মো: আছিফুর রহমান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ছাত্র, আলাউল ডিগ্রি কলেজ
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো: আছিফুর রহমান
পেশা: ছাত্র, আলাউল ডিগ্রি কলেজ
ক্রমিক- ৪৪৩
আইডি: চট্টগ্রাম- ৩৩
“পিশাচ হাসিনার নৃশংস অত্যাচারের শিকার যে ছাত্র”
জন্ম
মোঃ আছিফুর রহমানের জন্ম ২০০৩ সালের ২০ মে, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে। এটি একটি উপকূলবর্তী জনপদ, যেখানে লবণ চাষ ও কৃষিকাজ প্রধান পেশা। গ্রামটি যেন প্রকৃতির কোলে লুকানো এক ক্ষুদ্র জগৎ। কখনও সমুদ্রের হাওয়ায় শীতল, কখনও আবার নিপীড়নের ইতিহাসে রক্তাক্ত। এ পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন আছিফ। জন্মের পর থেকেই পরিবার তাকে আশার আলো হিসেবে দেখেছে। বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত জীবনের মাঝে ছোট্ট আছিফ ছিল স্বপ্নের প্রতীক।
শৈশব কেটেছে চরম অর্থকষ্ট আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। গরমে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কাদা মাটির পথ পেরিয়ে তাকে যেতে হতো স্কুলে। কিন্তু প্রতিকূলতাকে কখনো বাধা মনে করেননি তিনি। ছোটবেলা থেকেই তার চোখে ছিল জানার তৃষ্ণা, প্রশ্নের ঝলক, আর বুকভরা স্বপ্ন। গ্রামের খালি জমির ওপর বসে বই পড়তেন, কেবল নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যয়ে। আছিফের জন্ম শুধু একটি শিশুর আগমন নয়, বরং এ এক সংগ্রামী প্রজন্মের প্রতিনিধির জন্মগ্রহণ, যে প্রজন্ম রাষ্ট্রের বৈষম্যের শেকল ছিঁড়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
কর্ম
মোঃ আছিফুর রহমান একজন কলেজ ছাত্র, অধ্যয়নরত আছেন আলাউল ডিগ্রি কলেজে। মানবিক বিভাগের ছাত্র হলেও তার জ্ঞানের আগ্রহ ছড়িয়ে ছিল রাজনীতি, ইতিহাস ও সমাজচর্চার দিকে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই ছিল না তার লক্ষ্য, তিনি হতে চেয়েছিলেন সচেতন নাগরিক, দায়িত্বশীল সমাজসেনানী। তার দিন শুরু হতো ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে, ছোট ভাই- বোনদের পড়িয়ে, তারপর নিজে কলেজে যাওয়া। ক্লাস শেষে কৃষিকাজে বাবাকে সাহায্য করতেন। ছুটির দিনগুলোতে মাঠে লবণ তুলতে দেখলে বোঝাই যেত না যে, সে একজন কলেজ পড়ুয়া। এমন আত্মনিবেদিত জীবনযাপন সচরাচর দেখা যায় না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানেই কেবল সনদ নয়। এটি মানুষ ও রাষ্ট্রকে বদলানোর শক্তি। বই পড়ার প্রতি ছিল তার গভীর টান। আন্তর্জাতিক ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস পড়তেন অবলীলায়। সহপাঠীদের মাঝে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়, রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের জন্য শ্রদ্ধার পাত্র। আছিফুর রহমান নিজেকে গড়ছিলেন একজন ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তার সেই পথচলা থমকে দাঁড়ায় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে, যার ক্ষত এখনো তার শরীরে ও মনে গাঁথা রয়েছে।
পারিবারিক বর্ণনা
মোঃ আছিফুর রহমান বেড়ে উঠেছেন এক সংগ্রামী কৃষক পরিবারে, যেখানে প্রতিটি দিনের সূর্যোদয় মানে নতুন লড়াই, আর প্রতিটি রাত মানে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তা। তার পরিবারটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। পিতা-মাতা, আছিফ এবং তার দুই ভাই-বোন। তার পিতা মোঃ ওবাইদুল্লাহ একজন পরিশ্রমী কৃষক, বয়স ৫৫ বছর। বছরের পর বছর ধরে ঘাম ঝরিয়েছেন কৃষিক্ষেতে, লবণের মাঠে। যেখানে সূর্য আগুনের মতো ঝরে পড়ে, আর শরীরের প্রতিটি রগ ছিঁড়ে যেতে চায়। তার আয়ে চলে পুরো পরিবার। যার মাসিক আয় মাত্র ৮,০০০ টাকা। অথচ এই সীমিত আয়ের মধ্যেই তাকে চালাতে হয় সন্তানদের পড়ালেখা, চিকিৎসা, খাবার ও জীবনের প্রয়োজনীয় সব কিছু। মা শাহিনা আক্তার, বয়স ৪৫, একজন গৃহিণী। সংসারটা একা হাতে টেনে নিয়ে চলেছেন। অভাব-অনটনের মধ্যেও প্রতিদিন রান্নাঘরে লেগে থাকা, সন্তানদের খেয়াল রাখা, এবং সবসময় স্বামীর কাঁধে ভরসা জোগানো এসব ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তিনি একজন মমতাময়ী মা, আবার একজন নীরব যোদ্ধা। আছিফুর রহমান পরিবারে জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার নিচে আছে ছোট ভাই তাফহীমুর রহমান (বয়স ১৮), একজন ছাত্র, এবং ছোট বোন আখছাতুল খুবরা (বয়স ১২), যিনি এখনও স্কুলে পড়েন। ভাই-বোনেরা একে অপরের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। একে অপরের পাশে থেকে কষ্ট ভাগ করে নেয়, স্বপ্ন ভাগ করে নেয়। তাদের বসতবাড়ি সেমিপাকা, চারপাশে ধানখেত ও লবণের মাঠ। মাত্র ২০ শতক জমিই পারিবারিক সম্পদ, যা থেকে কোনোভাবে জীবিকা চলে। কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, নেই সঞ্চয়, নেই রাষ্ট্রীয় কোনো সহায়তা। এ পরিবারটি এক নিঃশব্দ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। যেখানে বাবা-মা তাদের সন্তানদের মানুষ করতে চান, অথচ প্রতিদিনের অভাব সেই স্বপ্নের পথ রুদ্ধ করে দেয়। আছিফুরের পরিবারের গল্প, আসলে বাংলাদেশের হাজারো নিম্নআয়ের পরিবারের গল্প। যাদের সন্তানরা এগিয়ে যেতে চায়, কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজের বৈষম্য তাদের পদে পদে রক্তাক্ত করে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াল কিন্তু গর্বের বছর। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তে ঘূর্ণিঝড়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বেকারত্ব, রাজনৈতিক দুর্নীতি, কোটাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে উঠছিল তরুণদের মনে। তরুণ সমাজ- বিশেষত শিক্ষিত বেকার প্রজন্ম। অনুভব করছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা, অথচ দলীয় অনুগতরা দিনের মধ্যে নিয়োগ পাচ্ছে। এই অন্যায়কে আর সহ্য করার জায়গা ছিল না। এই সময়েই তীব্র রূপ নেয় আন্দোলন। ‘স্বৈরাচারীর পতন চাই’, ‘কোটা সংস্কার চাই’, ‘রাষ্ট্রে সমান অধিকার চাই’। এই তিনটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে লাখো শিক্ষার্থী রাজপথে নামে। বাঁশখালীতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মনে করেছিল, তাদের কণ্ঠে না থাকলে ঢাকার মিছিলও পূর্ণ হবে না। বাঁশখালীর মতো মফস্বল এলাকায় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ছিল এক সাহসিক পদক্ষেপ। মোঃ আছিফুর রহমান সেসব সাহসী কণ্ঠস্বরের একজন ছিলেন, যিনি কেবল প্রতিবাদ করেননি। নিজের রক্ত দিয়ে আন্দোলনের মূল্যও চুকিয়েছেন।
আন্দোলনে যোগদান
৪ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ৩টা। চাম্বল সড়কজুড়ে ছাত্রদের পদধ্বনি তখন এক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বয়ে আনছিল। মিছিল এগোচ্ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ, শান্তিপূর্ণভাবে। মোঃ আছিফুর রহমান, হাতে ছোট একটি প্ল্যাকার্ড “আমার অধিকার, আমার কণ্ঠ” নিয়ে মিছিলে দাঁড়িয়ে ছিলেন সামনে সারিতে। পেছনে ছিল কলেজ পড়ুয়া শত শত তরুণ, যারা সকলেই বিশ্বাস করছিল আজ নয়, আজ না বললে আর কখনও নয়। কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হয় নৃশংসতা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মুজিব বাহিনী, হারুন বাহিনী, এমনকি সরকারঘেঁষা সিআইপি বাহিনীও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিছিলের ওপর। প্রথমে ইট-পাটকেল, তারপর রড, লাঠি এবং শেষে আগ্নেয়াস্ত্র। যারা শান্তির গান গাইছিল, তারা যেন হঠাৎই মৃত্যুপুরীতে বন্দী হয়ে গেল। আছিফ বুঝতেই পারেননি কখন গুলি তার শরীরে এসে বিঁধল। মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি, আশেপাশে গুলির শব্দ আর আহতদের আর্তচিৎকার। রক্তে রাঙা হয় সড়ক, লাল হয়ে ওঠে তার কলেজ ইউনিফর্ম। সে মুহূর্তটি ছিল যেন মৃত্যু আর জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরের আত্ম-বলিদানের সূচনা।
আহত পরবর্তী জীবন
আছিফের জীবনের ছন্দ বদলে যায় সেই গুলির পর। যে ছেলেটি প্রতিদিন সকালে কলেজে যেত, এখন সে উঠে বসলে বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথা অনুভব করে। প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে সামান্য চিকিৎসা, পরে বাঁশখালী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হন তিনি। সেখানেও মাত্র দু’দিন রাখতে পারে পরিবার, কারণ চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা তাদের ছিল না। বাসায় ফিরেও একেবারে শুয়ে থাকতে হতো সপ্তাহখানেক। এখনো গুলির ক্ষত পুরোদমে শুকায়নি। মাঝে মাঝে জ্বর আসে, ব্যথা ওঠে শরীরের গভীরে। হাঁটতে গেলেই মনে হয় কেউ পেছন থেকে টেনে ধরছে। আগে যে ছেলেটি স্বপ্ন দেখতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, পরিবারকে তুলে আনবে দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে, আজ সেই ছেলেটি শুয়ে থাকে ঘরের কোণে। মা চোখের পানি লুকিয়ে রান্না করেন, বাবা চুপচাপ উঠোনে বসে থাকেন। তার স্বপ্ন ভেঙে গেছে ঠিক নয়, কিন্তু থমকে গেছে নিঃসন্দেহে। সে এখন আর শুধু একজন ছাত্র নয়, একজন রক্তাক্ত প্রতিবাদী, রাষ্ট্রীয় দমন নীতির জীবন্ত সাক্ষী।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
আছিফুর রহমানের গুলির ক্ষত এখনো শরীরে বহন করছে বিষাক্ত ছাপ। প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছিল। কারণ চারপাশে তখনও গ্রেফতারের আতঙ্ক। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাঁশখালী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসা হয়নি পর্যাপ্ত, কারণ রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেয়নি। দু’দিন হাসপাতালে থাকার পর বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে ঘরেই চলছে চিকিৎসা, ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, আর কিছু প্রাথমিক সেবা। তবে শরীরে রয়ে গেছে গুলির ভেতরের আঘাত, যে ক্ষত বাইরের চেয়ে ভেতরে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন, বুক ব্যথায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যে পরিবারে আয় মাত্র আট হাজার টাকা, সেই পরিবারের পক্ষে উন্নত মানের চিকিৎসা করা দুঃস্বপ্নের মতোই।
আছিফ এখনো আশা করেন। রাষ্ট্র যদি না-ও নেয় তার দায়িত্ব, সমাজ অন্তত এগিয়ে আসবে। কারণ, এই রক্ত কেবল তার নয়, এটি একটি প্রজন্মের বুকের ভেতর পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রকাশ, যে ক্ষোভ আজও বিচারহীন।
অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা
১. চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা। উন্নতমানের হাসপাতালে পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার
২. জরুরি চিকিৎসা সংরক্ষণ ফান্ড
৩. শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য আছিফুরের শিক্ষাবৃত্তি
৪. পিতার কৃষিকাজে পুনঃ বিনিয়োগ
৫. ঘরের সংস্কার ও স্যানিটেশন উন্নয়ন
৬. ছোট ভাই-বোন ও আসিফের শিক্ষার ব্যয়
৭. খাদ্য, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য পরিবারকে সহায়তা
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আছিফুর রহমান
জন্ম তারিখ : ২০-০৫-২০০৩
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা : ছাত্র, আলাউল ডিগ্রি কলেজ
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম বড়ঘোনা, ইউনিয়ন: গণ্ডামারা থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: ওবাইদুল্লাহ
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৫৫
মায়ের নাম : শাহিনা আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ৮,০০০
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : সেমি পাকা
সম্পদ : ২০ শতক জমি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. তাফহীমুর রহমান, বয়স: ১৮, পেশা: ছাত্র, সম্পর্ক: ভাই
২. আখছাতুল খুবরা, বয়স: ১২, পেশা: ছাত্রী, সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল, বাঁশখালী
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ মুজিব বাহিনী, হারুন বাহিনী, সিআইপি বাহিনী
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
চিকিৎসাসেবা গ্রহণ: স্থানীয় ফার্মেসি ও বাঁশখালী সরকারি মেডিকেল
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: উন্নত মানের চিকিৎসা দরকার
পেশা: ছাত্র, আলাউল ডিগ্রি কলেজ
ক্রমিক- ৪৪৩
আইডি: চট্টগ্রাম- ৩৩
“পিশাচ হাসিনার নৃশংস অত্যাচারের শিকার যে ছাত্র”
জন্ম
মোঃ আছিফুর রহমানের জন্ম ২০০৩ সালের ২০ মে, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামে। এটি একটি উপকূলবর্তী জনপদ, যেখানে লবণ চাষ ও কৃষিকাজ প্রধান পেশা। গ্রামটি যেন প্রকৃতির কোলে লুকানো এক ক্ষুদ্র জগৎ। কখনও সমুদ্রের হাওয়ায় শীতল, কখনও আবার নিপীড়নের ইতিহাসে রক্তাক্ত। এ পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন আছিফ। জন্মের পর থেকেই পরিবার তাকে আশার আলো হিসেবে দেখেছে। বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত জীবনের মাঝে ছোট্ট আছিফ ছিল স্বপ্নের প্রতীক।
শৈশব কেটেছে চরম অর্থকষ্ট আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। গরমে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কাদা মাটির পথ পেরিয়ে তাকে যেতে হতো স্কুলে। কিন্তু প্রতিকূলতাকে কখনো বাধা মনে করেননি তিনি। ছোটবেলা থেকেই তার চোখে ছিল জানার তৃষ্ণা, প্রশ্নের ঝলক, আর বুকভরা স্বপ্ন। গ্রামের খালি জমির ওপর বসে বই পড়তেন, কেবল নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যয়ে। আছিফের জন্ম শুধু একটি শিশুর আগমন নয়, বরং এ এক সংগ্রামী প্রজন্মের প্রতিনিধির জন্মগ্রহণ, যে প্রজন্ম রাষ্ট্রের বৈষম্যের শেকল ছিঁড়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
কর্ম
মোঃ আছিফুর রহমান একজন কলেজ ছাত্র, অধ্যয়নরত আছেন আলাউল ডিগ্রি কলেজে। মানবিক বিভাগের ছাত্র হলেও তার জ্ঞানের আগ্রহ ছড়িয়ে ছিল রাজনীতি, ইতিহাস ও সমাজচর্চার দিকে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই ছিল না তার লক্ষ্য, তিনি হতে চেয়েছিলেন সচেতন নাগরিক, দায়িত্বশীল সমাজসেনানী। তার দিন শুরু হতো ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে, ছোট ভাই- বোনদের পড়িয়ে, তারপর নিজে কলেজে যাওয়া। ক্লাস শেষে কৃষিকাজে বাবাকে সাহায্য করতেন। ছুটির দিনগুলোতে মাঠে লবণ তুলতে দেখলে বোঝাই যেত না যে, সে একজন কলেজ পড়ুয়া। এমন আত্মনিবেদিত জীবনযাপন সচরাচর দেখা যায় না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানেই কেবল সনদ নয়। এটি মানুষ ও রাষ্ট্রকে বদলানোর শক্তি। বই পড়ার প্রতি ছিল তার গভীর টান। আন্তর্জাতিক ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস পড়তেন অবলীলায়। সহপাঠীদের মাঝে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়, রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের জন্য শ্রদ্ধার পাত্র। আছিফুর রহমান নিজেকে গড়ছিলেন একজন ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তার সেই পথচলা থমকে দাঁড়ায় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে, যার ক্ষত এখনো তার শরীরে ও মনে গাঁথা রয়েছে।
পারিবারিক বর্ণনা
মোঃ আছিফুর রহমান বেড়ে উঠেছেন এক সংগ্রামী কৃষক পরিবারে, যেখানে প্রতিটি দিনের সূর্যোদয় মানে নতুন লড়াই, আর প্রতিটি রাত মানে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তা। তার পরিবারটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। পিতা-মাতা, আছিফ এবং তার দুই ভাই-বোন। তার পিতা মোঃ ওবাইদুল্লাহ একজন পরিশ্রমী কৃষক, বয়স ৫৫ বছর। বছরের পর বছর ধরে ঘাম ঝরিয়েছেন কৃষিক্ষেতে, লবণের মাঠে। যেখানে সূর্য আগুনের মতো ঝরে পড়ে, আর শরীরের প্রতিটি রগ ছিঁড়ে যেতে চায়। তার আয়ে চলে পুরো পরিবার। যার মাসিক আয় মাত্র ৮,০০০ টাকা। অথচ এই সীমিত আয়ের মধ্যেই তাকে চালাতে হয় সন্তানদের পড়ালেখা, চিকিৎসা, খাবার ও জীবনের প্রয়োজনীয় সব কিছু। মা শাহিনা আক্তার, বয়স ৪৫, একজন গৃহিণী। সংসারটা একা হাতে টেনে নিয়ে চলেছেন। অভাব-অনটনের মধ্যেও প্রতিদিন রান্নাঘরে লেগে থাকা, সন্তানদের খেয়াল রাখা, এবং সবসময় স্বামীর কাঁধে ভরসা জোগানো এসব ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তিনি একজন মমতাময়ী মা, আবার একজন নীরব যোদ্ধা। আছিফুর রহমান পরিবারে জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার নিচে আছে ছোট ভাই তাফহীমুর রহমান (বয়স ১৮), একজন ছাত্র, এবং ছোট বোন আখছাতুল খুবরা (বয়স ১২), যিনি এখনও স্কুলে পড়েন। ভাই-বোনেরা একে অপরের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। একে অপরের পাশে থেকে কষ্ট ভাগ করে নেয়, স্বপ্ন ভাগ করে নেয়। তাদের বসতবাড়ি সেমিপাকা, চারপাশে ধানখেত ও লবণের মাঠ। মাত্র ২০ শতক জমিই পারিবারিক সম্পদ, যা থেকে কোনোভাবে জীবিকা চলে। কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, নেই সঞ্চয়, নেই রাষ্ট্রীয় কোনো সহায়তা। এ পরিবারটি এক নিঃশব্দ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। যেখানে বাবা-মা তাদের সন্তানদের মানুষ করতে চান, অথচ প্রতিদিনের অভাব সেই স্বপ্নের পথ রুদ্ধ করে দেয়। আছিফুরের পরিবারের গল্প, আসলে বাংলাদেশের হাজারো নিম্নআয়ের পরিবারের গল্প। যাদের সন্তানরা এগিয়ে যেতে চায়, কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজের বৈষম্য তাদের পদে পদে রক্তাক্ত করে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াল কিন্তু গর্বের বছর। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তে ঘূর্ণিঝড়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বেকারত্ব, রাজনৈতিক দুর্নীতি, কোটাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে উঠছিল তরুণদের মনে। তরুণ সমাজ- বিশেষত শিক্ষিত বেকার প্রজন্ম। অনুভব করছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা, অথচ দলীয় অনুগতরা দিনের মধ্যে নিয়োগ পাচ্ছে। এই অন্যায়কে আর সহ্য করার জায়গা ছিল না। এই সময়েই তীব্র রূপ নেয় আন্দোলন। ‘স্বৈরাচারীর পতন চাই’, ‘কোটা সংস্কার চাই’, ‘রাষ্ট্রে সমান অধিকার চাই’। এই তিনটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে লাখো শিক্ষার্থী রাজপথে নামে। বাঁশখালীতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মনে করেছিল, তাদের কণ্ঠে না থাকলে ঢাকার মিছিলও পূর্ণ হবে না। বাঁশখালীর মতো মফস্বল এলাকায় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ছিল এক সাহসিক পদক্ষেপ। মোঃ আছিফুর রহমান সেসব সাহসী কণ্ঠস্বরের একজন ছিলেন, যিনি কেবল প্রতিবাদ করেননি। নিজের রক্ত দিয়ে আন্দোলনের মূল্যও চুকিয়েছেন।
আন্দোলনে যোগদান
৪ আগস্ট ২০২৪, বিকেল ৩টা। চাম্বল সড়কজুড়ে ছাত্রদের পদধ্বনি তখন এক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বয়ে আনছিল। মিছিল এগোচ্ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ, শান্তিপূর্ণভাবে। মোঃ আছিফুর রহমান, হাতে ছোট একটি প্ল্যাকার্ড “আমার অধিকার, আমার কণ্ঠ” নিয়ে মিছিলে দাঁড়িয়ে ছিলেন সামনে সারিতে। পেছনে ছিল কলেজ পড়ুয়া শত শত তরুণ, যারা সকলেই বিশ্বাস করছিল আজ নয়, আজ না বললে আর কখনও নয়। কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হয় নৃশংসতা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মুজিব বাহিনী, হারুন বাহিনী, এমনকি সরকারঘেঁষা সিআইপি বাহিনীও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিছিলের ওপর। প্রথমে ইট-পাটকেল, তারপর রড, লাঠি এবং শেষে আগ্নেয়াস্ত্র। যারা শান্তির গান গাইছিল, তারা যেন হঠাৎই মৃত্যুপুরীতে বন্দী হয়ে গেল। আছিফ বুঝতেই পারেননি কখন গুলি তার শরীরে এসে বিঁধল। মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি, আশেপাশে গুলির শব্দ আর আহতদের আর্তচিৎকার। রক্তে রাঙা হয় সড়ক, লাল হয়ে ওঠে তার কলেজ ইউনিফর্ম। সে মুহূর্তটি ছিল যেন মৃত্যু আর জীবনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরের আত্ম-বলিদানের সূচনা।
আহত পরবর্তী জীবন
আছিফের জীবনের ছন্দ বদলে যায় সেই গুলির পর। যে ছেলেটি প্রতিদিন সকালে কলেজে যেত, এখন সে উঠে বসলে বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথা অনুভব করে। প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে সামান্য চিকিৎসা, পরে বাঁশখালী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হন তিনি। সেখানেও মাত্র দু’দিন রাখতে পারে পরিবার, কারণ চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা তাদের ছিল না। বাসায় ফিরেও একেবারে শুয়ে থাকতে হতো সপ্তাহখানেক। এখনো গুলির ক্ষত পুরোদমে শুকায়নি। মাঝে মাঝে জ্বর আসে, ব্যথা ওঠে শরীরের গভীরে। হাঁটতে গেলেই মনে হয় কেউ পেছন থেকে টেনে ধরছে। আগে যে ছেলেটি স্বপ্ন দেখতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, পরিবারকে তুলে আনবে দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে, আজ সেই ছেলেটি শুয়ে থাকে ঘরের কোণে। মা চোখের পানি লুকিয়ে রান্না করেন, বাবা চুপচাপ উঠোনে বসে থাকেন। তার স্বপ্ন ভেঙে গেছে ঠিক নয়, কিন্তু থমকে গেছে নিঃসন্দেহে। সে এখন আর শুধু একজন ছাত্র নয়, একজন রক্তাক্ত প্রতিবাদী, রাষ্ট্রীয় দমন নীতির জীবন্ত সাক্ষী।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
আছিফুর রহমানের গুলির ক্ষত এখনো শরীরে বহন করছে বিষাক্ত ছাপ। প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছিল। কারণ চারপাশে তখনও গ্রেফতারের আতঙ্ক। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাঁশখালী সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসা হয়নি পর্যাপ্ত, কারণ রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেয়নি। দু’দিন হাসপাতালে থাকার পর বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে ঘরেই চলছে চিকিৎসা, ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, আর কিছু প্রাথমিক সেবা। তবে শরীরে রয়ে গেছে গুলির ভেতরের আঘাত, যে ক্ষত বাইরের চেয়ে ভেতরে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন, বুক ব্যথায় নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যে পরিবারে আয় মাত্র আট হাজার টাকা, সেই পরিবারের পক্ষে উন্নত মানের চিকিৎসা করা দুঃস্বপ্নের মতোই।
আছিফ এখনো আশা করেন। রাষ্ট্র যদি না-ও নেয় তার দায়িত্ব, সমাজ অন্তত এগিয়ে আসবে। কারণ, এই রক্ত কেবল তার নয়, এটি একটি প্রজন্মের বুকের ভেতর পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রকাশ, যে ক্ষোভ আজও বিচারহীন।
অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা
১. চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা। উন্নতমানের হাসপাতালে পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার
২. জরুরি চিকিৎসা সংরক্ষণ ফান্ড
৩. শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য আছিফুরের শিক্ষাবৃত্তি
৪. পিতার কৃষিকাজে পুনঃ বিনিয়োগ
৫. ঘরের সংস্কার ও স্যানিটেশন উন্নয়ন
৬. ছোট ভাই-বোন ও আসিফের শিক্ষার ব্যয়
৭. খাদ্য, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য পরিবারকে সহায়তা
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: আছিফুর রহমান
জন্ম তারিখ : ২০-০৫-২০০৩
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা : ছাত্র, আলাউল ডিগ্রি কলেজ
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম বড়ঘোনা, ইউনিয়ন: গণ্ডামারা থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মো: ওবাইদুল্লাহ
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষি, ৫৫
মায়ের নাম : শাহিনা আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৫
মাসিক আয় : ৮,০০০
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : সেমি পাকা
সম্পদ : ২০ শতক জমি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাই-বোনদের বিবরণ
১. তাফহীমুর রহমান, বয়স: ১৮, পেশা: ছাত্র, সম্পর্ক: ভাই
২. আখছাতুল খুবরা, বয়স: ১২, পেশা: ছাত্রী, সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল, বাঁশখালী
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪, বিকাল ৩টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ মুজিব বাহিনী, হারুন বাহিনী, সিআইপি বাহিনী
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
চিকিৎসাসেবা গ্রহণ: স্থানীয় ফার্মেসি ও বাঁশখালী সরকারি মেডিকেল
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: উন্নত মানের চিকিৎসা দরকার
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍