মো: আবুল কালাম আজাদ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শ্রমিক (অটোরিকশা চালক)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম, শৈশব ও বেড়ে ওঠা
রংপুর জেলার সদর থানার পীরজাদাবাদ ইউনিয়নের এক প্রান্তে ছোট্ট গ্রাম যুগিপাড়া। এই গ্রামে ১৯৯২ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মো: আবুল কালাম আজাদ। বাবা জয়নাল আবেদীন ছিলেন একজন দিনমজুর, আর মা মোছা: সালেহা বেগম একজন গৃহিণী। তিনজনের ছোট্ট পরিবারে চলত সাদামাটা জীবন। ছেলেবেলায় খেলাধুলার চেয়ে সংসারের অভাব-অনটনের সঙ্গে মানিয়ে চলা ছিল তার বাস্তবতা। স্কুলে ভর্তি হলেও অভাবের কারণে পড়াশুনা বেশিদূর এগোয়নি। এক সময় বাবাকে হারিয়ে মা-ছেলের জীবন হয়ে ওঠে আরও সংকটময়। খুব অল্প বয়সেই রিকশা চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব তুলে নেন আজাদ। সময় গড়াতে থাকে। আজাদ বিয়ে করেন এবং এক পুত্রসন্তানের বাবা হন। ছেলের নাম রাখেন ওমর ফারুক, বয়স মাত্র ৫ বছর। রংপুর শহরের এক কোণায় ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করতেন আজাদ। দিনে রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তাতে চাল, ডাল, সবজি কিনে কোনোমতে চলে যেত টানাপোড়েনের সংসার।
আবু সাঈদের রক্তে জেগে
ওঠা এক শ্রমিকআজাদের সংগ্রামী জীবন
আবুল কালাম আজাদ জন্মগতভাবেই একটি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ডান হাতে পুরোপুরি শক্তি ছিল না। এই অক্ষমতা নিয়ে তিনি জীবনযুদ্ধে নেমেছিলেন। দৈনন্দিন রিকশা চালানো, তাতে যাত্রী তোলা কিংবা প্যাডেল টানা সবকিছুই করতে হতো বাম হাতের উপর নির্ভর করে। সাধারণত নিজের রিকশা কেনার সামর্থ্য ছিল না, তাই ভাড়া করা অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন সকালে বের হতেন, সারা দিন ঘুরে ঘুরে যাত্রী তুলতেন। দিনে যা আয় হতো, তার একটা অংশ মালিককে দিতে হতো, আর বাকি টাকায় চলত পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক দুঃসহ পরিস্থিতি এ দুইয়ের মধ্য দিয়েই টিকে থাকার সংগ্রামে নিমগ্ন ছিলেন আজাদ। ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করানো, স্ত্রীকে ভালোভাবে খাওয়ানো কিংবা অসুস্থ মায়ের ওষুধ কেনার চিন্তা তাকে প্রতিদিন তাড়িয়ে বেড়াত।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও রক্তাক্ত দিন
২০১৮ সালে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সেই সময় আবুল কালাম আজাদ শুধু একজন রিকশাচালক হয়ে, আন্দোলনের বাইরে থেকেও ছাত্রদের প্রতি এক ধরনের মমতা অনুভব করতেন।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলন আবার দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এইবার তা হয় আরও ভয়ানক, আরও বিস্তৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও উত্তাল হয়ে ওঠে।
১৬ জুলাই, ২০২৪ সেদিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদকে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। সেই খবর রংপুর শহরে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আজাদের বুক কেঁপে উঠে। একজন বাবার চোখে সেই খবর দেখে ওমর ফারুকের মুখ ভেসে ওঠে। তিনি ভাবেন, যদি তার ছেলেও একদিন এমনভাবে অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়? ১৯ জুলাই, দুপুর ২টা। রংপুর শহরের টাউন হল মোড়ে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়। আবুল কালাম আজাদ তখন তার রিকশা রেখে, প্রতিবাদের স্রোতে পা মেলান। সেই মুহূর্তেই পুলিশ হামলা চালায়। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে প্রতিবাদকারীরা। আজাদ পেছন থেকে ছররা গুলি বিদ্ধ হন। পিঠ ও ডান কাঁধ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ কারও দিকে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। প্রতিবাদ থামাতে না পারলেও রক্ত ঝরাতে পিছপা হয়নি তারা।
চিকিৎসা ও নিপীড়নের ভেতর জীবন
পুলিশের হামলার পর ছাত্র-জনতা এগিয়ে এসে আজাদকে উদ্ধার করে এক স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চাইলেও সেখানকার পরিবেশ তখন ভয়াবহ। আহতদের হয়রানি করা হচ্ছিল, পুলিশ ঘোরাফেরা করছিল, প্রতিবাদকারীদের ছবি তুলে রাখা হচ্ছিল, কিছু নিখোঁজও হচ্ছিল। আজাদ ভয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেই চিকিৎসক তার শরীর থেকে ছররা গুলি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সেই ব্যথা আজও রয়ে গেছে শরীরে। বর্তমানে তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন। হাতে কাজের শক্তি কমে গেছে আরও। তবুও তার মুখে কোনো আফসোস নেই। কারণ তিনি জানেন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আজাদ এখন মোটামুটি সুস্থ।
তবে তার পিঠ ও হাতে ব্যথা নিয়মিতই জানান দেয় সেই রক্তাক্ত ১৯ জুলাইয়ের কথা। এ গল্প শুধু একজন অটোরিকশা চালকের নয়। এটি হলো সেসব সাধারণ মানুষের গল্প, যারা অস্বাভাবিক সময়েও সাহস করে উঠে দাঁড়িয়েছিল। আজাদরা ইতিহাসের পাতা নয় তবুও, কিন্তু তাদের রক্তেই লেখা হয় প্রতিরোধের ইতিহাস।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আবুল কালাম আজাদ
জন্ম তারিখ : ১২ জানুয়ারি ১৯৯২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শ্রমিক (অটোরিকশা চালক)
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : রংপুর
গ্রাম : যুগিপাড়া
ইউনিয়ন : পীরজাদাবাদ
থানা : সদর
জেলা : রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : জয়নাল আবেদীন, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: সালেহা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩
সন্তানদের বিবরণ
১. ওমর ফারুক, বয়স: ৫ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : টাউন হল মোড়, রংপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : একটি অটোরিকশার ব্যবস্থা করে দেয়া
রংপুর জেলার সদর থানার পীরজাদাবাদ ইউনিয়নের এক প্রান্তে ছোট্ট গ্রাম যুগিপাড়া। এই গ্রামে ১৯৯২ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মো: আবুল কালাম আজাদ। বাবা জয়নাল আবেদীন ছিলেন একজন দিনমজুর, আর মা মোছা: সালেহা বেগম একজন গৃহিণী। তিনজনের ছোট্ট পরিবারে চলত সাদামাটা জীবন। ছেলেবেলায় খেলাধুলার চেয়ে সংসারের অভাব-অনটনের সঙ্গে মানিয়ে চলা ছিল তার বাস্তবতা। স্কুলে ভর্তি হলেও অভাবের কারণে পড়াশুনা বেশিদূর এগোয়নি। এক সময় বাবাকে হারিয়ে মা-ছেলের জীবন হয়ে ওঠে আরও সংকটময়। খুব অল্প বয়সেই রিকশা চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব তুলে নেন আজাদ। সময় গড়াতে থাকে। আজাদ বিয়ে করেন এবং এক পুত্রসন্তানের বাবা হন। ছেলের নাম রাখেন ওমর ফারুক, বয়স মাত্র ৫ বছর। রংপুর শহরের এক কোণায় ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করতেন আজাদ। দিনে রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তাতে চাল, ডাল, সবজি কিনে কোনোমতে চলে যেত টানাপোড়েনের সংসার।
আবু সাঈদের রক্তে জেগে
ওঠা এক শ্রমিকআজাদের সংগ্রামী জীবন
আবুল কালাম আজাদ জন্মগতভাবেই একটি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার ডান হাতে পুরোপুরি শক্তি ছিল না। এই অক্ষমতা নিয়ে তিনি জীবনযুদ্ধে নেমেছিলেন। দৈনন্দিন রিকশা চালানো, তাতে যাত্রী তোলা কিংবা প্যাডেল টানা সবকিছুই করতে হতো বাম হাতের উপর নির্ভর করে। সাধারণত নিজের রিকশা কেনার সামর্থ্য ছিল না, তাই ভাড়া করা অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন সকালে বের হতেন, সারা দিন ঘুরে ঘুরে যাত্রী তুলতেন। দিনে যা আয় হতো, তার একটা অংশ মালিককে দিতে হতো, আর বাকি টাকায় চলত পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক দুঃসহ পরিস্থিতি এ দুইয়ের মধ্য দিয়েই টিকে থাকার সংগ্রামে নিমগ্ন ছিলেন আজাদ। ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করানো, স্ত্রীকে ভালোভাবে খাওয়ানো কিংবা অসুস্থ মায়ের ওষুধ কেনার চিন্তা তাকে প্রতিদিন তাড়িয়ে বেড়াত।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও রক্তাক্ত দিন
২০১৮ সালে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। সেই সময় আবুল কালাম আজাদ শুধু একজন রিকশাচালক হয়ে, আন্দোলনের বাইরে থেকেও ছাত্রদের প্রতি এক ধরনের মমতা অনুভব করতেন।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলন আবার দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এইবার তা হয় আরও ভয়ানক, আরও বিস্তৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও উত্তাল হয়ে ওঠে।
১৬ জুলাই, ২০২৪ সেদিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদকে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। সেই খবর রংপুর শহরে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আজাদের বুক কেঁপে উঠে। একজন বাবার চোখে সেই খবর দেখে ওমর ফারুকের মুখ ভেসে ওঠে। তিনি ভাবেন, যদি তার ছেলেও একদিন এমনভাবে অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়? ১৯ জুলাই, দুপুর ২টা। রংপুর শহরের টাউন হল মোড়ে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়। আবুল কালাম আজাদ তখন তার রিকশা রেখে, প্রতিবাদের স্রোতে পা মেলান। সেই মুহূর্তেই পুলিশ হামলা চালায়। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলিতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে প্রতিবাদকারীরা। আজাদ পেছন থেকে ছররা গুলি বিদ্ধ হন। পিঠ ও ডান কাঁধ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ কারও দিকে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। প্রতিবাদ থামাতে না পারলেও রক্ত ঝরাতে পিছপা হয়নি তারা।
চিকিৎসা ও নিপীড়নের ভেতর জীবন
পুলিশের হামলার পর ছাত্র-জনতা এগিয়ে এসে আজাদকে উদ্ধার করে এক স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চাইলেও সেখানকার পরিবেশ তখন ভয়াবহ। আহতদের হয়রানি করা হচ্ছিল, পুলিশ ঘোরাফেরা করছিল, প্রতিবাদকারীদের ছবি তুলে রাখা হচ্ছিল, কিছু নিখোঁজও হচ্ছিল। আজাদ ভয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেই চিকিৎসক তার শরীর থেকে ছররা গুলি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সেই ব্যথা আজও রয়ে গেছে শরীরে। বর্তমানে তিনি বাসায় বিশ্রামে আছেন। হাতে কাজের শক্তি কমে গেছে আরও। তবুও তার মুখে কোনো আফসোস নেই। কারণ তিনি জানেন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আজাদ এখন মোটামুটি সুস্থ।
তবে তার পিঠ ও হাতে ব্যথা নিয়মিতই জানান দেয় সেই রক্তাক্ত ১৯ জুলাইয়ের কথা। এ গল্প শুধু একজন অটোরিকশা চালকের নয়। এটি হলো সেসব সাধারণ মানুষের গল্প, যারা অস্বাভাবিক সময়েও সাহস করে উঠে দাঁড়িয়েছিল। আজাদরা ইতিহাসের পাতা নয় তবুও, কিন্তু তাদের রক্তেই লেখা হয় প্রতিরোধের ইতিহাস।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আবুল কালাম আজাদ
জন্ম তারিখ : ১২ জানুয়ারি ১৯৯২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শ্রমিক (অটোরিকশা চালক)
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : রংপুর
গ্রাম : যুগিপাড়া
ইউনিয়ন : পীরজাদাবাদ
থানা : সদর
জেলা : রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : জয়নাল আবেদীন, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: সালেহা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৫
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৩
সন্তানদের বিবরণ
১. ওমর ফারুক, বয়স: ৫ বছর, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : টাউন হল মোড়, রংপুর
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : একটি অটোরিকশার ব্যবস্থা করে দেয়া
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍