায়ে পুলিশ আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ারগ্যাস রাবার বুলেট এবং ছররা গুলি ছাড়ে। সাথে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যাকে পাচ্ছিল তাকে রড, হকিস্টিক এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করছিল। একদিকে গুলির শব্দ অন্যদিকে ছাত্রলীগের ভয়াবহ আক্রমণে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এলোপাতাড়ি গুলি করলে নুরুল ইসলাম মন্ডলের শরীরে অনেকগুলো ছররা গুলি লাগে। তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। ছাত্র-জনতা তাকে ধরে নিকটস্থ হসপিটালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসা: সে সময় অর্থাৎ সতেরই জুলাইয়ের দিকে চিকিৎসা করানো ছিল খুবই কঠিন ব্যাপার। কারণ হাসপাতালগুলোতেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীরা হুমকি দিচ্ছিলো। তিনি ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হসপিটালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। সেখান থেকেই অপারেশন করে তার ছররা গুলি বের করা হয়। তার মাথায় এখনো ব্যথা অনুভূত হয়।
প্রস্তাব : সারা শরীরে এখনো ব্যথা। বিশেষ করে মাথায় ও নাকে আঘাত জনিত কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
নাম : মো: নুরুল ইসলাম মন্ডল
জন্ম তারিখ : ২ জানুয়ারি ১৯৭৯
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষক
প্রতিষ্ঠান : ইসলামি সংগীত একাডেমি
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: নিউ আদর্শপাড়া, ইউনিয়ন: আলমনগর, থানা: সদর, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আব্দুর রহমান মন্ডল, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: জরিনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬৫
আয়ের উৎস : বেতন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. নকিবা নিগার, বয়স: ১১ বছর, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৬ষ্ঠ, সম্পর্ক: মেয়ে
২. মেহরান মন্ডল, বয়স: ৪.৫ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : সিটি বাজারের সামনে
আহত হওয়ার সময় : ১৭ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা : তার শরীরে এখনো বেশ কিছু ছররা গুলি আছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে গুলিগুলো বের করা প্রয়োজন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍