হোম / আহতদের তালিকা / মোঃ এমরান
মোঃ এমরান

মোঃ এমরান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম
২০০১ সালের ১ জুলাই, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা এক ছোট্ট গ্রাম শেখেরখিলে জন্ম নেন মোঃ এমরান। চারপাশে তখন সবুজ ধানের ক্ষেত মাথা নুয়ে বাতাসে দুলছে। দূর দিগন্ত ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নারকেল গাছগুলো হেলেদুলে যেন নতুন প্রাণের আগমনের সংবাদ জানাচ্ছে প্রকৃতিকে। আকাশ ছিল বৃষ্টিভেজা এক নরম আলোয় ভরা, আর গ্রামের দুপুরটা ছিল এক অপূর্ব নিরবতায় ডুবে থাকা। সেই সৌন্দর্যপূর্ণ মুহূর্তেই নিঃশব্দে জন্ম নেন এক সংগ্রামী সন্তান। তাঁর পিতা, নুরুল আলম (মৃত), ছিলেন একজন পরিশ্রমী কৃষক। সরল জীবনযাপন, সততা আর স্নেহশীলতা দিয়ে তিনি সংসার গুছিয়ে তুলতেন। মাতা জেবুন্নাহার একজন শান্ত স্বভাবের গৃহিণী, যিনি সন্তানদের মানুষ করতে গিয়ে নিজের সমস্ত স্বপ্ন ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের ভবিষ্যতের পথে। মাতৃত্বের ভারে তিনি ছিলেন অসীম ধৈর্য আর দায়িত্ববোধে পরিপূর্ণ। এমরান এই পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন আশার প্রতীক হয়ে। পরিবারটির স্বপ্ন ছিল, একদিন তাঁদের এই সন্তান আলো ছড়াবে, মাথা উঁচু করে সমাজে নিজের পরিচয় গড়ে তুলবে।

ছোটবেলা থেকেই তাঁর চোখে ছিল এক ধরনের অদ্ভুত দীপ্তি। যেখানে প্রশ্ন ছিল, উপলব্ধি ছিল, আর ছিল দায়বদ্ধতার এক দুর্নিবার স্পর্শ। সময়ের পরিক্রমায় সে দীপ্তিই তাঁকে গড়ে তোলে সত্য, সাহস ও সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি হিসেবে।
কর্ম
বর্তমানে মোঃ এমরান একজন ছাত্র। তবে ‘ছাত্র’ শব্দটি শুধুমাত্র শিক্ষাজীবনের পরিচয়ই বহন করে না। তাঁর বেলায় এই পরিচয়টি আরও গভীর, আরও বিস্তৃত। একদিকে তিনি পাঠ্যবইয়ের পাঠে মনোনিবেশ করছেন, অপরদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন থেকে নিজের অবস্থানকে জানান দিচ্ছেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার জায়গা থেকে তিনি নিয়মিতই অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও ছাত্র আন্দোলনে। নিজের চারপাশের বাস্তবতা, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস তিনি নিজের মধ্যেই তৈরি করে নিয়েছেন।
পারিবারিক বর্ণনা
এমরানের পরিবার একটি সংগ্রামী মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার। তার পিতা নুরুল আলম ছিলেন একজন পরিশ্রমী মানুষ, যিনি পরিবারের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, তিনি এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। তার মা জেবুন্নাহার, যিনি মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই বিধবার কঠিন জীবনকে বরণ করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি গৃহিণী হলেও তার ভিতরের দৃঢ়তা এবং আত্মত্যাগের মনোবল একজন যোদ্ধার মতোই। সংসারের হাল ধরেছেন বড় ছেলে মোঃ এরফান, যিনি পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রবাসে গিয়ে শ্রম দিচ্ছেন। তাঁর পাঠানো রেমিট্যান্সই এখন এই পরিবারের মূল জীবনীশক্তি। পরিবারটি বসবাস করে বাঁশখালীর শেখেরখীল গ্রামে। বাড়িটি টিনের চালা আর বেড়ার দেয়ালে গড়া, যেখানে আশ্রয় নেয় ভালোবাসা আর সংগ্রামের গল্প। তাদের নিজস্ব ১৮ শতক জমি আছে, যা তাদের একমাত্র স্থায়ী সম্পদ। পরিবারের মোট সদস্য চারজন। মা, বড় ভাই এরফান (২১ বছর বয়স), ছোট বোন তানজিনা আক্তার (১৬ বছর বয়স, দাখিল ১০ম শ্রেণির ছাত্রী) এবং মোঃ এমরান নিজে। এই চারজন মানুষ একে অন্যকে আগলে রেখে জীবনকে চালিয়ে নিচ্ছেন সীমাবদ্ধতার মাঝে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সাল, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় রক্তাক্ত অধ্যায়। একদিকে সরকারের কর্তৃত্ববাদী আচরণ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ। সব মিলিয়ে দেশ জুড়ে হতাশা, ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে সৃষ্টি হয় গণআন্দোলনের জোয়ার। এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল ছাত্রসমাজ, যারা ন্যায়ের পক্ষ হয়ে রাজপথে নেমে আসে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল সেই সময়ের অন্যতম সাহসী উদ্যোগ, যা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, শহীদদের ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অবসান চেয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে থেকে যেমন ছাত্ররা রাজপথে নামে, তেমনি এমরানও পিছিয়ে থাকেন না।
আন্দোলনে যোগদান
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দিনটি ছিল রবিবার। বাঁশখালীর আকাশে ছিল শান্ত রোদেলা বিকেল, যেন কিছুই ঘটবে না এমন নিরীহ এক দুপুর। কিন্তু প্রকৃতির নিরবতা যেন ছিল এক অশনি সংকেত। মোঃ এমরান সে দিন সকাল থেকেই মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এ দিনটির জন্য, যেখানে তিনি নিজের উপস্থিতির মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন, ন্যায়ের পক্ষে এক কণ্ঠ হিসেবে রাজপথে নামবেন। সেদিন বিকাল ৪টা নাগাদ তিনি চাম্বল বাজারে আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও সাধারণ জনগণের মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি ছিল পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ, গলায় স্লোগান আর হাতে প্ল্যাকার্ড। শহীদের বিচার চাই, ফ্যাসিবাদের পতন চাই, স্বৈরতন্ত্রের অবসান চাই, এসব দাবিতে ভরপুর। দেশজুড়ে তখন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের এই জেগে ওঠা, আর এমরান ছিলেন এই আন্দোলনের অগ্রসর তরুণদের একজন। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম নিয়ম হলো, যেখানে মানুষ অধিকার দাবি করে, সেখানে দমন-পীড়নও ছায়ার মতো তাড়া করে। ঠিক তেমনি করে মিছিলের গন্তব্যে পৌঁছার আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ এক আক্রমণ। চাম্বল বাজারে ওঁত পেতে থাকা আওয়ামী ছাত্রলীগের কর্মীরা, পুলিশের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথমে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে আঘাত করে তারা। মুহূর্তেই চারপাশে চিৎকার, আতঙ্ক আর ভয়ের ছায়া নেমে আসে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রড, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিরস্ত্র মিছিলকারীদের উপর আক্রমণ চালায়। পুলিশ বাহিনীর গুলি, লাঠিচার্জ আর ছাত্রলীগের বর্বর আঘাতে মিছিল মুহূর্তেই রক্তাক্ত হাহাকারে রূপ নেয়। গাছতলায় পড়ে থাকে ব্যানার, রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে জুতা, বই আর রক্তরঞ্জিত কাপড়।
মোঃ এমরান এই নৃশংস হামলার মাঝেই প্রাণপণ চেষ্টা করেন স্লোগান ধরে রাখার, মানুষের মনোবল অটুট রাখার। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাকে নিস্তার দেয় না। এক পর্যায়ে একটি ভারী বস্তু তার মাথায় আঘাত করে। রক্ত ঝরতে থাকে অনবরত। চোখে-মুখে ঝাপসা দেখতে পান, দিগি¦দিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার পায়ে পুলিশের লাঠির আঘাত লাগে, ব্যথায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চারপাশের মানুষ দৌড়ে পালাচ্ছে, কেউ চিৎকার করছে, কেউ মাটিতে পড়ে কাঁপছে। এ এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন, যা তিনি নিজের শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন এখনও। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কিছু সহযোদ্ধা ভাই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে বের করে নিয়ে যান। কিন্তু ওই মুহূর্তে তার দৃষ্টি ঝাপসা, শরীর নিস্তেজ, মুখে কোনো শব্দ নেই, শুধু নিঃশব্দে মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ে তাঁর জামার কলারে। সেই রক্ত শুধু এমরানের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা নয়, তা ছিল এক নিষ্ঠুর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সাক্ষ্য। চাম্বল বাজারের সেই বিকেল এমরানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একদা যে তরুণ স্বপ্ন দেখত পরিবারকে গড়ে তোলার, সমাজে অবদান রাখার, সে তরুণ এখন আহত, কষ্টে কাতর।
আহত পরবর্তী জীবন
আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সেই মুহূর্তটা ছিল জীবনের এক অন্ধকার মোড়, যেখানে সময় থেমে যায়, পৃথিবীর সব শব্দ হারিয়ে যায়, আর চোখের সামনে নেমে আসে ঘন এক ধোঁয়াশা। ওই অবস্থাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে। পল্লি চিকিৎসক পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে আর সময় নষ্ট করেননি। তাঁর চোখেই বুঝে গিয়েছিলেন এই তরুণের জীবন বিপন্ন। তাই দ্রুতই একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দেন। হাসপাতালে নেয়ার পরপরই শুরু হয় জরুরি চিকিৎসা। মাথার ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে, একাধিক সেলাই দিতে হয়, রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে হয় ওষুধ এবং ব্যান্ডেজের সাহায্যে। পায়ের আঘাত তখনও এত তীব্র ছিল যে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটা তো দূরের কথা, বসে থাকাটাও ছিল যন্ত্রণাদায়ক।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
কিন্তু এখানেই শেষ নয় পরবর্তীতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। দীর্ঘ চিকিৎসা, থেরাপি, বিশ্রাম আর সহ্যশক্তির পরীক্ষা। মাথায় কয়েকটি গভীর আঘাতের জন্য সেলাই দিতে হয়। পায়ের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, দীর্ঘদিন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা করতে পারেননি তিনি। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে পরিবারে সীমিত আয়, এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়েছিল তার চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলা। হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে যখন বন্ধু, পরিবার, স্বপ্ন সব ধীরে ধীরে মনের পর্দায় এসে ধাক্কা দেয়, তখন তিনি উপলব্ধি করেন শরীর যতটা ক্ষতবিক্ষত, মনের ভেতর তার চেয়েও গভীর এক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। চিকিৎসার সময় বারবার মনে হয়েছে, এই কি তবে শেষ? আর কি কখনও ফিরে যেতে পারবো আগের মতো জীবনে? কিন্তু আশ্চর্য এক জেদ ও বেঁচে থাকার তাগিদ তাঁকে শক্ত করে ধরে রাখে। পরিবার তখন অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, মা দিন-রাত চোখের পানি ফেলে প্রার্থনা করেন, প্রবাসে থাকা ভাই কাঁপা কণ্ঠে খোঁজ নেন। এই ভালোবাসা ও প্রার্থনাই হয়তো তাঁকে ফিরিয়ে আনে জীবনের পথে। পুনর্বাসনের পথ ছিল দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। আজও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ নন। হাঁটতে গেলে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন, মাথার আঘাত এখনও মাঝে মাঝে স্নায়ুবিক যন্ত্রণা তৈরি করে। কিন্তু তিনি জানেন এই যন্ত্রণা শুধু তাঁর একার নয়, এটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। এই রক্ত, এই ঘা, এই কষ্টই তাকে পরিণত করেছে একজন সাহসী নাগরিকে, যিনি শুধু নিজের জন্য নয়, সাম্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন।
এখনও তিনি লড়ছেন। সার্বিক সুস্থতা অর্জনের জন্য, আবার যেন নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারেন, পরিবারকে সহায়তা করতে পারেন। তাঁর চোখে আজও আগুন আছে, হৃদয়ে বয়ে চলে আদর্শের ঢেউ। এই যন্ত্রণার মাঝেও তিনি স্বপ্ন দেখেন একটি ন্যায়ের সমাজ গড়ার, যেখানে আর কোনো এমরান রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকবে না। সব মিলিয়ে সেই সময়ের স্মৃতি এখনও এমরানকে নাড়িয়ে দেয়।
চাকরির প্রয়োজনীয়তা
বর্তমানে মোঃ এমরান ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে হাঁটছেন, তবে শরীর এখনও আগের মতো হয়ে ওঠেনি। তবুও তিনি জীবন থামিয়ে রাখতে চান না। তিনি চান নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, চান নিজের চেষ্টায় সম্মানজনকভাবে বাঁচতে। একজন সচেতন, শিক্ষিত ও সাহসী তরুণ হিসেবে তার মেধা, অভিজ্ঞতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে কাজে লাগানোর জন্য একটি উপযুক্ত চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন। শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্যই নয়, বরং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি জানিয়ে তাকে সুযোগ দেয়া উচিত একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য।
লেখক কথন: মোঃ এমরান একন এক প্রতীক, যিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে বাঁচার শিক্ষা দেন। একজন তরুণ, যিনি রক্ত দিয়ে সত্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। আজ তার পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং একটি প্রতিবাদী আত্মার পাশে দাঁড়ানো, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে থামেননি, ভাঙেননি।

অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা ১. চিকিৎসার ব্যয়ভার: গুরুতর আহত হওয়ার ফলে তাঁর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হয়েছে, যা তাঁর পরিবারের সীমিত আয়ে বহন করা কষ্টকর। ২. পারিবারিক দায়িত্ব: পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি প্রবাসে অবস্থান করছেন, ফলে দেশের মাটিতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে এমরানের একটি নির্ভরযোগ্য আয় উৎস প্রয়োজন। ৩. শিক্ষা ও পুনর্বাসন: চলমান পড়াশোনা ও মানসিক পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখা জরুরি, যাতে তিনি আবার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। ৪. স্থায়ী কর্মসংস্থান: এই অবস্থায় তাঁর জন্য একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত চাকরি বা স্বনির্ভর উদ্যোগে সহায়তা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তিনি পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন এবং সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ এমরান
জন্ম তারিখ : ০১-০৭-২০০১
পেশা : ছাত্র
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: শেখেরখীল, ইউনিয়ন: শেখেরখীল, থানা: বাশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মরহুম নুরুল আলম
মায়ের নাম : জেবুন্নাহার
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৩৮
মাসিক আয় : ৩০,০০০
আয়ের উৎস : রেমিট্যান্স (ভাইয়ের প্রবাসের উপার্জন)
বাড়ি : বেড়া ও টিনের ঘর
সম্পদ : ১৮ শতক জমি আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৪ জন
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. মোঃ এরফান, বয়স: ২১, পেশা: প্রবাসী সম্পর্ক: ভাই
২. তানজিনা আক্তার, বয়স: ১৬, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: দাখিল (১০ম), সম্পর্ক: বোন
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪, বিকাল ৪.০০টা
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ ও পুলিশ
চিকিৎসা সেবা : স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍