হোম / আহতদের তালিকা / মো: আতিকুল ইসলাম
মো:  আতিকুল ইসলাম

মো: আতিকুল ইসলাম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো. আতিকুল ইসলাম
পেশা: শিক্ষার্থী
ক্রমিক- ৪২৪
আইডি: চট্টগ্রাম- ১৪একজন জুলাই
যোদ্ধার কথা
মাথায় গুলিবিদ্ধ
পুরো ঘটনার বিবরণ
৪ আগস্ট ২০২৪ চট্টগ্রাম নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান নেন তারা। সেদিন সকাল ১১.৩০ টায় সংঘবদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হন। আতিকুল পটিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র। জুলাইয়ে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। প্রথমে ঢাকা ভার্সিটি তারপর দেশের সকল পাবলিক ভার্সিটি ও পরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একাত্ম হন। আন্দোলনের উত্তাপে তপ্ত হতে থাকে রাজপথ।

পুরো ঘটনার বিবরণ
৪ আগস্ট ২০২৪ চট্টগ্রাম নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান নেন তারা। সেদিন সকাল ১১.৩০ টায় সংঘবদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হন। আতিকুল পটিয়া সরকারী কলেজের ছাত্র। জুলাইয়ে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। প্রথমে ঢাকা ভার্সিটি তারপর দেশের সকল পাবলিক ভার্সিটি ও পরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও একাত্ম হন। আন্দোলনের উত্তাপে তপ্ত হতে থাকে রাজপথ। আন্দোলন নামধারণ করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।’ এই আন্দোলনে আগুনে ঘি ঢেলে দেন শেখ হাসিনা।
আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে ট্যাগ দেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা পাল্টা স্লোগান তুলে, তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার। ছাত্ররা এমন নানা রকম স্লোগানে মুখরিত করে তুলে রাজপথ।
সরকার শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি না মেনে আন্দোলন দমন করতে চেষ্টা করে। বিগত পনেরো বছর বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিপীড়ন নির্যাতনের মাধ্যমে দমন করে রাখে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেও দমন করতে লেলিয়ে দেয় তাদের দলীয় সন্ত্রাসী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। তারা আন্দোলনকারীদের লাঠিচার্জ করে, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সরাসরি বুলেট নিক্ষেপ করে শহীদ করতে থাকে আন্দোলনকারীদের। ১৫ জুলাই থেকে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পরে। আসতে থাকে বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি। শহীদ হন আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসীম। আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে পটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয় এই আন্দোলনে। আন্দোলনের শুরু থেকেই অংশগ্রহণ করেন আতিকুল ইসলাম। নিয়মিত আন্দোলনে শরিক হন।
রাজপথে মৃত্যু ঝুঁকি তাড়া করে প্রতিনিয়ত। দেশ তখন চরম অস্থির। মুক্তিকামী জনতা ফ্যাসিবাদ পতনে বদ্ধপরিকর। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। নেট কানেকশন বন্ধ করে দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তবু আন্দোলনকারীরা পিছপা হননি।
৪ আগস্ট দেশে বাড়তে থাকে আহতের সংখ্যা। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়। শহীদের রক্তে দেশের মানচিত্র হয় রক্তাক্ত।
আতিকুল ইসলাম ও তার বন্ধুরা মৃত্যুকে অবজ্ঞা করে মাঠে নামেন। তারা শক্ত অবস্থান নেন পুরাতন রেললাইন ও চট্টগ্রাম নিউমার্কেট এলাকায়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সম্মিলিত আক্রমণ করে আন্দোলনকারীদের। নারী ও ছাত্রীরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আতিকুল নারী আন্দোলনকারীদের কাছে যান উদ্ধার করতে। গ্যাসমুক্ত পরিবেশের জন্য আগুন ধরাতে যান। তখনই সংঘবদ্ধ আওয়ামী গুণ্ডারা তাকে ঘিরে ধরেন।
১০/১২ জনের একটি চক্র তাকে নির্মম আঘাত করতে থাকে। তাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জখম করে। তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আন্দোলনের সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
জুলাই আন্দোলনের সময়টা ছিল বিভীষিকাময়। সরকার ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর নির্মমতা তখন চরম পর্যায়ে। আহতদের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত করতে হাসপাতালগুলোতে জারি করে নিষেধাজ্ঞা। গ্রেফতার আতঙ্ক তখন বিরাজমান। আহত আতিকুল ইসলাম জ্ঞান হারিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকে দীর্ঘ সময়। সহযোদ্ধারা আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের ভয়ে কাছে ভিড়তে পারেনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সরকারি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে তার অবস্থা চরম অবনতির দিকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করতে ইতস্ততবোধ করলেও রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে দেখে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক মন্তব্য করেন আর কয়েক মিনিট পরে আসলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগীর প্রাণনাশের সমূহসম্ভাবনা ছিল। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রেফার করা হয়। রোগীর স্বজন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, অতিরিক্ত আঘাত ও রক্তক্ষরণে তার শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিডনিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে। মাথায় আঘাতে তার স্মৃতিশক্তির ও জটিলতা দেখা দেয়। ন্যাশনাল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। বর্তমানেও মাঝে মাঝে তার নানা উপসর্গ দেখা দেয়। মাঝে মাঝেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তিনি পটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তারা শুরু থেকেই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো শারীরিক জটিলতা অনুভব করেন। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
তার জন্য শিক্ষাবৃত্তিসহ আর্থিক অনুদান দিলে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহে সহজ হবে।

নাম : মোঃ আতিকুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১৮-০৬-২০০২
জন্মস্থান : বোয়ালিয়া
পেশা : ছাত্র
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম শাকপুর, ইউনিয়ন: শাকপুর, থানা: বোয়ালিয়া
পিতার নাম : জাফর আহমদ
মায়ের নাম : জাহানারা বেগম
পারিবারিক অবস্থা
আয়ের পরিমাণ : ২০,০০০
উৎস : ব্যবসা
ভাই- বোনের তথ্যাদি
১. মুরাদুল ইসলাম, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ৩০, পেশা: ইলেক্ট্রিশিয়ান
২. কামরুল ইসলাম, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ১৮, পেশা: শিক্ষার্থী মাদরাসা
আহত হওয়ার স্থান : নিউমার্কেট, পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা, চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪ বেলা ১১.৩০ প্রায়
প্রস্তাবিত বাজেট : শিক্ষাবৃত্তিসহ একটি বড় বাজেটের আ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍