মো: শরিফুল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
স্বপ্ন নিয়ে জন্ম
২১ নভেম্বর ২০০৪, রংপুর জেলার সেনপাড়া গ্রামে জন্ম নেয় এক নবজাতক মো: শরিফুল ইসলাম। মায়ের হাসিতে মাটির ঘরে কান্নার শব্দ মিলিয়ে যায়। সে ছিল পরিবারের প্রথম সন্তান। বাবা মো: শফিকুল ইসলাম তখনও ভাবছিলেন, কেমন হবে সন্তানের ভবিষ্যৎ? দিনমজুরের কাঁধে সংসারের বোঝা, তবুও সন্তানের জন্য একটুখানি আশার আলো খুঁজতেন। শরিফুল বড় হতে থাকে এক নিঃশব্দ সংগ্রামের মধ্যে। খেলার মাঠে তার সঙ্গী ছিল ছেঁড়া বল, আর পড়ার ঘরে সঙ্গী ছিল কুপি বাতির নরম আলো। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই তার শিক্ষাজীবনের শুরু। তিনি তার শিক্ষা জীবনে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও একটা কোচিং-এ ক্লাস নিতেন। তার দিনমজুর বাবা তার খরচ চালাতে পারতেন না তাই তিনি কোচিং করে নিজেই নিজের খরচ চালাতেন এবং ছোট ভাইদের পড়াশুনার তদারকি করতেন।
ন্যায় ও সমতার দাবিতে
ঐতিহাসিক আন্দোলনের এক যোদ্ধাঅভাব নামের আঘাতে গড়া মনোবল
শরিফুলের পরিবার ছিল একেবারে নিম্নবিত্ত। বাবা দিনমজুর, বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। প্রতিদিন সকাল হলেই মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ খুঁজতেন। মা মোছা: শরিফা বেগম, বয়স ৪০, গৃহিণী। একটু হাসিতে তিনি আড়াল করতেন সংসারের দুঃখ। ভাই ইয়ামিন দশম শ্রেণির ছাত্র আর ছোট ভাই তামিম বয়স মাত্র ছয় বছর। ছয়জনের সংসারে দিন চলে টানাটানিতে, অনেক সময় রাতের খাবারে শুধু ভাত ও লবণ।
এই অভাবই ছিল শরিফুলের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। নিজের খরচ বাঁচিয়ে, পুরোনো বই পড়ে সে এইচএসসি পাস করে। ফলাফলও ভালো। তার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করা, দেশের জন্য কিছু করা। সে সব সময়, সত্য-ন্যায়ের পক্ষে ছিল। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে তিনি প্রথম থেকে সচেতন ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই বৈষম্য যদি দূর করা না হয় তাহলে ভবিষ্যতেও এরকম একটা অনিশ্চয়তা আসবে তার জীবনে।
প্রতিবাদের পথচলা
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শরিফুল পড়তো স্কুলে। তবে সে বুঝে ফেলেছিল, দেশের শিক্ষার্থীরা আর চুপ থাকবে না। ২০১৮ থেকে শুরু হয়ে আন্দোলনের জোয়ারে তার মনেও জমে ওঠে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। ২০২৪ সালের শুরুতে দেশের ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ নেয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রংপুরসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে। মূল দাবি ছিল কোটা নয় মেধার মূল্য দাও, ছাত্রদের অধিকার নিশ্চিত করো। প্রশাসন এই প্রতিবাদে ভয় পায়। শুরু হয় ধরপাকড়, গুম, মিথ্যা মামলা আর নির্যাতনের খেলা। তবুও শরিফুলের মতো তরুণরা ভীত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সংগঠিত হতো, রাতের আঁধারে পোস্টার লাগাতো, দিনের আলোতে মিছিল করত। সেই আন্দোলন আর শুধু ছাত্রদের ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল দেশের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর।
গভীর রাতের গুম ও বর্বরতা
১৮ জুলাই ২০২৪, রংপুর শহরের এক বিশাল মিছিলে শরিফুল সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তিনি প্রথম থেকেই আন্দোলনের সামনে সারিতে থাকায় সেদিন থেকেই সে টার্গেট হয়ে যায়। ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের উপর আক্রমণ করে। সেদিন অনেক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। শরিফুল তাদের মধ্যে অন্যতম। আহত অবস্থায় ছাত্র-জনতা তাকে ধরে বাসায় নিয়ে যায়। অন্যদিকে পুলিশ ছাত্রদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল, যারা আন্দোলনের সক্রিয় ছিল। ২২ জুলাই, রাত তখন ২টা। সবাই ঘুমিয়ে। হঠাৎ করেই কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি শরিফুলের বাড়িতে হানা দেয়। নিজেদের পরিচয় দেয় ডিবি হিসেবে। তার বাবা-মা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শরিফুলকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়। তাকে শহরের এক নির্জন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন। রড, লাঠি, বুটের আঘাতে শরিফুলের শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ে।
তাকে বলে “তুই স্বীকার কর, জামাত-শিবির করিস!”সে বলে আমি ছাত্র “আমি কিছু করিনি, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।” এই কথা বললে আবারো শুরু হয় নির্যাতন। একের পর এক লাঠির আঘাত এবং নির্যাতনে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। পোশাকধারী ডিবিরা তাকে মৃত ভেবে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানেও চলে হুমকি, মামলার ভয়। তাকে চলে আসতে হয় বাড়িতে। গোপনে চিকিৎসা নিতে থাকেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ হলেও মাঝে মাঝে তার কোমরে ব্যথা করে এবং মাঝে মাঝে ট্রমা কাজ করে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: শরিফুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০০৪
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : অনার্স ১ম বর্ষ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: সেনপাড়া, থানা: কোতোয়ালি, জেলা : রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: শফিকুল ইসলাম
মায়ের নাম : মোছা: শরিফা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৫০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. ইয়ামিন, বয়স : ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: ভাই
২. তামিম, বয়স : ৬, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : নিজ বাড়ি
আহত হওয়ার সময় : ২২ জুলাই ২০২৪, রাত ২টা
আক্রমণকারী : ডিবি
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া
২১ নভেম্বর ২০০৪, রংপুর জেলার সেনপাড়া গ্রামে জন্ম নেয় এক নবজাতক মো: শরিফুল ইসলাম। মায়ের হাসিতে মাটির ঘরে কান্নার শব্দ মিলিয়ে যায়। সে ছিল পরিবারের প্রথম সন্তান। বাবা মো: শফিকুল ইসলাম তখনও ভাবছিলেন, কেমন হবে সন্তানের ভবিষ্যৎ? দিনমজুরের কাঁধে সংসারের বোঝা, তবুও সন্তানের জন্য একটুখানি আশার আলো খুঁজতেন। শরিফুল বড় হতে থাকে এক নিঃশব্দ সংগ্রামের মধ্যে। খেলার মাঠে তার সঙ্গী ছিল ছেঁড়া বল, আর পড়ার ঘরে সঙ্গী ছিল কুপি বাতির নরম আলো। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই তার শিক্ষাজীবনের শুরু। তিনি তার শিক্ষা জীবনে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও একটা কোচিং-এ ক্লাস নিতেন। তার দিনমজুর বাবা তার খরচ চালাতে পারতেন না তাই তিনি কোচিং করে নিজেই নিজের খরচ চালাতেন এবং ছোট ভাইদের পড়াশুনার তদারকি করতেন।
ন্যায় ও সমতার দাবিতে
ঐতিহাসিক আন্দোলনের এক যোদ্ধাঅভাব নামের আঘাতে গড়া মনোবল
শরিফুলের পরিবার ছিল একেবারে নিম্নবিত্ত। বাবা দিনমজুর, বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। প্রতিদিন সকাল হলেই মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ খুঁজতেন। মা মোছা: শরিফা বেগম, বয়স ৪০, গৃহিণী। একটু হাসিতে তিনি আড়াল করতেন সংসারের দুঃখ। ভাই ইয়ামিন দশম শ্রেণির ছাত্র আর ছোট ভাই তামিম বয়স মাত্র ছয় বছর। ছয়জনের সংসারে দিন চলে টানাটানিতে, অনেক সময় রাতের খাবারে শুধু ভাত ও লবণ।
এই অভাবই ছিল শরিফুলের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। নিজের খরচ বাঁচিয়ে, পুরোনো বই পড়ে সে এইচএসসি পাস করে। ফলাফলও ভালো। তার ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করা, দেশের জন্য কিছু করা। সে সব সময়, সত্য-ন্যায়ের পক্ষে ছিল। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে তিনি প্রথম থেকে সচেতন ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই বৈষম্য যদি দূর করা না হয় তাহলে ভবিষ্যতেও এরকম একটা অনিশ্চয়তা আসবে তার জীবনে।
প্রতিবাদের পথচলা
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শরিফুল পড়তো স্কুলে। তবে সে বুঝে ফেলেছিল, দেশের শিক্ষার্থীরা আর চুপ থাকবে না। ২০১৮ থেকে শুরু হয়ে আন্দোলনের জোয়ারে তার মনেও জমে ওঠে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। ২০২৪ সালের শুরুতে দেশের ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ নেয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রংপুরসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে। মূল দাবি ছিল কোটা নয় মেধার মূল্য দাও, ছাত্রদের অধিকার নিশ্চিত করো। প্রশাসন এই প্রতিবাদে ভয় পায়। শুরু হয় ধরপাকড়, গুম, মিথ্যা মামলা আর নির্যাতনের খেলা। তবুও শরিফুলের মতো তরুণরা ভীত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সংগঠিত হতো, রাতের আঁধারে পোস্টার লাগাতো, দিনের আলোতে মিছিল করত। সেই আন্দোলন আর শুধু ছাত্রদের ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল দেশের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর।
গভীর রাতের গুম ও বর্বরতা
১৮ জুলাই ২০২৪, রংপুর শহরের এক বিশাল মিছিলে শরিফুল সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তিনি প্রথম থেকেই আন্দোলনের সামনে সারিতে থাকায় সেদিন থেকেই সে টার্গেট হয়ে যায়। ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের উপর আক্রমণ করে। সেদিন অনেক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। শরিফুল তাদের মধ্যে অন্যতম। আহত অবস্থায় ছাত্র-জনতা তাকে ধরে বাসায় নিয়ে যায়। অন্যদিকে পুলিশ ছাত্রদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল, যারা আন্দোলনের সক্রিয় ছিল। ২২ জুলাই, রাত তখন ২টা। সবাই ঘুমিয়ে। হঠাৎ করেই কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি শরিফুলের বাড়িতে হানা দেয়। নিজেদের পরিচয় দেয় ডিবি হিসেবে। তার বাবা-মা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শরিফুলকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়। তাকে শহরের এক নির্জন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন। রড, লাঠি, বুটের আঘাতে শরিফুলের শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ে।
তাকে বলে “তুই স্বীকার কর, জামাত-শিবির করিস!”সে বলে আমি ছাত্র “আমি কিছু করিনি, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।” এই কথা বললে আবারো শুরু হয় নির্যাতন। একের পর এক লাঠির আঘাত এবং নির্যাতনে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। পোশাকধারী ডিবিরা তাকে মৃত ভেবে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। সেখানেও চলে হুমকি, মামলার ভয়। তাকে চলে আসতে হয় বাড়িতে। গোপনে চিকিৎসা নিতে থাকেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ হলেও মাঝে মাঝে তার কোমরে ব্যথা করে এবং মাঝে মাঝে ট্রমা কাজ করে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: শরিফুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০০৪
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : অনার্স ১ম বর্ষ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: সেনপাড়া, থানা: কোতোয়ালি, জেলা : রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: শফিকুল ইসলাম
মায়ের নাম : মোছা: শরিফা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৫০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. ইয়ামিন, বয়স : ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ১০ম, সম্পর্ক: ভাই
২. তামিম, বয়স : ৬, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : নিজ বাড়ি
আহত হওয়ার সময় : ২২ জুলাই ২০২৪, রাত ২টা
আক্রমণকারী : ডিবি
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেয়া
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍