হোম / আহতদের তালিকা / মো: আনা বাবু
মো: আনা বাবু

মো: আনা বাবু

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শ্রমিক

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আনা বাবুর পরিচয়
মোঃ আনা বাবু ২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার বাগদোয়ার ইউনিয়নের বগেরবাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম মোঃ রমজান আলি, মা মোছাম্মদ মোরশেদা বেগম। তারা দুই ভাই। তিনি পেশায় তিনি একজন ইমাম । ২০২৪ জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদ পতন আন্দোলনের একজন কর্মী এবং আহত যোদ্ধা।
আন্দোলনের অংশগ্রহণ
মো: আনা বাবু গ্রামের ছেলে। তার বাবা ষাটোর্ধ কৃষক। দারিদ্রতার কারণে পড়ালেখা বেশি করতে পারেননি। তিনি হাফেজ, হেফজ করার পর আর লেখাপড়া চালাতে পারেননি। গাজীপুরে একটি কারখানায় পাঞ্জেগানা মসজিদে স্বল্প বেতনে ইমামতি করেন। জুলাইয়ে দেশব্যাপী শুরু হয় সরকার পতন আন্দোলন। প্রথমে কোটা বিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু। তারপর এই আন্দোলনই এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়। আনা বাবু সময় পেলেই আন্দোলনে যোগ দিতেন।

মুক্তির লড়াই
পনর বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে করেছিল অবরুদ্ধ। মানুষের কোন বাকস্বাধীনতা ছিল না। ছিল না কোনরকম ভোটাধিকার। ভোটের নামে প্রহসনে লিপ্ত ছিল স্বৈরাচার হাসিনা। গণতান্ত্রিক পন্থাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতো। কোন রাজনৈতিক দলকে তাদের নিজস্ব প্রচার প্রচারণা চালাতে দিত না। জনগণকে কোন রকম মতামত প্রকাশ করতে দেওয়া হত না। হত্যা, গুম, হামলা, মামলায় সমগ্র দেশ ছিল নরক তুল্য। মো: আনা বাবু একজন অতি সাধারণ মানুষ। এইসব অনিয়ম তার বিবেকেও সজাগ করে তুলেছিল। ছাত্রদের কর্তৃক আন্দোলন শুরু হলে তার মত হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা দাবির স্বপক্ষে রাজপথে নেমে আসল। আন্দোলন তুমুল আকার ধারণ করল। তিনি একজন স্বল্প বেতনের ইমাম। দরিদ্র সংসার। তার এসব বিষয় নিজের কাছে তুচ্ছ মনে হল। গ্রামের সহজ সরল ছেলেটি নিজের জীবন জীবিকার কথা চিন্তা না করে, সংসারের কথা বাদ রেখে দেশপ্রেমে, দেশকে মুক্ত করতে শরিক হন মুক্তির এই আন্দোলনে।
প্রতিদিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছল। এখন এক দফা দাবি। হাসিনার পদত্যাগ। জুলাই থেকে আগস্টে শত, হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। আহত হয়েছে হাজার হাজার। ৫ আগস্ট আন্দোলনের শেষ কর্মসূচি ‘লং মার্চ টু ঢাকা : গণভবন ঘেরাও।’ কার্ফিউ, মৃত্যু সব উপেক্ষা করে জনতা সকাল থেকেই ঢাকা মুখী। আগের দিনেও চলে গেছে অনেকে। তারা গাজীপুরের বাইপাসে অবস্থান নেন। পুলিশ বাঁধা দেয়। হঠাৎ জনতার উপর নির্বিচারে গুলি করে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয় বহুলোক। মো: আনা বাবুও গুলিবিদ্ধ হন। তার পায়ে ছররা গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জুলাইয়ে চিকিৎসা পরিস্থিতি ও তার চিকিৎসা
আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নাই। সর্বত্র রুগী ভর্তি। সারাদেশে আওয়ামীলীগের আক্রমণে, পুলিশের নির্যাতনে হাজার হাজার আহতের সংখ্যা। পুলিশ গুলি করে হত্যা করছে, আহত হচ্ছে। চিকিৎসা করারও সুযোগ নাই। গাজীপুর সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তিনি ভর্তি হন ক্লিনিকে। সেখান থেকে চলে যান গ্রামে নিজের বাড়িতে। পরে রংপুর হাসপাতালে ১ মাস চিকিৎসা নেন। তার পায়ের কিছু গুলি বের করা হয়। অনেক ছররা গুলি পায়ে থেকে যায়। এগুলো আর বের করা হয়নি। এখন পায়ের পাতা ও আঙুলে জটিলতা দেখা দেয়। আঙুল নিস্ক্রিয় হয়ে আছে।
সুস্থতার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ
এক মাস হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি এখন সুস্থ। তবে ছররা গুলি থেকে যাওয়ায় নানারকম জটিলতা দেখা দেয়। পায়ের পাতা ঠিক মতো কাজ করে না। আঙুলগুলো নিস্ক্রিয়। তাকে দেশে কিংবা দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তার অবশিষ্ট গুলি বের করে আনা। সুস্থতার চিকিৎসা করা আশু প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান নিয়ে কথা
তিনি একজন হাফেজ। দরিদ্র মানুষ। চিকিৎসা করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। প্রথমে তাকে এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে পুনর্বাসিত করা। ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করা।
ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ আনা বাবু
জন্ম তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০১
জন্মস্থান : পীরগঞ্জ
পেশা : শ্রমিক
জেলা : রংপুর

স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: বগেরবাড়ি, ইউনিয়ন : বাগদোয়ার, থানা: পীরগঞ্জ, জেলা: রংপুর

পিতার নাম : রমজান আলি
পিতার পেশা : কৃষক
মায়ের নাম : মোছা: মোরশেদা বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : আল ইমরান নবম শ্রেণীর ছাত্র

স্থান : বাইপাস গাজীপুর
সময় : ০৫-০৮-২৪ সকাল ১০.৩০
আক্রমণকারী : পুলিশ, গাজীপুর

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍