মো: ইসমাইল হোসেন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শিক্ষার্থী, সরকারি মুজিব কলেজ , বসুরহাট, ফেনী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো: ইসমাইল হোসেন
ক্রমিক-৪২১
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ-১১
নাম : মো: ইসমাইল হোসেন
জন্মপরিচয়
ফেনীর দাগনভূয়াঁর এক নিভৃত গ্রাম, উত্তর চন্ডিপুর। এখানেই কাদামাটি, পাখির ডাক, ভোরের শিশির আর ধানের গন্ধে বড় হয়ে উঠেছে মো: ইসমাইল হোসেন একটি নাম, যে আজ শুধু গ্রামের এক তরুণ নয়, বরং সময়ের বুক চিরে জেগে ওঠা এক সাহসী অধ্যায়ের নাম।
জন্ম ২০০৭ সালের ১ অক্টোবর, দাগনভূয়াঁ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামে। কৃষিনির্ভর, সীমিত আয়ের এক পরিবারে জন্ম নিয়েও ইসমাইল ছিল প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ। তার পিতা মো. আবুল বাসার দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন, আর মাতা রেহানা বেগম গৃহস্থালি সামলায় প্রতিদিন। সংসারে আয় বলতে আছে মাত্র ১৫,০০০ টাকার মত কৃষি-ভিত্তিক আয়ের সামান্য হাতখরচ। এমন বাস্তবতায়ও থেমে যায়নি ইসমাইলের স্বপ্ন। সাদামাটা পোশাকে, কাঁধে বইয়ের ব্যাগ আর চোখে আগামীর স্বপ্ন নিয়ে সে ভর্তি হয় সরকারি মুজিব কলেজ, বসুরহাটে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
সকাল থেকে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে হাজারো ছাত্রজনতার কণ্ঠ মিশে গিয়েছিল এক সুরে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, খুনি হাসিনার পদত্যাগ চাই।” ইসমাইল হোসেনও ছিল সেই জনসমুদ্রে, বুকভরা বিশ্বাস আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল নিরস্ত্র তরুণদের দৃঢ় সংকল্পে। কিন্তু দুপুরের দিকে হঠাৎই যেন কালো ঝড় নেমে এলো। ট্রাংকে রোডের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে এলো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। কারও হাতে দা, কারও হাতে লাঠি, আবার কারও হাতে ঝকঝকে আগ্নেয়াস্ত্র। তারা উন্মত্ত জানোয়ারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরীহ ছাত্রদের ওপরে। মুহূর্তেই ভেঙে গেল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মিছিল। গোলাগুলির শব্দ, লাঠির আঘাত আর তরুণদের আর্তচিৎকার মিলে চারদিক হয়ে উঠল রক্তাক্ত বিভীষিকার মঞ্চ।
ইসমাইল হোসেন সহ ছাত্রজনতা দাগানভূয়ার পাশেই অবস্থান নেন। কিন্তু মুক্তি মিলল না। বেকের বাজারে পৌঁছালে জয়নস্কার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগ তাকে আটক করে। তারপর শুরু হলো নির্মম নির্যাতন মুষ্টিঘাত, লাথি, লাঠির প্রহার ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলল সেই রক্তাক্ত নরকযন্ত্রণা। আসরের পূর্ব মুহূর্তে, যখন ইসমাইল প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, তখন তাকে ফেলে রেখে যায় বর্বররা।
কিন্তু দুঃস্বপ্ন এখানেই শেষ হয়নি। এলাকায় ফেরার পথে প্রতিটি মোড়ে, প্রতিটি গলিতে, আবারও তাকে থামানো হলো, আবারও চলল হেনস্তা ও অপমান। যেন তার অপরাধ ছিল শুধু একটাই সে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
জুলাই মাস জুড়ে যখন সারা দেশজুড়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, আগস্টে সেই দাবির আগুন ফেনীতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। “ফ্যাসিবাদী হাসিনা ছাত্র সমাজকে রাজাকার বলেছে” এই অপমান রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তরুণদের। আন্দোলন রূপ নিয়েছিল এক দফার দাবিতে হাসিনার পদত্যাগ, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে।
মহিপালের সেই দুপুরে তাই কেবল ইসমাইল হোসেনের শরীরই রক্তাক্ত হয়নি, রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আহত হয়েছিল মানুষের মুক্তির স্বপ্ন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরতা মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ইতিহাসের আরেকটি কালো দাগ এঁকে দিল, আর সেই দাগ আজও স্মরণ করিয়ে দেয় ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সামনে কেমন ভয়ঙ্কর মুখোশ পরে আসে ক্ষমতা।
চিকিৎসা
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় আহত হওয়ার পর, যখন সারা শরীর ব্যথায় ছটফট করছিল, তখন ইসমাইল হোসেনকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের নিভৃত পল্লিতে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় শুরুতে ভরসা রাখতে হয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের উপর। তার হাতেই চলে প্রাথমিক চিকিৎসা যেখানে ওষুধের চেয়ে বেশি কাজ করেছিল মায়ের চোখের জল আর পরিবারের আতঙ্কিত অপেক্ষা।
কিন্তু শরীর তখন আর সেইটুকু
জন্মতারিখ : ১-১০-২০০৭
জন্মস্থান : ইয়াকুবপুর, দাগনভূয়াঁ
পেশা : শিক্ষার্থী, সরকারি মুজিব কলেজ , বসুরহাট, ফেনী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : উত্তর চন্ডিপুর, ৫ নং ইয়াকুবপুর, দাগনভূয়াঁ, ফেনী
পিতার নাম : মো. আবুল বাসার
পিতার পেশা ও বয়স : বেকার, ৫৫
মাতার নাম : রেহানা বেগম
মাতার পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
মাসিক আয় : ১৫,০০০ টাকা (কৃষি)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪
আহত হওয়ার স্থান : মহিপাল ফ্লাই ওভারের নিচ
আক্রমণকারী : ঘাতক আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট বিকাল ২:৩০ মিনিটে
ক্রমিক-৪২১
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ-১১
নাম : মো: ইসমাইল হোসেন
জন্মপরিচয়
ফেনীর দাগনভূয়াঁর এক নিভৃত গ্রাম, উত্তর চন্ডিপুর। এখানেই কাদামাটি, পাখির ডাক, ভোরের শিশির আর ধানের গন্ধে বড় হয়ে উঠেছে মো: ইসমাইল হোসেন একটি নাম, যে আজ শুধু গ্রামের এক তরুণ নয়, বরং সময়ের বুক চিরে জেগে ওঠা এক সাহসী অধ্যায়ের নাম।
জন্ম ২০০৭ সালের ১ অক্টোবর, দাগনভূয়াঁ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামে। কৃষিনির্ভর, সীমিত আয়ের এক পরিবারে জন্ম নিয়েও ইসমাইল ছিল প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ। তার পিতা মো. আবুল বাসার দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন, আর মাতা রেহানা বেগম গৃহস্থালি সামলায় প্রতিদিন। সংসারে আয় বলতে আছে মাত্র ১৫,০০০ টাকার মত কৃষি-ভিত্তিক আয়ের সামান্য হাতখরচ। এমন বাস্তবতায়ও থেমে যায়নি ইসমাইলের স্বপ্ন। সাদামাটা পোশাকে, কাঁধে বইয়ের ব্যাগ আর চোখে আগামীর স্বপ্ন নিয়ে সে ভর্তি হয় সরকারি মুজিব কলেজ, বসুরহাটে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
সকাল থেকে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে হাজারো ছাত্রজনতার কণ্ঠ মিশে গিয়েছিল এক সুরে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, খুনি হাসিনার পদত্যাগ চাই।” ইসমাইল হোসেনও ছিল সেই জনসমুদ্রে, বুকভরা বিশ্বাস আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল নিরস্ত্র তরুণদের দৃঢ় সংকল্পে। কিন্তু দুপুরের দিকে হঠাৎই যেন কালো ঝড় নেমে এলো। ট্রাংকে রোডের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে এলো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। কারও হাতে দা, কারও হাতে লাঠি, আবার কারও হাতে ঝকঝকে আগ্নেয়াস্ত্র। তারা উন্মত্ত জানোয়ারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরীহ ছাত্রদের ওপরে। মুহূর্তেই ভেঙে গেল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মিছিল। গোলাগুলির শব্দ, লাঠির আঘাত আর তরুণদের আর্তচিৎকার মিলে চারদিক হয়ে উঠল রক্তাক্ত বিভীষিকার মঞ্চ।
ইসমাইল হোসেন সহ ছাত্রজনতা দাগানভূয়ার পাশেই অবস্থান নেন। কিন্তু মুক্তি মিলল না। বেকের বাজারে পৌঁছালে জয়নস্কার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগ তাকে আটক করে। তারপর শুরু হলো নির্মম নির্যাতন মুষ্টিঘাত, লাথি, লাঠির প্রহার ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলল সেই রক্তাক্ত নরকযন্ত্রণা। আসরের পূর্ব মুহূর্তে, যখন ইসমাইল প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, তখন তাকে ফেলে রেখে যায় বর্বররা।
কিন্তু দুঃস্বপ্ন এখানেই শেষ হয়নি। এলাকায় ফেরার পথে প্রতিটি মোড়ে, প্রতিটি গলিতে, আবারও তাকে থামানো হলো, আবারও চলল হেনস্তা ও অপমান। যেন তার অপরাধ ছিল শুধু একটাই সে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
জুলাই মাস জুড়ে যখন সারা দেশজুড়ে কোটা বিরোধী আন্দোলনের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, আগস্টে সেই দাবির আগুন ফেনীতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। “ফ্যাসিবাদী হাসিনা ছাত্র সমাজকে রাজাকার বলেছে” এই অপমান রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তরুণদের। আন্দোলন রূপ নিয়েছিল এক দফার দাবিতে হাসিনার পদত্যাগ, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে।
মহিপালের সেই দুপুরে তাই কেবল ইসমাইল হোসেনের শরীরই রক্তাক্ত হয়নি, রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আহত হয়েছিল মানুষের মুক্তির স্বপ্ন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরতা মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ইতিহাসের আরেকটি কালো দাগ এঁকে দিল, আর সেই দাগ আজও স্মরণ করিয়ে দেয় ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সামনে কেমন ভয়ঙ্কর মুখোশ পরে আসে ক্ষমতা।
চিকিৎসা
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় আহত হওয়ার পর, যখন সারা শরীর ব্যথায় ছটফট করছিল, তখন ইসমাইল হোসেনকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের নিভৃত পল্লিতে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় শুরুতে ভরসা রাখতে হয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের উপর। তার হাতেই চলে প্রাথমিক চিকিৎসা যেখানে ওষুধের চেয়ে বেশি কাজ করেছিল মায়ের চোখের জল আর পরিবারের আতঙ্কিত অপেক্ষা।
কিন্তু শরীর তখন আর সেইটুকু
জন্মতারিখ : ১-১০-২০০৭
জন্মস্থান : ইয়াকুবপুর, দাগনভূয়াঁ
পেশা : শিক্ষার্থী, সরকারি মুজিব কলেজ , বসুরহাট, ফেনী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : উত্তর চন্ডিপুর, ৫ নং ইয়াকুবপুর, দাগনভূয়াঁ, ফেনী
পিতার নাম : মো. আবুল বাসার
পিতার পেশা ও বয়স : বেকার, ৫৫
মাতার নাম : রেহানা বেগম
মাতার পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪০
মাসিক আয় : ১৫,০০০ টাকা (কৃষি)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪
আহত হওয়ার স্থান : মহিপাল ফ্লাই ওভারের নিচ
আক্রমণকারী : ঘাতক আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট বিকাল ২:৩০ মিনিটে
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍