হোম / আহতদের তালিকা / মো: রাকিবুল ইসলাম
মো: রাকিবুল ইসলাম

মো: রাকিবুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

গ্রামের ছেলে রাকিবের শৈশব
২০০২ সালের ৬ জানুয়ারি, রংপুর জেলার পীরগাছা থানার ছোট্ট একটি গ্রাম কিশামত ঝিনিয়ায় জন্ম নেন মো: রাকিবুল ইসলাম সংক্ষেপে যাকে সবাই রাকিব নামে চেনে। বাবা মো: আবু বকর সিদ্দিক পেশায় শিক্ষক, একজন নীতিবান ও সমাজ সচেতন মানুষ। মা মোছা: রাশেদা বেগম একজন স্নেহময়ী গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাকিব মেঝো। বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম চাকরিপ্রার্থী, আর ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম পড়ে কিশামত ঝিনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণিতে। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা রাকিব ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনায় আগ্রহী ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন শিক্ষা আর নীতির প্রাথমিক পাঠ। সকালে স্কুল, বিকেলে খেলাধুলা আর সন্ধ্যায় বাবার কাছে পড়াশুনা এভাবেই কেটেছে তার শৈশবের দিনগুলো। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক পড়াশুনা শেষ করে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যান উচ্চশিক্ষার পথে।

ঢাকা থেকে রংপুর স্বপ্নপথের নতুন বাঁক
রাকিব বর্তমানে উত্তরায় অবস্থিত অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ (ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) শিক্ষার্থী। রাজধানীর ব্যস্ত পরিবেশে থেকেও সে নিজের পড়াশুনা আর ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যাচ্ছিল। তার লক্ষ্য ছিল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হওয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সে সিদ্ধান্ত নেয় রংপুরে ফিরে এসে চাকরির প্রস্তুতি নেবে। কারণ রংপুরে কোচিং এবং পরিবার, দুটোই থাকবে পাশে। বাবার পরামর্শ ও নিজের আত্মবিশ্বাসে ভর করে সে ঢাকা থেকে রংপুরে চলে আসে এবং ভর্তি হয় একটি জনপ্রিয় কোচিং সেন্টারে। সকালে কোচিং, বিকেলে পড়াশুনা এভাবেই সে গুছিয়ে নিচ্ছিল নিজের স্বপ্নের প্রস্তুতি।

আন্দোলনের আগুনে জ্বলে উঠল দেশ
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। প্রথমে ধীরে ধীরে, পরে তা এক রক্তাক্ত আন্দোলনের রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করছিল নিরপেক্ষ ও যৌক্তিক কোটা সংস্কার। কিন্তু সরকারের দমন-পীড়ন, পুলিশি নির্যাতন এবং দলীয় সন্ত্রাসী হামলা আন্দোলনকে আরও বিস্ফোরক করে তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। রংপুর হয়ে ওঠে আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন রংপুরের বিভিন্ন মোড়ে, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ চলতে থাকে। ১৬ জুলাই ছিল সেই আন্দোলনের এক ভয়াল দিন, যেদিন সরাসরি পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

রক্ত ও গুলির মাঝে রাকিব
রাকিব প্রতিদিনের মতো সেদিনও আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। ছাত্ররা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রতিবাদে ভাসছিল চারপাশ। হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে, তারপর ছোড়ে টিয়ার শেল। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় গুলি। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরাও একযোগে হামলা চালায়। চারপাশে শুরু হয় চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ আর রক্তাক্ত মানুষ।
রাকিব দৌড়াতে গিয়েই পড়ে যান পুলিশের গুলির মুখে। কয়েকটি ছোড়া গুলি এসে তার পায়ে লাগে। মুহূর্তেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তীব্র যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছিলেন। সে সময় তার পাশে থাকা ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

চিকিৎসা আর পুনরুদ্ধার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাকিব ছিলেন কয়েকদিন। তার পায়ে গুলির ক্ষত গভীর ছিল, কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে হাড়ে লাগেনি। সেলাই, চিকিৎসা, ব্যথা সব কিছু সহ্য করে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন রাকিব। বর্তমানে রাকিব শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ, তবে মাঝে মাঝে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। কিন্তু মনের গভীরে থেকে গিয়েছিল আহত এক স্মৃতি, যেখানে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ন্যায়বিচারের দাবি করতে গিয়ে নিজেই তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: রাকিবুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ৬ জানুয়ারি ২০০২
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় (বিবিএ)
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: কিশামত ঝিনিয়া, ইউনিয়ন: ঝিনিয়া, থানা: পীরগাছা, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আবু বকর সিদ্দিক
মায়ের নাম : মোছা: রাশেদা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : শিক্ষকতা, ৫৮
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫০
আয়ের উৎস : শিক্ষকতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. রাশেদুল ইসলাম, পেশা: চাকরিপ্রার্থী, সম্পর্ক: ভাই
২. সিরাজুল ইসলাম, বয়স: ১৪, পেশা: শিক্ষার্থী (কিসমত ঝিনিয়া দাখিল মাদ্রাসা), শ্রেণি: ৭ম, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : রোকেয়া ইউনিভার্সিটির সামনে
আহত হওয়ার সময় : ১৬ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা : একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়া

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍