মেফতাহুল জান্নাত মিতা
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
আবু সাঈদের শাহাদাতের
দিন আহত হন
চোখের নিচের অংশ ও কপালের একপাশে।
মেফতাহুল জান্নাত মিতা সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আবু সাঈদ যেদিন শহীদ হন সেদিনই আহত হন প্রতিষ্ঠানের ৩ নং গেটে মিতা। মিতা জন্ম গ্রহণ করেন ২৩ নবেম্বর ২০০৭ সালে রংপুরে। তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। তার বাবার নাম মোঃ মফিজুল ইসলাম, মা মোছাঃ মোসলেমা বেগম।
মিতারা তিন বোন এক ভাই। রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার সিটি কর্পোরেশনের কুবারো মহল্লায় তাদের বসতবাড়ি। মিতা খুব সাহসী ও প্রতিবাদী মেয়ে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নং গেটে পুলিশের গুলিতে আহত হন।
ঘটনার বিবরণ
মিতা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার মায়ের ভাষ্য মতে মিতা ছোট থেকেই সাহসী ও প্রতিবাদী। বাবা মায়ের নিষেধ সত্বেও সে আন্দোলনে প্রতিদিন অংশ নেয়। ১৬ জুলাই আন্দোলন সারাদেশে বিপুল বেগে ছড়িয়ে পড়ে। রংপুর শহর সারাদেশের মতো উত্তপ্ত। পুলিশ ছাত্রদের সমাবেশে গুলি ছুঁড়ে। এই দিনই শহীদ হন আবু সাঈদ। আবু সাঈদের শাহাদাতে দেশ অগ্নিগর্ভ ধারণ করে। ছাত্রদের পাশে এসে হাতে হাত রেখে একাত্মতা ঘোষণা করে জনতা। মিতা শুরু থেকেই আন্দোলনের সাথে ছিলেন। মিছিলে ব্যানারেরও আগের সারিতে মিতাসহ ৩জন মেয়ে ছিলো। আবু সাইদও তার পাশে ছিলেন
সরকারও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। নিরীহ ছাত্রদের নির্বিচারে গুলি করে। মেফতাহুল জান্নাত মিতা তার বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নং গেটে শক্ত অবস্থান নেয়। মিছিলে স্লোগানে মুখরিত করে রাখে পরিবেশ। পুলিশ তাদের লক্ষ করে মুহুর্মুহু গুলি ছুঁড়ে। মিতা চোখের কাছে, কপালে গুলি বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই তারা টিয়ারশেলের বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ পরিবেশে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। তারা শ্বাস নিতে পারছিলেন না। এমতাবস্থায় গুলিবিদ্ধ হলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। প্রায় অচেতন অবস্থায় তাকে সতীর্থ সহযোদ্ধারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালেও পায়নি চিকিৎসা
আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। বাসায় তার বাবা অসুস্থ। স্কুল শিক্ষক বাবা দীর্ঘদিন ক্যানসারের সাথে লড়াইরত। শহরের মেয়ে। চোখ কান খোলা। নিষেধ সত্ত্বেও আন্দোলনে গিয়ে আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে রংপুর মেডিকেল চিকিৎসা করতে নেয়। সরকার প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে নিষেধ করে রাখে যেন কোন আন্দোলনকারীকে চিকিৎসা দেওয়া না হয়।
হাসপাতালে পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্ক ছিল। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করার শঙ্কাও ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চিকিৎসা করতে অনীহা প্রকাশ করে। অগত্যা তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেও কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিতে ভয় পায়। পরে অবশ্য চিকিৎসা দেয়। চোখের নিচে বিদ্ধ ছররা গুলি বের করা হয়। স্থানীয় চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চোখের চিকিৎসা করান। বর্তমানে মিতা সুস্থ।
বর্তমান অবস্থা
প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। গ্রেফতার বা হামলার শঙ্কা ছিল। এসব মোকাবেলা করেই তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গুলি মেজর অপারেশন করে বের করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ। এখনো মিতা বন্ধুদের সাহস যোগান। তার শারীরিক অবস্থা ভালো।
কর্মসংস্থান বা অনুদান বিষয়ক কথা
মিতা একজন শিক্ষার্থী। তিনি ভার্সিটির ছাত্র। তার পড়ালেখা সহজ করার জন্য তাকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া যেতে পারে। স্কলারশিপ ব্যবস্থা করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়। অথবা এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মেফতাহুল জান্নাত মিতা
জন্ম তারিখ : ২৩-১০-২০০৭
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : কোবারু কঃেলজ পাড়া, বুড়িরহট ফার্ম, রংপুর
পিতার নাম : মোঃ মফিজুল ইসলাম
পিতার পেশা : স্কুল শিক্ষক
মায়ের নাম : মোছাঃ মোসলেমা বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
এক ভাই
জামান উল করিম নাইম, অনার্সের ছাত্র
বোন
মিশকাতুল জান্নাত মৌ, অনার্স ২য় বর্ষ
জান্নাতুল ফেরদৌস মনি, ৭ম শ্রেণি
তিনি আহত হয়েছেন : ১৬-০৭-২৪ তারিখ
আহত হওয়ার স্থান : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট (বর্তমান শহিদ আবু সাইদ গেট)
আক্রমণকারী : পুলিশ
আঘাতের ধরন : ছররা গুলি লেগেছে।
দিন আহত হন
চোখের নিচের অংশ ও কপালের একপাশে।
মেফতাহুল জান্নাত মিতা সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আবু সাঈদ যেদিন শহীদ হন সেদিনই আহত হন প্রতিষ্ঠানের ৩ নং গেটে মিতা। মিতা জন্ম গ্রহণ করেন ২৩ নবেম্বর ২০০৭ সালে রংপুরে। তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। তার বাবার নাম মোঃ মফিজুল ইসলাম, মা মোছাঃ মোসলেমা বেগম।
মিতারা তিন বোন এক ভাই। রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার সিটি কর্পোরেশনের কুবারো মহল্লায় তাদের বসতবাড়ি। মিতা খুব সাহসী ও প্রতিবাদী মেয়ে। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নং গেটে পুলিশের গুলিতে আহত হন।
ঘটনার বিবরণ
মিতা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার মায়ের ভাষ্য মতে মিতা ছোট থেকেই সাহসী ও প্রতিবাদী। বাবা মায়ের নিষেধ সত্বেও সে আন্দোলনে প্রতিদিন অংশ নেয়। ১৬ জুলাই আন্দোলন সারাদেশে বিপুল বেগে ছড়িয়ে পড়ে। রংপুর শহর সারাদেশের মতো উত্তপ্ত। পুলিশ ছাত্রদের সমাবেশে গুলি ছুঁড়ে। এই দিনই শহীদ হন আবু সাঈদ। আবু সাঈদের শাহাদাতে দেশ অগ্নিগর্ভ ধারণ করে। ছাত্রদের পাশে এসে হাতে হাত রেখে একাত্মতা ঘোষণা করে জনতা। মিতা শুরু থেকেই আন্দোলনের সাথে ছিলেন। মিছিলে ব্যানারেরও আগের সারিতে মিতাসহ ৩জন মেয়ে ছিলো। আবু সাইদও তার পাশে ছিলেন
সরকারও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। নিরীহ ছাত্রদের নির্বিচারে গুলি করে। মেফতাহুল জান্নাত মিতা তার বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নং গেটে শক্ত অবস্থান নেয়। মিছিলে স্লোগানে মুখরিত করে রাখে পরিবেশ। পুলিশ তাদের লক্ষ করে মুহুর্মুহু গুলি ছুঁড়ে। মিতা চোখের কাছে, কপালে গুলি বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই তারা টিয়ারশেলের বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ পরিবেশে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। তারা শ্বাস নিতে পারছিলেন না। এমতাবস্থায় গুলিবিদ্ধ হলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। প্রায় অচেতন অবস্থায় তাকে সতীর্থ সহযোদ্ধারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালেও পায়নি চিকিৎসা
আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। বাসায় তার বাবা অসুস্থ। স্কুল শিক্ষক বাবা দীর্ঘদিন ক্যানসারের সাথে লড়াইরত। শহরের মেয়ে। চোখ কান খোলা। নিষেধ সত্ত্বেও আন্দোলনে গিয়ে আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে রংপুর মেডিকেল চিকিৎসা করতে নেয়। সরকার প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে নিষেধ করে রাখে যেন কোন আন্দোলনকারীকে চিকিৎসা দেওয়া না হয়।
হাসপাতালে পুলিশি গ্রেফতার আতঙ্ক ছিল। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করার শঙ্কাও ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চিকিৎসা করতে অনীহা প্রকাশ করে। অগত্যা তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানেও কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিতে ভয় পায়। পরে অবশ্য চিকিৎসা দেয়। চোখের নিচে বিদ্ধ ছররা গুলি বের করা হয়। স্থানীয় চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চোখের চিকিৎসা করান। বর্তমানে মিতা সুস্থ।
বর্তমান অবস্থা
প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। গ্রেফতার বা হামলার শঙ্কা ছিল। এসব মোকাবেলা করেই তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। গুলি মেজর অপারেশন করে বের করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ। এখনো মিতা বন্ধুদের সাহস যোগান। তার শারীরিক অবস্থা ভালো।
কর্মসংস্থান বা অনুদান বিষয়ক কথা
মিতা একজন শিক্ষার্থী। তিনি ভার্সিটির ছাত্র। তার পড়ালেখা সহজ করার জন্য তাকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া যেতে পারে। স্কলারশিপ ব্যবস্থা করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়। অথবা এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মেফতাহুল জান্নাত মিতা
জন্ম তারিখ : ২৩-১০-২০০৭
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : কোবারু কঃেলজ পাড়া, বুড়িরহট ফার্ম, রংপুর
পিতার নাম : মোঃ মফিজুল ইসলাম
পিতার পেশা : স্কুল শিক্ষক
মায়ের নাম : মোছাঃ মোসলেমা বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
এক ভাই
জামান উল করিম নাইম, অনার্সের ছাত্র
বোন
মিশকাতুল জান্নাত মৌ, অনার্স ২য় বর্ষ
জান্নাতুল ফেরদৌস মনি, ৭ম শ্রেণি
তিনি আহত হয়েছেন : ১৬-০৭-২৪ তারিখ
আহত হওয়ার স্থান : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট (বর্তমান শহিদ আবু সাইদ গেট)
আক্রমণকারী : পুলিশ
আঘাতের ধরন : ছররা গুলি লেগেছে।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍