হোম / আহতদের তালিকা / জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চাকরি

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জাহাঙ্গীর আলম
পেশা: চাকরি
ক্রমিক- ৪৩১
আইডি: চট্টগ্রাম- ২১

জুলাই যোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম একজন নির্ভীক ও সংগ্রামী সৈনিক, যিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ছাত্র-জনতার ন্যায্য আন্দোলনে সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হাটখোলা মুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মোঃ জুনু মিঞা (৫২) একজন কৃষক। তিনি বিভিন্ন সংগ্রাম মুখর পরিবেশে তার সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তুলেন এবং মা মৃত দিলোয়ারা বেগম ছিলেন গৃহিণী, তার মা জীবিত থাকাকালীন কত কষ্ট সহ্য করে সন্তানের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তা সত্যিই বিরল জাহাঙ্গীরের কাছে।

আন্দোলনে অংশগ্রহণের আগে জাহাঙ্গীর ছিলেন হাইওয়ে সুইটস কোম্পানির একজন বিক্রয়কর্মী। কিন্তু শেখ হাসিনার ভীতিকর শাসনযন্ত্র, যা ভিন্নমত দমন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতিচ্ছবি, তার শিকার হন তিনিও। আন্দোলনে আহত হওয়ার পর তার চাকরি চলে যায়। ফলে সংসারে নেমে আসে দারিদ্র্যের কালো ছায়া। জীবন হয়ে পড়ে সংগ্রামময়। এখন তিনি তাঁর বৃদ্ধ পিতা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পৈত্রিক জমিতে অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। তার একটি ছেলে আছে নাম মোঃ জাওয়াদ (৫) নার্সারিতে পড়াশোনা করান।
এই ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে নির্মম দিক হলো- যেখানে সত্য বলাও অপরাধ, অধিকার চাওয়াও বিদ্রোহ। হাজারো জাহাঙ্গীরের মতো মানুষকে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাধ্যমে অব্যাহতভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। গুম-খুন, মামলা-হামলা, চাকরিচ্যুতি ও ভয়ভীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা জনগণের কণ্ঠরোধ করে চলেছে।
তবুও জাহাঙ্গীর আলম মাথা নত করেননি। নিপীড়নের মাঝেও তিনি অটল, অবিচল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন সত্যিকারের জুলাই যোদ্ধা।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ জুলাই যোদ্ধার মুখে শুনুন ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের হত্যাযজ্ঞ:
ফ্যাসিস্ট নিপীড়নের রক্তাক্ত অধ্যায়: ০৪ আগস্টের ছাত্রনিধন পরিকল্পনা “ভিন্নমত মানেই শত্রু শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ছাত্রের শরীর হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় প্রতিহিংসার নিশানা” আমি জাহাঙ্গীর আলম। গত ৪ আগস্ট ২০২৪, আনুমানিক সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেট সংলগ্ন মিউনিসিপ্যাল স্কুলের পাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি। সেখানেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা আমার মাথা, হাত, পিঠসহ পুরো শরীর লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র ও হটস্টিক দিয়ে বারবার আঘাত করে-যেন হত্যার উদ্দেশ্যেই। শুধু আমি নই, আমার পাশে থাকা আরও অনেক ছাত্র এই বর্বরোচিত হামলার শিকার হন। আন্দোলনে থাকা অন্যান্য ছাত্ররা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পিছু হটে। আমার উপর অকথ্য নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর পরে যখন আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকি আমাকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায় পরে আমাকে আন্দোলনের কিছু সহযোদ্ধারা দ্রুত আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় কর্তৃপক্ষ আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে বিভিন্ন জায়গায় বারবার বাধা ও হয়রানির শিকার হই— যেন রাষ্ট্রযন্ত্রও হামলাকারীদের পক্ষেই কাজ করছে। শেষমেশ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন সেখান থেকে আমি চিকিৎসা গ্রহণ করি। এই ঘটনা শুধু একটি হামলা নয়—এটি ফ্যাসিস্ট খুনি রাক্ষসী হাসিনার স্বৈরশাসনের প্রতিহিংসামূলক, গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতির জ্বলন্ত উদাহরণ। যেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামক বাহিনী দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণআন্দোলনকে দমন করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কিন্তু তাদের শয়তানী ষড়যন্ত্রকে ছাত-জনতা ধুলিস্যাৎ করে দেয়, যার ফলে স্বৈরাচার রাক্ষসী হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
“শরীর ছিল রক্তাক্ত, পথ ছিল বন্ধ, হাসপাতাল ছিল অনিরাপদ-রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পর চিকিৎসাও ছিল সংগ্রামের আরেক অধ্যায়”।
ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার পর আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড রক্তপাত হতে থাকে-মাথা, কান, হাত, পিঠসহ পুরো দেহে আঘাতের চিহ্ন। ওই অবস্থায় আমাকে দ্রুত আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, পর্যাপ্ত বেড ও সুযোগ নেই-চিকিৎসা নিতে হবে অন্যত্র। এরপর রক্তাক্ত ও দুর্বল অবস্থায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে। সেখানেও চিকিৎসাসেবা ছিল সীমিত। আমার মাথা ঝিমঝিম করছিল, হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল, পিঠে আঘাতের যন্ত্রণা আমাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল-তবুও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। হাসপাতালের বিছানায় আমি ছিলাম একজন রাজনৈতিক ভিন্নমতের শরীর-যার প্রতি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অদৃশ্যভাবে নির্লিপ্ত।
অবশেষে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা আমাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা (এক্স-রে, ব্লাড টেস্ট, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি) করতে দেন, যাতে আমার শরীরে অভ্যন্তরীণ ক্ষতি নির্ধারণ করা যায়। একাধিক ফ্র্যাকচার, গভীর ক্ষত ও মাথার টিস্যু ড্যামেজের সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
এই পুরো চিকিৎসা যাত্রা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক, হতাশাব্যঞ্জক ও অবমাননাকর। একজন আহত নাগরিক হিসেবে আমি বারবার বাধার মুখে পড়েছি—শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। একটি স্বাধীন দেশে যেখানে একজন আহত মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার কথা, সেখানে আমি ঘুরেছি এক হাসপাতাল থেকে আরেকটিতে, আর রক্তের সাথে যুদ্ধ করেছি অবহেলার বিরুদ্ধেও। এই চিকিৎসা যাত্রা প্রমাণ করে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনে শুধু ভিন্নমত নয়, ভিন্নমতের শরীরও নিরাপদ নয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত মানের কানের এবং শারীরিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
কোন একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা, যেখানে নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : জাহাঙ্গীর আলম
জন্ম তারিখ : ০১-১০-১৯৯২
জন্মস্থান : লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
পেশা/ পদবি : চাকরি, বিক্রয়কর্মী
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: হাটখোলা মুড়া, ইউনিয়ন: চুনতি, থানা: লোহাগাড়া, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : জামালখান, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মোঃ জুনু মিঞা
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৫২
মায়ের নাম : মরহুমা দিলাওয়ারা বেগম
পারিবারিক অবস্থা : নিম্ন মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ৮,০০০/=
আয়ের উৎস : চাকরি
বাড়ী : সেমিপাকা বাড়ি
সম্পদ : ২ শতক পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
আহত হওয়ার স্থান : চট্টগ্রাম, নিউমার্কেট এলাকার জহুর হকার্স মার্কেট সংলগ্ন মিউনিসিপ্যাল স্কুলের পাশে
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা
সবাই হেলমেট পরা ছিল বিধায় কারো পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১১টা ৩০ মিনিট

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍