হোম / আহতদের তালিকা / আব্দুল্লাহ আল মামুন
আব্দুল্লাহ আল মামুন

আব্দুল্লাহ আল মামুন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : চাকরি

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন সুশিক্ষিত ও আদর্শ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি। তিনি ১৯৮৯ সালের ১লা মার্চ ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার এনায়েতনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান গ্রামীণ পরিবেশে হলেও শৈশব থেকেই তিনি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা আব্দুল ওহাব একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, যিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাতা আনোয়ারা বেগম একজন গৃহিণী, যিনি সংসার ও সন্তানদের সঠিক মূল্যবোধে লালনপালন করে একজন আদর্শ মায়ের ভূমিকা পালন করেছেন।

স্থায়ী ঠিকানা ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার ৫ নং ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে। পারিবারিক শিকড় এখানেই দৃঢ়ভাবে প্রোথিত। বর্তমানে তিনি একই উপজেলার এনায়েতনগর মৌলভীবাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন। শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের উল্লেখযোগ্য সময় এই অঞ্চলে কাটিয়েছেন এবং এখান থেকেই শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতা অর্জনের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
পেশাগত জীবনে আব্দুল্লাহ আল মামুন চাকরির সাথে যুক্ত। কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তিনি নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি অবদান রেখে চলেছেন। কর্মক্ষেত্রে তিনি একনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, যিনি কর্তব্য পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধকেও গুরুত্ব দেন।
পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিজস্ব প্রচেষ্টা তাঁকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছে। গ্রামীণ পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও আধুনিক জ্ঞান, কর্মমুখী চিন্তা ও সামাজিক অগ্রগতির স্বপ্ন তিনি সবসময় লালন করে আসছেন। সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা তাঁর জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা খামারবাড়ির আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে এক ভয়াবহ ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকাকালীন সময়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন সেখানে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময় পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। গুলির শব্দে সাধারণ মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
গুলির আঘাত সরাসরি তাঁর পায়ে লাগে, ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকার পরও সন্ত্রাসীরা সেখানে থেমে থাকেনি। বরং তারা নির্মমভাবে তাঁর উপর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। একদল সন্ত্রাসী হাতে থাকা লোহার রড, পাইপ, দণ্ড ও অন্যান্য ধাতব বস্তু দিয়ে তাঁকে আঘাত করতে থাকে। শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক আঘাতে তিনি অচল হয়ে পড়েন।
হামলার দৃশ্য ছিল ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময়। চারপাশের সাধারণ মানুষ কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করেনি, কারণ হামলাকারীরা ছিল সংখ্যায় অনেক বেশি এবং তারা সুসংগঠিতভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছিল। উদ্দেশ্য ছিল কেবল আহত করা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখিয়ে দমন করা এবং তাঁর জীবনকে বিপন্ন করা। হামলার সময় তাঁকে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়, ধাতব বস্তু দিয়ে পিটিয়ে শরীর ক্ষত-বিক্ষত করা হয়।
আহত অবস্থায় শারীরিক ব্যথার পাশাপাশি মানসিকভাবে তিনি চরম আতঙ্ক ও নির্যাতনের শিকার হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে পায়ে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ ও অবশভাব দেখা দেয়। শরীরের অন্যান্য স্থানে আঘাতের কারণে অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করতে থাকেন। চারপাশের মানুষ প্রাণভয়ে দূরে সরে যায়, কিন্তু পরে কয়েকজন সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেয়ার পর তাঁর ক্ষতস্থানে চিকিৎসা শুরু হয়। ডাক্তাররা জানান যে, পায়ে গুলি লাগার ফলে পেশী ও টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধাতব বস্তু দ্বারা সৃষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্দোষ একজন নাগরিককে দিনের বেলা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এবং ধাতব বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন। ঘটনাটির সাক্ষী হয়ে আছে তাঁর শরীরের ক্ষতচিহ্ন, যা সেই দিনের নৃশংসতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার জীবন্ত প্রমাণ।
চিকিৎসা
৫ই আগস্টের হামলার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে দ্রুত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে জরুরি ভিত্তিতে সার্জারি করে পায়ে থাকা গুলি বের করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি অপসারণের পরও শারীরিক অবস্থা জটিল থাকায় ডাক্তাররা তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন।
পঙ্গু হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানান যে, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ছাড়া তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন না। এ কারণে তাঁকে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতপ্রাপ্ত স্থান এবং গুলির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু ও পেশী ধীরে ধীরে সুস্থ করার একমাত্র উপায় হলো দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি।
বর্তমানে তাঁকে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। সময়মতো থেরাপি না নিলে হাঁটাচলার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয় এবং পা অবশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে প্রতিদিনের জীবনযাপন, চলাফেরা ও কর্মক্ষমতা এখন সম্পূর্ণভাবে এই চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল।
এইভাবে চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান, এবং সুস্থ জীবনে ফিরে আসার জন্য তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যেতে হবে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
এতদসত্ত্বেও এখনো তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ নন। অস্ত্রোপচারের ক্ষত ও স্নায়ুর জটিলতার কারণে প্রতিনিয়ত শারীরিক ব্যথা ও দুর্বলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এজন্য চিকিৎসকরা মত দেন যে, তাঁকে আরও উন্নতমানের চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি অব্যাহত রাখতে হবে। শুধুমাত্র উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তার মাধ্যমেই তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপির উপর নির্ভরশীল। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও তাঁর পায়ের স্নায়ু ও পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার ক্ষেত্রে এখনো মারাত্মক সমস্যা রয়ে গেছে। উন্নতমানের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা ছাড়া এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়।
এই প্রেক্ষাপটে তাঁর জন্য একটি টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ এবং জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করার জন্য তাঁকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া প্রয়োজন। উপযুক্ত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তিনি নিজের চিকিৎসা খরচ নির্বাহ করতে পারবেন এবং সমাজে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন।

নাম : আব্দুল্লাহ আল মামুন
জন্মতারিখ : ০১-০৩-১৯৮৯
জন্মস্থান : এনায়েতনগর, ফেনী
পেশা : চাকরি
স্থায়ী ঠিকানা : এনায়েতনগর, ৫ নং ইয়াকুবপুর, দাগনভূঁইয়া, ফেনী
বর্তমান ঠিকানা : মৌলভীবাড়ি, এনায়েতনগর, দাগনভূঁইয়া, ফেনী
পিতা : আব্দুল ওহাব অবসরপ্রাপ্ত (শিক্ষক)
মাতা : আনোয়ারা বেগম (গৃহিণী)
আয় : ১২০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬
ছেলে : আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
মেয়ে : হুমায়ের জাহান মাহা
ঘটনার স্থান : ৫ ই আগস্ট খামার বাড়ী , ঢাকা
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা
আহত হওয়ার সময় : ৫ ই ইাগস্ট ১:০০/১:৩০ টা

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍