মোহাম্মদ ইউনুছ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ব্যবসা, মোবাইলের দোকান
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
আওয়ামী পাশবিকতা ও বর্বরতার নগ্ন চিত্র
২৪ এর জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে— আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বর্বরতা চালায়। শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো, আহত অবস্থায় রক্তাক্ত একজন মানুষকে পিটিয়ে অচেতন করে ফেলা, এমনকি তাকে চিকিৎসা গ্রহণেও বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্রের নগ্ন রূপ দেখিয়েছে। এই ঘটনা শুধুই আমার নয়-এটি হলো একটি দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা, যেখানে ভিন্নমত, প্রতিবাদ বা অধিকার আদায়ের চেষ্টাকেই অপরাধ বানানো হয়। আমি একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী—আওয়ামী দুঃশাসনের লৌহ মুষ্টির এক নিস্পেষিত কণ্ঠ।
মোহাম্মদ ইউনুস: এক বিপ্লবী জীবনের প্রতিবিম্ব
জন্ম ও শৈশব
মোহাম্মদ ইউনুস ২০০২ সালের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ শরীফ (৫৫) পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা মোরশেদা বেগম (৪৪) একজন গৃহিণী। জীবনসংগ্রামে লড়াই করেই তাঁর বাবা-মা সন্তানদের গড়ে তুলেছেন। মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বাবার কঠোর পরিশ্রম তাঁকে দিয়েছে দৃঢ় মনোবল ও নৈতিক ভিত্তি। শৈশব থেকেই ইউনুস ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের প্রতি সংবেদনশীল।
পারিবারিক জীবন
ইউনুস একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বড় ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াস (৩৬) একজন প্রবাসী এবং আলাদা বসবাস করেন। ছোট ভাই মোঃ আনিছুর রহমান (২১) একজন মাদরাসা শিক্ষার্থী, বর্তমানে হোসাইনিয়া মাদরাসার ফাযিল ২য় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ইউনুস বিবাহিত এবং তাঁর একটি এক বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে, যার নাম সাফওয়ান। বর্তমানে তিনি তাঁর মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানসহ পিতৃকুলের বাড়িতে বসবাস করছেন।
কর্মজীবন
ব্যক্তিগত জীবনে মোহাম্মদ ইউনুস একজন পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তিনি নিজেই একটি ছোট মোবাইলের দোকান পরিচালনা করতেন, যেখানে তিনি মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ করতেন। তবে স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অংশগ্রহণের সময়, তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর গুলিতে আহত হন। এতে তাঁর চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বর্তমানে তিনি কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ: জুলাই যোদ্ধার মুখে শুনুন
আমি মোহাম্মদ ইউনুস। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আমরা কয়েকজন শান্তিপূর্ণ মিছিলের উদ্দেশ্যে বাঁশখালীর শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে চাম্বল জেনারেল হাসপাতালের মাঝামাঝি পৌঁছাই। তখন হঠাৎ করেই পুলিশের একটি দল কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সরাসরি আমাদের দিকে গুলি চালায়। গুলির লক্ষ্যবস্তু ছিলাম আমি নিজেই। জীবন বাঁচাতে দৌড়ে একটি স্থানীয় মাদরাসায় আশ্রয় নিই। কিন্তু সেই নিরাপদ আশ্রয়স্থলও নিরাপদ রইলো না। কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের ৭-৮ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মাদরাসায় ঢুকে পড়ে এবং আমার ওপর পাষাণের মতো হামলে পড়ে। তারা লাঠি, হকস্টিক এবং লোহার রড দিয়ে আমাকে বেদম মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে আমি যখন মাদরাসা প্রাঙ্গণের ভেতরের রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করি, তখন পেছন থেকে আবারও আক্রমণ চালানো হয়। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি-অচেতন হয়ে যাই।
এরপর কয়েকজন সাহসী গ্রাম্য নারী আমাকে উদ্ধার করে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। দীর্ঘ ২-৩ ঘণ্টা সেখানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার পর আমার কিছু সহযোদ্ধা খোঁজ পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তখনকার মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ ছিল না-কারণ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দোসররা হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতেও বাধা দিচ্ছিল। কিছুদিন পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমি প্রাইভেট মেডিকেল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করি এবং পরে সরকারি মেডিকেলেও চিকিৎসা নিই। এখনো আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ নই-চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বর্বর হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর আমাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে বাঁশখালীর একজন গ্রাম্য ডাক্তার, ডা. আশেকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানেই আমার মারাত্মক রক্তক্ষরণ প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকায় পর্যায়ক্রমে আমাকে বাঁশখালী মেডিকেল, বাঁশখালী জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হয়। আহত হওয়ার পর আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও জখম দেখা দেয়। চিকিৎসকরা একাধিক এক্স-রে করান, বিশেষ করে চোখ, মাথা ও পিঠের হাড়ে আঘাতজনিত জটিলতা খুঁজে পেতে। আঘাতের ফলে আমার চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা এখনো নিরাময় হয়নি। নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও থেরাপি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এই হামলা শুধু আমার জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করেনি, বরং শারীরিক সক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কাজের সময় চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা ও ব্যথা আমাকে প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছে। আগের মতো কোনো শ্রম বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। এখনও আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ নই। আমার চোখের চিকিৎসা ও শারীরিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। একজন আহত আন্দোলনকারীর জীবনে এই দুঃসহ বাস্তবতা যেনো একটি চলমান যন্ত্রণা।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চ পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা
চ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা
চ চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা
চ নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং।
পূর্বে নিয়োজিত ছিলেন: ব্যবসা, মোবাইলের দোকান।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: মোবাইল সামগ্রীর ব্যবসা করতে আগ্রহী।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোহাম্মদ ইউনুছ
জন্ম তারিখ : ২৫-০৮-২০০২
জন্মস্থান : বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
পেশা : ব্যবসা, মোবাইলের দোকান
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: টেকপাড়া, ইউনিয়ন: শেখেরখীল, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মোহাম্মদ শরীফ
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৫৫
মায়ের নাম : মোরশেদা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫,০০০/=
আয়ের উৎস : দিনমজুর
বাড়ি : দাদার বাড়িতে বাঁশের বেড়া এবং টিনের
সম্পদ : জায়গা নেই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
স্ত্রীর নাম : জোলেখাঁ আক্তার
স্ত্রীর বয়স ও পেশা : গৃহিণী, ২২
ইউনুসের একটা এক বছরের ছেলে আছে
আহত হওয়ার স্থান : বাঁশখালীর শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে চাম্বল জেনারেল হাসপাতালের মাঝামাঝি
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা, বাশখালীর এমপি সিআইপি মুজিব পিতা- নজির আহমদ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী মারুফের পিতা-ফরিদুল আলম এবং কবির মেম্বার চাম্বল ৪নং ওয়ার্ড উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুসাইন এবং চেয়ারম্যান খোরশেদ এর নেতৃত্বে ৭/৮ জন
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪, বিকাল ৩টা ৩০মিনিট
২৪ এর জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে— আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বর্বরতা চালায়। শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো, আহত অবস্থায় রক্তাক্ত একজন মানুষকে পিটিয়ে অচেতন করে ফেলা, এমনকি তাকে চিকিৎসা গ্রহণেও বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্রের নগ্ন রূপ দেখিয়েছে। এই ঘটনা শুধুই আমার নয়-এটি হলো একটি দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা, যেখানে ভিন্নমত, প্রতিবাদ বা অধিকার আদায়ের চেষ্টাকেই অপরাধ বানানো হয়। আমি একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী—আওয়ামী দুঃশাসনের লৌহ মুষ্টির এক নিস্পেষিত কণ্ঠ।
মোহাম্মদ ইউনুস: এক বিপ্লবী জীবনের প্রতিবিম্ব
জন্ম ও শৈশব
মোহাম্মদ ইউনুস ২০০২ সালের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ শরীফ (৫৫) পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা মোরশেদা বেগম (৪৪) একজন গৃহিণী। জীবনসংগ্রামে লড়াই করেই তাঁর বাবা-মা সন্তানদের গড়ে তুলেছেন। মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বাবার কঠোর পরিশ্রম তাঁকে দিয়েছে দৃঢ় মনোবল ও নৈতিক ভিত্তি। শৈশব থেকেই ইউনুস ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, সাহসী এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের প্রতি সংবেদনশীল।
পারিবারিক জীবন
ইউনুস একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বড় ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াস (৩৬) একজন প্রবাসী এবং আলাদা বসবাস করেন। ছোট ভাই মোঃ আনিছুর রহমান (২১) একজন মাদরাসা শিক্ষার্থী, বর্তমানে হোসাইনিয়া মাদরাসার ফাযিল ২য় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ইউনুস বিবাহিত এবং তাঁর একটি এক বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে, যার নাম সাফওয়ান। বর্তমানে তিনি তাঁর মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানসহ পিতৃকুলের বাড়িতে বসবাস করছেন।
কর্মজীবন
ব্যক্তিগত জীবনে মোহাম্মদ ইউনুস একজন পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তিনি নিজেই একটি ছোট মোবাইলের দোকান পরিচালনা করতেন, যেখানে তিনি মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ করতেন। তবে স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অংশগ্রহণের সময়, তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর গুলিতে আহত হন। এতে তাঁর চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বর্তমানে তিনি কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ: জুলাই যোদ্ধার মুখে শুনুন
আমি মোহাম্মদ ইউনুস। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে আমরা কয়েকজন শান্তিপূর্ণ মিছিলের উদ্দেশ্যে বাঁশখালীর শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে চাম্বল জেনারেল হাসপাতালের মাঝামাঝি পৌঁছাই। তখন হঠাৎ করেই পুলিশের একটি দল কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সরাসরি আমাদের দিকে গুলি চালায়। গুলির লক্ষ্যবস্তু ছিলাম আমি নিজেই। জীবন বাঁচাতে দৌড়ে একটি স্থানীয় মাদরাসায় আশ্রয় নিই। কিন্তু সেই নিরাপদ আশ্রয়স্থলও নিরাপদ রইলো না। কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের ৭-৮ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মাদরাসায় ঢুকে পড়ে এবং আমার ওপর পাষাণের মতো হামলে পড়ে। তারা লাঠি, হকস্টিক এবং লোহার রড দিয়ে আমাকে বেদম মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে আমি যখন মাদরাসা প্রাঙ্গণের ভেতরের রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করি, তখন পেছন থেকে আবারও আক্রমণ চালানো হয়। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি-অচেতন হয়ে যাই।
এরপর কয়েকজন সাহসী গ্রাম্য নারী আমাকে উদ্ধার করে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। দীর্ঘ ২-৩ ঘণ্টা সেখানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার পর আমার কিছু সহযোদ্ধা খোঁজ পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। তখনকার মতো কোনো সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ ছিল না-কারণ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দোসররা হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতেও বাধা দিচ্ছিল। কিছুদিন পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমি প্রাইভেট মেডিকেল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করি এবং পরে সরকারি মেডিকেলেও চিকিৎসা নিই। এখনো আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ নই-চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বর্বর হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর আমাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে বাঁশখালীর একজন গ্রাম্য ডাক্তার, ডা. আশেকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানেই আমার মারাত্মক রক্তক্ষরণ প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকায় পর্যায়ক্রমে আমাকে বাঁশখালী মেডিকেল, বাঁশখালী জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হয়। আহত হওয়ার পর আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও জখম দেখা দেয়। চিকিৎসকরা একাধিক এক্স-রে করান, বিশেষ করে চোখ, মাথা ও পিঠের হাড়ে আঘাতজনিত জটিলতা খুঁজে পেতে। আঘাতের ফলে আমার চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা এখনো নিরাময় হয়নি। নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা ও থেরাপি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এই হামলা শুধু আমার জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করেনি, বরং শারীরিক সক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কাজের সময় চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা ও ব্যথা আমাকে প্রতিনিয়ত দুর্বল করে দিচ্ছে। আগের মতো কোনো শ্রম বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। এখনও আমি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ নই। আমার চোখের চিকিৎসা ও শারীরিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান। একজন আহত আন্দোলনকারীর জীবনে এই দুঃসহ বাস্তবতা যেনো একটি চলমান যন্ত্রণা।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চ পূর্ণ চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা
চ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা
চ চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক সহায়তা
চ নিয়মিত ফলোআপ ও মেডিকেল মনিটরিং।
পূর্বে নিয়োজিত ছিলেন: ব্যবসা, মোবাইলের দোকান।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা: মোবাইল সামগ্রীর ব্যবসা করতে আগ্রহী।
একনজরে ব্যক্তিগত তথ্যাদি
নাম : মোহাম্মদ ইউনুছ
জন্ম তারিখ : ২৫-০৮-২০০২
জন্মস্থান : বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
পেশা : ব্যবসা, মোবাইলের দোকান
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: টেকপাড়া, ইউনিয়ন: শেখেরখীল, থানা: বাঁশখালী, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মোহাম্মদ শরীফ
পিতার পেশা ও বয়স : দিনমজুর, ৫৫
মায়ের নাম : মোরশেদা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৪
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
মাসিক আয় : ১৫,০০০/=
আয়ের উৎস : দিনমজুর
বাড়ি : দাদার বাড়িতে বাঁশের বেড়া এবং টিনের
সম্পদ : জায়গা নেই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৭ জন
স্ত্রীর নাম : জোলেখাঁ আক্তার
স্ত্রীর বয়স ও পেশা : গৃহিণী, ২২
ইউনুসের একটা এক বছরের ছেলে আছে
আহত হওয়ার স্থান : বাঁশখালীর শেখেরখীল রাস্তার মাথা থেকে চাম্বল জেনারেল হাসপাতালের মাঝামাঝি
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মদদপুষ্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা, বাশখালীর এমপি সিআইপি মুজিব পিতা- নজির আহমদ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী মারুফের পিতা-ফরিদুল আলম এবং কবির মেম্বার চাম্বল ৪নং ওয়ার্ড উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুসাইন এবং চেয়ারম্যান খোরশেদ এর নেতৃত্বে ৭/৮ জন
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট, ২০২৪, বিকাল ৩টা ৩০মিনিট
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍