হোম / আহতদের তালিকা / মো: রাকিবুল ইসলাম
মো: রাকিবুল ইসলাম

মো: রাকিবুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: চাকরি

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আহতদের সেবা করতে গিয়ে নিজেই গুলিবিদ্ধ হন

মোঃ রাকিবুল ইসলাম জন্ম করেন ০২ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে। তার গ্রামের নাম মাস্টারপাড়া, ভগি। রংপুর সদর থানার খটখটিয়া ইউনিয়নের একটি পরিচিত গ্রাম মাস্টারপাড়া। এটি রংপুর জেলায় অবস্থিত। তার বাবার নাম মোঃ মশিয়ার রহমান, মা মোছাঃ আকতার বানু। পেশায় তিনি ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা। তিনি জুলাই বিপ্লবে আহতদের সেবা সহযোগিতা করতে গিয়ে নিজেই আহত হন। তিনি আহত হন ১৯ জুলাই ২০২৪ এ।

তিনি ছিলেন সেচ্ছাসেবক:
জুলাইয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হল। পনের বছরের স্বৈরশাসকের ভীত কাঁপিয়ে দিল ছাত্র সমাজ। সারাদেশে সরকার ব্যাপক দমন পীড়ন চালিয়েও আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়। উপরন্ত আন্দোলনের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। ছাত্র জনতা রাজপথে বিপুল উৎসাহে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামে। সরকারের পেটুয়া বাহিনী হামলা করে আহত করে। শুরু থেকে ১৯ জুলাইয়ে সরকারের পুলিশ বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় কয়েকজন ছাত্র। আহত হয় শত শত। ঢাকার প্রবেশ পথ গুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মোহাম্মদপুরের বছিলা ব্রীজ ঢাকার একটি অন্যতম প্রবেশ পথ। এ পথে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। পুলিশ ও ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই হামলা করে। তবু আন্দোলনকারীরা অবস্থানে অনঢ় থাকে। রাকিবুলসহ বহু লোক আন্দোলনকারীদের সাহায্যে এগিয়ে আগে।

১৯ জুলাই অন্যান্য দিনের মতো আন্দোলনকারীদের সাহায্যে বছিলায় আসেন। হঠাৎ বিনা উস্কানিতে পুলিশ সমাবেশে নির্বিচারে গুলি করে। বহু মানুষ আহত হয়। রাকিবুলরা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাতে থাকেন। এক সময় তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। দুই পায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার বা পায়ে হাঁটুতে লেগে গুলি হাড় ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পদে পদে বাঁধা, অতঃপর চিকিৎসা
পুরো জুলাই মাস ছিল উত্তপ্ত। সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী, অনুগত পুলিশ বাহিনীর অত্যাচারে গোটা দেশের মানুষ ছিল আতঙ্কিত। আহত হওয়ার পর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে পারেনি আহতরা। নিহতদের জানাজা, দাফনেও বাঁধা দিত আওয়ামী নেতাকর্মীরা। তারা নিহতের স্বজনদের হুমকি দিত, দাফন কাজে অংশগ্রহণকারীদের পুলিশি হয়রানি করতো। রাকিবুল ইসলাম আহত হওয়ার পর তাকে প্রথমেই নেওয়া হয় পঙ্গু হাসপাতালে। তিনি মারাত্মক আহত হওয়ার পরও তার যথাযথ চিকিৎসা করেনি। কোন রকম দায়সারা ব্যাণ্ডেজ করে তাকে বিদায় দেওয়া হয়। পরে তিনি বাসায় চলে আসেন। বাসায়ও তাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। ২২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই তাকে থাকতে হয় আত্মগোপনে। পরে রংপুর চলে যান। রংপুর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর সিএমএইসে চিকিৎসা নেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন ১ মাস ১৪ দিন। জুলাইয়ের পরে তার চিকিৎসা করতে সহজ হয়। ভারতে চিকিৎসা নিতে চেষ্টা করলে জুলাইয়ে আহত হওয়ায় ভিসা পাননি। তার হাঁটুর গুলি খুব মারাত্মক শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

যেভাবে পরবর্তী চিকিৎসা ও সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়
তিনি দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন না। তার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।
তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। সিএমএইস থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তা করলে ভালো হয়।

পুনর্বাসন প্রস্তাবনা
তিনি একটি ই কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা করার কারণে তার চাকরি চলে যায়। শারীরিকভাবেও কাজ করতে সক্ষম নন। তাকে পুনর্বাসনের জন্য ব্যবসায়িক পুঁজি দিয়ে সহায়তা করা যায়। তিনি ইলেক্টিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করা। সুবিধাজনক চাকুরির ব্যবস্থা করলেও ভালো হয়।

তার বোন মোসলেমা ও মোর্শেদা বিবাহিত।
ভাই রেজাউল ব্যবসায়ী, জাকিরুল বেকার ও রবিউল ও ব্যবসা করেন
আহত হওয়ার সংক্ষিপ্ত চিত্র
১৯ জুলাই ২০২৪ এ আহত হন। বছিলা ব্রীজে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি তার দুই পায়ে লাগে।
বাম পায়ে হাঁটুতে লেগে গুলি অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে পরে। পুলিশ গুলি করে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ রাকিবুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ০২-০১-১৯৯৮
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : চাকুরি
নিজ জেলা : রংপুর

স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মাস্টারপাড়া, ভগি, ইউনিয়ন খটখটিয়া, থানা: রংপুর সদর, জেলা: রংপুর
পিতার নাম : মোঃ মশিয়ার রহমান
পিতার পেশা : অবসর
মায়ের নাম : মোছাঃ আকতার বানু
মায়ের পেশা : গৃহিণী


📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍