মো: সালাহ উদ্দিন সাজিদ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
নীলকণ্ঠের ছায়ায় বেড়ে ওঠা সাজিদ
রংপুর শহরের এক কোণে, নীলকণ্ঠ মাস্টারপাড়া নামক ছোট্ট এক পল্লিতে জন্ম নেয় মো: সালাহ উদ্দিন সাজিদ। ২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বরে তার জন্ম, তখন তার পিতা গোলাম মোস্তফা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক, আর মা সালমা খাতুন ঘরের কাজ সামলাতেন নিঃশব্দে, ভালোবাসায়।
ছয় সদস্যের পরিবারটিতে সাজিদ ছিল দ্বিতীয় সন্তান ও একমাত্র ছেলে। তার বড় বোন ফাতিমা ফারহানা অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট বোন মুতমাইন্নাহ জীম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ফাহমিদা মাইশা ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। পড়ালেখা, মেধা আর ভদ্রতা সব মিলিয়ে সাজিদ ছোটবেলা থেকেই পিতার গর্ব ও পাড়ার প্রিয়।
সাজিদের প্রাথমিক জীবন কেটেছে খেলাধুলা, মক্তবে যাওয়া, আর স্কুলে যাওয়া দিয়ে। দা মিলেনিয়াম স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজে সে পড়াশুনা করছিল বিজ্ঞান বিভাগে। লেখাপড়ায় ছিল মনোযোগী, আর স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ নাগরিক হয়ে সমাজে ভূমিকা রাখার। তবে সাজিদের চোখে তখনো দেখা হয়নি সেই নিষ্ঠুরতার, যেটা তাকে রক্তাক্ত করবে একদিন।
উত্তাল জুলাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদের জাগরণ
২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটাবৈষম্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল যেন মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ পায়। তখনো স্বৈরাচারী সরকার ছাত্রদের উপর দমন পীড়ন ও নির্যাতন চালায়। প্রচণ্ড গণ-আন্দোলনের মুখে সাময়িকভাবে কোটার দাবি মেনে নিলেও এর স্থায়ী কোনো সমাধান দেয়নি তখন। ২০২৪ সালে এসে কোটা ব্যবস্থার পুনর্বহাল করা হলে ছাত্ররা আবার আন্দোলনে নামে। এবারের আন্দোলন শুধু ঢাকা শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, ১৬ জুলাই যখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে তখন আন্দোলন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শহর থেকে উপজেলায়, উপজেলা থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
১৯ জুলাই ২০২৪
১৯ জুলাই ২০২৪ রোজ শুক্রবার অন্যান্য দিনের মতোই আন্দোলন চলমান ছিল। সিটি কর্পোরেশনের সামনের ওভার ব্রিজের নিচে। সালাউদ্দিন সাজিদ আবু সাঈদের শাহাদাতের পর ১৭ই জুলাই রংপুর সরকারি কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সেদিন বিকেলের দিকে সাজিদ প্রথম অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুথানে তার মাঠ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা ঘটে। ১৮ই জুলাই সাজিদ তার বন্ধু সীমান্তসহ টেক্সটাইল মোড়ের মেসে যায়। সেখানে তারা দুপুরের নামাজ পড়ে চেকপোস্ট থেকে শাপলার দিকে রওনা দেয়। তাদের সাথে ছিল জেলা স্কুলের সাবেক ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার তাসফীক। তারা ছাত্র জনতার সাথে মিছিল করতে করতে শহরের দিকে প্রবেশ করে। রামমোহন মার্কেটের কাছে এসে তারা দেখতে পায় যে, পুলিশ অনবরত গুলি করে যাচ্ছে, টিয়ারশেল ছাড়ছে। সাজিদও মিছিলের সামনের দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশ আবার ধাওয়া শুরু করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতা শহরের রংপুর হাই স্কুলের সামনে থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল। যদিও স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীদের সাথে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার কারণে বারবার অবস্থান থেকে সরে আসতে হচ্ছিল। রংপুর শহরের অন্যান্য জায়গাতেও পুলিশ ছাত্রলীগ ব্যাপক গোলাগুলি করে। চেকপোস্টের কমিউনিটি সেন্টারের সামনে কাচারীবাজার জেলা স্কুল এবং লালকুঠি মোড় শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শহরে সাজিদ যে জায়গায় অবস্থান করছিল সেটা ছিল টাউন হলের গেটের সামনে যেখানে পুলিশ এবং আওয়ামী ছাত্রলীগের স্থায়ী অবস্থান ছিল। পুলিশের প্রচণ্ড গুলির চাপে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং যে যার যার মতো দৌড়িয়ে পালাতে থাকে। সাজিদ পিছন দিকে পড়ে যায় এবং তার শরীরে কিছু ছররা গুলি কানে, হাতে ও পায় লাগে। তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়, কিন্তু তখনও পরিস্থিতি ছিল খুবই ভয়াবহ। কোনো গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। তাছাড়া হাসপাতাল গুলোতে হামলা এবং মামলার ভয় দেখানো হচ্ছিল। সেজন্য তিনি শহরের ভিতরের গলি দিয়ে কেরানীপাড়া হয়ে আইডিয়াল মোড় পর্যন্ত আসেন। চেকপোস্টে তখনও গোলাগুলি হচ্ছিল। ইসলামবাগ মসজিদের সামনে তার বন্ধু বাসিরের সাথে তার দেখা হয় এবং তার বাসায় গিয়ে ফার্স্ট এইডের সাহায্যে তার শরীর থেকে ছররা গুলি বের করা হয়। কানের মধ্যে যে গুলিগুলো ছিল সেগুলো বাসায় বের করা সম্ভব ছিলো না। কারণ তার নাকের নার্ভ কাটা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই সময় সাজেদ তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে আশেপাশের হাসপাতালগুলোয় গেলে তারা চিকিৎসা করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এই অবস্থায় তার পরিচিত সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর তার পরিচিত এক ডাক্তার বন্ধুকে এনে কানের মধ্যে আটকে যাওয়া গুলিগুলো বের করেন। ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সাজিদ এবং তার বন্ধুরা টেক্সটাইল মোড়ের মেস থেকেই আন্দোলনের তৎপরতা চালাত। এই সময়টাতে সেনাবাহিনীর সেই সাবেক মেজর অর্থ ও আন্দোলনকেন্দ্রিক তথ্য দিয়ে অনেক সহায়তা করে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত গণমানুষের প্রতিবাদ। সাজিদ বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে এখনো সে সময়টার কথা মনে পড়লে তার বুক চমকে উঠে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সালাহ উদ্দিন সাজিদ
জন্ম তারিখ : ৪ ডিসেম্বর ২০০৬
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দা মিলেনিয়াম স্টার স্কুল আন্ড কলেজ
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: নীলকন্ঠ মাস্টারপাড়া, ইউনিয়ন: পৌরসভা, থানা: পরশুরাম, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: গোলাম মোস্তফা
মায়ের নাম : মোছা: সালমা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : শিক্ষকতা, ৫৪
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
আয়ের উৎস : শিক্ষকতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. ফাতিমা ফারহানা, বয়স: ২৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম, সম্পর্ক: বোন
২. মুতমাইন্নাহ জীম, বয়স: ১৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: বোন
৩. ফাহমিদা মাইশা, বয়স: ৯, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৪র্থ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে, ওভারব্রিজের নিচে
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৫টা
আক্রমণকারী : পুলিশ, ছাত্রলীগ (লাল গেঞ্জী পরিহিত)
রংপুর শহরের এক কোণে, নীলকণ্ঠ মাস্টারপাড়া নামক ছোট্ট এক পল্লিতে জন্ম নেয় মো: সালাহ উদ্দিন সাজিদ। ২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বরে তার জন্ম, তখন তার পিতা গোলাম মোস্তফা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক, আর মা সালমা খাতুন ঘরের কাজ সামলাতেন নিঃশব্দে, ভালোবাসায়।
ছয় সদস্যের পরিবারটিতে সাজিদ ছিল দ্বিতীয় সন্তান ও একমাত্র ছেলে। তার বড় বোন ফাতিমা ফারহানা অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট বোন মুতমাইন্নাহ জীম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ফাহমিদা মাইশা ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। পড়ালেখা, মেধা আর ভদ্রতা সব মিলিয়ে সাজিদ ছোটবেলা থেকেই পিতার গর্ব ও পাড়ার প্রিয়।
সাজিদের প্রাথমিক জীবন কেটেছে খেলাধুলা, মক্তবে যাওয়া, আর স্কুলে যাওয়া দিয়ে। দা মিলেনিয়াম স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজে সে পড়াশুনা করছিল বিজ্ঞান বিভাগে। লেখাপড়ায় ছিল মনোযোগী, আর স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ নাগরিক হয়ে সমাজে ভূমিকা রাখার। তবে সাজিদের চোখে তখনো দেখা হয়নি সেই নিষ্ঠুরতার, যেটা তাকে রক্তাক্ত করবে একদিন।
উত্তাল জুলাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদের জাগরণ
২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটাবৈষম্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীরা চেয়েছিল যেন মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ পায়। তখনো স্বৈরাচারী সরকার ছাত্রদের উপর দমন পীড়ন ও নির্যাতন চালায়। প্রচণ্ড গণ-আন্দোলনের মুখে সাময়িকভাবে কোটার দাবি মেনে নিলেও এর স্থায়ী কোনো সমাধান দেয়নি তখন। ২০২৪ সালে এসে কোটা ব্যবস্থার পুনর্বহাল করা হলে ছাত্ররা আবার আন্দোলনে নামে। এবারের আন্দোলন শুধু ঢাকা শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, ১৬ জুলাই যখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে তখন আন্দোলন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শহর থেকে উপজেলায়, উপজেলা থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
১৯ জুলাই ২০২৪
১৯ জুলাই ২০২৪ রোজ শুক্রবার অন্যান্য দিনের মতোই আন্দোলন চলমান ছিল। সিটি কর্পোরেশনের সামনের ওভার ব্রিজের নিচে। সালাউদ্দিন সাজিদ আবু সাঈদের শাহাদাতের পর ১৭ই জুলাই রংপুর সরকারি কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। সেদিন বিকেলের দিকে সাজিদ প্রথম অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুথানে তার মাঠ পর্যায়ের সম্পৃক্ততা ঘটে। ১৮ই জুলাই সাজিদ তার বন্ধু সীমান্তসহ টেক্সটাইল মোড়ের মেসে যায়। সেখানে তারা দুপুরের নামাজ পড়ে চেকপোস্ট থেকে শাপলার দিকে রওনা দেয়। তাদের সাথে ছিল জেলা স্কুলের সাবেক ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার তাসফীক। তারা ছাত্র জনতার সাথে মিছিল করতে করতে শহরের দিকে প্রবেশ করে। রামমোহন মার্কেটের কাছে এসে তারা দেখতে পায় যে, পুলিশ অনবরত গুলি করে যাচ্ছে, টিয়ারশেল ছাড়ছে। সাজিদও মিছিলের সামনের দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশ আবার ধাওয়া শুরু করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতা শহরের রংপুর হাই স্কুলের সামনে থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল। যদিও স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীদের সাথে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার কারণে বারবার অবস্থান থেকে সরে আসতে হচ্ছিল। রংপুর শহরের অন্যান্য জায়গাতেও পুলিশ ছাত্রলীগ ব্যাপক গোলাগুলি করে। চেকপোস্টের কমিউনিটি সেন্টারের সামনে কাচারীবাজার জেলা স্কুল এবং লালকুঠি মোড় শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শহরে সাজিদ যে জায়গায় অবস্থান করছিল সেটা ছিল টাউন হলের গেটের সামনে যেখানে পুলিশ এবং আওয়ামী ছাত্রলীগের স্থায়ী অবস্থান ছিল। পুলিশের প্রচণ্ড গুলির চাপে ছাত্র-জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং যে যার যার মতো দৌড়িয়ে পালাতে থাকে। সাজিদ পিছন দিকে পড়ে যায় এবং তার শরীরে কিছু ছররা গুলি কানে, হাতে ও পায় লাগে। তার শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়, কিন্তু তখনও পরিস্থিতি ছিল খুবই ভয়াবহ। কোনো গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। তাছাড়া হাসপাতাল গুলোতে হামলা এবং মামলার ভয় দেখানো হচ্ছিল। সেজন্য তিনি শহরের ভিতরের গলি দিয়ে কেরানীপাড়া হয়ে আইডিয়াল মোড় পর্যন্ত আসেন। চেকপোস্টে তখনও গোলাগুলি হচ্ছিল। ইসলামবাগ মসজিদের সামনে তার বন্ধু বাসিরের সাথে তার দেখা হয় এবং তার বাসায় গিয়ে ফার্স্ট এইডের সাহায্যে তার শরীর থেকে ছররা গুলি বের করা হয়। কানের মধ্যে যে গুলিগুলো ছিল সেগুলো বাসায় বের করা সম্ভব ছিলো না। কারণ তার নাকের নার্ভ কাটা যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই সময় সাজেদ তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে আশেপাশের হাসপাতালগুলোয় গেলে তারা চিকিৎসা করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এই অবস্থায় তার পরিচিত সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর তার পরিচিত এক ডাক্তার বন্ধুকে এনে কানের মধ্যে আটকে যাওয়া গুলিগুলো বের করেন। ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সাজিদ এবং তার বন্ধুরা টেক্সটাইল মোড়ের মেস থেকেই আন্দোলনের তৎপরতা চালাত। এই সময়টাতে সেনাবাহিনীর সেই সাবেক মেজর অর্থ ও আন্দোলনকেন্দ্রিক তথ্য দিয়ে অনেক সহায়তা করে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত গণমানুষের প্রতিবাদ। সাজিদ বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে এখনো সে সময়টার কথা মনে পড়লে তার বুক চমকে উঠে।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: সালাহ উদ্দিন সাজিদ
জন্ম তারিখ : ৪ ডিসেম্বর ২০০৬
জন্মস্থান : রংপুর
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : দা মিলেনিয়াম স্টার স্কুল আন্ড কলেজ
নিজ জেলা : রংপুর
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: নীলকন্ঠ মাস্টারপাড়া, ইউনিয়ন: পৌরসভা, থানা: পরশুরাম, জেলা: রংপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: গোলাম মোস্তফা
মায়ের নাম : মোছা: সালমা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : শিক্ষকতা, ৫৪
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
আয়ের উৎস : শিক্ষকতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. ফাতিমা ফারহানা, বয়স: ২৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম, সম্পর্ক: বোন
২. মুতমাইন্নাহ জীম, বয়স: ১৫, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক: বোন
৩. ফাহমিদা মাইশা, বয়স: ৯, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: ৪র্থ, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে, ওভারব্রিজের নিচে
আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৫টা
আক্রমণকারী : পুলিশ, ছাত্রলীগ (লাল গেঞ্জী পরিহিত)
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍