হোম / আহতদের তালিকা / মো: আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার
মো: আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার

মো: আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র
আহত হওয়ার স্থান ও সময় : নিউ মার্কেট মোড়, চট্টগ্রাম; সকাল ১১.০০টা

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার জন্ম গ্রহণ করেছেন ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৩ সালে। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের চট্রগ্রাম জেলার সন্তান । তার পিতা মুহাম্মদ নুরুল আলম । মাতা খালেদা বেগম। তিনি একজন শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচীতে যোগ দেন তরুণ আন্দোলনকারী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার। ন্যায্য দাবিতে চলমান এই আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তবে সকাল ১০টার পর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সন্ত্রাসী বাহিনী তথা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ হঠাৎ সিটি কলেজের দিক থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তেই পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছাত্ররা প্রতিরোধের চেষ্টা চালালে বেলা ১১টার দিকে কোতোয়ালী থানার পুলিশ বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল গ্যাস নিক্ষেপ করে। টিয়ারগ্যাসের কারণে চারদিকে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, সবাই নিউ মার্কেট মোড় থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আবরারের অ্যাজমার সমস্যা থাকায় গ্যাস মুখে লাগার পর তিনি দৌড়াতে পারেননি এবং পেছনে পড়ে যান। পরে তিনি একটি রিকশা নিয়ে কাজির দেওরী মোড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার পথ রোধ করে। রিকশাচালকের সহায়তায় আবরার লালখান বাজার এলাকায় নামতে সক্ষম হন। সেখান থেকে সিএনজিতে উঠতে গেলে তাকে আবারও ২ জন সন্ত্রাসী ধরে ফেলে এবং মারধর শুরু করে। এরপর তাকে রেডিসন ব্লুর সামনে একটি খাবারের দোকানের রান্নাঘরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে। আবরার প্রাণপণ প্রতিরোধ করলেও ২ জন সন্ত্রাসী লোহার রড ও গাছের লগি দিয়ে তার ঘাড়, পিঠ, কোমর ও হাঁটুতে প্রায় চল্লিশটিরও বেশি আঘাত করে। এই নির্মম হামলায় আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার গুরুতরভাবে আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়ে যায়, এবং তিনি এখনো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্যে রয়েছেন। আবরারের এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, গণআন্দোলনে কেবল পুলিশের গুলিই নয়, রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরাও পরিকল্পিতভাবে তরুণদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যাতে ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা যায়।
যেভাবে আন্দোলন শুরু
যে ক্ষোভ এতদিন বুকের ভেতর নিভু নিভু করে জ্বলছিল, তা ২০২৪ সালের আগস্টে নতুন করে দাবানলে রূপ নেয়। দেশের সর্বত্র দমন-পীড়ন ও অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে যখন ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামে, তখন সেই কাতারে যোগ দেন তরুণ চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবরারও। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ন্যায়ের লড়াই শুধু ছাত্রদের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। ৪ আগস্ট, চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে আন্দোলনরত জনতার স্রোতে দাঁড়ান তিনি। সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে চারদিক। হঠাৎ করেই ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশও সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল গ্যাস নিক্ষেপ করে ভয়ার্ত পরিস্থিতি তৈরি করে। গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে যায় চারদিক, আর আবরারের অ্যাজমার কারণে তার পক্ষে দৌড়ে পালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় তিনি যখন আশ্রয় খুঁজছিলেন, তখনই সন্ত্রাসীরা তাকে ঘেরাও করে। একাধিক ব্যক্তি লাঠি, লোহার রড ও গাছের লগি দিয়ে বেপরোয়া আক্রমণ চালায়। তার ঘাড়, পিঠ, কোমর ও হাঁটুতে বৃষ্টি হয়ে নামে আঘাত। অসহায় আবরারকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় একটি খাবারের দোকানের রান্নাঘরে, যেখানে আরও নিষ্ঠুরভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তবুও বেঁচে যান সহযোদ্ধাদের তৎপরতায়। গুরুতর জখম নিয়ে তিনি আজও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্যে রয়েছেন। আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবরারের এই নির্মম অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে গণআন্দোলনের সময়ে শুধু গুলিই নয়, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বর্বর আঘাতও নিপীড়নের হাতিয়ার হয়েছিল। তার রক্তাক্ত দেহ সাক্ষ্য দিচ্ছে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে তরুণরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। আবরারের আহত শরীর কেবল একটি ব্যক্তিগত কষ্টের কাহিনি নয়; বরং তা হয়ে থাকবে ইতিহাসের বুকে খোদাই এক অটল আত্মত্যাগের প্রতীক।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
২০২৪ সালের আন্দোলনে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তরুণ চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার। আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তার শরীরের আঘাত ও ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে দেন, বিভিন্ন অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করেন এবং ব্যথা উপশমের জন্য কিছু পেইন কিলার ওষুধ প্রদান করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ঔষধ সেবনের পর সাময়িকভাবে মাংসপেশীর ব্যথা কিছুটা কমলেও পিঠ ও কোমরের হাড়ে জটিল সমস্যা দেখা দিতে থাকে। নিয়মিত ব্যথা, চলাফেরায় অস্বস্তি এবং দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তিনি পুনরায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি ফিজিওথেরাপির আওতায় চিকিৎসাধীন আছেন। তবুও আঘাতের গভীরতা ও হাড়ের সমস্যার কারণে তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং পর্যাপ্ত পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি। আবরারের এই শারীরিক দুরবস্থা শুধু একটি ব্যক্তিগত কষ্টের বিষয় নয়; বরং আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগ ও মানবিক ক্ষতির একটি বাস্তব প্রমাণ হয়ে থাকবে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
উন্নত মানের চিকিৎসা প্রয়োজন
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
গুরুতর আহত হওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্যে রয়েছেন। শারীরিক আঘাতের ফলে তার কোমর ও পিঠে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা তাকে ভারী পরিশ্রমমূলক কাজ থেকে বঞ্চিত করেছে। এ অবস্থায় তার জীবিকার জন্য এমন একটি কর্মসংস্থান অত্যন্ত জরুরি, যা শারীরিক চাপ কম এবং বসে থেকেই সম্পাদনযোগ্য। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাব করা হচ্ছে, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবরারকে অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি বা কল সেন্টার এজেন্ট ধরনের পদে কর্মসংস্থান প্রদান করা হোক। এসব কাজে শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন তুলনামূলক কম এবং দীর্ঘ সময় বসে থেকেই দায়িত্ব পালন সম্ভব। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে তিনি দ্রুত দক্ষ হয়ে উঠতে পারবেন। এমন একটি চাকরি তার অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্বশীল অবদান রাখার পথ সুগম করবে। আহত আন্দোলনকারীর প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবেও এই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

নাম : আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আবরার
জন্ম তারিখ : ০৭-০২-২০০৩
জন্মস্থান : চট্টগ্রাম
পেশা/ পদবী : ছাত্র
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: শ্রফুদ্দীন মিয়াজী পাড়া, ইউনিয়ন: বড়হাতিয়া, থানা: লোহাগড়া, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : বাসা/মহল্লা: হামজু ম্যানশন, এলাকা: পশ্চিম ফরিদা পাড়া,থানা: চাঁদগাও, জেলা: চট্টগ্রাম

পরিবারের তথ্য
পিতার নাম : মুহাম্মদ নুরুল আলম
মায়ের নাম : খালেদা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী ও ৪০ বছর
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয়: ২০,০০০/=
আয়ের উৎস : চাকরী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬ জন
ভাই ও বোন
ভাই আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আদনান বয়স ১৫ বছর। তিনি একজন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী
বোন নাবিহা নুর বয়স ৩ বছর

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍