মো: মিনু মিঞা
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : হকার
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
সবুজ গ্রামে বেড়ে ওঠা এক সংগ্রামী মানুষ
ঠাকুরগাঁও জেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামের সবুজ-শ্যামল পরিবেশে জন্ম নিয়েছিলেন মো: মিনু মিঞা। তার জন্ম ১৯৮৯ সালের ২০ আগস্ট, এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ঘরে। ছোট্ট গ্রাম, কাঁচা রাস্তা, বাঁশঝাড়ের ছায়া, আর পাখির ডাক এই সবকিছু ছিল তার শৈশবের স্মৃতির অংশ। বাবার নাম মো: রফিজ উদ্দিন, একজন রিকশাচালক; মা মোছা: দোলেনা বেগম, একজন গৃহিণী। ছেলেবেলা থেকেই মিনু বুঝে গিয়েছিল, অভাব নামক শব্দটি তাদের পরিবারে নিত্যসঙ্গী।
শিক্ষা জীবন খুব দূর এগোয়নি তার। সংসারের হাল ধরতে হতো বলে অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। এরপরই জীবনের কঠিন সংগ্রাম শুরু। শহরের বিভিন্ন বাজারে আতর, টুপি, তসবিহ বিক্রি করে জীবন চালাতে শুরু করেন তিনি। কখনো চৌরাস্তার মোড়ে, কখনো মসজিদের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হকারি করতেন। পরিবার বলতে তার স্ত্রী, আর দুই ফুটফুটে কন্যাসন্তান, আছিয়া আক্তার (৪ বছর) ও মাইমুনা আক্তার (২ বছর)। সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার ছিল তার একার কাঁধে। মাসে মাত্র ছয় হাজার টাকা আয় হলেও পরিবারে ছিল এক টুকরো ভালোবাসা, এক চিলতে শান্তি। স্ত্রীর হাসি, মেয়েদের দৌড়াদৌড়ি, আর নিজের ঘামে ভেজা মুখে রুটি-ভাতের খুশবু এই ছিল তার জীবনের প্রাপ্তি। মিনু মিঞার জীবন ছিল কঠিন, কিন্তু সুখের।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালেও এমনই এক সময়ে দেশের শিক্ষার্থীরা উঠে দাঁড়িয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল হাজারো তরুণ-তরুণী। তখনো আন্দোলনের ঝাঁঝ টের পেয়েছিল দেশের শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু আন্দোলন দমিয়ে দিতে তারা ব্যবহার করেছিল পুলিশ বাহিনী, দলীয় সন্ত্রাসী, এমনকি রাষ্ট্রীয় দমনপন্থাও। প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে শেখ হাসিনা সরকার। কিন্তু সেটা ছিল সাময়িক স্থায়ী কোন সমাধান ছিল না। তাইতো ২০২৪ সালে সেই আন্দোলনের নতুন রূপ নেয়। এইবার শুধু ছাত্র নয় গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, চাকরিপ্রার্থী, বেকার যুবক, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নামে। এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ, ব্যানার, মিছিল। সারা দেশ যেন এক ভয়াবহ উত্তাল তরঙ্গে ভাসছিল। পুলিশ বাহিনী, র্যাব, ডিবি সব নামেই আতঙ্ক। যাকে পাচ্ছে, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, পেটাচ্ছে, মামলায় দিচ্ছে, এমনকি গুম-খুন করছে। মিডিয়া চুপ, বিচার নেই, সরকার নির্বিকার। অথচ মানুষের আর্তনাদ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছিল। ঠাকুরগাঁও এই আন্দোলন থেকে পিছিয়ে ছিল না। সেখানেও মানুষ রাস্তায় নামছিল। মিনু মিঞাও এই গণআন্দোলনের ঢেউয়ে গা ভাসান, হৃদয় থেকে, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে।
৪ আগস্টের বিকেল রক্তাক্ত চৌরাস্তা
৪ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ৪টা। ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা মোড়ে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছিল। হকার, ছাত্র, কৃষক, দিনমজুর, বুদ্ধিজীবী সবাই একটি কণ্ঠে বলছিল, “কোটা সংস্কার চাই”, “স্বৈরাচার নিপাত যাক”। মিনু মিঞা ছিলেন সেই জনতার সামনে, পেছনে নয়। একটি ছোট্ট মাইকে বলছিলেন, এই রাষ্ট্রের মালিক আমরা... আমাদের রক্তে গড়া এই দেশকে দস্যুরা গিলে খাবে, তা হতে পারে না! হঠাৎই আক্রমণ। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠি, রড, চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে জনতার ওপর। কেউ বাঁচে, কেউ পালায়, কেউ রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে। মিনু মিঞা পেছাতে চাইলেও পারেননি। যুবলীগের সজীব নামের একজন তার দিকে তেড়ে আসে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ বসায় তার হাতে, ঘাড়ে, পিঠে। তাঁর ডান হাতের রগ কেটে যায়, রক্তে ভেসে যায় গায়ের জামা। পথের পাশে পড়েছিলেন নিস্তেজ হয়ে। যারা কোপ দিয়েছিল তারা চলে যায় অট্টহাসি হেসে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের শীতল বিছানায়
প্রথমে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। হাত ব্যান্ডেজ করে রক্ত বন্ধ করা হয়। কিন্তু অবস্থা খারাপের দিকে যায়। চিকিৎসকেরা জানায়, রগের ক্ষতি হয়েছে, অপারেশন লাগবে। তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঢাকা পৌঁছাতে পৌঁছাতে শরীরে রক্তের স্বল্পতা দেখা দেয়। পরদিনই অপারেশন করা হয়। ছিন্ন রগ জোড়া লাগানো হয়। চিকিৎসক জানায়, “এই হাত আর আগের মতো হবে না। ভারী কিছু তুলতে পারবেন না। নিয়মিত থেরাপি নিতে হবে।” ঢাকা শহরে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা সব মিলিয়ে হিমশিম অবস্থা। নিজের হকারি করে জমানো টাকা শেষ হয়ে যায় কয়েক দিনের মধ্যেই।
পারিবারিকভাবে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার মত খরচ হয় যেটা ঋণ করে পরিশোধ করা হয়। ২০ দিন পর বাড়ি ফিরলেন মিনু মিঞা। শরীর চলে, কিন্তু হাত চলে না ঠিকঠাক। একদিকে অক্ষমতা, অন্যদিকে সংসারের চিন্তা। দুই মেয়ের মুখ দেখে সাহস খুঁজে পান। কিন্তু আয় বন্ধ। আগে যে আতর-টুপি-তসবিহ বেচে সংসার চলত, এখন সেই কাজ করাও কঠিন। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাহায্য আসেনি। অথচ তিনি কোনো রাজনীতি করেননি। শুধু একটা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই তার ওপর এমন নির্মম আঘাত। এখন তিনি প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে দিন কাটান। হাতের থেরাপি, মেয়েদের দুধ কেনা, সংসার চালানো সব যেন তার কাধে। তবু তিনি ভেঙে পড়েন না। বলেন, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি, থাকব। আমার হাত কাটা যেতে পারে, কিন্তু মনের শক্তি কাটা যায় না।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: মিনু মিঞা
জন্ম তারিখ : ২০ আগস্ট ১৯৮৯
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : হকার
প্রতিষ্ঠান : বিভিন্ন বাজার বা মসজিদের সামনে আতর, টুপি, তসবিহ বিক্রি
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম : দক্ষিণ সালন্দর, ইউনিয়ন : সালন্দর, থানা : ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা : ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রফিজ উদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা: দোলেনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : রিকশাচালক, ৭০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬৫
মাসিক আয় : ৬ হাজার
আয়ের উৎস : হকারি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আছিয়া আক্তার, বয়স: ৪ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
২. মাইমুনা আক্তার, বয়স: ২ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : চৌরাস্তা, ঠাকুরগাঁও
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৪টা
আক্রমণকারী : যুবলীগ ও সজিব
প্রস্তাবিত বাজেট : ২ লক্ষ টাকা প্রায়
ঠাকুরগাঁও জেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামের সবুজ-শ্যামল পরিবেশে জন্ম নিয়েছিলেন মো: মিনু মিঞা। তার জন্ম ১৯৮৯ সালের ২০ আগস্ট, এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ঘরে। ছোট্ট গ্রাম, কাঁচা রাস্তা, বাঁশঝাড়ের ছায়া, আর পাখির ডাক এই সবকিছু ছিল তার শৈশবের স্মৃতির অংশ। বাবার নাম মো: রফিজ উদ্দিন, একজন রিকশাচালক; মা মোছা: দোলেনা বেগম, একজন গৃহিণী। ছেলেবেলা থেকেই মিনু বুঝে গিয়েছিল, অভাব নামক শব্দটি তাদের পরিবারে নিত্যসঙ্গী।
শিক্ষা জীবন খুব দূর এগোয়নি তার। সংসারের হাল ধরতে হতো বলে অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। এরপরই জীবনের কঠিন সংগ্রাম শুরু। শহরের বিভিন্ন বাজারে আতর, টুপি, তসবিহ বিক্রি করে জীবন চালাতে শুরু করেন তিনি। কখনো চৌরাস্তার মোড়ে, কখনো মসজিদের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হকারি করতেন। পরিবার বলতে তার স্ত্রী, আর দুই ফুটফুটে কন্যাসন্তান, আছিয়া আক্তার (৪ বছর) ও মাইমুনা আক্তার (২ বছর)। সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার ছিল তার একার কাঁধে। মাসে মাত্র ছয় হাজার টাকা আয় হলেও পরিবারে ছিল এক টুকরো ভালোবাসা, এক চিলতে শান্তি। স্ত্রীর হাসি, মেয়েদের দৌড়াদৌড়ি, আর নিজের ঘামে ভেজা মুখে রুটি-ভাতের খুশবু এই ছিল তার জীবনের প্রাপ্তি। মিনু মিঞার জীবন ছিল কঠিন, কিন্তু সুখের।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালেও এমনই এক সময়ে দেশের শিক্ষার্থীরা উঠে দাঁড়িয়েছিল। কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল হাজারো তরুণ-তরুণী। তখনো আন্দোলনের ঝাঁঝ টের পেয়েছিল দেশের শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু আন্দোলন দমিয়ে দিতে তারা ব্যবহার করেছিল পুলিশ বাহিনী, দলীয় সন্ত্রাসী, এমনকি রাষ্ট্রীয় দমনপন্থাও। প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে শেখ হাসিনা সরকার। কিন্তু সেটা ছিল সাময়িক স্থায়ী কোন সমাধান ছিল না। তাইতো ২০২৪ সালে সেই আন্দোলনের নতুন রূপ নেয়। এইবার শুধু ছাত্র নয় গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, চাকরিপ্রার্থী, বেকার যুবক, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নামে। এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ, ব্যানার, মিছিল। সারা দেশ যেন এক ভয়াবহ উত্তাল তরঙ্গে ভাসছিল। পুলিশ বাহিনী, র্যাব, ডিবি সব নামেই আতঙ্ক। যাকে পাচ্ছে, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, পেটাচ্ছে, মামলায় দিচ্ছে, এমনকি গুম-খুন করছে। মিডিয়া চুপ, বিচার নেই, সরকার নির্বিকার। অথচ মানুষের আর্তনাদ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছিল। ঠাকুরগাঁও এই আন্দোলন থেকে পিছিয়ে ছিল না। সেখানেও মানুষ রাস্তায় নামছিল। মিনু মিঞাও এই গণআন্দোলনের ঢেউয়ে গা ভাসান, হৃদয় থেকে, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে।
৪ আগস্টের বিকেল রক্তাক্ত চৌরাস্তা
৪ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ৪টা। ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা মোড়ে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছিল। হকার, ছাত্র, কৃষক, দিনমজুর, বুদ্ধিজীবী সবাই একটি কণ্ঠে বলছিল, “কোটা সংস্কার চাই”, “স্বৈরাচার নিপাত যাক”। মিনু মিঞা ছিলেন সেই জনতার সামনে, পেছনে নয়। একটি ছোট্ট মাইকে বলছিলেন, এই রাষ্ট্রের মালিক আমরা... আমাদের রক্তে গড়া এই দেশকে দস্যুরা গিলে খাবে, তা হতে পারে না! হঠাৎই আক্রমণ। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠি, রড, চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে জনতার ওপর। কেউ বাঁচে, কেউ পালায়, কেউ রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে। মিনু মিঞা পেছাতে চাইলেও পারেননি। যুবলীগের সজীব নামের একজন তার দিকে তেড়ে আসে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ বসায় তার হাতে, ঘাড়ে, পিঠে। তাঁর ডান হাতের রগ কেটে যায়, রক্তে ভেসে যায় গায়ের জামা। পথের পাশে পড়েছিলেন নিস্তেজ হয়ে। যারা কোপ দিয়েছিল তারা চলে যায় অট্টহাসি হেসে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের শীতল বিছানায়
প্রথমে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। হাত ব্যান্ডেজ করে রক্ত বন্ধ করা হয়। কিন্তু অবস্থা খারাপের দিকে যায়। চিকিৎসকেরা জানায়, রগের ক্ষতি হয়েছে, অপারেশন লাগবে। তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঢাকা পৌঁছাতে পৌঁছাতে শরীরে রক্তের স্বল্পতা দেখা দেয়। পরদিনই অপারেশন করা হয়। ছিন্ন রগ জোড়া লাগানো হয়। চিকিৎসক জানায়, “এই হাত আর আগের মতো হবে না। ভারী কিছু তুলতে পারবেন না। নিয়মিত থেরাপি নিতে হবে।” ঢাকা শহরে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা সব মিলিয়ে হিমশিম অবস্থা। নিজের হকারি করে জমানো টাকা শেষ হয়ে যায় কয়েক দিনের মধ্যেই।
পারিবারিকভাবে প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার মত খরচ হয় যেটা ঋণ করে পরিশোধ করা হয়। ২০ দিন পর বাড়ি ফিরলেন মিনু মিঞা। শরীর চলে, কিন্তু হাত চলে না ঠিকঠাক। একদিকে অক্ষমতা, অন্যদিকে সংসারের চিন্তা। দুই মেয়ের মুখ দেখে সাহস খুঁজে পান। কিন্তু আয় বন্ধ। আগে যে আতর-টুপি-তসবিহ বেচে সংসার চলত, এখন সেই কাজ করাও কঠিন। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাহায্য আসেনি। অথচ তিনি কোনো রাজনীতি করেননি। শুধু একটা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই তার ওপর এমন নির্মম আঘাত। এখন তিনি প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে দিন কাটান। হাতের থেরাপি, মেয়েদের দুধ কেনা, সংসার চালানো সব যেন তার কাধে। তবু তিনি ভেঙে পড়েন না। বলেন, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি, থাকব। আমার হাত কাটা যেতে পারে, কিন্তু মনের শক্তি কাটা যায় না।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: মিনু মিঞা
জন্ম তারিখ : ২০ আগস্ট ১৯৮৯
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : হকার
প্রতিষ্ঠান : বিভিন্ন বাজার বা মসজিদের সামনে আতর, টুপি, তসবিহ বিক্রি
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম : দক্ষিণ সালন্দর, ইউনিয়ন : সালন্দর, থানা : ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা : ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: রফিজ উদ্দিন
মায়ের নাম : মোছা: দোলেনা বেগম
পিতার পেশা ও বয়স : রিকশাচালক, ৭০
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৬৫
মাসিক আয় : ৬ হাজার
আয়ের উৎস : হকারি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
সন্তানদের বিবরণ
১. আছিয়া আক্তার, বয়স: ৪ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
২. মাইমুনা আক্তার, বয়স: ২ বছর, সম্পর্ক: মেয়ে
ঘটনার স্থান : চৌরাস্তা, ঠাকুরগাঁও
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, বিকাল ৪টা
আক্রমণকারী : যুবলীগ ও সজিব
প্রস্তাবিত বাজেট : ২ লক্ষ টাকা প্রায়
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍