হোম / আহতদের তালিকা / মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন
মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন

মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : চাকরি

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

একটি আন্দোলনের জীবন্ত চিহ্ন মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন জন্ম থেকে জীবনের সংগ্রাম
ছেলেবেলার কাদামাটির ঘ্রাণ থেকে কাঁচা স্বপ্নের উড়াল। পশ্চিম চাম্বলের সরু পায়ে চলা মাটির রাস্তাগুলোতে এখনও ঘোড়ার গাড়ির চাকার দাগ পড়ে। গ্রীষ্মের দুপুরে রোদের ঝাঁঝে তপ্ত হয়ে ওঠে টিনের ছাউনি, আর বর্ষায় সেই একই ছাউনি বৃষ্টির ছন্দে ঘুম পাড়ায় অগণিত পরিবারকে।

এই প্রকৃতির মধ্যেই ছোট্ট এক ভাঙাচোরা বাড়ি। যার দরজা কেবল বাঁশের খুঁটি ঠেকিয়ে বন্ধ রাখা যায়। সেই ঘরেই জন্ম নিয়েছিল একটি নিঃশব্দ লড়াইয়ের নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন। তার জন্ম ১৯৯৯ সালের ১ জুন, বাঁশখালীর চাম্বলের এক নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবারে। বাবা মোঃ সিরাজ, বয়স এখন সত্তরের ঘরে, কিন্তু এখনো শরীরের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে মাঠের মাটির সঙ্গে লড়াই করেন। কখনো ধান, কখনো শাকসবজি। তাঁর হাতে কোদালের দাগ আছে, পিঠে ঝাঁকুনি, আর কপালে লেগে আছে সময়ের ভাঁজ। জীবনভর সংসার টেনে নেওয়া এই মানুষটিই কখনো ছেলে জামালের সামনে নিজের কষ্টের কথা বলেননি। শুধু ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্ষেতের দিকে হাঁটতে শুরু করতেন। মা ফাতেমা বেগম একজন ছায়াসদৃশ গৃহবধূ। যিনি নিজের কষ্ট, ক্ষুধা বা ক্লান্তিকে কখনো গুরুত্ব দেননি! সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দেওয়াই ছিল তার পরম আরাধনা। যখন ঘরে কিছু থাকতো না, তিনি নিজে না খেয়ে সন্তানদের খাইয়ে হাসতেন। মায়ের চোখে ছিল এক ধরনের শান্তি, যে শান্তি শুধু দরিদ্র ঘরের মায়েরা ধারণ করতে জানেন।
তিন ভাইয়ের মধ্যে জামাল সবার ছোট। বড় ভাই বেলাল উদ্দীন, দিনমজুরের কাজ করেন। যেখানে কাজ আছে, সেদিনই আয় আছে। আরেক ভাই জালাল উদ্দীন, বাপের সঙ্গে চাষাবাদে ব্যস্ত থাকেন। তাদের সংসারে নেই কোনো চাকরির নিশ্চয়তা, নেই জমিজমার ভাণ্ডার। সব মিলিয়ে মাসিক আয় ১৫,০০০ টাকা মাত্র। যা দিয়ে সংসারের চাকা ঘোরানো মানে এক রাশ বোঝা টেনে চলা। বাড়িটা আজো একই রকম। বাঁশ দিয়ে ঠেকানো বেড়া, মাটির মেঝে, টিনের চালা। বর্ষায় পানি পড়ে, গ্রীষ্মে গরম, শীতে কাঁপুনি। তবু এটাই তাদের 'বাড়ি'। কেবল দুই শতক জমি ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। এই ঘরের প্রতিটি দেয়াল জামালের ছোটবেলার স্বপ্ন, কষ্ট আর সংযমের সাক্ষী।
এই জীবনের ভিতরেও জামাল একটা ছোট্ট স্বপ্ন লালন করতেন। নিজে ভালো কিছু করবেন, পরিবারকে এই দারিদ্র্য থেকে তুলে আনবেন। তাই তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও, লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন যতটা সম্ভব। শেষমেশ, ভাগ্য তার মুখে একটু হাসি দেয়। ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে একটি চাকরি পান। পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি। মা বলতেন “তুই আছিস বলেই তো এ সংসারটা এখনো ভাঙে নাই রে জামাল।” জামাল তখন চুপচাপ হাসতেন, মায়ের পায়ের কাছে বসে বলতেন “দেখেন মা, এবার ঘরের চাল পাল্টাইয়া দেবো।” কিন্তু সেই ঘরের টিন এখনও বদলায়নি। বরং, জীবনের আরেকটা টিনের চালা ভেঙে পড়ে ২০২৪ সালের আগস্টে। তার আগে জামাল জানতেন না দেশের জন্য শুধু তার রক্ত দিয়ে নয়, স্বপ্ন দিয়েও দাম দিতে হবে।
আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাওয়া
“আমার মতো ছেলেদেরও কিছু বলার অধিকার থাকা উচিত”
জামাল উদ্দীন রাজনীতি করতেন না, মিছিলে স্লোগান দেওয়ার অভ্যাসও ছিল না। কিন্তু চোখের সামনে সমাজের অন্যায়-অবিচার, রাজনৈতিক দলগুলোর দখলদারি, ও গরিব মানুষদের প্রতি রাষ্ট্রের অবজ্ঞা দেখে ভিতরে ভিতরে একটা ক্ষোভ জমেছিল অনেকদিন ধরে। ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের ক্যাশ ডেস্কে কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই তিনি দেখতেন- কারও টাকা সহজে আসে, কারও জন্য শতবার ঘুরেও আসে না। কোনো প্রভাবশালীকে কিছু জিজ্ঞেস করাও যায় না, আবার কোনো কৃষক যদি ব্যালেন্স জানতে চায়, তাকে ধমক খেতে হয়। তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, এ দেশে “মানুষ” হবার আগে পরিচয় আর পক্ষের দল গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি যখন সারাদেশে ছাত্র-জনতা একযোগে রাস্তায় নামলো, তখন জামাল মনে মনে বলেছিলেন: “এই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের না, এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষদেরও। যাদের কথা কেউ শোনে না, যাদের রক্তের দাম নেই।”
বাঁশখালীর চাম্বলে ছাত্রদের সংগঠিত হয়ে ওঠা, এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দেওয়া, জামালের মনে আগুন জ্বেলে দেয়। সেদিন শুধু প্রতিবাদ নয়। তাঁর মনে হয়েছিল, এই একটি সুযোগ, যেখানে নিজের অস্তিত্বের জানান দেওয়া যায়। বন্ধুদের নিয়ে পরিকল্পনা করেন মিছিল বের করার। ব্যবসায়ী, ছাত্র, শ্রমিক, চাকরিজীবী সবাই এক হয়েছিলেন। “এই রাষ্ট্র আমাদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, চুপ করে থাকলে কিছুই বদলাবে না” এই মন্ত্রেই এগিয়ে গিয়েছিলেন জামাল।
রক্তাক্ত বিকেল: ৪ আগস্ট ২০২৪

তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৪, সময় বিকাল ৩টা। স্থান চাম্বল বাজার, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম। আকাশে তখন মেঘ, আর মাটিতে গর্জন। চাম্বল ইউনিয়নের ছাত্র ও সাধারণ মানুষরা মিছিল নিয়ে এগোচ্ছে বাংলা বাজার রোড ধরে। হাতে পোস্টার, গলায় স্লোগান, মুখে আশা। সবাই জানত, ঝুঁকি আছে। তবু ভয় পায়নি কেউ। বিকাল ৪টার দিকে, যখন মিছিল চাম্বল বাজারের মুখে পৌঁছায়, তখনই শুরু হয় নারকীয় দৃশ্য। হঠাৎ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা বাজারের মোড়ে দাঁড়িয়ে ইট, পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে মিছিল। কেউ পড়ে যায়, কেউ দৌড়ায়, কেউ আবার পাল্টা স্লোগান দিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়। এরপর আসে আরও ভয়াবহ মুহূর্ত। তারা বের করে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, হকস্টিক, রড, ছুরি।
যে যাকে পেয়েছে, তাকেই বেধড়ক মারতে শুরু করে। জামাল তখন দৌড়াচ্ছিলেন একপাশ দিয়ে। কিন্তু তার দৌড় থেমে যায়। কারণ এক দিক থেকে একটি লোহার রড তার মাথায় আঘাত করে। চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, কিন্তু পালাতে পারেননি। একাধিক আঘাত পড়ে তার মাথায়, শরীরের বিভিন্ন অংশে। একটি গুলি ছুটে এসে তার গায়ে লাগে। চারদিকে মানুষের কান্না, আর্তচিৎকার, ছুটোছুটি।
জামাল মনে করেন, সেদিন আকাশ তার ওপরে ধসে পড়েছিল। অচেতন হয়ে পড়ে যান রাস্তার পাশে। রক্তে ভিজে যায় জামার কলার, চশমা, এমনকি প্যান্টের ভাঁজও। সেদিন রাস্তায় শুধু জামালের রক্ত না। তার আত্মসম্মান, তার পরিবারের স্বপ্ন, তার ভবিষ্যৎ সব পড়ে ছিল।
চিকিৎসা ও পঙ্গুত্বের করুণ অধ্যায়
“এই মাথার ব্যথাটা আর কমে না, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, কেবল কষ্টে” চাম্বল বাজারের সেই রক্তাক্ত বিকেলের পর, জামাল উদ্দীন যখন জ্ঞান ফিরে পান, তখন চারপাশে শুধু ব্যথা আর কান্না। তাকে ঘিরে কয়েকজন প্রতিবেশী দাঁড়িয়ে ছিল। শরীরটা যেন অন্য কারও অচেনা, ভারী, অসাড়। প্রথমে গ্রামের একজন স্থানীয় ডাক্তার কিছুটা স্যালাইন, ব্যান্ডেজ আর ব্যথানাশক দিয়েছিলেন। তখনই বলা হয়েছিল মাথার জখম মারাত্মক। কিন্তু সেই অবস্থায় তাকে শহরে নেওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। না টাকা, না যোগাযোগ। তাই প্রথম কয়েকদিন ঘরের এক কোণে মাটির চৌকিতে তিনি রক্তাক্ত শরীর নিয়ে কাতরাতেন। পরবর্তীতে তাকে নেয়া হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ডাক্তাররা জানান- মাথায় দুটি স্থানে গভীর জখম, এক জায়গায় ৯টি সেলাই, অন্য জায়গায় ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। হাতের একটি আঙুলের নখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যা কখনো আর ঠিক হবে না।
শরীরের আরও নানা অংশে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন জখম, মাংসফাটার দাগ, পিঠে কালশিটে। জামাল বলতে পারেন না, কিন্তু তার চেহারায় ছাপ ফুটে উঠেছে, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মাথায় যেন হাতুড়ি পড়ে, দিনে কখনো রোদ দেখলে চোখ ঝাঁঝে উঠে। চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি আজও। হাসপাতালের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কখনো পুরনো ঔষধ দিয়ে চলতে হয়, কখনো আবার ঋণ করে প্রেসক্রিপশনের একেকটা ওষুধ কিনতে হয়। চিকিৎসার চাইতে যন্ত্রণার গভীরতা বড় কারণ জামাল জানেন, শুধু শরীরটাই নয়, এই রাষ্ট্রে একজন দরিদ্র নাগরিক পঙ্গু হলে সে আর মানুষ থাকে না, সে হয়ে ওঠে বোঝা।
স্বপ্নভঙ্গ ও কর্মহীনতা
“আগে আমি পরিবারের আশ্রয় ছিলাম, এখন আমি তাদের লজ্জা হয়ে গেছি।” একটা সময় ছিল, যখন মায়ের কপালে হাত রেখে জামাল বলত- “মা, ঘরটার টিন বদলাবো। এবার একটা শোবার খাট আনবো, তোমার জন্য পাটি না বিছালেও হবে।” সে সময়টা যেন বহু পুরোনো স্বপ্নের মতো এখন, অস্পষ্ট, ঝাপসা। ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের চাকরি জামালের জীবনে ছিল আশার আলো। সেই কাজই তার পরিচয়, আত্মমর্যাদা আর পরিবারের ভরসা। কিন্তু আহত হওয়ার পর মাথার অসুস্থতা, ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির ঝাপসাভাব, সবকিছু মিলিয়ে তিনি আর সে কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। ব্যাংকের নিয়ম-কানুন, হিসাব, কাগজপত্রের শুদ্ধতা সব কিছুই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি একজন আংশিক পঙ্গু যুবককে আর কেউ রাখতে চায়নি। ফলে চাকরি চলে গেল।
সংসারে আয় বন্ধ। তখন থেকেই শুরু হয় অদৃশ্য গ্লানির দিনগুলি। সকালে উঠেও কাজে যাবার তাড়া নেই, চোখের সামনে মা তাকিয়ে থাকেন। চোখে পানি, মুখে প্রশ্ন “তোর মাথার ব্যথা কমছে রে বাবা?” ভাইয়েরা বাইরে কাজ করে ফেরে, জামাল ঘরের কোণেই বসে থাকে। মানুষ বলে, জীবিত শহীদ, কিন্তু কেউ বোঝে না, একজন শহীদ রক্ত দিয়ে শেষ করে যান, আর একজন আহত ব্যক্তি প্রতিদিন নতুন করে মরেন। জামাল এখন একটি ছোটখাটো চাকরির আশায় বসে আছেন। তিনি বলেন না কিছু, কিন্তু তার চোখ দুটো বলে, “যদি কাউকে আমার জীবনের মূল্য বোঝানো যেতো”
এক ব্যথার শরীর, এক অবহেলিত বাংলাদেশ
মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন এই নামটি শুধু একজন পঙ্গু যুবকের নাম নয়, এই নামটি আমাদের সময়ের নির্লজ্জ রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিবাদ করলে জীবন যায়, আর বেঁচে থাকলেও বাঁচার অধিকার থাকে না। তার দুই শতক জমি আর কাঁচা ঘরের ছায়ায় আজও সে অপেক্ষা করে, কেউ একদিন হয়তো তার পাশে দাঁড়াবে, কেউ বলবে, “ভাই, তুমি লড়েছো। তোমার রক্ত বৃথা যায়নি।”
ইতিহাসের বুকে তার কণ্ঠস্বর


মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন জীবিত আছেন। এই বাক্যটি আজকের সমাজে একটি বড় বিস্ময়। কারণ তার গায়ে যতগুলি জখম, মাথায় যতগুলি সেলাই, আর শরীরে যতগুলি ছুরি ও রডের দাগ, তার প্রত্যেকটি যেন একটি করে প্রতিবাদের স্লোগান। তিনি হয়তো শহীদের তালিকায় নাম তোলেননি, কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি বেঁচে থেকেও লড়াই থামাননি।
হাসিনা তাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল কিন্তু সে বেঁচে আছে। হাসিনা তাকে চাকরি থেকে ছিটকে দিয়েছিল। সে এখনো নতুন করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে। এই যে বেঁচে থাকা। এটা নিছক প্রাণ বয়ে বেড়ানো নয়, এটা এক ধরনের নীরব বিপ্লব। তার জবানিতে একবার কথাটি এসেছিল, “তারা আমাদের শরীরে গুলি চালিয়েছে, আমরা তো বোমা মারিনি। তবু আমরা অপরাধী হয়ে গেলাম! তবে কি এই দেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলা মানেই অপরাধ?” তার কথা কেউ লিখে রাখেনি, সংবাদে আসেনি, ফেসবুকে ভাইরাল হয়নি, তবু ইতিহাসের পাতায় তার রক্ত, তার কান্না, তার অপমান লেখা থাকবে। হয়তো ভবিষ্যতের কেউ এসে এই পাতাগুলো পড়বে, আর তখন বুঝবে মোহাম্মদ জামাল উদ্দীনের মতো মানুষেরাই ইতিহাসের অনুচ্চারিত নায়ক।
“আমি মরিনি, তবু আমার জীবনটা কেউ ফিরিয়ে দিলো না” বাঁশখালীর চাম্বলে এখনো সন্ধ্যায় বাতাস যখন ধীরে ধীরে কাঁপে, তখন এক বৃদ্ধ কৃষকের চোখে অশ্রু নামে, তার ছেলেটি আজও বাড়ির কোণায় বসে থাকে, মাথায় পট্টি জড়ানো, হাতে ওষুধের পাতা। ঘর বদলায়নি, আয় বদলায়নি, শুধু বদলে গেছে ছেলেটির চোখের দৃষ্টি আর কণ্ঠস্বর! যেখানে এখন আর আশা নেই, আছে শুধু অপেক্ষা। তবু জামাল উদ্দীন আজও মাথা নিচু করেননি। তার একটাই অনুরোধ, “আমার মতো যারা আহত হয়েছে, তারা যেন অন্তত ক্ষুধায় না মরে। আমরা যদি শহীদ না-ই হই, অন্তত রাষ্ট্র আমাদের ‘মানুষ’ ভাবুক।” এই কাহিনি কেবল একটি যুবকের না, এটা বাংলাদেশের হাজারো আহত, অবহেলিত ও বিস্মৃত মানুষের প্রতিচ্ছবি, যারা প্রতিদিন নিজের শরীরে রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা বহন করে। তাদের কেউ স্মরণ না করুক, আমরা করবো। লেখার মধ্য দিয়ে, হৃদয়ে ধারণ করে, এবং ভবিষ্যতের কাছে এই অবিচার তুলে ধরেই।
পুনর্বাসনভিত্তিক প্রস্তাবনা
১. মাসিক হারে পুনর্বাসন ভাতা প্রদান
২. স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ব্যবস্থা
৩. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রকল্পে ঋণ প্রদান
৪. বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা কার্ড চালু
৫. রেশন কার্ড ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
৬. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অন্তর্ভুক্তকরণ
৭. ঘর নির্মাণ বা সংস্কারে সরকারি সহায়তা


একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন
জন্ম : ০১-০৬-১৯৯৯
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা : চাকরি
কর্মরত প্রতিষ্ঠান : ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম চাম্বল, ইউনিয়ন: চাম্বল, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পিতা : মোঃ সিরাজ
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৭০
মাতা : ফাতেমা বেগম
মাতার পেশা ও বয়স : গৃহিনী, ৬০
মাসিক আ : ১৫,০০০/=
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : বাঁশের বেড়া, মাটি এবং টিন দিয়ে ঘেরা
সম্পদ : ২ শতক জমি আছে
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. বেলাল উদ্দীন, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ৩৫, পেশা: শ্রমিক
২. জালাল উদ্দীন, সম্পর্ক: ভাই বয়স: ৩০, পেশা: কৃষক
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী : স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ বাহিনী
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪, বিকাল ৪.০০টা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍