ফারুক তকী
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
মো: ফারুক তকী
পেশা: কৃষক, বাঁশখালী চট্টগ্রাম
ক্রমিক: ৪৪৭
আইডি: চট্টগ্রাম- ৩৭
পরিচিতি
তিনি দুই ছেলের জনক। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল গ্রামে। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার সংসার।
ঘটনা পরম্পরা
মোঃ ফারুক তকী একজন কৃষক। বাঁশখালীর চাম্বল গ্রামে তার জন্ম। গ্রামের নৈসর্গিক আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠেন তিনি। গ্রামের সবুজ শ্যামলে মিশে আছে তার শৈশব কৈশোর। শৈশব কেটেছে দোয়েলের শীষ শুনে, কোকিলের কুহুতানে নিমগ্ন কৈশোর। এভাবেই বেড়ে ওঠা। রোদে শুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে সোনার ফসল ফলান জমিনে। বাবা, মা, ভাই-বোন, স্ত্রী পুত্র-কন্যা নিয়ে সুখের সংসার। ব্যক্তি জীবনে একজন কৃষিজীবী মানুষের চাওয়া পাওয়া সীমিত। রাজনীতি নিয়ে তাদের ভাবনা লোক চক্ষুর আড়ালে। তারাই আবার গর্জে ওঠেন দেশের ক্রান্তিকালে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী সৈনিকের ভূমিকায় ছিল এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা।
মাথায় গামছা পেছিয়ে, লুঙ্গি কাছা দিয়ে হাতে বন্দুক নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এরা। এই শ্রেণির রাজনৈতিক অভিলাষ নেই, কিন্ত দেশ ও দেশপ্রেমে আপসহীন। মো ফারুক তকী তেমনই একজন কৃষক। জমিতে কাজ করেন, ফসল ফলান। এই তার সাধনা।
২০২৪ জুলাইয়ে যখন দেখলেন একজন স্বৈরাচার হাসিনা ভারতের মদদে এদেশের নিষ্পাপ ছাত্র যুবককে হত্যা করছে নির্মমভাবে, তখন তিনি ক্ষিপ্ত হলেন।
হাসিনা ক্ষমতায় এসে নিজের চেয়ার অক্ষত রাখতে প্রথমেই কেড়ে নিল মানুষের বাক স্বাধীনতা।
হরণ করেছিল ভোটাধিকার। দেখা গেল ভোটের আয়োজন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটার নাই। অথচ ভোটবাক্স ভর্তি। ভোটের দিনের আগের রাতে বাক্স ভর্তি করে রেখেছে। এই ভোট দেশে ‘রাতের ভোট’ বলে পরিচিত।
ভোটকেন্দ্রে ছিল আওয়ামী নজরদারি। ধানের শীষে ভোট দিয়েছিল নোয়াখালীর এক গৃহবধূ। পরদিন আওয়ামী গুন্ডা ও ধর্ষকেরা স্বামী সন্তানের সামনে ধর্ষণ করে পালাক্রমে। সুবর্ণ চরের সেই গৃহবধূ আওয়ামী বর্বরতার জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে রইলেন।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘ পনেরো বছর দেশকে ছাপ্পান্ন হাজার কারাগারে পরিণত করে রেখেছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে উজ্জ্বল নাম খালেদা জিয়া। তাকে তার স্মৃতিবিজড়িত মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে উচ্ছেদ করেছে আওয়ামী লীগ। তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বালুর ট্রাক দিয়ে অসভ্যভাবে।
বাংলাদেশের আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার সকল আয়োজন করেছিল হাসিনা। কেন্দ্রীয় অফিসে তালা, দলীয় নিবন্ধন বাতিল, দল নিষিদ্ধ, প্রতীক বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নি। হাসিনা তার রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে শহীদ করেছে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে। সকল রাজনৈতিক দলের উপর চালিয়েছে ক্ষমতার খড়গ। কোথাও কোন সমালোচনা সহ্য করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
আর দেশকে তারা নানাভাবে তাদের নিজেদের তালুকে পরিণত করার সকল আয়োজন করেছিল। জুলাইয়ে ছাত্ররা এমনই এক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। তারা শুরু করে কোটাবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনের শুরুতেই আওয়ামী লীগ তাদের স্বভাবসিদ্ধ নিয়মে কঠোরতার সাথে দমন করতে চায়। আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা বিরোধী আন্দোলন নামে। তা পরবর্তীতে নামধারণ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই আন্দোলন দমন করতে সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের রূপ দেয়। নিরস্ত্র, নিরীহ ছাত্র-জনতাকে আওয়ামী লাঠিয়াল দিয়ে প্রতিহত করতে চেষ্টা করে। তাদেরকে জামায়াত শিবির বলে ট্যাগের ফুঁতে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। তারপর আওয়ামী লাঠিয়ালদের সাথে যোগ দেয় পুলিশ, বিজিবি। দেশ এক ভয়াবহ রণক্ষেত্র। এক পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী অপর পক্ষে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীরা।
শত শত লাশের মিছিলেও থামেনি আওয়ামী নৃশংসতা। আন্দোলন দমন করতে মিছিলে গুলি চালানো হয় হেলিকপ্টার থেকে। মানুষ কোথাও নিরাপদ ছিল না। বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় নিষ্পাপ শিশু। মায়ের কোলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সন্তান।
মোঃ ফারুক তকীরা অনুভব করেন দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আর বসে থাকার সুযোগ নাই। এই ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে।
আন্দোলন ততদিনে ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী থেকে সারাদেশে। শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন। তকীরা সিদ্ধান্ত নিলেন শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার চাইতে হবে, আহতদের আক্রমণকারীদের বিচার চাইতে হবে। তারা মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে মিছিল নিয়ে বের হন। ৪ আগস্ট তারা আন্দোলনে যোগ দেন। মিছিলসমেত ছুটে চলেন।
আওয়ামী লাঠিয়াল বাহিনী আগে থেকেই ওঁতপেতে ছিল। মিছিল চাম্বল বাজারে পৌঁছতেই সশস্ত্র হামলা করে। হামলায় অংশ নেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের লোকেরা। তাদের সাথে যোগ দেয় পুলিশ। চতুর্মুখী আক্রমণে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। চাম্বল বাজার ও মেইনরোডে রক্তাক্ত আহতরা কাতরাতে থাকে। চিকিৎসা করারও সুযোগ নাই। কেউ ভিড়তে পারছে না আহতদের কাছে।
ফারুক তকী গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকেন ঘটনাস্থলে। পড়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক তথ্য
ঘটনাস্থলে দীর্ঘসময় পড়ে থাকায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তারপর উদ্ধার করে সহযোদ্ধারা। উদ্ধার করার পর নির্বিঘ্নে চিকিৎসাও নিতে পারেননি। গ্রেফতার আতঙ্ক ও পুনঃ আক্রমণের ভয়ে ছিলেন তারা।
জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন তারা নির্বিঘ্নে চিকিৎসাও নিতে পারেননি। শহীদের জানাজায় বাধা দিয়েছে। দাফনে বাধা দিয়েছে। এমনকি শহীদের জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ধরপাকড়ও করেছে। এমন ভয়ংকর দিন অতিক্রম করতে হয়েছে এই জাতিকে। তিনি তাই পালিয়ে এসে আত্মগোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিচিত চিকিৎসকের মাধ্যমে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুলি অপসারণ করেছেন। তার হাতে-পায়ে গুলি লাগে। একাধিক গুলি তার শরীরে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়নি। বাড়িতে থেকে প্রাইভেট চিকিৎসক ও প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাব
একাধিক গুলি লাগায় কিছু গুলি শরীরে রয়ে গেছে। ধাতব বিক্রিয়ায় শরীরে জটিলতা দেখা দেয়। তাই উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার সুস্থতা কাম্য।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ ফারুক তকী
জন্ম তারিখ : ১১-০৭-১৯৮৩
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা/ পদবী : কৃষক
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: শেখেরখীল, ইউনিয়ন: ১২ নং শেখেরখীল, থানা: বাঁশখালী, জেলা চট্টগ্রাম
পিতার নাম : মনিরুল ইসলাম
পিতার পেশা : কৃষক, বয়স: ৬০
মায়ের নাম : সামারোক বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী, বয়স: ৪৫
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ৬,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : টিনের ঘর
সম্পদ : ৬ শতক জমি আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
দুই ছেলে, ইফতিহার উদ্দীন অনার্স, বখতিয়ার উদ্দীন ইন্টারে পড়েন
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল বাজার, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যৌথ আক্রমণ করে
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাব
তিনি একজন কৃষক। বর্তমানে ঋণগ্রস্ত। তাকে সহায়তা করা খুব জরুরি
তার আয় বৃদ্ধির জন্য গরুর খামার করে দিলে ভালো হবে
প্রস্তাবিত বাজেট: ৫/৬ লাখ
পেশা: কৃষক, বাঁশখালী চট্টগ্রাম
ক্রমিক: ৪৪৭
আইডি: চট্টগ্রাম- ৩৭
পরিচিতি
তিনি দুই ছেলের জনক। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল গ্রামে। বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার সংসার।
ঘটনা পরম্পরা
মোঃ ফারুক তকী একজন কৃষক। বাঁশখালীর চাম্বল গ্রামে তার জন্ম। গ্রামের নৈসর্গিক আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠেন তিনি। গ্রামের সবুজ শ্যামলে মিশে আছে তার শৈশব কৈশোর। শৈশব কেটেছে দোয়েলের শীষ শুনে, কোকিলের কুহুতানে নিমগ্ন কৈশোর। এভাবেই বেড়ে ওঠা। রোদে শুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে সোনার ফসল ফলান জমিনে। বাবা, মা, ভাই-বোন, স্ত্রী পুত্র-কন্যা নিয়ে সুখের সংসার। ব্যক্তি জীবনে একজন কৃষিজীবী মানুষের চাওয়া পাওয়া সীমিত। রাজনীতি নিয়ে তাদের ভাবনা লোক চক্ষুর আড়ালে। তারাই আবার গর্জে ওঠেন দেশের ক্রান্তিকালে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী সৈনিকের ভূমিকায় ছিল এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা।
মাথায় গামছা পেছিয়ে, লুঙ্গি কাছা দিয়ে হাতে বন্দুক নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এরা। এই শ্রেণির রাজনৈতিক অভিলাষ নেই, কিন্ত দেশ ও দেশপ্রেমে আপসহীন। মো ফারুক তকী তেমনই একজন কৃষক। জমিতে কাজ করেন, ফসল ফলান। এই তার সাধনা।
২০২৪ জুলাইয়ে যখন দেখলেন একজন স্বৈরাচার হাসিনা ভারতের মদদে এদেশের নিষ্পাপ ছাত্র যুবককে হত্যা করছে নির্মমভাবে, তখন তিনি ক্ষিপ্ত হলেন।
হাসিনা ক্ষমতায় এসে নিজের চেয়ার অক্ষত রাখতে প্রথমেই কেড়ে নিল মানুষের বাক স্বাধীনতা।
হরণ করেছিল ভোটাধিকার। দেখা গেল ভোটের আয়োজন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটার নাই। অথচ ভোটবাক্স ভর্তি। ভোটের দিনের আগের রাতে বাক্স ভর্তি করে রেখেছে। এই ভোট দেশে ‘রাতের ভোট’ বলে পরিচিত।
ভোটকেন্দ্রে ছিল আওয়ামী নজরদারি। ধানের শীষে ভোট দিয়েছিল নোয়াখালীর এক গৃহবধূ। পরদিন আওয়ামী গুন্ডা ও ধর্ষকেরা স্বামী সন্তানের সামনে ধর্ষণ করে পালাক্রমে। সুবর্ণ চরের সেই গৃহবধূ আওয়ামী বর্বরতার জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে রইলেন।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘ পনেরো বছর দেশকে ছাপ্পান্ন হাজার কারাগারে পরিণত করে রেখেছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে উজ্জ্বল নাম খালেদা জিয়া। তাকে তার স্মৃতিবিজড়িত মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে উচ্ছেদ করেছে আওয়ামী লীগ। তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বালুর ট্রাক দিয়ে অসভ্যভাবে।
বাংলাদেশের আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করার সকল আয়োজন করেছিল হাসিনা। কেন্দ্রীয় অফিসে তালা, দলীয় নিবন্ধন বাতিল, দল নিষিদ্ধ, প্রতীক বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নি। হাসিনা তার রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে শহীদ করেছে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে। সকল রাজনৈতিক দলের উপর চালিয়েছে ক্ষমতার খড়গ। কোথাও কোন সমালোচনা সহ্য করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
আর দেশকে তারা নানাভাবে তাদের নিজেদের তালুকে পরিণত করার সকল আয়োজন করেছিল। জুলাইয়ে ছাত্ররা এমনই এক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে। তারা শুরু করে কোটাবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনের শুরুতেই আওয়ামী লীগ তাদের স্বভাবসিদ্ধ নিয়মে কঠোরতার সাথে দমন করতে চায়। আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা বিরোধী আন্দোলন নামে। তা পরবর্তীতে নামধারণ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই আন্দোলন দমন করতে সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের রূপ দেয়। নিরস্ত্র, নিরীহ ছাত্র-জনতাকে আওয়ামী লাঠিয়াল দিয়ে প্রতিহত করতে চেষ্টা করে। তাদেরকে জামায়াত শিবির বলে ট্যাগের ফুঁতে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। তারপর আওয়ামী লাঠিয়ালদের সাথে যোগ দেয় পুলিশ, বিজিবি। দেশ এক ভয়াবহ রণক্ষেত্র। এক পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী অপর পক্ষে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীরা।
শত শত লাশের মিছিলেও থামেনি আওয়ামী নৃশংসতা। আন্দোলন দমন করতে মিছিলে গুলি চালানো হয় হেলিকপ্টার থেকে। মানুষ কোথাও নিরাপদ ছিল না। বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় নিষ্পাপ শিশু। মায়ের কোলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সন্তান।
মোঃ ফারুক তকীরা অনুভব করেন দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আর বসে থাকার সুযোগ নাই। এই ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে।
আন্দোলন ততদিনে ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী থেকে সারাদেশে। শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন। তকীরা সিদ্ধান্ত নিলেন শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার চাইতে হবে, আহতদের আক্রমণকারীদের বিচার চাইতে হবে। তারা মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে মিছিল নিয়ে বের হন। ৪ আগস্ট তারা আন্দোলনে যোগ দেন। মিছিলসমেত ছুটে চলেন।
আওয়ামী লাঠিয়াল বাহিনী আগে থেকেই ওঁতপেতে ছিল। মিছিল চাম্বল বাজারে পৌঁছতেই সশস্ত্র হামলা করে। হামলায় অংশ নেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের লোকেরা। তাদের সাথে যোগ দেয় পুলিশ। চতুর্মুখী আক্রমণে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। চাম্বল বাজার ও মেইনরোডে রক্তাক্ত আহতরা কাতরাতে থাকে। চিকিৎসা করারও সুযোগ নাই। কেউ ভিড়তে পারছে না আহতদের কাছে।
ফারুক তকী গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকেন ঘটনাস্থলে। পড়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রিক তথ্য
ঘটনাস্থলে দীর্ঘসময় পড়ে থাকায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তারপর উদ্ধার করে সহযোদ্ধারা। উদ্ধার করার পর নির্বিঘ্নে চিকিৎসাও নিতে পারেননি। গ্রেফতার আতঙ্ক ও পুনঃ আক্রমণের ভয়ে ছিলেন তারা।
জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন তারা নির্বিঘ্নে চিকিৎসাও নিতে পারেননি। শহীদের জানাজায় বাধা দিয়েছে। দাফনে বাধা দিয়েছে। এমনকি শহীদের জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ধরপাকড়ও করেছে। এমন ভয়ংকর দিন অতিক্রম করতে হয়েছে এই জাতিকে। তিনি তাই পালিয়ে এসে আত্মগোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিচিত চিকিৎসকের মাধ্যমে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুলি অপসারণ করেছেন। তার হাতে-পায়ে গুলি লাগে। একাধিক গুলি তার শরীরে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়নি। বাড়িতে থেকে প্রাইভেট চিকিৎসক ও প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাব
একাধিক গুলি লাগায় কিছু গুলি শরীরে রয়ে গেছে। ধাতব বিক্রিয়ায় শরীরে জটিলতা দেখা দেয়। তাই উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার সুস্থতা কাম্য।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোঃ ফারুক তকী
জন্ম তারিখ : ১১-০৭-১৯৮৩
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা/ পদবী : কৃষক
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: শেখেরখীল, ইউনিয়ন: ১২ নং শেখেরখীল, থানা: বাঁশখালী, জেলা চট্টগ্রাম
পিতার নাম : মনিরুল ইসলাম
পিতার পেশা : কৃষক, বয়স: ৬০
মায়ের নাম : সামারোক বেগম
মায়ের পেশা : গৃহিণী, বয়স: ৪৫
পারিবারিক অবস্থা
মাসিক আয় : ৬,০০০ টাকা
আয়ের উৎস : কৃষি
বাড়ি : টিনের ঘর
সম্পদ : ৬ শতক জমি আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
দুই ছেলে, ইফতিহার উদ্দীন অনার্স, বখতিয়ার উদ্দীন ইন্টারে পড়েন
আহত হওয়ার স্থান : চাম্বল বাজার, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময় : ০৪-০৮-২০২৪
আক্রমণকারী : পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যৌথ আক্রমণ করে
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাব
তিনি একজন কৃষক। বর্তমানে ঋণগ্রস্ত। তাকে সহায়তা করা খুব জরুরি
তার আয় বৃদ্ধির জন্য গরুর খামার করে দিলে ভালো হবে
প্রস্তাবিত বাজেট: ৫/৬ লাখ