মোহাম্মদ দেলোয়ার
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
রিক্সাচালক
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
রিকশা চালকের রক্তে লেখা হলো
স্বৈরাচারীর বিদায়ের ইতিহাস
মোহাম্মদ দেলোয়ার
ক্রমিক: ৪৪৪
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ ৩৪
জন্ম ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের মুন্দিনীল গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় মোহাম্মদ দেলোয়ার। জন্মের মুহূর্তেই যেন নিয়তির হাতে লেখা হয়ে যায় তার জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস। মাটির বাড়ি, পেছনে জোছনামাখা লবণ মাঠ, আর সামনে খাদ্য ও শিক্ষার অনিশ্চয়তা। এই ছিল তার বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট। তার বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস ছিলেন একজন সাদামাটা কৃষক, যিনি গরম রোদের নিচে জমিতে হাল চাষ করে সংসার চালাতেন। মা কামরুন্নাহার ঘরে বসেই সবার খাবার জোগাড়, সন্তানদের যত্ন, আর সামান্য জমিনের পাশে শাকসবজি চাষ করতেন। দশ সদস্যের বিশাল পরিবারের সদস্য দেলোয়ার ছোটবেলা থেকেই বুঝে গিয়েছিল। এই দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে হলে রোজকার জীবনই একটি যুদ্ধ। তিন-চার বছর বয়স থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সাথে বাঁশখালীর কাদামাটি মাখা পথ দিয়ে হেঁটে চলেছেন বেঁচে থাকার খোঁজে। আর্থিক টানাপোড়েনে পড়াশোনা তার জন্য স্বপ্ন হয়ে রয়ে যায়। প্রথম শ্রেণির গণ্ডিও তিনি পেরোতে পারেননি। বালক বয়সেই স্কুলব্যাগের বদলে কাঁধে তুলে নেন জীবিকার বোঝা।
কর্ম
শিক্ষাবঞ্চিত দেলোয়ার যখন কৈশোরে পা রাখেন, তখন তার সামনে কোনো অপশন খোলা ছিল না। পরিবারে যখন খাবার জোটানোই কঠিন, তখন তিনি দায়িত্ব নেন পরিবারের হাল ধরার। ১৫ বছর বয়সে তিনি স্থানীয়ভাবে দিনমজুরের কাজ করেন। পরে নিজে একটা পুরনো রিক্সা ভাড়া নিয়ে বাঁশখালীর রাস্তায় নামেন যাত্রী পরিবহনের জন্য। দিনভর সূর্যের প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টির ধারা উপেক্ষা করে তিনি রিক্সা চালাতেন। হাট- বাজার, স্কুল, হাসপাতাল। যেখানে ডাক আসত, সেখানেই ছুটে যেতেন। দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় করেই ঘরে ফিরতেন, যার পুরোটাই তুলে দিতেন মায়ের হাতে। এমন অনেকদিন গেছে, যেদিন তিনি নিজে খেতে পারেননি, কিন্তু ছোট বোন মনিরার মুখে যেন ভাত থাকে। এটাই ছিল তার শান্তি। কাজ শুধু জীবিকার জন্যই ছিল না, ছিল আত্মসম্মানেরও। কোনোদিন কারো কাছে হাত পাতেননি। অন্যের জমিতে হাল ধরেছেন, রিক্সা চালিয়েছেন, কাঠের বোঝা টেনেছেন। তবুও মাথা নিচু করেননি। তার মতে, “হালাল উপার্জনের চেয়ে বড় কিছু নাই দুনিয়ায়।”
পারিবারিক বর্ণনা
মোঃ দেলোয়ারের পরিবারটি বাংলাদেশের উপকূলীয় বাস্তবতার এক নিদারুণ প্রতিচ্ছবি। বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের মুন্দিনীল গ্রামে ছোট্ট একটি সেমিপাকা ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করে দশজনের পরিবারটি। জমিজমা নেই, নেই কোনো স্থায়ী উপার্জনের উৎস। তবু বেঁচে থাকার সংগ্রামে তারা সবাই বুক ঠুকে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পিতা মোহাম্মদ ইদ্রিস, ষাটোর্ধ্ব এক কৃষক, যিনি বছরের অর্ধেক সময় কাজ পান, বাকি সময় হাল ধরা জমি শূন্যতায় ভরে থাকে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তিনি থেমে যাননি। প্রতিদিন ভোরে কাঁধে কোদাল তুলে আবারও মাঠে ছুটে যান, যেন সন্তানদের মুখে দু’বেলা অন্ন তুলে দিতে পারেন। আর মা কামরুন্নাহার। একজন নিঃস্ব গৃহিণী, যিনি সংসারের রন্ধন থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েদের যত্ন, প্রতিবেশীদের সাহায্য। সবই সামলান নিজের নীরব মমতায়। পরিবারের দশ সদস্যের মধ্যে বড় ভাই মোঃ হোসাইন দিনমজুরের কাজ করেন। তিনিও পরিবারে আয়-উপার্জনের দ্বিতীয় ভরসা। ছোট বোন মনিরা এখনও পড়ালেখা করছে। এই মেয়েটিকে নিয়ে পরিবারটির একমাত্র স্বপ্ন, কোনো একদিন সে “কিছু একটা” হবে। কিন্তু স্বপ্নও এখানে খুব বেশি দিনের অতিথি নয়। প্রতিটি রাত কাটে অনিশ্চয়তায়। কালকের চাল, পরশুর ওষুধ, আর আগামী সপ্তাহের ঘরভাড়া কীভাবে জোগাড় হবে, এসব নিয়েই তাদের বাস্তবতা। এই পরিবারে হাসি আসে খুব কম, কিন্তু ভালোবাসা আছে অফুরান। সবার মুখে একটিই কথা। “দেলোয়ার আমাদের আশা।” সেই আশাই ২০২৪ সালের এক দুর্বিষহ দুপুরে গুলির আঘাতে থমকে যায়।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে ২০২৪ সাল এক অস্থির সময়। চারদিকে দুর্নীতি, দলীয় নিয়োগ, বেকারত্ব, চাকরিতে কোটা বৈষম্য, এবং তোষণনীতি যুবসমাজকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। চারপাশে চলছিল দীর্ঘদিনের নীরব শোষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ। এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক ছিল না; এটি ছিল জীবনের, মর্যাদার, স্বপ্নের, ভবিষ্যতের জন্য লড়াই। বাঁশখালী, একটি উপজেলা। রাজধানী থেকে অনেক দূরে। কিন্তু এখানেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। কৃষকের সন্তান, শ্রমিক, রিক্সাচালক, ছাত্র। সবাই বুঝতে পারছিল, যদি এখন না দাঁড়ায়, তাহলে আর কোনোদিনই দাঁড়াতে পারবে না। প্রতিটি মানুষের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অপমান, অবহেলা, দুঃখ যেন একদিনেই বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে।
মোঃ দেলোয়ার ছিলেন ঠিক এমন এক মানুষের প্রতিনিধি, যার জীবনে রাষ্ট্রের কোনো প্রাপ্তি নেই। তবু বুকভরা দেশপ্রেম আছে। তিনি নিজের দুঃখ-কষ্ট ভুলে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। ৪ আগস্ট ২০২৪, সেই ঐতিহাসিক দিনে, বাঁশখালীর চাম্বলে আয়োজিত বৈষম্য বিরোধী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তিনি সম্মুখ সারিতে অবস্থান করেন। লক্ষ্য ছিল, গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায্যতার দাবি ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ হঠাৎ পরিণত হয় রক্তাক্ত সহিংসতায়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা মুজিব চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, পুলিশের সহায়তায় হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের উপর। মুহূর্তের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। আর ঠিক তখনই মোঃ দেলোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একজন সাধারণ রিক্সাচালকের স্বপ্ন সে মুহূর্তে থমকে যায়।
আন্দোলনে যোগদান
মোঃ দেলোয়ার কোনো রাজনীতিবিদ নন, উচ্চশিক্ষিতও নন। তবে তার হৃদয়ের গভীরে ছিল এক তীব্র সামাজিক সচেতনতা। একটি রাষ্ট্রের ভিত কতটা দুর্বল হয়ে পড়ে যখন দরিদ্র মানুষের কান্না কেউ শোনে না। এই সত্যটি তিনি রোজ দেখেছেন নিজের জীবন দিয়ে। তাই যখন ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের নানা প্রান্তে তরুণরা রাস্তায় নামল ন্যায্য অধিকারের দাবিতে, তখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি। ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা। বাঁশখালীর চাম্বলে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়ান দেলোয়ার। তিনি কোনো শ্লোগান লেখেননি, কোনো ব্যানার বহন করেননি। শুধু শরীরটুকু নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অন্যায়ের প্রতিবাদে, অন্যদের কণ্ঠস্বর হয়ে। “চাকরিতে বৈষম্য নয়, মেধার মূল্য চাই,” “আমার অধিকার, আমার সম্মান”। এই শ্লোগানগুলো তার বুক থেকে বের হচ্ছিল নিঃশব্দে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ শেষ হয় নৃশংস এক রক্তপাতের মধ্যে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুজিব চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, পুলিশের ছত্রছায়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুলি, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসে ভরে যায় চাম্বলের আকাশ। এই দমনপীড়নের শিকার হন দেলোয়ারও। তার ডান পায়ে গুলি লাগে। রিক্সাচালকের শক্তিশালী শরীরটা মাটিতে পড়ে যায় রক্তাক্ত হয়ে।
আহত পরবর্তী জীবন
একটি গুলি, একটি বিকেল, একটি মুহূর্ত। দেলোয়ারের জীবন একেবারে উল্টে দেয়। যে পায়ে ভর করে তিনি রিক্সা চালাতেন, এখন সেই পা ভরাই তার যন্ত্রণার কেন্দ্র। গুলির পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এ আঘাতের প্রভাব শুধু শারীরিক নয় মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে ফেরার পর পরিবার তাকে ঘিরে রাখে যত্নে, কিন্তু অর্থের টানাপোড়েন আর তার অক্ষমতা মিলিয়ে এক ভাঙা ভাঙা জীবন শুরু হয়। কাজ করতে পারেন না, আয় বন্ধ। সংসারে যা আয় উপার্জনের যে পথটুকু ছিল, সেটিও হারায় পরিবার। একসময় যে দেলোয়ার রিক্সা চালিয়ে দশজনের মুখে খাবার তুলে দিতেন, এখন তিনি নিজেই মায়ের হাত ধরে হাঁটেন। আত্মসম্মান বারবার আহত হয়, তবুও মায়ের কণ্ঠে সাহস খোঁজেন “আল্লাহ ভরসা।”
চিকিৎসা
আহতের পর প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন দেলোয়ার। গ্রামীণ চিকিৎসক ও পল্লি চিকিৎসকের পরামর্শে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু ব্যথা, রক্তপাত ও বুলেটের ক্ষত ক্রমেই জটিল হতে থাকে। পরে বাঁশখালী ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ডা. দিদারুল হক সাকিবের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নেন। রক্ত বন্ধ হয়, ক্ষত কিছুটা শুকায়। কিন্তু গুলি এখনও তার পায়ের ভেতরে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে আবারও বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তিনি। সেখানেও বলা হয়। পায়ের মধ্যে থাকা বুলেট বের করতে উন্নতমানের অপারেশন দরকার, যা জেলা বা রাজধানী পর্যায়ে সম্ভব। কিন্তু তার মতো দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা দূরের কথা, ভাবাও অসম্ভব। প্রতিদিন দেলোয়ারের পা ফুলে থাকে, মাঝে মাঝে তীব্র ব্যথা ওঠে, হাঁটা-চলা করাও কষ্টকর। চিকিৎসার অভাবে তিনি এখন একটি অচল জীবনের দিকে ধীরে ধীরে গড়িয়ে যাচ্ছেন।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
মোহাম্মদ দেলোয়ার
১০-১১-২০০০
পেশা
বাঁশখালী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। গ্রাম। মুদিনীল, ইউনিয়ন। চাফল, থানা।
রিক্সাচালক
বাশখালী জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারসংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম । মোহাম্মদ ইদ্রিস
পিতার পেশা ও বয়স। কৃষি, ৬০
মায়ের নাম । ভামরুল্লাহার
মায়ের পেশা ও বয়স
গৃহিণী, ৫২
মাসিক আয় ১০,০০০
আয়ের উৎস : কুষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ১০
বাড়ি: সেমি পাকা
কোনো আয়ণা অমি নেই
ভাই-বোনদের বর্ণনা
১ মোঃ হোসাইন, ব্যয়স: ৩৫, পেশা: শ্রমিক, সম্পর্ক: ভাই
২. মনিরা, বয়স: ১৭, পেশা: ছাত্রী, সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান ডাদল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সমর ০৪-০৮-২০২৪, দুপুর ২.০০টা
আক্রমণকারী
: পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ (মুজিব চেয়্যারম্যান)
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
চিকিৎসা। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বাঁশখালী ন্যাশনাল হাসপাতাল
চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রস্তাবনা: এখনও ডান পায়ে বুলেট আছে। বের করার জন্য উন্নতমানের চিকিৎসা দরকার
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রস্তাবনা: ব্যবসা
প্রস্তাবনা
মোঃ দেলোয়ারের জীবনের এই কঠিন বাস্তবভাঃ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন
১. উন্নত চিকিৎসা সহায়তা: তার ডান পায়ে এখনও বুলেট রয়ে গেছে, যা অপসারণ না করলে ভবিষ্যতে পঙ্গুত্ব চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। উন্নতমানের সরকারি বা দাতব্য সংস্থার সহায়তায় দ্রুত অপারেশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন
২. ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুনঃস্থাপন: শারীরিকভাবে ভারী শ্রম সম্ভব নয় বলে তাকে পুনরায় কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনতে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। একটি মুদি দোকান, ফলের দোকান কিংবা চায়ের স্টল। যেখানে বসে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন
৩. পারিবারিক পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা: দশজনের এই পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম পুরুন্য সেলোয়ার অক্ষম হয়ে পড়ায় গোটা পরিবার ঝুঁকির মধো রয়েছে। একটি স্থায়ী বাসস্থানের সহারকা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী যা নাদ্য সহায়তা প্রোগ্রামের আওতায় আনা ভাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি
স্বৈরাচারীর বিদায়ের ইতিহাস
মোহাম্মদ দেলোয়ার
ক্রমিক: ৪৪৪
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ ৩৪
জন্ম ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের মুন্দিনীল গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় মোহাম্মদ দেলোয়ার। জন্মের মুহূর্তেই যেন নিয়তির হাতে লেখা হয়ে যায় তার জীবনের সংগ্রামের ইতিহাস। মাটির বাড়ি, পেছনে জোছনামাখা লবণ মাঠ, আর সামনে খাদ্য ও শিক্ষার অনিশ্চয়তা। এই ছিল তার বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট। তার বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস ছিলেন একজন সাদামাটা কৃষক, যিনি গরম রোদের নিচে জমিতে হাল চাষ করে সংসার চালাতেন। মা কামরুন্নাহার ঘরে বসেই সবার খাবার জোগাড়, সন্তানদের যত্ন, আর সামান্য জমিনের পাশে শাকসবজি চাষ করতেন। দশ সদস্যের বিশাল পরিবারের সদস্য দেলোয়ার ছোটবেলা থেকেই বুঝে গিয়েছিল। এই দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে হলে রোজকার জীবনই একটি যুদ্ধ। তিন-চার বছর বয়স থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সাথে বাঁশখালীর কাদামাটি মাখা পথ দিয়ে হেঁটে চলেছেন বেঁচে থাকার খোঁজে। আর্থিক টানাপোড়েনে পড়াশোনা তার জন্য স্বপ্ন হয়ে রয়ে যায়। প্রথম শ্রেণির গণ্ডিও তিনি পেরোতে পারেননি। বালক বয়সেই স্কুলব্যাগের বদলে কাঁধে তুলে নেন জীবিকার বোঝা।
কর্ম
শিক্ষাবঞ্চিত দেলোয়ার যখন কৈশোরে পা রাখেন, তখন তার সামনে কোনো অপশন খোলা ছিল না। পরিবারে যখন খাবার জোটানোই কঠিন, তখন তিনি দায়িত্ব নেন পরিবারের হাল ধরার। ১৫ বছর বয়সে তিনি স্থানীয়ভাবে দিনমজুরের কাজ করেন। পরে নিজে একটা পুরনো রিক্সা ভাড়া নিয়ে বাঁশখালীর রাস্তায় নামেন যাত্রী পরিবহনের জন্য। দিনভর সূর্যের প্রখর রোদ কিংবা বৃষ্টির ধারা উপেক্ষা করে তিনি রিক্সা চালাতেন। হাট- বাজার, স্কুল, হাসপাতাল। যেখানে ডাক আসত, সেখানেই ছুটে যেতেন। দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় করেই ঘরে ফিরতেন, যার পুরোটাই তুলে দিতেন মায়ের হাতে। এমন অনেকদিন গেছে, যেদিন তিনি নিজে খেতে পারেননি, কিন্তু ছোট বোন মনিরার মুখে যেন ভাত থাকে। এটাই ছিল তার শান্তি। কাজ শুধু জীবিকার জন্যই ছিল না, ছিল আত্মসম্মানেরও। কোনোদিন কারো কাছে হাত পাতেননি। অন্যের জমিতে হাল ধরেছেন, রিক্সা চালিয়েছেন, কাঠের বোঝা টেনেছেন। তবুও মাথা নিচু করেননি। তার মতে, “হালাল উপার্জনের চেয়ে বড় কিছু নাই দুনিয়ায়।”
পারিবারিক বর্ণনা
মোঃ দেলোয়ারের পরিবারটি বাংলাদেশের উপকূলীয় বাস্তবতার এক নিদারুণ প্রতিচ্ছবি। বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের মুন্দিনীল গ্রামে ছোট্ট একটি সেমিপাকা ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করে দশজনের পরিবারটি। জমিজমা নেই, নেই কোনো স্থায়ী উপার্জনের উৎস। তবু বেঁচে থাকার সংগ্রামে তারা সবাই বুক ঠুকে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পিতা মোহাম্মদ ইদ্রিস, ষাটোর্ধ্ব এক কৃষক, যিনি বছরের অর্ধেক সময় কাজ পান, বাকি সময় হাল ধরা জমি শূন্যতায় ভরে থাকে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তিনি থেমে যাননি। প্রতিদিন ভোরে কাঁধে কোদাল তুলে আবারও মাঠে ছুটে যান, যেন সন্তানদের মুখে দু’বেলা অন্ন তুলে দিতে পারেন। আর মা কামরুন্নাহার। একজন নিঃস্ব গৃহিণী, যিনি সংসারের রন্ধন থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েদের যত্ন, প্রতিবেশীদের সাহায্য। সবই সামলান নিজের নীরব মমতায়। পরিবারের দশ সদস্যের মধ্যে বড় ভাই মোঃ হোসাইন দিনমজুরের কাজ করেন। তিনিও পরিবারে আয়-উপার্জনের দ্বিতীয় ভরসা। ছোট বোন মনিরা এখনও পড়ালেখা করছে। এই মেয়েটিকে নিয়ে পরিবারটির একমাত্র স্বপ্ন, কোনো একদিন সে “কিছু একটা” হবে। কিন্তু স্বপ্নও এখানে খুব বেশি দিনের অতিথি নয়। প্রতিটি রাত কাটে অনিশ্চয়তায়। কালকের চাল, পরশুর ওষুধ, আর আগামী সপ্তাহের ঘরভাড়া কীভাবে জোগাড় হবে, এসব নিয়েই তাদের বাস্তবতা। এই পরিবারে হাসি আসে খুব কম, কিন্তু ভালোবাসা আছে অফুরান। সবার মুখে একটিই কথা। “দেলোয়ার আমাদের আশা।” সেই আশাই ২০২৪ সালের এক দুর্বিষহ দুপুরে গুলির আঘাতে থমকে যায়।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে ২০২৪ সাল এক অস্থির সময়। চারদিকে দুর্নীতি, দলীয় নিয়োগ, বেকারত্ব, চাকরিতে কোটা বৈষম্য, এবং তোষণনীতি যুবসমাজকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। চারপাশে চলছিল দীর্ঘদিনের নীরব শোষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ। এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক ছিল না; এটি ছিল জীবনের, মর্যাদার, স্বপ্নের, ভবিষ্যতের জন্য লড়াই। বাঁশখালী, একটি উপজেলা। রাজধানী থেকে অনেক দূরে। কিন্তু এখানেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। কৃষকের সন্তান, শ্রমিক, রিক্সাচালক, ছাত্র। সবাই বুঝতে পারছিল, যদি এখন না দাঁড়ায়, তাহলে আর কোনোদিনই দাঁড়াতে পারবে না। প্রতিটি মানুষের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অপমান, অবহেলা, দুঃখ যেন একদিনেই বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে।
মোঃ দেলোয়ার ছিলেন ঠিক এমন এক মানুষের প্রতিনিধি, যার জীবনে রাষ্ট্রের কোনো প্রাপ্তি নেই। তবু বুকভরা দেশপ্রেম আছে। তিনি নিজের দুঃখ-কষ্ট ভুলে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। ৪ আগস্ট ২০২৪, সেই ঐতিহাসিক দিনে, বাঁশখালীর চাম্বলে আয়োজিত বৈষম্য বিরোধী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তিনি সম্মুখ সারিতে অবস্থান করেন। লক্ষ্য ছিল, গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায্যতার দাবি ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ হঠাৎ পরিণত হয় রক্তাক্ত সহিংসতায়। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা মুজিব চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, পুলিশের সহায়তায় হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের উপর। মুহূর্তের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। আর ঠিক তখনই মোঃ দেলোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একজন সাধারণ রিক্সাচালকের স্বপ্ন সে মুহূর্তে থমকে যায়।
আন্দোলনে যোগদান
মোঃ দেলোয়ার কোনো রাজনীতিবিদ নন, উচ্চশিক্ষিতও নন। তবে তার হৃদয়ের গভীরে ছিল এক তীব্র সামাজিক সচেতনতা। একটি রাষ্ট্রের ভিত কতটা দুর্বল হয়ে পড়ে যখন দরিদ্র মানুষের কান্না কেউ শোনে না। এই সত্যটি তিনি রোজ দেখেছেন নিজের জীবন দিয়ে। তাই যখন ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের নানা প্রান্তে তরুণরা রাস্তায় নামল ন্যায্য অধিকারের দাবিতে, তখন তিনি নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারেননি। ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ২টা। বাঁশখালীর চাম্বলে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়ান দেলোয়ার। তিনি কোনো শ্লোগান লেখেননি, কোনো ব্যানার বহন করেননি। শুধু শরীরটুকু নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অন্যায়ের প্রতিবাদে, অন্যদের কণ্ঠস্বর হয়ে। “চাকরিতে বৈষম্য নয়, মেধার মূল্য চাই,” “আমার অধিকার, আমার সম্মান”। এই শ্লোগানগুলো তার বুক থেকে বের হচ্ছিল নিঃশব্দে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই প্রতিবাদ শেষ হয় নৃশংস এক রক্তপাতের মধ্যে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুজিব চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে, পুলিশের ছত্রছায়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুলি, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসে ভরে যায় চাম্বলের আকাশ। এই দমনপীড়নের শিকার হন দেলোয়ারও। তার ডান পায়ে গুলি লাগে। রিক্সাচালকের শক্তিশালী শরীরটা মাটিতে পড়ে যায় রক্তাক্ত হয়ে।
আহত পরবর্তী জীবন
একটি গুলি, একটি বিকেল, একটি মুহূর্ত। দেলোয়ারের জীবন একেবারে উল্টে দেয়। যে পায়ে ভর করে তিনি রিক্সা চালাতেন, এখন সেই পা ভরাই তার যন্ত্রণার কেন্দ্র। গুলির পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এ আঘাতের প্রভাব শুধু শারীরিক নয় মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে ফেরার পর পরিবার তাকে ঘিরে রাখে যত্নে, কিন্তু অর্থের টানাপোড়েন আর তার অক্ষমতা মিলিয়ে এক ভাঙা ভাঙা জীবন শুরু হয়। কাজ করতে পারেন না, আয় বন্ধ। সংসারে যা আয় উপার্জনের যে পথটুকু ছিল, সেটিও হারায় পরিবার। একসময় যে দেলোয়ার রিক্সা চালিয়ে দশজনের মুখে খাবার তুলে দিতেন, এখন তিনি নিজেই মায়ের হাত ধরে হাঁটেন। আত্মসম্মান বারবার আহত হয়, তবুও মায়ের কণ্ঠে সাহস খোঁজেন “আল্লাহ ভরসা।”
চিকিৎসা
আহতের পর প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন দেলোয়ার। গ্রামীণ চিকিৎসক ও পল্লি চিকিৎসকের পরামর্শে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু ব্যথা, রক্তপাত ও বুলেটের ক্ষত ক্রমেই জটিল হতে থাকে। পরে বাঁশখালী ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ডা. দিদারুল হক সাকিবের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নেন। রক্ত বন্ধ হয়, ক্ষত কিছুটা শুকায়। কিন্তু গুলি এখনও তার পায়ের ভেতরে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে আবারও বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তিনি। সেখানেও বলা হয়। পায়ের মধ্যে থাকা বুলেট বের করতে উন্নতমানের অপারেশন দরকার, যা জেলা বা রাজধানী পর্যায়ে সম্ভব। কিন্তু তার মতো দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা দূরের কথা, ভাবাও অসম্ভব। প্রতিদিন দেলোয়ারের পা ফুলে থাকে, মাঝে মাঝে তীব্র ব্যথা ওঠে, হাঁটা-চলা করাও কষ্টকর। চিকিৎসার অভাবে তিনি এখন একটি অচল জীবনের দিকে ধীরে ধীরে গড়িয়ে যাচ্ছেন।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
মোহাম্মদ দেলোয়ার
১০-১১-২০০০
পেশা
বাঁশখালী
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। গ্রাম। মুদিনীল, ইউনিয়ন। চাফল, থানা।
রিক্সাচালক
বাশখালী জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারসংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম । মোহাম্মদ ইদ্রিস
পিতার পেশা ও বয়স। কৃষি, ৬০
মায়ের নাম । ভামরুল্লাহার
মায়ের পেশা ও বয়স
গৃহিণী, ৫২
মাসিক আয় ১০,০০০
আয়ের উৎস : কুষি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ১০
বাড়ি: সেমি পাকা
কোনো আয়ণা অমি নেই
ভাই-বোনদের বর্ণনা
১ মোঃ হোসাইন, ব্যয়স: ৩৫, পেশা: শ্রমিক, সম্পর্ক: ভাই
২. মনিরা, বয়স: ১৭, পেশা: ছাত্রী, সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান ডাদল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সমর ০৪-০৮-২০২৪, দুপুর ২.০০টা
আক্রমণকারী
: পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ (মুজিব চেয়্যারম্যান)
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
চিকিৎসা। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বাঁশখালী ন্যাশনাল হাসপাতাল
চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রস্তাবনা: এখনও ডান পায়ে বুলেট আছে। বের করার জন্য উন্নতমানের চিকিৎসা দরকার
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রস্তাবনা: ব্যবসা
প্রস্তাবনা
মোঃ দেলোয়ারের জীবনের এই কঠিন বাস্তবভাঃ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন
১. উন্নত চিকিৎসা সহায়তা: তার ডান পায়ে এখনও বুলেট রয়ে গেছে, যা অপসারণ না করলে ভবিষ্যতে পঙ্গুত্ব চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। উন্নতমানের সরকারি বা দাতব্য সংস্থার সহায়তায় দ্রুত অপারেশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন
২. ক্ষুদ্র ব্যবসায় পুনঃস্থাপন: শারীরিকভাবে ভারী শ্রম সম্ভব নয় বলে তাকে পুনরায় কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনতে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। একটি মুদি দোকান, ফলের দোকান কিংবা চায়ের স্টল। যেখানে বসে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন
৩. পারিবারিক পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা: দশজনের এই পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম পুরুন্য সেলোয়ার অক্ষম হয়ে পড়ায় গোটা পরিবার ঝুঁকির মধো রয়েছে। একটি স্থায়ী বাসস্থানের সহারকা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী যা নাদ্য সহায়তা প্রোগ্রামের আওতায় আনা ভাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍