মো: শাকিল
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ছাত্র, আশুতোষ সরকারি কলেজ
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াল, আবার গর্বের বছর। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তে ঘূর্ণিঝড়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বেকারত্ব, রাজনৈতিক দুর্নীতি, কোটাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে উঠছিল তরুণদের মনে। তরুণ সমাজ- বিশেষত শিক্ষিত বেকার প্রজন্ম অনুভব করছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা, অথচ দলীয় অনুগতরা দিনের মধ্যে নিয়োগ পাচ্ছে। এই অন্যায়কে আর সহ্য করার জায়গা ছিল না। এই সময়েই তীব্র রূপ নেয় আন্দোলন। ‘স্বৈরাচারীর পতন চাই’, ‘কোটা সংস্কার চাই’, ‘রাষ্ট্রে সমান অধিকার চাই’। এই তিনটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে লাখো শিক্ষার্থী রাজপথে নামে।
বাঁশখালীতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মনে করেছিল, তাদের কণ্ঠে না থাকলে ঢাকার মিছিলও পূর্ণ হবে না। বোয়ালখালী এলাকায় ফ্যাসিবাসের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ছিল এক সাহসিক পদক্ষেপ। মোঃ শাকিল সেসব সাহসী কণ্ঠস্বরের একজন ছিলেন, যিনি কেবল প্রতিবাদ করেননি, নিজের রক্ত দিয়ে আন্দোলনের মূল্যও চুকিয়েছেন।
আন্দোলনে যোগদান: আহত যোদ্ধার জবানিতে শুনুন ১৬ জুলাইয়ের সন্ধ্যা (মুরাদপুরের স্মৃতি)
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। চট্টগ্রামের বাতাসে তখন বিদ্রোহের গন্ধ। সন্ধ্যা ছয়টা, মুরাদপুর মোড়ে মানুষ জমতে শুরু করেছে। চারদিকে উত্তেজনা, কণ্ঠে কণ্ঠ মিশে শ্লোগানের ঢেউ উঠছে। আমিও ছিলাম সেদিনের ঐতিহাসিক আন্দোলনের একজন, বুকের ভেতর ছিল তীব্র প্রতিবাদের আগুন। ঠিক তখনই হঠাৎ করে এক ভাইয়ের ওপর অতর্কিতে হামলা শুরু হয়। চোখের সামনে আমাদের একজন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে গেলে, আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। ছুটে গিয়েছিলাম তাকে বাঁচাতে, মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে। কিন্তু সেখানেই অপেক্ষা করছিল ভরন্ধর এক বাস্তবতা। ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসী আচমকা আমাকে ঘিয়ে ধরে। মুহূর্তের মধ্যে লাঠির আঘাত, ঘুষি, লাথি আর সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আমার ডান চোখে এক প্রচণ্ড আঘাত আসে যেন সেই মুহূর্তেই পৃথিবীর অর্ধেক আলো নিভে গেল আমার জন্য। মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। চারপাশ ঘোলাটে হয়ে যায়। কান্না নয়, শুধু একটাই প্রশ্ন কেবল ঘুরছিল মনে, "আমি তো শুধু একজনকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম।” সেলিনের সেই আঘাত আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। ডান চোখে স্পষ্ট দেখতে পাই না, মাঝে মধ্যে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিশক্তি।
যা রয়ে গেছে চিরকাল
আমায় চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমার দৃষ্টি নয়। আমি
এখনও দেখতে পাই
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠছে,
সাহসীরা লড়ছে,
ইতিহাস লিখছে বক্ত দিয়ে।
আমি আহত একজন কর্মী, কিন্তু ভীত নই।
আহত পরবর্তী জীবন
আন্দোলনে আহত হওয়ার পর চিকিৎসার যন্ত্রণা
এটি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি। আন্দোলনে শরিক হওয়ার পথে এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিলাম। সেই হামলার পর যখন চোখের ক্ষত তীব্র হয়ে উঠল, আমি দ্রুত চলে আসি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। সেখানকার চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেল। প্রথমে মনে হয়েছিল, চিকিৎসা হবে, চোখের ক্ষতি পুরোপুরি সেরে উঠবে। কিন্তু, তা হয়নি। চিকিৎসকদের ভুলে,
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: শাকিল
জন্ম তারিখ : ০৮-১০-২০০১ইং
জন্মস্থান : চট্টগ্রাম
পেশা/ পদবি : ছাত্র
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম গমদন্ডী, ইউনিয়ন: গমদন্ডী, থানা: বোয়ালখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : আবুল হাসান বাবু
পিতার পেশা ও বয়স : অবসর (৬০)
মায়ের নাম : মাহমুদা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, (৫৪)
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১০,০০০/=
সম্পদ : ১ গণ্ডা পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন।
ভাই- বোনের তথ্যাদি
১. আল রাকিব, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ২৫, প্রবাসী
২. জান্নাতুন নেছা, সম্পর্ক: বোন, বয়স: ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী ছাত্রী
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: চাকরি
২০২৪ সাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াল, আবার গর্বের বছর। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রান্তে ঘূর্ণিঝড়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বেকারত্ব, রাজনৈতিক দুর্নীতি, কোটাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে উঠছিল তরুণদের মনে। তরুণ সমাজ- বিশেষত শিক্ষিত বেকার প্রজন্ম অনুভব করছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা, অথচ দলীয় অনুগতরা দিনের মধ্যে নিয়োগ পাচ্ছে। এই অন্যায়কে আর সহ্য করার জায়গা ছিল না। এই সময়েই তীব্র রূপ নেয় আন্দোলন। ‘স্বৈরাচারীর পতন চাই’, ‘কোটা সংস্কার চাই’, ‘রাষ্ট্রে সমান অধিকার চাই’। এই তিনটি প্রধান দাবিকে সামনে রেখে লাখো শিক্ষার্থী রাজপথে নামে।
বাঁশখালীতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মনে করেছিল, তাদের কণ্ঠে না থাকলে ঢাকার মিছিলও পূর্ণ হবে না। বোয়ালখালী এলাকায় ফ্যাসিবাসের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ছিল এক সাহসিক পদক্ষেপ। মোঃ শাকিল সেসব সাহসী কণ্ঠস্বরের একজন ছিলেন, যিনি কেবল প্রতিবাদ করেননি, নিজের রক্ত দিয়ে আন্দোলনের মূল্যও চুকিয়েছেন।
আন্দোলনে যোগদান: আহত যোদ্ধার জবানিতে শুনুন ১৬ জুলাইয়ের সন্ধ্যা (মুরাদপুরের স্মৃতি)
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। চট্টগ্রামের বাতাসে তখন বিদ্রোহের গন্ধ। সন্ধ্যা ছয়টা, মুরাদপুর মোড়ে মানুষ জমতে শুরু করেছে। চারদিকে উত্তেজনা, কণ্ঠে কণ্ঠ মিশে শ্লোগানের ঢেউ উঠছে। আমিও ছিলাম সেদিনের ঐতিহাসিক আন্দোলনের একজন, বুকের ভেতর ছিল তীব্র প্রতিবাদের আগুন। ঠিক তখনই হঠাৎ করে এক ভাইয়ের ওপর অতর্কিতে হামলা শুরু হয়। চোখের সামনে আমাদের একজন রক্তাক্ত হয়ে পড়ে গেলে, আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। ছুটে গিয়েছিলাম তাকে বাঁচাতে, মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে। কিন্তু সেখানেই অপেক্ষা করছিল ভরন্ধর এক বাস্তবতা। ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসী আচমকা আমাকে ঘিয়ে ধরে। মুহূর্তের মধ্যে লাঠির আঘাত, ঘুষি, লাথি আর সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আমার ডান চোখে এক প্রচণ্ড আঘাত আসে যেন সেই মুহূর্তেই পৃথিবীর অর্ধেক আলো নিভে গেল আমার জন্য। মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। চারপাশ ঘোলাটে হয়ে যায়। কান্না নয়, শুধু একটাই প্রশ্ন কেবল ঘুরছিল মনে, "আমি তো শুধু একজনকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম।” সেলিনের সেই আঘাত আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। ডান চোখে স্পষ্ট দেখতে পাই না, মাঝে মধ্যে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিশক্তি।
যা রয়ে গেছে চিরকাল
আমায় চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমার দৃষ্টি নয়। আমি
এখনও দেখতে পাই
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠছে,
সাহসীরা লড়ছে,
ইতিহাস লিখছে বক্ত দিয়ে।
আমি আহত একজন কর্মী, কিন্তু ভীত নই।
আহত পরবর্তী জীবন
আন্দোলনে আহত হওয়ার পর চিকিৎসার যন্ত্রণা
এটি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি। আন্দোলনে শরিক হওয়ার পথে এক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিলাম। সেই হামলার পর যখন চোখের ক্ষত তীব্র হয়ে উঠল, আমি দ্রুত চলে আসি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। সেখানকার চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেল। প্রথমে মনে হয়েছিল, চিকিৎসা হবে, চোখের ক্ষতি পুরোপুরি সেরে উঠবে। কিন্তু, তা হয়নি। চিকিৎসকদের ভুলে,
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মো: শাকিল
জন্ম তারিখ : ০৮-১০-২০০১ইং
জন্মস্থান : চট্টগ্রাম
পেশা/ পদবি : ছাত্র
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম গমদন্ডী, ইউনিয়ন: গমদন্ডী, থানা: বোয়ালখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : আবুল হাসান বাবু
পিতার পেশা ও বয়স : অবসর (৬০)
মায়ের নাম : মাহমুদা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, (৫৪)
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১০,০০০/=
সম্পদ : ১ গণ্ডা পরিমাণ জায়গা আছে
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন।
ভাই- বোনের তথ্যাদি
১. আল রাকিব, সম্পর্ক: ভাই, বয়স: ২৫, প্রবাসী
২. জান্নাতুন নেছা, সম্পর্ক: বোন, বয়স: ১৬, পেশা: শিক্ষার্থী ছাত্রী
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: চাকরি
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍