মো: মিজানুর রহমান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষকতা
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
ওসমানপুরের ছেলেটি
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ওসমানপুর গ্রামের একটি সরল, শান্ত পরিবেশে ১৯৭০ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মো: মিজানুর রহমান। তার বাবা মো: মোফাচ্ছেল হোসেন ছিলেন একজন সৎ ও নীতিবান মানুষ। মা মোছা: গোলেজা বেগম ছিলেন গৃহিণী, যিনি সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে তারা কেউ আর বেচে নেই। ছোটবেলা থেকেই মিজানুর ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। গ্রামের পাঠশালায় পড়াশুনার হাতেখড়ি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যান।
পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। মানুষের জীবনে আলো জ্বালানোর এই মহান দায়িত্বটি তিনি গ্রহণ করেন জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসায় একজন শিক্ষক হিসেবে। শুদ্ধভাবে পথ দেখানোর এই ব্রতকে তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতেন ছাত্রদের। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও শিক্ষার আলোয় আলোকিত। তাঁর দুই পুত্র এম তারেক রহমান এবং এম সাকিব রহমান দু’জনেই দেশের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে তারেক পড়ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ৪র্থ বর্ষে, আর ছোট ছেলে সাকিব দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে পাবনা ক্যাডেট কলেজে। একজন শিক্ষক হিসেবে মিজানুর রহমানের গর্ব শুধু পেশাগত নয়, পারিবারিক জীবনেও তিনি একটি অনন্য উদাহরণ!
উত্তাল জুলাই-আগস্টের দিনগুলো
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য, কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ২০১৮ সালে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ২০১৮ সালের শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল কোটাব্যবস্থার একটা স্থায়ী সংস্কার হোক। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার স্থায়ী সমাধান না করে সাময়িকভাবে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আবার কোটা ব্যবস্থাপনার পুনর্বহল করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে চলে ছাত্রদের বিক্ষোভ। তখন দেশব্যাপী চলছিল অস্থিরতা, অগণতান্ত্রিক দমনপীড়নের বিরুদ্ধে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। দেশের নানা প্রান্তে মানুষ রাস্তায় নেমেছে ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে। পীরগঞ্জেও আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছে যায়। বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হতে থাকে, দিন দিন উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মিজানুর রহমান এই সময়টায় শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না তিনি হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক। তিনি নিজ হাতে ছাত্রদের সংগঠিত করতেন, তাদের বোঝাতেন আন্দোলন মানেই ভাঙচুর নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হচ্ছে একজন সাচ্চা নাগরিকের কর্তব্য।
এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিল তাঁর ছাত্র। তিনি নিজেও নিয়মিত সভা-সমাবেশে থাকতেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিতেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল সাহস, চোখে ছিল সত্যের আগুন।
শিক্ষক নাকি সংগঠক?
৪ আগস্ট ২০২৪ দিনটি ছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা এবং মিজানুর রহমানের জীবনের গভীরতম ক্ষতের দিন। সকাল থেকেই পীরগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ছাত্ররা সরকারি হাইস্কুল গেটের সামনে জমায়েত হচ্ছিল, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে দাবি তুলছিল। মিজানুর রহমান, যিনি আগে থেকেই ছাত্রদের সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, সেদিনও ছিলেন সামনে। দুপুর ১২টা। হঠাৎ আকাশ ভারী হয়ে ওঠে, শুধু আবহাওয়ার কারণে নয় ভয়ানক কিছু ঘটতে চলেছে, এমন এক অদ্ভুত ছায়া নেমে আসে সবার মনে। হঠাৎই গেইটের পাশে ওঁত পেতে থাকা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন দেশি-বিদেশি অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের ওপর। লোহার রড, চাপাতি, লাঠি দিয়ে তারা যাকে সামনে পাচ্ছিল তাকেই আঘাত করছিল। বিচারহীন এক উন্মত্ততা। মিজানুর রহমান নিজেও রক্ষা পাননি। বরং তাকে প্রথমে লক্ষ্য করেই হামলা করা হয়। মাথা, বুক, পা কোনো জায়গা বাদ দেয়নি হামলাকারীরা। একের পর এক আঘাতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর গোঙানি, যন্ত্রণার চিৎকার আকাশ ছুঁয়ে যায়। একজন শিক্ষকের উপর এমন অমানবিক হামলা দেখে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরবর্তীতে ছাত্ররাই তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ দৃশ্য শুধু একটি হামলার নয় এটা ছিল এক সাহসী মানুষকে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা।
চিকিৎসা, যন্ত্রণা এবং আজকের প্রহর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকার ১১টি দিন ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। মাথায় ব্যান্ডেজ, পায়ে ব্যথা, বুকে রক্ত জমাট চোখে তখনও স্পষ্ট ভয়াবহ সন্ত্রাসীদের মুখ। কিন্তু শরীর যতই ভেঙে পড়ুক, মন এখনও ছিল অটুট। চিকিৎসকরা প্রাণরক্ষা করতে পেরেছিলেন, কিন্তু ব্যথা থেকে যায় শরীরেও, মনেও। ১১ দিন পর তিনি বাড়িতে চলে যান। এর কিছুদিন পর হঠাৎ তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে ইবনে সিনা হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে তার হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা হয়। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও পূর্বের আহত অবস্থার কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে বিশ্রামে আছেন, কিন্তু শরীর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। মাঝেমধ্যে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ওঠে, হাঁটা-চলায় কষ্ট হয়।
শেষ কথা
তবুও তাঁর দৃষ্টি এখনো উজ্জ্বল। তাঁর চোখে এখনো দেশের ভবিষ্যতের স্বপ্ন, যেখানে কোনো শিক্ষককে রক্তাক্ত হতে হবে না, কোনো ছেলেকে বাবার রক্ত মুছতে হবে না। মিজানুর রহমান কেবল একজন শিক্ষকই নন, একজন দেশপ্রেমিক, একজন সংগঠক এবং একজন আদর্শ পিতা। তাঁর জীবন আজ হাজারো তরুণের প্রেরণা। অমানবিক আক্রমণ তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে তাঁর অবস্থান সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। তাঁর গল্পটি লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।শিক্ষক যখন প্রতিবাদের প্রতীক
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: মিজানুর রহমান
জন্ম তারিখ : ২ জানুয়ারি ১৯৭০
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষকতা
প্রতিষ্ঠান : জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ওসমানপুর, ইউনিয়ন: পীরগঞ্জ, থানা,: পীরগঞ্জ, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: মোফাচ্ছেল হোসেন, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: গোলেজা বেগম, মৃত
আয়ের উৎস : শিক্ষকতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. এম তারেক রহমান, বয়স: ২৪, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: শাবিপ্রবি (৪র্থ বর্ষ), সম্পর্ক: ছেলে
২. এম সাকিব রহমান, বয়স: ১৭, পেশা: শিক্ষার্থী (পাবনা ক্যাডেট কলেজ), শ্রেণি: দ্বাদশ, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : সরকারি হাইস্কুল গেইট, পীরগঞ্জ
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ওসমানপুর গ্রামের একটি সরল, শান্ত পরিবেশে ১৯৭০ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মো: মিজানুর রহমান। তার বাবা মো: মোফাচ্ছেল হোসেন ছিলেন একজন সৎ ও নীতিবান মানুষ। মা মোছা: গোলেজা বেগম ছিলেন গৃহিণী, যিনি সন্তানদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে তারা কেউ আর বেচে নেই। ছোটবেলা থেকেই মিজানুর ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। গ্রামের পাঠশালায় পড়াশুনার হাতেখড়ি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যান।
পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। মানুষের জীবনে আলো জ্বালানোর এই মহান দায়িত্বটি তিনি গ্রহণ করেন জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসায় একজন শিক্ষক হিসেবে। শুদ্ধভাবে পথ দেখানোর এই ব্রতকে তিনি কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, মানবিকতা, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতেন ছাত্রদের। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও শিক্ষার আলোয় আলোকিত। তাঁর দুই পুত্র এম তারেক রহমান এবং এম সাকিব রহমান দু’জনেই দেশের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে তারেক পড়ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ৪র্থ বর্ষে, আর ছোট ছেলে সাকিব দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে পাবনা ক্যাডেট কলেজে। একজন শিক্ষক হিসেবে মিজানুর রহমানের গর্ব শুধু পেশাগত নয়, পারিবারিক জীবনেও তিনি একটি অনন্য উদাহরণ!
উত্তাল জুলাই-আগস্টের দিনগুলো
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য, কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ২০১৮ সালে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ২০১৮ সালের শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল কোটাব্যবস্থার একটা স্থায়ী সংস্কার হোক। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার স্থায়ী সমাধান না করে সাময়িকভাবে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আবার কোটা ব্যবস্থাপনার পুনর্বহল করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে চলে ছাত্রদের বিক্ষোভ। তখন দেশব্যাপী চলছিল অস্থিরতা, অগণতান্ত্রিক দমনপীড়নের বিরুদ্ধে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। দেশের নানা প্রান্তে মানুষ রাস্তায় নেমেছে ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে। পীরগঞ্জেও আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছে যায়। বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হতে থাকে, দিন দিন উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মিজানুর রহমান এই সময়টায় শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না তিনি হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক। তিনি নিজ হাতে ছাত্রদের সংগঠিত করতেন, তাদের বোঝাতেন আন্দোলন মানেই ভাঙচুর নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হচ্ছে একজন সাচ্চা নাগরিকের কর্তব্য।
এই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিল তাঁর ছাত্র। তিনি নিজেও নিয়মিত সভা-সমাবেশে থাকতেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিতেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল সাহস, চোখে ছিল সত্যের আগুন।
শিক্ষক নাকি সংগঠক?
৪ আগস্ট ২০২৪ দিনটি ছিল এক নতুন ইতিহাসের সূচনা এবং মিজানুর রহমানের জীবনের গভীরতম ক্ষতের দিন। সকাল থেকেই পীরগঞ্জে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ছাত্ররা সরকারি হাইস্কুল গেটের সামনে জমায়েত হচ্ছিল, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে দাবি তুলছিল। মিজানুর রহমান, যিনি আগে থেকেই ছাত্রদের সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, সেদিনও ছিলেন সামনে। দুপুর ১২টা। হঠাৎ আকাশ ভারী হয়ে ওঠে, শুধু আবহাওয়ার কারণে নয় ভয়ানক কিছু ঘটতে চলেছে, এমন এক অদ্ভুত ছায়া নেমে আসে সবার মনে। হঠাৎই গেইটের পাশে ওঁত পেতে থাকা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন দেশি-বিদেশি অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের ওপর। লোহার রড, চাপাতি, লাঠি দিয়ে তারা যাকে সামনে পাচ্ছিল তাকেই আঘাত করছিল। বিচারহীন এক উন্মত্ততা। মিজানুর রহমান নিজেও রক্ষা পাননি। বরং তাকে প্রথমে লক্ষ্য করেই হামলা করা হয়। মাথা, বুক, পা কোনো জায়গা বাদ দেয়নি হামলাকারীরা। একের পর এক আঘাতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর গোঙানি, যন্ত্রণার চিৎকার আকাশ ছুঁয়ে যায়। একজন শিক্ষকের উপর এমন অমানবিক হামলা দেখে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরবর্তীতে ছাত্ররাই তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ দৃশ্য শুধু একটি হামলার নয় এটা ছিল এক সাহসী মানুষকে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা।
চিকিৎসা, যন্ত্রণা এবং আজকের প্রহর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকার ১১টি দিন ছিল এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। মাথায় ব্যান্ডেজ, পায়ে ব্যথা, বুকে রক্ত জমাট চোখে তখনও স্পষ্ট ভয়াবহ সন্ত্রাসীদের মুখ। কিন্তু শরীর যতই ভেঙে পড়ুক, মন এখনও ছিল অটুট। চিকিৎসকরা প্রাণরক্ষা করতে পেরেছিলেন, কিন্তু ব্যথা থেকে যায় শরীরেও, মনেও। ১১ দিন পর তিনি বাড়িতে চলে যান। এর কিছুদিন পর হঠাৎ তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে ইবনে সিনা হাসপাতাল নেয়া হয়। সেখানে তার হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা হয়। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও পূর্বের আহত অবস্থার কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাড়িতে বিশ্রামে আছেন, কিন্তু শরীর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। মাঝেমধ্যে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ওঠে, হাঁটা-চলায় কষ্ট হয়।
শেষ কথা
তবুও তাঁর দৃষ্টি এখনো উজ্জ্বল। তাঁর চোখে এখনো দেশের ভবিষ্যতের স্বপ্ন, যেখানে কোনো শিক্ষককে রক্তাক্ত হতে হবে না, কোনো ছেলেকে বাবার রক্ত মুছতে হবে না। মিজানুর রহমান কেবল একজন শিক্ষকই নন, একজন দেশপ্রেমিক, একজন সংগঠক এবং একজন আদর্শ পিতা। তাঁর জীবন আজ হাজারো তরুণের প্রেরণা। অমানবিক আক্রমণ তাঁকে থামাতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে তাঁর অবস্থান সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। তাঁর গল্পটি লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।শিক্ষক যখন প্রতিবাদের প্রতীক
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: মিজানুর রহমান
জন্ম তারিখ : ২ জানুয়ারি ১৯৭০
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষকতা
প্রতিষ্ঠান : জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: ওসমানপুর, ইউনিয়ন: পীরগঞ্জ, থানা,: পীরগঞ্জ, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: মোফাচ্ছেল হোসেন, মৃত
মায়ের নাম : মোছা: গোলেজা বেগম, মৃত
আয়ের উৎস : শিক্ষকতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. এম তারেক রহমান, বয়স: ২৪, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: শাবিপ্রবি (৪র্থ বর্ষ), সম্পর্ক: ছেলে
২. এম সাকিব রহমান, বয়স: ১৭, পেশা: শিক্ষার্থী (পাবনা ক্যাডেট কলেজ), শ্রেণি: দ্বাদশ, সম্পর্ক: ছেলে
ঘটনার স্থান : সরকারি হাইস্কুল গেইট, পীরগঞ্জ
আহত হওয়ার সময় : ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১২টা
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍