হোম / আহতদের তালিকা / মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল
মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল

মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা/ পদবি : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জন্ম গ্রহণ করেছেন ০৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে। তিনি চট্টগ্রামের বাশখালীর সন্তান। তার বাবা জাকের আহমদ। মা রওশন আক্তার গৃহিণী। তিনি বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা একজন শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এসে যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কেবলই ছিল একদলীয় শাসনের নীলনকশা বাস্তবায়নের শুরু। তারা সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব শাখাকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে নির্বাচনী ব্যবস্থাও পরিণত হয় একদলীয় শাসনের হাতিয়ার হিসেবে। দেশকে ধীরে ধীরে পরিণত করা হয় এক অঙ্গরাজ্যে, যেখানে জনগণের মতামত নয়, বরং একটি দলের একচ্ছত্র আধিপত্যই ছিল চূড়ান্ত বাস্তবতা। বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার এই দুটি মৌলিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, এমনকি সাধারণ নাগরিকদেরও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভিন্নমত মানেই যেন রাষ্ট্রদ্রোহ, আর বিরোধিতা মানেই যেন ধ্বংসের আদেশ। ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের জন্য এক কালো অধ্যায়, যেখানে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি হয়ে যায়, আর জনগণ সকালেই জানে কারা জিতেছে। আর ২০২৪ সালের কথিত নির্বাচন ছিল এক প্রহসনের মঞ্চায়ন, যেখানে ভোটারবিহীন কেন্দ্র, বিরোধী দলবিহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাহারায় চালানো হয় একতরফা ভোটযজ্ঞ। এই সবই ছিল ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার ধারাবাহিক অপচেষ্টা। এদের ক্ষমতার নেশা শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডে জাতির আত্মা রক্তাক্ত হয়, কিন্তু সেই ঘটনার প্রকৃত সত্য আজও অজানা। শাপলা চত্বরে রাতের অন্ধকারে নির্বিচারে শিশু ও নিরস্ত্র ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ ছিল এক নিষ্ঠুর গণহত্যা, যার বিচার আজও হয়নি। এর পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গায়েবি মামলা, অপহরণ, গুম, খুন, কারাবন্দি এবং বিচারবহির্ভূত নির্যাতনের ঘটনা যেন এক রাষ্ট্রীয় দমননীতির স্থায়ী রূপ নিয়ে দাঁড়ায়। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আওয়ামী লীগ তার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার উপর হামলা শুরু করে। তারই পরিপেক্ষিতে আমি ১৮ জুলাই ২০২৪, আমি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে সমাবেশে যোগদান করি। ১০টার দিকে পুলিশ বাঁধা প্রদান করে,পরে তাদেরকে জানাই আমরা এখানে কোন ঝগড়া বিবাদ করেতে আসিনি বা কোন খারাপ স্লোগান দিচ্ছি না; আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে আসছি, করে যাবো যদি এক্ষেত্রে প্রাণ দিতে হয় তাহলে দেবো। পরে পুলিশ বলে গেছে আমরা দুপুর ১টা পর্যন্ত সমাবেশ করতে পারবো ,তখন আমরা তা মেনে নিয়ে সমাবেশ করতে থাকি এবং স্লোগান ও দাবি দাওয়া আদায় করার জন্য স্লোগান দিচ্ছি। সেই মিছিলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে এবং পুলিশ টিয়ারসেল গ্যাস মারতে থাকে এবং বুলেট শুট করতে থাকে, তখন আমরাও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে দিই, হঠাৎ করে সন্ত্রাসীরা ইট পাটকেল দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে এবং আমার মাথা, চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন যায়গায় ১২টি বুলেট লাগে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। ধরাধরি করে আমার সহযোদ্ধা ভাইয়েরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।

যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে আগুন এতদিন ছাইচাপা ছিল, তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। সেই মাস হয়ে ওঠে বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি গৌরবময়, রক্তাক্ত ও আন্দোলনমুখর অধ্যায়। ছাত্রসমাজ জেগে উঠে, কারণ শাসকের অন্যায় ও দুর্বৃত্তায়নের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দেশ যখন একদলীয় কর্তৃত্ববাদে হেঁটে চলেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় আনুগত্যের খাঁচায় বন্দি, তখনই বিস্ফোরিত হয় ছাত্রসমাজের ক্ষোভ। মেধার প্রতি অবজ্ঞা, অন্যায় কোটাব্যবস্থা, অবিচার আর দলীয় কর্পশন বিরুদ্ধ প্রতিবাদে জ্বলে ওঠে হাজারো শিক্ষার্থী। এই দাবানলের ভেতরেই উঠে আসেন একজন সাহসী কণ্ঠস্বর আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। তিনি চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ, বাকলিয়া এলাকায় আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে অবস্থান নেন। তাঁর নেতৃত্ব, সাহস এবং দৃঢ়তা চট্টগ্রামের ছাত্রদের আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। ১৮ জুলাই ২০২৪, আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন অতর্কিতভাবে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সশস্ত্র ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আন্দোলনকারীদের ঘিরে ধরে চলে নির্বিচার গুলি বর্ষণ। আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের শরীরে ১২টি গুলি বিদ্ধ হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। চারদিক রক্তাক্ত, আর রাজপথ হয়ে ওঠে এক লাল ইতিহাস। সহযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু এক নির্মম সত্য সামনে আসে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল তাঁকে ভর্তি নিতে রাজি নয়। রাজনৈতিক চাপে, সরকারি দলের ভয়ে, তারা একে একে ফিরিয়ে দেয়। যেন একটা প্রাণ বাঁচানোও অপরাধ হয়ে দাঁড়ায় আজকের বাংলাদেশে। শেষ পর্যন্ত, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাকে ভর্তি করা হয় চট্টগ্রামের পাহাড়তলি চক্ষু হাসপাতালে সেখানে চোখের অপারেশন করে পরবর্তীতে নিয়ে যাওয়া হয় চট্রগ্রাম সরকারি হাসপাতালে সেখানেও তাকে ফিরিয়ে দেয় সর্বশেষ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেডিকেলে। ভয়, আতঙ্ক, গ্রেফতারের আশঙ্কা সবকিছুর মাঝেও তাঁকে নিয়ে চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করেন। শরীর থেকে একে একে অপসারণ করা হয় বাকি গুলিগুলো। তবুও অবস্থা ছিল সংকটজনক। কিন্তু ফয়সাল হার মানেননি। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল সাহসী ছাত্রসমাজ, সচেতন নাগরিক, পরিবার। শেষ পর্যন্ত, এক মৃত্যু-প্রত্যাশী প্রাণ বেঁচে ওঠে ইতিহাসের অংশ হয়ে। আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল শুধু একজন ছাত্রনেতা নন, তিনি আজকের আন্দোলনের প্রতীক। তাঁর শরীরের গুলির চিহ্নগুলো এ জাতির শরীরে জমে থাকা অন্যায়ের প্রতিচ্ছবি। এই গল্প শুধু একজনের নয় এটি এক আদর্শের, এক দাবির, এক জাগরণের গল্প।

চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
আহত হয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে জমিনে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, সেখানে চোখের অপারেশন হয়, পরে বাকি বুলেট গুলো বের করতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্ত সেখানে তাকে চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি, তারপর চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেডিকেল থেকে বাকি বুলেট গুলো বের করা হয়। আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের শরীরে মোট ১২টি বুলেট লাগছে, একটা চোখে আর ৩টা মাথায় এবং বাকিগুলো শরীরের বিভিন্ন জাগায়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও তিনি উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তার জন্য আর্থিক অনুদান প্রয়োজন। তার চোখ এবং মাথার মধ্যে এখনো ২টি বুলেট বের করা যায়নি।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তিনি একজন শিক্ষার্থী। তার জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।মাথা ও চোখ শরীরে বিভিন্ন জায়গায়

১২ বুলেটের গুলিতে গুলিবিদ্ধ মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জন্ম গ্রহণ করেছেন ০৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪ সালে। তিনি চট্টগ্রামের বাশখালীর সন্তান। তার বাবা জাকের আহমদ। মা রওশন আক্তার গৃহিণী। তিনি বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা একজন শিক্ষার্থী।

নাম : মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল
জন্ম তারিখ : ০৩-০৯-২০০৪
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা/ পদবি : ছাত্র
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: রায়ছাটা, ইউনিয়ন: ৩নং খানখানাবাদ, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : বাসা/মহল্লা: বাকলিয়া, এলাকা: কালামিয়া বাজার, থানা: বাকলিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : জাকের আহমদ
মায়ের নাম : রওশন আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ১০,০০০/=
আয়ের উৎস : চাকরি
বাড়ী : সেমি পাকা ঘর
সম্পদ : ৪০ শতক জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
বোরহান উদ্দিন, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ২৬, পেশা: চাকরি

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍