হোম / আহতদের তালিকা / মো: নাজিম মিয়া
মো:  নাজিম মিয়া

মো: নাজিম মিয়া

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র
নিজ জেলা : রংপুর

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মাত্র নবম শ্রেনির ছাত্র। জুলাইয়ে যখন ফ্যাসিস্ট সরকার আন্দোলন দমনের নামে খুন করতে লাগল আন্দোলনরত ছাত্রদের, তখন সকল বয়সী বাংলাদেশি নেমে আসেন রাজপথে। নবম শ্রেণির ছাত্র নাজিম মিয়াও আন্দোলনে যোগ দিলেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তিনি নাজির দুয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। তার বাবার নাম মোঃ নুরনবী হোসেন, মা মোছাঃ নাজমা বেগম। গ্রাম-কিশমতবিশু, থানা-কাজাত, রংপুর মহানগর। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ৫ জানুয়ারি ২০০৮ সালে। তার বাবা একজন রাজমিস্ত্রী। তিনি ক্লাসের একজন ভালো ছাত্র।


আন্দোলন শুরু হলে
জুলাইয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে সরকার তুমুল দমন পীড়ন শুরু করে। প্রথমেই ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র ছাত্রীদের সরকারের সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নির্মম হামলা চালায়। ছাত্রছাত্রীরা মারাত্মক আহত হয়। শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত চেহারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে দেশ জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরী করে। সারাদেশের শিক্ষার্থীরা একাত্মতা ঘোষণা করে। পাশে দাঁড়ায় জনতাও। আন্দোলন ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। নাজিম মিয়া নবম শ্রেণির ছাত্র, সেও অনুভব করে শিক্ষার্থী বড় ভাইদের পাশে তার দাঁড়ানো উচিৎ। এই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি বা তার মত শত শত ছাত্র, কিশোর আন্দোলনের অংশ নেন।

প্রতিদিনই আন্দোলনে অংশ নেন। তারা জানতে পারেন, বা প্রতিদিনই খবর আসে সরকারের বর্বর আচরণের। ছাত্র হত্যায় সরকারের ফ্যাসিস্ট আচরণে জনগণ আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়। সরকার তার প্রশাসনিক ক্ষমতা আর দলীয় গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে প্রতি মুহুর্তে লাশের সারি দীর্ঘ করে। জনগণ ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে।

প্রতিদিনের মতো ১৯ জুলাই তারা শহরের
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সামনে অবস্থান নেয়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ তাদের বাঁধা দেয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। বিনা উস্কানিতে পুলিশ ছাত্র জনতার উপর গুলি বর্ষণ করতে থাকে। বহু লোক সেদিন আহত হয়।

অকস্মাৎ একটি গুলি কিশোর নাজিমের বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়। তিনি চেতনাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাকে সাধারণ জনতা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আওয়ামী বাঁধা অতিক্রম করে চিকিৎসা
মধ্য জুলাই ছিল দেশ এক প্রকার অবরুদ্ধ। নেট বন্ধ, যোগাযোগ বন্ধ। আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার উপর ছিল বিধিনিষেধ। নিহতদের দাফন কাফনেও বাঁধা দিত আওয়ামী লীগ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। কিশোর নাজিম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রংপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়। সাথে সাথেই তার স্বজন পুলিশি হয়রানী ও আওয়ামী লীগের হামলার আশঙ্কা করে। তারা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে রংপুর শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা করেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ।

কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
নাজিম মিয়া তখন নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তাকে তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠবে।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ নাজিম মিয়া
জন্ম তারিখ : ০৫-০১-২০০৮
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : রংপুর

স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা
গ্রাম-কিশমতবিশু, থানা-কাজাত, রংপুর মহানগর

পিতার নাম : মোঃ নুরনবী হোসেন
পিতার পেশা : রাজমিস্ত্রী
মায়ের নাম : মোছাঃ নাজমা বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের উৎস : বাবার কাজ

পরিবারের সদস্য সংখ্যা:
এক বোন নাহিদা। তার বয়স ১০ বছর।

আহত হওয়ার সংক্ষিপ্ত চিত্র
আহত হওয়ার স্থান : রংপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সামনে আহত হন
আক্রমণকারী : পুলিশ
আক্রমনের সময় : ১৯-০৭-২০২৪
আঘাতের ধরণ : বুকের বা পাশে রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍