হোম / আহতদের তালিকা / মো:
মো:

মো:

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আলমনগর, ওয়ার্ড-২৭, রংপুর সদর, রংপুর

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মোঃ মমদেল হোসেন রংপুর জেলার সদর থানার আলমডাঙ্গা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোঃ কবির হোসেন। মা মোছাঃ মনোয়ারা বেগম। বাবা লাকড়ির ব্যবসা করতেন। জানুয়ারি ২০২৫ এ তিনি মারা যান। এখন তার মা এই ব্যবসা দেখাশোনা করেন। মমদেল হোসেন জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ আহত হয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৪ এর জুলাই বাংলাদেশে ঘটে গেছে এক গণবিপ্লব। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে জনতার এই জোয়ারে হাসিনা পালিয়ো যেতে বাধ্য হয়। হাসিনা ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের সকল রাস্তা বন্ধ করে এক স্বৈরাচারে পরিণত হয়। ভোটের নামে করে প্রহসন। তার আমলের ভোট রাতের ভোট নামে পরিচিত। রাজনীতি করার অধিকার হরণ করে। পুলিশ ও তার ত্রাস বাহিনী দিয়ে দেশকে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির ক্ষেত্র করে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, জেল, হামলা করে তাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। কেউ কথা বলতে পারেনি। জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমেও হত্যা মিশন চালু রাখে। তবু মানুষ থেমে থাকেনি। নানা সময় আন্দোলন জারি রাখে। হাসিনার পতনের অপেক্ষায় থাকে মুক্তিকামী জনতা। কিন্ত পেরে ওঠেনি। জুলাই ২৪ এ শুরু হল ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র আন্দোলন ২০১৮ তেও শুরু হয়েছিল। তখনও হামলা মামলায় হাসিনা দমন করে। ২৪ এ শুরু হল কোটা বিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনের শুরুতেই হাসিনা কঠোরতা প্রদর্শন করে। ন্যায্য দাবি দমনে মাঠে নামিয়ে দেয় হাসিনার খুনি ছাত্রলীগ। তারা হামলা করে আন্দোলনরতদের। রক্তাক্ত হয় ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা। পরে রক্তের প্রতিশোধে ঐক্যবদ্ধ হয় সমগ্র ছাত্র সমাজ। সারাদেশ এক যোগে রাজপথে নামে। ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ায় সাধারণ জনতা।
হাসিনা তার সকল জনবল দমন পীড়নে নামিয়ে দেয়। ছাত্র হত্যায় হাসিনা নির্মম নিষ্ঠুর ইতিহাস রচনা করে। জুলাইয়ে শত শত মানুষের লাশ পড়ে।
আন্দোলনে অংশ গ্রহণ

জুলাইয়ের বিপ্লবে সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামে। যুগপৎ আন্দোলন হয়। জুলাইর শুরু থেকে আন্দোলনের সূচনা, তার বিস্তৃতি ঘটে মধ্য জুলাইয়ে। আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর আর কেউ নিজের জীবনের দিকে তাকায়নি। তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। সকল শ্রেণি পেশার মানুষ সরকারের প্রতি অনাস্থা জানায়। মমদেল হোসেন একজন শ্রমিক। তিনিও দেশ মুক্তির আন্দোলনে অংশ নেন। আওয়ামী নিপীড়ন নির্যাতনের বিষয়টি তিনি জানতেন। দেশের স্বার্থে এসব কিছুকে তুচ্ছ ভেবেই আন্দোলনে অংশ নেন। প্রতিদিনের মতো তিনি ১৯ জুলাইয়েও ছাত্রদের সাথে অবস্থান নেন। রাজারামমোহন মার্কেটের সামনে তাদের অবস্থান। পুলিশ, ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ পূর্ব থেকেই উৎপেতে থাকে। অতর্কিতে পুলিশ আক্রমণ করে সমাবেশে। নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। সমাবেশে অগণিত মানুষ আহত হয়।
হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয় মমদেল হোসেন। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সাধারণ জনতা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আতঙ্কিত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া:
আহত হওয়ার পর সাধারণ জনতা তাকে প্রথম রংপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেসময় আহত কেউ চিকিৎসা নিতেও পারতো না। হাসপাতালে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালাত। ছাত্রলীগ হামলা করত। তিনি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে পুলিশ অভিযান চালায়। তার কাগজপত্র জব্দ করে। চিকিৎসক তার অন্যান্য পরীক্ষার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করলে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে আসেন। পরে বাসায় এসে আত্মগোপনে থাকেন। পরে উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়া গুলিবিদ্ধ পায়ে পচন ধরে। আত্মগোপনে থেকেই রংপুর সিটি ক্লিনিকে ভর্তি হন। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসক গিয়ে তার চিকিৎসা করেন। অপারেশনের মাধ্যমে তার এক পা কেটে ফেলে। বর্তমানে তিনি পঙ্গু জীবন যাপন করছেন। কৃত্রিম পা লাগিয়ে চলা ফেরা করছেন।

পরবর্তী চিকিৎসা প্রস্তাব:
তার এক পা কেটে ফেলা হয়েছে। শরীরে আরও আঘাত আছে। তার পরবর্তী শারীরিক জটিলতা রোধের জন্য আরও উন্নত চিকিৎসার দরকার। কৃত্রিম পা যেন স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিগত সমস্যা না দেখা দেয় সে বিষয়টি দেখা দরকার।

পুনর্বাসন বিষয়ক ভাবনা:
বর্তমানে তিনি পঙ্গু। আগে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন। এখন সে কাজ তার করা সম্ভব না। তাকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জীবন জীবিকার সহজ মাধ্যমে যুক্ত করতে হবে। এককালীন আর্থিক অনুদান ও ব্যবসার পুঁজি দিয়ে সহায়তা করা।

তার জন্য নিয়মিত মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা।
পুঁজি দিয়ে ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবসার ব্যবস্থা করা। গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলতে হয়



একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ মমদেল হোসেন
জন্ম তারিখ : ২০-০২-১৯৯৬
জন্মস্থান : রংপুর
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ঠিকানা : আলমনগর, ওয়ার্ড-২৭, থানা: রংপুর সদর, জেলা: রংপুর
পিতার নাম : কবীর হোসেন, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: মনোয়ারা বেগম
মায়ের পেশা : ব্যবসা
পারিবারিক অবস্থা :
আয়ের উৎস : মায়ের উপার্জন
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ছেলে জাহিদ হাসান, বয়স: ৭ বছর, জাকির হোসেন, বয়স: ২ মাস
আহত হওয়ার স্থান : রাজা রামমোহন মার্কেটের সামনে আহত হন
তারিখ ও সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ গুলি করে
বর্তমান অবস্থা : বর্তমানে তার এক পা কেটে ফেলা হয়।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍