হোম / আহতদের তালিকা / আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরী
আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরী

আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরী

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরী ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। স্থায়ীভাবে তিনি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফেনী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি একজন ছাত্র এবং তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। ইমরানের বাবা আব্দুল মান্নান চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেছেন, মা ফাতেমা বেগম একজন গৃহিনী। তাদের সংসারের একমাত্র ভরসা বাসা ভাড়ার সামান্য আয়, যা মাসে প্রায় ১২,০০০ টাকা। এই সীমিত আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার কোনো রকমে জীবন চালিয়ে নিচ্ছে। পরিবারে তার দুই বোন রয়েছেন—ফাহাতুজ জোহরা (২৩) ও সুলতানা নাসরীন (২৮)।
অভাব-অনটনের বেড়াজাল ভেদ করেও ইমরান দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও একনিষ্ঠ দেশপ্রেম লালন করে আসছেন। সামান্য আয়ের পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি শিক্ষা ও মানবিকতার আলোয় নিজের জীবন গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন। তার জীবন কেবল ব্যক্তিগত সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং দেশের প্রতি এক তরুণের নিখাদ ভালোবাসার প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, দরিদ্রতা কখনো স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারে না—বরং তা শক্তি জোগায় দেশের জন্য কিছু করার।
আন্দলনে অংশগ্রহণঃ
২০২৪ সালের আগস্টের ৪ তারিখ। সকাল থেকেই দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল ন্যায় ও হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে। দরিদ্র ঘরের সন্তান হয়েও আমি, আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরী, নিজের রক্ত-মাংস নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম দেশের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য। সকাল ১১টার দিকে ফেনীর মহিপালে পা রাখি আমি—মুহূর্তেই চারপাশে হাজারো তরুণের স্লোগান, বুক ভরা আশা আর অদম্য সাহস যেন বাতাসকে কাঁপিয়ে তুলেছিল। আমরা জানতাম, এ লড়াই সোনালী ভবিষ্যতের জন্য; জানতাম, দরিদ্র হলেও আমরা দেশের প্রকৃত সম্পদ।
কিন্তু হঠাৎই নেমে এলো ঘাতক আক্রমণ। আন্দোলনের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা দানবের মতো ছুটে আসে। তারা গুলি চালাতে থাকে নির্বিচারে—যেন আমরা কোনো মানুষ নই, যেন আমাদের জীবন তাদের চোখে কিছুমাত্র মূল্যহীন। এক পর্যায়ে আমার হাতে একটি আর পায়ে দুটি গুলি লাগে। তীব্র ব্যথা সত্ত্বেও আমি ভেঙে পড়িনি, কারণ জানতাম—এই রক্ত দেশের মুক্তির পথে একফোঁটা আলো হয়ে জ্বলে উঠবে। বেলা ২টা ২১ মিনিটে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি, অথচ ঘাতকদের গুলি তখনও থামেনি।
আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেনী মহিপাল থেকে সালাউদ্দিন রোড হয়ে আমাদের এলাকার আবরার মেডিকেল হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে আমার শরীর থেকে বের করা হয় তিনটি বুলেট। প্রতিটি বুলেট আমার দেহ ছিন্নভিন্ন করেছে, কিন্তু তারা কোনোদিন আমার দেশপ্রেমকে হত্যা করতে পারবে না।
আমি দরিদ্র ঘরে জন্মেছি, সংসার চলে মাসে মাত্র বারো হাজার টাকার ভাড়ার আয়ে। আমার বাবা নেই, মা গৃহিণী। এমন অভাবের সংসারের সন্তান হয়েও আমি দেশের জন্য বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। অথচ আমাদেরই ঘাতকেরা লক্ষ্যবস্তু বানালো, যেন দেশের মাটি রক্তে রঞ্জিত হয়। আমাদের এই আন্দোলন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অথচ শাসকগোষ্ঠীর হাতে আমরা পেলাম গুলির জবাব।আজও মনে পড়ে—সেই রক্তাক্ত দুপুরে জীবনটা কত অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। আমি বাঁচব কি না, জানতাম না। চোখের সামনে শুধু দেশের পতাকা, আর ঘাতকদের নৃশংস মুখ ভেসে উঠছিল। হয়তো গরিব বলে আমাদের জীবনকে তারা তুচ্ছ করে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, দরিদ্রের রক্তই একদিন স্বাধীনতার প্রকৃত মশাল হয়ে উঠবে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণ
আন্দোলনের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরীকে দ্রুত আবরার মেডিকেল হলে নেয়া হয়, যেখানে ডাক্তার সাইফুর রহমান দ্বারা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসাইয় তার দেহ থেকে মোট তিনটি বুলেট বের করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বাবদ মোট ১,১৫০ (এক হাজার একশত পঞ্চাশ) টাকা অর্থ গ্রহণ করা হয়। এ সময় ফেনীর স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকেও দ্রুত তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়েছিল যাতে রক্তস্রাব নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা সামলে নেয়া যায়।
চিকিৎসক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতসংগত বলে জানানো হয়েছে এবং জানা অনুযায়ী অতিরিক্ত কোনো চিকিৎসা বা হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন নেই। তবুও বুলেট সংক্রান্ত আঘাত ও মানসিক আঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুপারিশ যুক্তিযুক্ত হবে—তবে বর্তমানে চিকিৎসার অনুযায়ী তাকে আর তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য যে, ইমরানের পরিবারের মাসিক আয় সীমিত (প্রায় ১২,০০০ টাকা) এবং তিনি স্বয়ং সমর্থন দিতে পারার আগেই নানা দায়িত্ব বহন করেন; পূর্বে তিনি অল্পকালীনভাবে কোনো জবে নিয়োজিত ছিলেন। শিক্ষা চালিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ স্বাবলম্বী হতে তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্কলারশিপ বা আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য—এটি তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায়। সামগ্রিকভাবে, প্রাথমিক চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হলেও সামাজিক ও শিক্ষাগত সহায়তা ছাড়া তার পূর্ণ সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ কঠিন হবে।
চিকিৎসা
আবরার মেডিকেল হলে প্রাথমিক চিকিৎসা
ডা. সাইফুর রহমান দ্বারা ৩টি বুলেট অপসারণ
চিকিৎসা ও ঔষধ বাবদ ব্যয়: ১,১৫০ টাকা
পূর্বে ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: বর্তমানে অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, তবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্কলারশিপ প্রয়োজন।

নাম : আব্দুল্লাহ আল ইমরান চৌধুরী
জন্মতারিখ : ০৭-১১-২০০৩
জন্মস্থান : ফেনী
পেশা : ছাত্র
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: দূর্গাপুর, ইউনিয়ন: ঘোপাল, থানা: ছাগলনাইয়া, জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা : এলাকা: সুলতানপুর, ৬ নং ওয়ার্ড, ফেনী পৌরসভা, থানা ও জেলা: ফেনী সদর, ফেনী
পারিবারিক তথ্য:
পিতার নাম : আব্দুল মান্নান চৌধুরী (পেশা: মৃত)
মাতার নাম : ফাতেমা বেগম (পেশা: গৃহিণী)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ভাইবোন : ফাহাতুজ জোহরা (২৩), সুলতানা নাসরীন (২৮)
মাসিক আয় : ১২,০০০ টাকা (উৎস: বাসা ভাড়া)
ঘটনার স্থান : ফেনী, মহিপাল
ঘটনার তারিখ ও সময় : ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর ২:২১ মিনিট
আহত হওয়ার কারণ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলা
আহতের ধরন : হাতে একটি ও পায়ে দুটি গুলিবিদ্ধ

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍