হোম / আহতদের তালিকা / আলী মর্তুজা সাইমন
আলী মর্তুজা সাইমন

আলী মর্তুজা সাইমন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আলী মর্তুজা সাইমন নোয়াখালীর কাশিপুরে ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই জন্ম নেওয়া এক কিশোর। যার বয়স মাত্র সতেরো, তবু পরিবারের ছয় সদস্যের বোঝা তার কাঁধেই। কসমেটিক দোকানের কর্মচারী হিসেবে জীবন চালালেও অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়িত মানুষের পাশে। নিউমার্কেটের রক্তাক্ত বিকেলে রাষ্ট্রীয় গুলিতে একটি চোখ হারিয়েও হারাননি সাহসের আলো। আজও ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে বাঁচছেন কিন্তু ন্যায়ের প্রতি তার অটল বিশ্বাস পুরো প্রজন্মের প্রতিরোধকে প্রজ্বলিত করে। তার জীবন তাই শুধু দুঃখের গল্প নয় অন্ধকার ভেদ করা এক কিশোরের দীপ্ত মানবিকতার ইতিহাস।

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আলী মর্তুজা সাইমন
ক্রমিক: ০৪১
আইডি: ঢাকা সিটি ০৪১
পরিচিতি ও পারিবারিক জীবন
২৪ জুলাই ২০০৭, কাশিপুরের গা-ছোঁয়া মাটিতে যখন আলী মর্তুজা সাইমনের প্রথম কান্না ভেসে আসে, তখনও কেউ ভাবেনি এই ছেলে একদিন একটি জাতির অন্তর্গত বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠবে। এখন বয়স মাত্র ১৭, অথচ এই বয়সেই তার কাঁধে চাপানো সংসারের ছয় সদস্যের খাদ্য, চিকিৎসা, ও আশার ভার। কিশোরত্ব তার জন্য কোনো কাব্য নয়, কোনো স্কুলের বেঞ্চ নয় তা বরং একটি কসমেটিক দোকানের ঘর, যেখানে সকাল থেকে রাত অবধি খদ্দেরের ডাকের মধ্য দিয়ে জীবনের পাঠ শিখে ফেলেছে সে।
তার পিতা ছায়েদুল ইসলাম, যিনি নিজেও কিশোর বয়সে হকার ছিলেন, এখন একটি টেইলারি চালান অভাবের সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে করতে যাঁর চোখে স্বপ্নের রঙ ফিকে হয়ে গেছে। মাতা নাজমা বেগম, এক গৃহিণী, যিনি ছেলেমেয়ের পাতে আলুভর্তা তুলে দিতে গিয়ে নিজের আহার ভুলে যান। ভাই জোবায়েদ হোসেন শ্রমিকের কাজ করেন স্কুলের ইউনিফর্মের পরিবর্তে এখন তাঁর ইউনিফর্ম হলো ধুলোমাখা গেঞ্জি। জোনায়েদ এখনও পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে, আর ছোট বোন মাইসা পড়ে পঞ্চমে এই তিন ভাইবোন মিলে এক অসম লড়াইয়ের সৈনিক, যারা স্কুলব্যাগে বইয়ের বদলে দারিদ্র্যের অভিশাপ বহন করে।
এই পরিবারটির মাসিক আয় মাত্র ১৫,০০০ টাকা। এর মধ্যেই চিকিৎসা, শিক্ষা, খাওয়া, ভাড়া সবকিছু সামলাতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আলী মর্তুজা সাইমন শুধু একটা পরিবারের সন্তান ছিল না সে ছিল এক সংগ্রামী সময়ের সন্তান। এই ছেলেটি যখন রাস্তায় নামল, তার হাতে ছিল না কোনো ছোরা, না পেট্রোল বোমা, না গুলি। ছিল শুধু বুকে জমা হওয়া প্রতিবাদ, চোখে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার অস্ত্র ছিল তার উপস্থিতি এক কিশোর দাঁড়িয়ে আছে অন্যায়ের সামনে, তা-ই ছিল তার বিপ্লব।
কেউ বলে, সাইমনের মতো ছেলেরা তো বোকা পুলিশ দেখেই দৌড়ানো উচিৎ। কিন্তু সাইমন দৌড়ায়নি। সে জানত, এই রাষ্ট্র যাকে শিক্ষা দেয় না, তাকে নীরব মৃত্যুই দেয়। এই রাষ্ট্র যাকে ভোট দেয় না, তাকে গুম দেয়। এই রাষ্ট্র যে কিশোরকে কসমেটিক দোকানে পাঠায়, তাকে রাজপথে গুলি করতেও দ্বিধা করে না। সাইমন সেইসবের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।
তার জীবন ছিল অসমাপ্ত স্কুলপাঠ, ক্ষুধার্ত বিকেল, আর ঘামে ভেজা শ্রম। কিন্তু সেই জীবনের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল এমন এক সাহস যা পুঁজিপতির ছেলেরা পায় না, যা ক্ষমতাবানরা বোঝে না। এই পরিবার আজও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জানেনা আগামী মাসে ভাড়া কীভাবে দেবে, জানেনা ছোট মাইসার স্কুলের বেতন আসবে কোথা থেকে। তবু তারা জানে সাইমন ছিল সঠিক পথে, কারণ সে ন্যায়ের পাশে ছিল।
এই পরিবার শুধু এক কিশোরকে হারায়নি হারিয়েছে তাদের আশা, তাদের সম্ভাবনা। কিন্তু তারা যেন হারিয়ে যায় না তাদের পরিচয় হোক এই রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দলিল, আর তাদের প্রতিরোধ হোক সেই বিপ্লবের নতুন আলোকচিত্র।
জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই বাংলার ইতিহাসে আরেকবার জেগে উঠেছিল জনতার অগ্নিস্নাত ক্রোধ। এই ক্রোধ নিছক ক্ষোভ ছিল না, ছিল বংশপরম্পরায় জমে থাকা গ্লানির বিস্ফোরণ। ঢাকা শহরের প্রতিটি মোড়ে, প্রতিটি দেয়ালে লেখা হচ্ছিল এক নতুন সংবিধান যেখানে 'মানুষ' শব্দটা ছিল সবচেয়ে পবিত্র, সবচেয়ে বিপজ্জনক।
স্বৈরাচারী হাসিনার দেড় দশকের শাসন তখন এক বিষাক্ত গ্রীষ্মের মতো ঝাঁঝালো ও নিঃশেষিত। মুক্তচিন্তা সেখানে 'রাষ্ট্রবিরোধিতা', শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠেছে বৈষম্যের কারখানা, গণমাধ্যম কেবল ক্ষমতার সেবাদাস। মানুষ কথা বললেই গুম, প্রশ্ন করলেই মামলা, প্রতিবাদ করলেই লাশ। অথচ সেই লাশ দেখেই তরুণদের চোখে আগুন লেগে যায়। তারা আর চাকরি চায় না, ক্ষমতা চায় না চায় ন্যায্যতা।
আন্দোলনের শুরুটা ছিল তীব্র শান্ত। "কোটা না মেধা", "দালালি না রাজপথ" "আপোষ না সংগ্রাম"এই সব শ্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। কিন্তু একদিন, সেই দাবিগুলোকে জবাব দেওয়া হলো পুলিশি গুলি দিয়ে। নিউমার্কেটের মোড়ে যখন আলী মর্তুজা দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ছিলেন না কোনো দলের নেতা, না কোনো কৌশলী ষড়যন্ত্রকারী। তিনি ছিলেন একজন দোকান কর্মচারী যার মনে হয়ত পরিবার চালানোর চিন্তা ছিল, কিন্তু চোখে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার সাহস।
সে বিকেলে গুলির শব্দ ছাপিয়ে উঠেছিল মানুষের আর্তনাদ, মায়ের চিৎকার, বন্ধুর কাঁধে পড়ে যাওয়া আরেক বন্ধুর নিথর দেহ। ছাত্রলীগ নামধারী একদল রাষ্ট্র-সৃষ্ট খুনে হায়েনা ও পুলিশের বর্বর বাহিনী একসাথে মেতেছিল মানুষের চোখ উপড়ে নেওয়ার খেলায়। মর্তুজার ডান চোখে গুলি লাগে। পৃথিবীর আলো নিভে যায়, কিন্তু মনের আগুন তখনো টিমটিম করে জ্বলছিল।
এই আন্দোলন ছিল ভিন্ন। এখানে কোনো লাঠিবাহিনী ছিল না, ছিল না কেন্দ্রঘেঁষা 'পলিটব্যুরো'। ছিল শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বঞ্চিত মেধাবী, দিনমজুরের সন্তান, দোকানদার, রিকশাওয়ালা, পথশিশু যারা জানতো, এই রাষ্ট্রে বেঁচে থাকা মানেই প্রতিদিন ঘাস খাওয়া, প্রতিদিন অপমান সহ্য করা। জুলাই বিপ্লব তাদের সেই শেকল ভাঙার প্রথম সাহসী প্রয়াস।
রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবাদের আগুন। ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট, ইনস্টাগ্রামে লাশের ছবি, টিকটকে কান্না নতুন প্রজন্ম তার ব্যথা জানানোর এক অনন্য কাব্যিক মাধ্যম বানিয়ে নেয় প্রযুক্তিকে। আর তাতেই ভয়। পায় রাষ্ট্র।
এইসব দৃশ্যের কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে আছেন মর্তুজা চোখ হারানো এক সৈনিক, যার দৃষ্টি গেছে, কিন্তু তার কণ্ঠ স্তব্ধ হয়নি। তার চোখে গুলি চালিয়ে রাষ্ট্র হয়তো ভেবেছিল, বিপ্লব থেমে যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, মর্তুজার মতো হাজারো চোখহারা তরুণ আছে, যাদের হৃদয়ে জ্বলছে এমন এক দৃষ্টি যা কোনো গুলি নিভাতে পারে না।
এই দৃষ্টি, এই সাহস, এই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা স্বপ্নই জুলাই বিপ্লবের মূলে। এবং এই বিপ্লব এখনো শেষ হয়নি। কারণ এখনও আমরা বাঁচি না, শুধু টিকে থাকি আর টিকে থাকাই যদি অপরাধ হয়, তবে একদিন এই অপরাধেই জন্ম হবে নতুন বাংলার।
আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনা
১৮ জুলাই ২০২৪, এক বিকেল, যখন সূর্যটা ছিল একটু হেলে পড়া, তাপটা ছিল কড়া, কিন্তু বাতাসে ছিল বিদ্রোহের লুহাওা। সেই দিন ছিল রাষ্ট্র নামক অদৃশ্য দৈত্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সাহসিক জবাবের দিন। আর সেই জবাবের একজন নাম ছিল আলী মর্তুজা সাইমন একজন কসমেটিক দোকানের কর্মচারী, একজন দশম শ্রেণি ফেলে আসা কিশোর, এবং সবচেয়ে বড় পরিচয় একজন মানুষ, যিনি মাথা নত না করার সাহস রাখেন।
বিকেল ৪টা, নিউমার্কেটের নীলক্ষেত মোড় যেখানে হাজারো কণ্ঠ একসঙ্গে গর্জে উঠছিল, "গুম-খুনের বিচার চাই," "শিক্ষা চাই, চাকরি চাই, বাঁচার অধিকার চাই।" সেই কন্ঠের ভিড়ে সাইমনও। দাঁড়িয়েছিলেন। সেদিন মার্কেট বন্ধ, তাই পকেটে কোনো আয় নেই, কিন্তু বুকভরা ক্ষোভ ছিল।
তখন আকাশ ভেদ করে ভেসে আসে প্রথম গুলির শব্দ। হঠাৎ করেই যেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ঢাকার বাতাস ছিঁড়ে আসে রাবার বুলেট, শর্টগানের গুলি, আর ছাত্রলীগের হাতে থাকা লোহার রড। আর সেই হিংস্রতার শিকার হন সাইমন। যখন রাষ্ট্র ও ছাত্ররাজনীতি এক হয়ে দেশের সন্তানের চোখ উপড়ে নিতে। চায়, তখন বুঝতে হয় তাদের ভয় একটাই: চোখ, যেগুলো অন্যায়ের দিকে তাকায়।
শর্টগানের গুলির সিপ্লন্টার এসে ছিন্নভিন্ন করে দেয় সাইমনের ডান চোখ। রক্তে ভিজে ওঠে তার গাল, তার জামা, তার ভবিষ্যৎ। তিনি আর চিৎকার করতে পারেন না, শুধু নিঃশব্দে পড়ে যান রাস্তায়। যারা পাশে ছিল, তারা চিৎকার করে ওঠে "ডাক্তার! অ্যাম্বুলেন্স!" কিন্তু রাষ্ট্র তখন কানে তুলো গুঁজে বসে, আর পুলিশ ততক্ষণে পেছনে সরে গিয়ে হাসছে "আরেকটা মাইনাস।"
সাইমনের চোখের ক্ষত শুধু শারীরিক নয় তা আমাদের সমাজের দৃষ্টিহীনতাকে প্রতাক করে তোলে। সে চোখ দিয়ে আর দেখা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু সেই চোখ দিয়েই আমরা দেখেছি এক রাষ্ট্র কীভাবে তার ভবিষ্যৎকে গুলি করে।
তার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনাটি আমাদের প্রতিটি নাগরিকের বুকে বিধ্য ছুরির মতো। এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দলিল, যেখানে কিশোরেরা স্বপ্ন দেখে না, বরং গুলি খায়। একটি এমন সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতিবাদ মানেই মৃত্যু কিংবা অন্ধত্ব।
সাইমনের সেই বিকেল যেন ইতিহাসে লেখা থাকে গোলাপি আলোয় ঝলমলে নয়, বরং রক্তাক্ত বর্ণে, যেন ভবিষ্যতের শিশুদের চোখে এ গল্পটা পোড়ে, জ্বলে, আর প্রতিবাদের আগুন হয়ে ওঠে। কারণ, চোখ উপড়ে ফেললেও দৃষ্টিভঙ্গি মুছে ফেলা যায় না। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গিই একদিন এই জঞ্জাল রাষ্ট্রকে নতুন করে নির্মাণ করবে সাইমনদের জন্য, সবার জন্য।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
আহতের শরীর ভেঙে পড়ে, কিন্তু আত্মা? সে তো লড়াইয়ের আগুনে দগ্ধ হয়ে জ্বলতে থাকে। সাইমনের ক্ষেত্রেও তেমনটাই। গুলির পর সেদিন তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় সায়েন্সল্যাবের এক বেসরকারি হাসপাতালে, জরুরি সেলাই, রক্ত থামানোর চেষ্টায় মরিয়া কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা ঘোষণা দেন ডান চোখে আর কোনো আলো নেই। বাম চোখও যেন এই দেশেরই প্রতিচ্ছবি ঝাপসা, অস্পষ্ট, -৭০০ পাওয়ারের মোটা গ্লাসে কেবল ছায়াময় বাস্তবতা দেখা যায়।
এই চিকিৎসার খরচ সেটাও ছিল এক রক্তাক্ত সংগ্রাম। দিনমজুর বাবা-মা, যাদের কাঁধে ছিল সংসারের হাল, তাঁরা ধার করলেন। একেকটা সংস্থার দরজায় মাথা ঠুকে। কেউ সহানুভূতির হাত। বাড়াল না, গরীব বলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেকেই। এ যেন এক রুগ্ন সমাজ, যেখানে দারিদ্র্য মানেই অমানবিকতা সহ্য করার লাইসেন্স।
আজও সেই পরিবার ঋণে ডুবে আছে। কিন্তু তাঁদের ঋণ শুধু অর্থনৈতিক নয় এই রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের আত্মত্যাগেরও ঋণ আছে। যে রাষ্ট্র চোখ উপড়ে নেয়, সেই রাষ্ট্র একদিন সেই চোখের জ্বালায় পুড়ে ছাই হবে এই বিশ্বাসই সাইমনের দৃষ্টি।
প্রস্তাবনা
১. চোখের চিকিৎসা ও চশমা খরচে সহায়তা প্রদান।
২. নতুন করে জীবন গড়ার জন্য আর্থিক পুনর্বাসন বা ছোট ব্যবসার পুঁজির ব্যবস্থা করা।
৩. সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষানবিস চাকরির সুযোগ করে দেয়া (অন্ধদের জন্য উপযোগী কাজ)।
৪. ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনায় সহায়তা করা।
অর্থনৈতিক অবস্থা: অর্থের অভাবে বড় ভাই ৯ম শ্রেণিতে এবং আলী মর্তুজা ১০ম শ্রেণিতেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার বর্ণনা: চলমান আন্দোলনের কারণে মার্কেট বন্ধ থাকায়
আলী মর্তুজা অন্য কর্মচারীদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে থানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি চালায়। মিছিলের সামনের দিকে থাকায় তিনি গুরুতর আহত হন।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
আঘাতের বিবরণ: দুই চোখ, মাথা এবং বুকে একাধিক পিলেটের আঘাত। চোখে কর্নিয়াল ইনজুরি এবং পিলেট বিদ্ধ ছিল।
চিকিৎসা: প্রথমে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখান থেকে তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে (NIO) রেফার করা হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালীতে চিকিৎসা করানো হয়।
চিকিৎসার খরচ যোগাতে পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা: ডান চোখে দেখতে পান না এবং বাম চোখে ৭.০০ পাওয়ারের চশমা দিয়ে কিছুটা দেখতে পান।

এক নজরে আলী মর্তুজা সাইমন
নাম: আলী মর্তুজা সাইমন
জন্ম তারিখ: ২৪-০৭-২০০৭
জন্মস্থান: নোয়াখালী
পেশা: কর্মচারী (১০ম শ্রেণি পাশ)
প্রতিষ্ঠান: কসমেটিক দোকান, চিশতিয়া মার্কেট
স্থায়ী ঠিকানা: শেখ বাড়ী, গ্রাম: কাশিপুর, খলিফার হাট-৩৮০৮, ইউনিয়ন: ২ নং দাদপুর (৭নং ওয়ার্ড)
থানা: নোয়াখালী সদর, জেলা: নোয়াখালী
বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: কাশিপুর, ইউনিয়ন: ২ নং দাদপুর, থানা: নোয়াখালী সদর, জেলা: নোয়াখালী
পারিবারিক তথ্য
পিতার নাম: ছায়েদুল ইসলাম
মাতার নাম: নাজমা বেগম
পিতার বয়স ও পেশা: ৪৫, দর্জি
মাতার বয়স ও পেশা: ৩৭, গৃহিণী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
মাসিক আয়: ১৫,০০০ টাকা
ভাই-বোনদের বিবরণ
জোবায়েদ হোসেন, বয়স: ১৯, পেশা: শ্রমিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা: ৯ম শ্রেণি পাশ
জোনয়েদ হোসেন, বয়স: ১৫, পেশা: ছাত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা: ৮ম শ্রেণি
মাইসা, বয়স: ১০, পেশা: ছাত্রী, শিক্ষাগত যোগ্যতা: ৫ম শ্রেণি
আহত হওয়ার তারিখ ও সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪, বিকাল ৪টা
ঘটনার স্থান: নিউমার্কেট (নীলক্ষেত মোড়), ঢাকা
আক্রমণকারী: পুলিশ ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍