হোম / আহতদের তালিকা / আসিফুল ইসলাম আহাদ
আসিফুল ইসলাম আহাদ

আসিফুল ইসলাম আহাদ

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী, সোনাগাজী সরকারি কলেজ

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
আসিফুল ইসলাম আহাদ, এক নির্ভীক ছাত্র আন্দোলনকারী ও মেধাবী শিক্ষার্থী, জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ২০০২ সালে ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার আড়কাইম গ্রামে, ২নং বগাদইন ইউনিয়নে। তাঁর পিতা নুরুল আমিন একজন কৃষক (বয়স ৭০) এবং মাতা বিবি রহিমা (বয়স ৫৮) একজন গৃহিণী। ছয় সদস্যের পরিবারে তিনি সবার খুবই আদরের, শান্তশিষ্ট ও নিরব স্বভাবের ছিলেন, ঠিক যেন গ্রামের মেঠো পথে ফোঁটা এক পদ্মফুল। বর্তমানে তিনি সোনাগাজী সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত। অত্যন্ত মেধাবী এই তরুণ ৪ঠা আগস্ট ফেনী জেলার মহিপালে ছাত্র-জনতার এক দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাসের মুখোমুখি হন। সার্কিট হাউজ রোডে অবস্থানকালীন সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা যোহরের নামাজের পর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করলে আহাদ বীরত্বের সাথে প্রতিরোধে অংশ নেন।

এই হামলায় তিনি চোখের পাশে, হাতে ও পেটের দু’পাশে গুলিবিদ্ধ হন এবং তার চোখের সামনে একে একে নিহত হয় তার সহযোদ্ধা ভাইয়েরা। রক্তাক্ত এই অভিজ্ঞতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি; বরং তাকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
ফেনীর মহিপাল, ৪ আগস্টের দুপুর। যোহরের নামাজ শেষে যখন রাজপথ জেগে উঠেছিল এক দফার অগ্নিঝরা স্লোগানে, তখন সেই মিছিলে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তরুণ আসিফুল ইসলাম আহাদ। স্বৈরশাসনের শৃঙ্খল ভাঙার প্রত্যয়ে যে জনতা রাস্তায় নেমেছিল, তাদের অগ্রভাগে আহাদ ছিলেন সাহসিকতার প্রতীক হয়ে।
কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই মিছিলে নেমে আসে রক্তঝরা অন্ধকার। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ আর যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করেই শুরু করে গুলিবর্ষণ। সার্কিট হাউজ রোডে তখন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে প্রতিরোধের আগুন। সন্ত্রাসীদের গুলি ছুটে আসে নির্মম নিপীড়নের মতো, আর আহাদ ও তার সঙ্গীরা জবাবে ছুড়ে দেন ইট-পাটকেল এ যেন ছিল অন্যায় আর ন্যায়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
একসময় আহাদের চোখের সামনে রক্তে লুটিয়ে পড়েন তার অনেক সহযোদ্ধা। মৃত্যুর ভয়ে পিছিয়ে যাননি তিনি; বরং বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ ভাইদের রক্তের সামনে। গুলির ঝড়ে তার মাথার পাশ দিয়ে চিরে যায় একটি বুলেট, চামড়ার সাথে লেগে চলে যায় জীবন-সংশয় ডেকে। চোখের পাশে, হাতে, পেটের দুই পাশে বুলেটের ক্ষত বয়ে নিয়েও তিনি প্রমাণ করে যান, আন্দোলন শুধু স্লোগানের নয়, তা রক্ত আর আত্মত্যাগেরও।
আসিফুল ইসলাম আহাদের শরীর আজ গুলিবিদ্ধ, তবুও তার মনোবল অটুট। তিনি হয়ে ওঠেন এক অগ্নিসংগীত, যেখান থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখবে সাহসের অর্থ, শোষণবিরোধী সংগ্রামের সত্যিকার মন্ত্র।
চিকিৎসা
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আসিফুল ইসলাম আহাদের চিকিৎসাজনিত অভিজ্ঞতা ছিল এক কঠিন ও কষ্টকর বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বেদনার কাহিনি। ৪ আগস্টের আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে বেপরোয়া গুলিবর্ষণে তিনি চোখের পাশে, হাতে ও পেটের দুপাশে গুলিবিদ্ধ হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে একজন আত্মীয়ের সহায়তায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরিস্থিতি ছিল এতটাই সংকটপূর্ণ যে, তিনি তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাকে সোনাগাজীর গ্লোবাল হেল্থ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করেন।
এখনও তিনি চিকিৎসাধীন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। বিশেষ করে তার মাথার যে পাশ দিয়ে গুলি চামড়ার গা ঘেঁষে চলে গেছে, সেখানে এখনও তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। সেই পাশ হয়ে তিনি ঘুমাতেও পারেন না; একটু চাপ পড়লেই মাথায় অসহনীয় যন্ত্রণা শুরু হয়। চোখের পাশেও ব্যথা রয়ে গেছে, যা প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে করেছে কষ্টকর। তবুও সাহস ও সহ্যশক্তিকে অবলম্বন করে তিনি ধীরে ধীরে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন। এই চিকিৎসাজনিত দুর্ভোগ ও শারীরিক যন্ত্রণা আজও তাকে ৪ আগস্টের সেই ভয়াল দিনের কথা বারবার মনে পড়ে।
প্রস্তাবনা
যেহেতু তিনি এখনও পড়াশোনা করছেন তাই তার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।নাম : আসিফুল ইসলাম আহাদ
জন্মতারিখ : ০১-০১-২০০২
জন্মস্থান : আড়কাইম, ফেনী
পেশা : শিক্ষার্থী, সোনাগাজী সরকারি কলেজ
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : ফেনী, গ্রাম: আড়কাইম, ইউনিয়ন: ২নং বগাদইন, থানা: সোনাগাজী, জেলা: ফেনী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : নুরুল আমিন
পিতার পেশা : কৃষক, ৭০
মায়ের নাম : বিবি রহিমা, গৃহীনি, ৫৮
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ০৬
আহত হওয়ার স্থান : মহিপাল, ফেনী
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসী পুলিশএকনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍