মো: সাদেকুল ইসলাম মুন্না
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : শিক্ষার্থী (এল এল বি, ১ম পর্ব)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
গোগরের সবুজ আলোতে জন্ম, অভাবের ছায়ায় বেড়ে ওঠা
পাহাড়ঘেরা এলাকা নয়, সাগরপাড়ের বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা নয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এক প্রান্তিক জনপদ ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকাইল থানা। সেখানেই লেহেম্বা ইউনিয়নের গোগর নামের একটি নিভৃত, গ্রামীণ, ছায়াঘেরা গ্রাম। গরু-ছাগলের রিনরিনে শব্দ, কুয়াশা ভেজা ধানক্ষেত আর ফসলের মিষ্টি গন্ধে ঢাকা এক শান্তিপূর্ণ বসতি। এই গ্রামের বুকে ১৯৯৭ সালের ১০ অক্টোবর জন্ম নেয় মো: সাদেকুল ইসলাম মুন্না। মুন্নার বাবা আব্দুস সামাদ ছিলেন একান্তই কৃষিজীবী মানুষ। সকালে মাঠে যান, সন্ধ্যায় ফেরা। মা সেলিনা খাতুন গৃহিণী, সাতজনের পরিবারের রান্না, কাপড়, ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা সবকিছু সামলাতেন হাসিমুখে।
পাঁচ হাজার টাকার মাসিক আয় দিয়ে এত বড় সংসার টেনে নেওয়া সহজ ছিল না। মুন্নার বড় ভাই মো: সাইফুল ইসলাম তখন বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষিকাজে। অভাব ছিল, কিন্তু অপমান ছিল না। ক্ষুধা ছিল, কিন্তু শ্রদ্ধা হারায়নি। মুন্নার শৈশব কেটেছে বাঁশবাগানে পাখি খুঁজে, পুকুরে ডুব দিয়ে মাছ ধরে, খালি পায়ে স্কুলে ছুটে যেতে যেতে। তার স্বপ্ন জন্মেছিল সেই ছেলেবেলায় একদিন সে বড় হবে। মানুষের মত মানুষ হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, মাধ্যমিক শেষ করে মুন্না ভর্তি হয় দিনাজপুর সরকারি কলেজে। ২০১৭ সালে প্রথমবার গ্রামের বাইরে আসে। বুকের মধ্যে তখন একটাই স্বপ্ন বিচার শিখবে, আইন পড়বে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। সেই থেকেই মুন্না থাকে দিনাজপুর শহরের গোলাপবাগে এক ছোট্ট মেসে। দিনে ক্লাস করে, রাতে টিউশন পড়ে। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে সে চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা। ২০২৩ সালে সে ভর্তি হয় দিনাজপুর আইন কলেজে, এলএলবি ১ম পর্বের ছাত্র হিসেবে। তার জীবন ছিল নিঃস্ব, কিন্তু তার মন ভরপুর ছিল আশা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের সাহসে।
৪ আগস্টের রক্তাক্ত বিকেল
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবির মাধ্যমে। প্রথমে ৯ দফা দাবি জানালে সরকার তা না মেনে বরং ছাত্র-জনতা কে হত্যা করতে থাকে তখন এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, গণআন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। মুন্না সেই সকালে বন্ধুদের নিয়ে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গেটের সামনে গিয়েছিল ১ দফা দাবির গণমিছিলে যোগ দিতে। তার চোখে ছিল স্বপ্ন একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার।
মিছিল এগিয়ে যাচ্ছিল ডিসি অফিসের দিকে। কিন্তু ‘জোড়াব্রিজ’ এলাকায় গিয়ে পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ায় পুলিশ। কিছুক্ষণ চিৎকার, প্ল্যাকার্ড, মাইকে স্লোগান চলার পর হঠাৎ শুরু হয় নরক যন্ত্রণা টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে দেয় পুলিশ। মুন্না তখন মিছিলে সবার সামনের দিকে। একের পর এক বুলেট ছুটে আসে। জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে, কিন্তু কেউ থামে না। মুন্না নিজেও এগিয়ে যেতে থাকে। হাসপাতাল মোড়ের দিকে পৌরসভার গেইট এলাকায় হঠাৎ করে গুলির আওয়াজে মুন্না থমকে যায়। সামনেই এক পুলিশ সদস্য গুলি ছুড়ছে, আরেকটু কাছে আসতেই মুন্নার ডান চোখের নিচে বুলেট এসে লাগে। সবকিছু ঝাপসা হয়ে যায়। চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে, কানে কিছুই আসছে না। শরীরের ভার ধরে রাখতে না পেরে সে পড়ে যায় রাস্তায়। চারদিকে শুধু চিৎকার আর ব্যথার কুয়াশা।
হাসপাতালে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা
বন্ধুরা মুন্নাকে ধরে নিয়ে আসে দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে। সেখান থেকে দ্রুত নেয়া হয় ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেই আসে চরম ভোগান্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্দোলনকারীদের ভর্তি নিলে ছাত্রলীগ হামলা করবে। তাই তারা মুন্নাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয় সেখান থেকে। আহত মুন্নাকে বন্ধুরা নিয়ে যায় ডা. আনসার আলী স্যারের চেম্বারে। চোখের নিচে তখনো গেঁথে ছিল বুলেটের টুকরা। ডাক্তার আনসার আলী অভিজ্ঞ হাতে সেই বুলেট বের করেন। পরিষ্কার করেন ক্ষতস্থান, ব্যান্ডেজ করে দেন। তিনি বলেন, আর এক চুল ভেতরে গেলে পুরো চোখটাই নষ্ট হয়ে যেত। মুন্না তখনো অচেতন, জ্ঞান ফিরে শুনে জানলেন নিজের জীবনের কী ভয়াবহ এক ধাপে এসে দাঁড়িয়েছেন।
চিকিৎসা শেষে ঔষধ ও ব্যান্ডেজ নিয়ে মেসে ফিরে যান। এরপর কয়েকদিন বেড রেস্টে ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট সকালেই মুন্না আবার রাস্তায়, আন্দোলনে চোখে ব্যান্ডেজ, মুখে বিজয়ের শ্লোগান।
প্রতিজ্ঞা, যন্ত্রণা আর এক নতুন আলো
পনেরো দিনের বিশ্রামের পর মুন্না কিছুটা সুস্থ হলেও চোখের ভিতরে আজও ব্যথা অনুভব করেন। মাঝে মাঝে যান ডা. আনসার আলীর চেম্বারে। ব্যথা বেড়ে গেলে পেইন কিলার খান, আবার ক্লাসে যান। জীবন থেমে নেই তার জন্য।
মুন্না বলেন, আমি জানি, এই চোখটা হয়তো আগের মতো সুস্থ হবেনা। কিন্তু এই দেশ যদি ঠিক পথে না চলে, তাহলে শুধু আমার চোখ কেন, আমাদের ভবিষ্যতটাই অন্ধ হয়ে যাবে। পড়াশোনা শেষে মুন্না এখনো স্বপ্ন দেখেন একজন আইনজীবী হবার। পরিবারে ভাই সাইফুল একজন কৃষক, রিফাত পড়াশোনা করে অনার্সে। পরিবারের একমাত্র আশার প্রতীক মুন্না। দেশের জন্য কিছু করতে চায় সে। চায় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। চায়, যেন আর কোনো তরুণ এমন গুলিতে আহত না হয়, যেন আর কোনো হাসপাতাল আহত আন্দোলনকারীদের ফিরিয়ে না দেয়। একটি চোখে আঘাত পেয়েও মুন্না হার মানেনি। যন্ত্রণার মধ্যে দিয়েই সে নির্মাণ করে চলেছে এক নতুন দিনের স্বপ্ন, ন্যায়, মানবতা ও গণতন্ত্রের বাংলাদেশের স্বপ্ন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া। আইনের ছাত্র, অন্যায়ের শিকার
রাষ্ট্রের নীরবতার প্রামাণ্য দলিল
নাম : মো: সাদেকুল ইসলাম মুন্না
জন্ম তারিখ : ১০ অক্টোবর ১৯৯৭
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : শিক্ষার্থী (এল এল বি, ১ম পর্ব)
প্রতিষ্ঠান : আইন কলেজ, দিনাজপুর
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ঠিকানা : গোলাপবাগ, দিনাজপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: গোগর, ইউনিয়ন: গোগর ৪নং লেহেম্বা, থানা: রানীশংকাইল, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আব্দুস সামাদ
মায়ের নাম : মোছা: সেলিনা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৯
মাসিক আয় : ৫ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. মো: সাইফুল ইসলাম, বয়স: ৩০, পেশা: কৃষক, সম্পর্ক: ভাই
২. সুমিন রানা রিফাত, বয়স: ২০, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : সদর হাসপাতালের সামনে, দিনাজপুর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ
পাহাড়ঘেরা এলাকা নয়, সাগরপাড়ের বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা নয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এক প্রান্তিক জনপদ ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকাইল থানা। সেখানেই লেহেম্বা ইউনিয়নের গোগর নামের একটি নিভৃত, গ্রামীণ, ছায়াঘেরা গ্রাম। গরু-ছাগলের রিনরিনে শব্দ, কুয়াশা ভেজা ধানক্ষেত আর ফসলের মিষ্টি গন্ধে ঢাকা এক শান্তিপূর্ণ বসতি। এই গ্রামের বুকে ১৯৯৭ সালের ১০ অক্টোবর জন্ম নেয় মো: সাদেকুল ইসলাম মুন্না। মুন্নার বাবা আব্দুস সামাদ ছিলেন একান্তই কৃষিজীবী মানুষ। সকালে মাঠে যান, সন্ধ্যায় ফেরা। মা সেলিনা খাতুন গৃহিণী, সাতজনের পরিবারের রান্না, কাপড়, ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা সবকিছু সামলাতেন হাসিমুখে।
পাঁচ হাজার টাকার মাসিক আয় দিয়ে এত বড় সংসার টেনে নেওয়া সহজ ছিল না। মুন্নার বড় ভাই মো: সাইফুল ইসলাম তখন বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষিকাজে। অভাব ছিল, কিন্তু অপমান ছিল না। ক্ষুধা ছিল, কিন্তু শ্রদ্ধা হারায়নি। মুন্নার শৈশব কেটেছে বাঁশবাগানে পাখি খুঁজে, পুকুরে ডুব দিয়ে মাছ ধরে, খালি পায়ে স্কুলে ছুটে যেতে যেতে। তার স্বপ্ন জন্মেছিল সেই ছেলেবেলায় একদিন সে বড় হবে। মানুষের মত মানুষ হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, মাধ্যমিক শেষ করে মুন্না ভর্তি হয় দিনাজপুর সরকারি কলেজে। ২০১৭ সালে প্রথমবার গ্রামের বাইরে আসে। বুকের মধ্যে তখন একটাই স্বপ্ন বিচার শিখবে, আইন পড়বে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। সেই থেকেই মুন্না থাকে দিনাজপুর শহরের গোলাপবাগে এক ছোট্ট মেসে। দিনে ক্লাস করে, রাতে টিউশন পড়ে। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে সে চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা। ২০২৩ সালে সে ভর্তি হয় দিনাজপুর আইন কলেজে, এলএলবি ১ম পর্বের ছাত্র হিসেবে। তার জীবন ছিল নিঃস্ব, কিন্তু তার মন ভরপুর ছিল আশা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের সাহসে।
৪ আগস্টের রক্তাক্ত বিকেল
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবির মাধ্যমে। প্রথমে ৯ দফা দাবি জানালে সরকার তা না মেনে বরং ছাত্র-জনতা কে হত্যা করতে থাকে তখন এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, গণআন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। মুন্না সেই সকালে বন্ধুদের নিয়ে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গেটের সামনে গিয়েছিল ১ দফা দাবির গণমিছিলে যোগ দিতে। তার চোখে ছিল স্বপ্ন একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার।
মিছিল এগিয়ে যাচ্ছিল ডিসি অফিসের দিকে। কিন্তু ‘জোড়াব্রিজ’ এলাকায় গিয়ে পথ রুদ্ধ করে দাঁড়ায় পুলিশ। কিছুক্ষণ চিৎকার, প্ল্যাকার্ড, মাইকে স্লোগান চলার পর হঠাৎ শুরু হয় নরক যন্ত্রণা টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে দেয় পুলিশ। মুন্না তখন মিছিলে সবার সামনের দিকে। একের পর এক বুলেট ছুটে আসে। জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে, কিন্তু কেউ থামে না। মুন্না নিজেও এগিয়ে যেতে থাকে। হাসপাতাল মোড়ের দিকে পৌরসভার গেইট এলাকায় হঠাৎ করে গুলির আওয়াজে মুন্না থমকে যায়। সামনেই এক পুলিশ সদস্য গুলি ছুড়ছে, আরেকটু কাছে আসতেই মুন্নার ডান চোখের নিচে বুলেট এসে লাগে। সবকিছু ঝাপসা হয়ে যায়। চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে, কানে কিছুই আসছে না। শরীরের ভার ধরে রাখতে না পেরে সে পড়ে যায় রাস্তায়। চারদিকে শুধু চিৎকার আর ব্যথার কুয়াশা।
হাসপাতালে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা
বন্ধুরা মুন্নাকে ধরে নিয়ে আসে দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে। সেখান থেকে দ্রুত নেয়া হয় ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেই আসে চরম ভোগান্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্দোলনকারীদের ভর্তি নিলে ছাত্রলীগ হামলা করবে। তাই তারা মুন্নাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয় সেখান থেকে। আহত মুন্নাকে বন্ধুরা নিয়ে যায় ডা. আনসার আলী স্যারের চেম্বারে। চোখের নিচে তখনো গেঁথে ছিল বুলেটের টুকরা। ডাক্তার আনসার আলী অভিজ্ঞ হাতে সেই বুলেট বের করেন। পরিষ্কার করেন ক্ষতস্থান, ব্যান্ডেজ করে দেন। তিনি বলেন, আর এক চুল ভেতরে গেলে পুরো চোখটাই নষ্ট হয়ে যেত। মুন্না তখনো অচেতন, জ্ঞান ফিরে শুনে জানলেন নিজের জীবনের কী ভয়াবহ এক ধাপে এসে দাঁড়িয়েছেন।
চিকিৎসা শেষে ঔষধ ও ব্যান্ডেজ নিয়ে মেসে ফিরে যান। এরপর কয়েকদিন বেড রেস্টে ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট সকালেই মুন্না আবার রাস্তায়, আন্দোলনে চোখে ব্যান্ডেজ, মুখে বিজয়ের শ্লোগান।
প্রতিজ্ঞা, যন্ত্রণা আর এক নতুন আলো
পনেরো দিনের বিশ্রামের পর মুন্না কিছুটা সুস্থ হলেও চোখের ভিতরে আজও ব্যথা অনুভব করেন। মাঝে মাঝে যান ডা. আনসার আলীর চেম্বারে। ব্যথা বেড়ে গেলে পেইন কিলার খান, আবার ক্লাসে যান। জীবন থেমে নেই তার জন্য।
মুন্না বলেন, আমি জানি, এই চোখটা হয়তো আগের মতো সুস্থ হবেনা। কিন্তু এই দেশ যদি ঠিক পথে না চলে, তাহলে শুধু আমার চোখ কেন, আমাদের ভবিষ্যতটাই অন্ধ হয়ে যাবে। পড়াশোনা শেষে মুন্না এখনো স্বপ্ন দেখেন একজন আইনজীবী হবার। পরিবারে ভাই সাইফুল একজন কৃষক, রিফাত পড়াশোনা করে অনার্সে। পরিবারের একমাত্র আশার প্রতীক মুন্না। দেশের জন্য কিছু করতে চায় সে। চায় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। চায়, যেন আর কোনো তরুণ এমন গুলিতে আহত না হয়, যেন আর কোনো হাসপাতাল আহত আন্দোলনকারীদের ফিরিয়ে না দেয়। একটি চোখে আঘাত পেয়েও মুন্না হার মানেনি। যন্ত্রণার মধ্যে দিয়েই সে নির্মাণ করে চলেছে এক নতুন দিনের স্বপ্ন, ন্যায়, মানবতা ও গণতন্ত্রের বাংলাদেশের স্বপ্ন।
কর্মসংস্থানের প্রস্তাবনা
চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া। আইনের ছাত্র, অন্যায়ের শিকার
রাষ্ট্রের নীরবতার প্রামাণ্য দলিল
নাম : মো: সাদেকুল ইসলাম মুন্না
জন্ম তারিখ : ১০ অক্টোবর ১৯৯৭
জন্মস্থান : ঠাকুরগাঁও
পেশা : শিক্ষার্থী (এল এল বি, ১ম পর্ব)
প্রতিষ্ঠান : আইন কলেজ, দিনাজপুর
নিজ জেলা : ঠাকুরগাঁও
বর্তমান ঠিকানা : গোলাপবাগ, দিনাজপুর
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: গোগর, ইউনিয়ন: গোগর ৪নং লেহেম্বা, থানা: রানীশংকাইল, জেলা: ঠাকুরগাঁও
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: আব্দুস সামাদ
মায়ের নাম : মোছা: সেলিনা খাতুন
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫৫
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৯
মাসিক আয় : ৫ হাজার টাকা
আয়ের উৎস : কৃষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. মো: সাইফুল ইসলাম, বয়স: ৩০, পেশা: কৃষক, সম্পর্ক: ভাই
২. সুমিন রানা রিফাত, বয়স: ২০, পেশা: শিক্ষার্থী, শ্রেণি: অনার্স ১ম বর্ষ, সম্পর্ক: ভাই
ঘটনার স্থান : সদর হাসপাতালের সামনে, দিনাজপুর
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍