হোম / আহতদের তালিকা / এমরান
 এমরান

এমরান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বেকার

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

মো: এমরান
পেশা: বেকার, বাংলাবাজার, চট্টগ্রাম
ক্রমিক: ৪৪৬
আইডি: চট্টগ্রাম বিভাগ ৩৬

পরিচিতি
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। বাঁশখালী একটি থানা। এই থানার বাংলাবাজারে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ ইমরান। মা-বাবার আদরের সন্তান। টগবগে এক যুবক দেশের কল্যাণে জীবনবাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আন্দোলনে। ফ্যাসিস্ট পতনের লড়াকু সৈনিক। শরীরে বিদ্ধ হয় অর্ধ শতাধিক স্প্রিন্টার।

যেভাবে আন্দোলনে যোগ দিলেন মো: এমরান
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার এক অজপাড়াগাঁয়ের নাম পশ্চিম চাম্বল গ্রাম। পশ্চিম চাম্বল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ এমরান। বয়সে সে দুরন্ত, চঞ্চল যুবক। টানাপোড়েনের সংসারে পড়ালেখা করা হয়নি তত। অষ্টম শ্রেণিতেই পড়ালেখার ইতি। সংসারের হাল ধরতে কাজে মনোযোগী হন। কায়িক শ্রমে পথ খুঁজেন উপার্জনের। একাডেমিক শিক্ষার ইতি ঘটলেও জীবন ও প্রকৃতির পাঠ থেমে থাকেনি। প্রকৃতি, সমাজ, জীবন ও বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিতে নিতে তিনি পরিণত হন একজন সচেতন মানুষরূপে। আর বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মোবাইলের ছোট পর্দা মানুষকে শিখায় অনেক কিছু এবং তা প্রতি মুহূর্তে।
দেশের ক্রান্তিলগ্নে এ সচেতনতাই দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয় একজন নাগরিককে। মো: এমরান নিজের দায়িত্ববোধ থেকে অংশীজন হন ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের’।
ঘটনার বর্ণনা
ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে নাগরিক তার ভোটাধিকার হারায়, বাক স্বাধীনতা হারায়। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এক নতজানু সরকার।
সীমান্তে ফেলানীসহ অসংখ্য নাগরিকের নির্মম মৃত্যুর পরও রাষ্ট্র থাকে নির্বিকার। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন মূলত বুকে জমা থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
এমরান আহত হন ৪ আগস্ট ২০২৪। তার আগে হাসিনার পুলিশ ও লাঠিয়াল বাহিনী দেশকে রণক্ষেত্রে পরিণত করেন। ঢাকাসহ সারাদেশে হাজার হাজার লোক আহত হয়। আহত হওয়ার পর তারা চিকিৎসা নিতে পারেনি। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা না দেয়ার নির্দেশ জারি করে রাখা। নিহতদের দাফন কাফনে বাধা দেওয়া হয়।
নিহতদের জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ধরপাকড় করা হয়। দাফন করতে দেয় না। মিডিয়ার সামনে কথা বলতে দেয় না। মিডিয়ার উপরও নেমে আসে হুমকি ও নিয়ন্ত্রণ। ব্লক শাট ডাউন কর্মসূচি আসে আন্দোলনকারীদের পক্ষ হতে।
গুলিবিদ্ধ হন এমরান
আন্দোলনকারীদের দমন করতে সরকার চরম স্বৈর আচরণ করতে থাকেন। লাইভ টেলিভিশনের সামনে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি চালাতে থাকে। দুহাত প্রসারিত আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এরপর লাশের মিছিল বাড়তে থাকে। সারাদেশে চলে নির্যাতন নিপীড়ন। সরকার মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো খবর প্রকাশ হতে দেয় না। ইন্টারনেট বন্ধ। তবু খবর জানাজানি হয়ে যায়। ৩ আগস্ট পর্যন্ত শত শত লাশ পড়ে যায়। জুলাই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়। ঢাকার যাত্রাবাড়ি, সাভার, উত্তরার পরিসংখ্যান ভয়াবহ। সাভারে কত মানুষ খুন করেছে পুলিশ তার সঠিক তথ্য নেই। হত্যা করে ভ্যান ভর্তি করে লাশ নিয়ে যায় পুলিশ। এই লাশের স্তূপে জীবিত মানুষও ছিল। অর্থাৎ আহত, কিন্ত মারা যাননি। জীবিত মানুষসহ পুড়িয়ে ফেলার নিষ্ঠুরতাও করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ি ঢাকার প্রবেশপথ। এখানে বাধার প্রাচীর গড়ে তুলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ। আন্দোলনকারীরাও অদম্য। তারা ঢাকায় প্রবেশ করবেই। শুরু হয় সংঘাত। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুলিতে শহীদ হন অসংখ্য মানুষ। উত্তরায় ৫ আগস্টেও পুলিশ হত্যা করে ছাত্র জনতাকে। জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ জনতা চাননি, তাদের চাওয়া ছিল ক্ষমতা। তাই জনতাকে হত্যা করতে, নাগরিকের নির্মম মৃত্যু নিশ্চিত করতে দ্বিধা করেনি।
সারাদেশই আন্দোলনে সোচ্চার
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রামেও তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রতিদিনই কর্মসূচিতে মুখর থাকে চট্টগ্রামের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মোঃ এমরান এসব কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। নিজের দৈনিন্দন কাজ সমাপ্ত করে আন্দোলনে যোগ দেন বিবেকবোধের দায় থেকে।
শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার, আহতদের আক্রমণকারীদের বিচার, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের লক্ষ্যে তারা মিছিল বের করে ৪ আগস্ট। মিছিল চাম্বল বাজারের কাছে পৌছে। ওখানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ পূর্ব থেকেই ওঁতপেতে থাকে। মিছিল পৌঁছতেই তারা সশস্ত্র হামলা চালায়। পুলিশও তাদের সাথে যোগ দেয়। মিছিলকারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মিছিলের লোকেরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। প্রচুর মানুষ আহত হয়। মো: এমরান গুলিবিদ্ধ হন। হাতে, পায়ে প্রায় অর্ধশতাধিক গুলি। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন রাস্তায়। পড়ে সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক তথ্য
জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছে তারা উপলব্ধি করতে পারেন পরিস্থিতি। আহত হওয়ার পর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। চিকিৎসারত অবস্থায় আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আওয়ামী গুন্ডারা আক্রমণ করতো আহতদের, তাদের স্বজনদের। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ছিল চিকিৎসাসেবা না দিতে। গ্রেফতার আতঙ্ক তো ছিলই। এসব ভয় নিয়েই ভর্তি হন এমরান হাসপাতালে। সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। তখনও তার শরীরে অসংখ্য স্প্রিন্টার। তারপর গোপনে গোপনে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলে তখন পরিবেশ অনুকূলে আসে। তার শরীর থেকে কিছু গুলি বের করা হয়েছে। এখনও বহু গুলিবিদ্ধ রয়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাব
তিনি একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দেশমাতৃকার প্রেমে, ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে আহত হন। পরিপূর্ণ চিকিৎসা নিতে পারেননি। তিনি বর্তমানে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাব
আগে কাজকাম করতেন। মারাত্মক আহত হওয়ায় বর্তমানে তিনি কাজ করতে অক্ষম। তার জন্য ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেয়া যায়। পর্যাপ্ত বাজেটে তাকে স্বাবলম্বী করে দিলে তার জীবন সহজ হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট
১০ লাখ।

একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: এমরান
জন্ম তারিখ : ০১-০৭-২০০৬
জন্মস্থান : বাংলাবাজার
পেশা/ পদবি : বেকার
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : পশ্চিম চাম্বল, ইউনিয়ন বাংলা বাজার চাম্বল, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পিতার নাম : আবদুছছবুর
পিতার পেশা : ব্যবসা, বয়স ৪৫
মায়ের নাম : জান্নাতুল ফেরদৌস
মায়ের পেশা : গৃহিণী, বয়স ৪০
পারিবারিক অবস্থা
আয় : ১৫,০০০
আয়ের উৎস : ব্যবসা
বাড়ি : টিনের ঘর
সম্পদ : ২ শতক জমি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
ভাই এহসান চাকরি করেন
আরেক ভাই এহলাচ ৭ম শ্রেণির ছাত্র
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪ বিকাল ৪ টা
আক্রমণকারী : পুলিশ ও আওয়ামী লীগ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍