নূর মোহাম্মদ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : কলেজ শিক্ষার্থী (ফেনী সরকারি কলেজ)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম ও পরিচয়
নূর মোহাম্মদ ১৯৯৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ লালপুর এলাকার পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারে এক সাধারণ, পরিশ্রমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে ফেনী সদর উপজেলায় বসবাসরত এবং ফেনী সরকারি কলেজের একজন শিক্ষার্থী। নূর মোহাম্মদের পিতা, জনাব জইনাল আবেদীন (বয়স ৭৫), একজন কৃষক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর মা, ফাতেমা আক্তার (বয়স ৫৭), একজন গৃহিণী এবং সংসার সামলে পুরো পরিবারকে ভালোবাসা ও যত্নে আগলে রেখেছেন।
পরিবারে নূর মোহাম্মদ সহ মোট পাঁচজন সদস্য। তিনি তিন ভাইবোনের মধ্যে কনিষ্ঠ। তাঁর বড় ভাই আলাউদ্দিন পেশায় একজন পিয়ন, আর বড় বোন রোকেয়া বেগম (বয়স ৩৪) একজন গৃহিণী। পরিবারটি স্বল্প আয়ের হলেও সৎ, পরিশ্রমী এবং শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহী।নূর মোহাম্মদ একজন মেধাবী, সংগ্রামী ছাত্র হিসেবে পরিচিত, যিনি পরিবার ও সমাজে সম্মানের সঙ্গে চলতে চেয়েছেন সবসময়।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও অবদান
৪ আগস্ট, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে, তিনি মহিপাল যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই ট্রাংক রোড থেকে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কিছু সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এলাকাটি তখন উত্তপ্ত ছিল, কিন্তু কেউ ভাবেনি এতটা নৃশংসভাবে হামলা হবে।
ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা রাস্তা জুড়ে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে এবং মহিপাল এলাকায় এসে একদম কাছে থেকে গুলি চালায়। তখনই নূর মোহাম্মদের মাথার পেছনে একটি গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পথচারীরা আতঙ্কে ছুটে যায়, কেউ কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়।
তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা স্থিতিশীল করা হলেও, মাথার ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরপর তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়। আজও তিনি সেই গুলির আঘাত থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। তার এখনো নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এবং মাথার ব্যথা তার দৈনন্দিন জীবনকে প্রতিনিয়ত কষ্টদায়ক করে তুলছে।
এই হামলা শুধু একজন শিক্ষার্থীর ওপর নয়—এটি শিক্ষাঙ্গনে লীগের সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাবের এক জঘন্য উদাহরণ। শান্তিপূর্ণভাবে চলাফেরা করাও যখন নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণ
ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়ে গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন নূর মোহাম্মদ। ৪ আগস্টের সেই দুঃসহ দিনে গুলিটি তাঁর মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ফেনী শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হলেও, সেটিই তাঁর জীবনের এক নতুন সংগ্রামের সূচনা করে। অপারেশনের পর থেকে নূর মোহাম্মদ শারীরিকভাবে চরম কষ্টের মধ্যে আছেন।
বর্তমান শারীরিক সমস্যা
অস্ত্রোপচারের পরপরই তাঁর মাথার পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কিছুটা কমলেও এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।
বিশেষ করে রাতের বেলায় ব্যথা বেড়ে যায়, যার কারণে ঘুম ব্যাহত হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, তিনি প্রায়ই রাতে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন এবং সাথে আসে উচ্চমাত্রার জ্বর। চিকিৎসকদের মতে, এটি অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ইনফেকশন বা স্নায়বিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
বর্তমানে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসার ধাপ ও প্রয়োজনীয়তা: ৪ আগস্ট: জনসেবা মেডিকেল ক্লিনিকে জরুরি অস্ত্রোপচারে মাথার পেছনের গুলিটি অপসারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পরবর্তী চিকিৎসা: অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স, নিয়মিত ড্রেসিং, ব্যথানাশক ও স্নায়ুবিষয়ক ওষুধ, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে অ্যান্টি-সিজার ওষুধ
বর্তমান শারীরিক অবস্থা: মাথায় তীব্র ব্যথা (বিশেষ করে রাতে), ঘন ঘন খিঁচুনি ও উচ্চ জ্বর, দুর্বলতা ও ঘুমের ব্যাঘাত
নাম : নূর মোহাম্মদ
জন্মতারিখ : ১৬ জানুয়ারি, ১৯৯৯
জন্মস্থান : দক্ষিণ লালপুর, দাগনভূঞা, ফেনী
পেশা : কলেজ শিক্ষার্থী (ফেনী সরকারি কলেজ)
স্থায়ী ঠিকানা : পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার, ফেনী সদর, ফেনী
পারিবারিক তথ্য
পিতার নাম : জইনাল আবেদীন
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৭৫
মাতার নাম : ফাতেমা আক্তার
মাতার পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৭
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. আলাউদ্দিন, পেশা: পিয়ন
২. রোকেয়া বেগম, বয়স: ৩৪, পেশা: গৃহিণী
আহত হওয়ার স্থান : মহিপাল, ফেনী (ওভার ব্রিজের আশপাশে)
আহত হওয়ার সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৪, আনুমানিক দুপুর ২:০০টা
আহত হওয়ার কারণ : শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় ঘাতক ছাত্রলীগের গুলিতে আহত (মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ)
চিকিৎসা : জেড ইউ মডেল হাসপাতাল -এ জরুরি অস্ত্রোপচার
বর্তমান অবস্থা : স্নায়বিক জটিলতা, মাথাব্যথা, খিঁচুনি, রাতে ঘুমে ব্যাঘাত
চলমান চিকিৎসা : নিয়মিত চেকআপ, স্নায়ুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং উন্নত পরীক্ষার প্রয়োজন
নূর মোহাম্মদ ১৯৯৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ লালপুর এলাকার পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারে এক সাধারণ, পরিশ্রমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে ফেনী সদর উপজেলায় বসবাসরত এবং ফেনী সরকারি কলেজের একজন শিক্ষার্থী। নূর মোহাম্মদের পিতা, জনাব জইনাল আবেদীন (বয়স ৭৫), একজন কৃষক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর মা, ফাতেমা আক্তার (বয়স ৫৭), একজন গৃহিণী এবং সংসার সামলে পুরো পরিবারকে ভালোবাসা ও যত্নে আগলে রেখেছেন।
পরিবারে নূর মোহাম্মদ সহ মোট পাঁচজন সদস্য। তিনি তিন ভাইবোনের মধ্যে কনিষ্ঠ। তাঁর বড় ভাই আলাউদ্দিন পেশায় একজন পিয়ন, আর বড় বোন রোকেয়া বেগম (বয়স ৩৪) একজন গৃহিণী। পরিবারটি স্বল্প আয়ের হলেও সৎ, পরিশ্রমী এবং শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহী।নূর মোহাম্মদ একজন মেধাবী, সংগ্রামী ছাত্র হিসেবে পরিচিত, যিনি পরিবার ও সমাজে সম্মানের সঙ্গে চলতে চেয়েছেন সবসময়।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও অবদান
৪ আগস্ট, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে, তিনি মহিপাল যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই ট্রাংক রোড থেকে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কিছু সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এলাকাটি তখন উত্তপ্ত ছিল, কিন্তু কেউ ভাবেনি এতটা নৃশংসভাবে হামলা হবে।
ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা রাস্তা জুড়ে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে এবং মহিপাল এলাকায় এসে একদম কাছে থেকে গুলি চালায়। তখনই নূর মোহাম্মদের মাথার পেছনে একটি গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পথচারীরা আতঙ্কে ছুটে যায়, কেউ কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়।
তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা স্থিতিশীল করা হলেও, মাথার ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরপর তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়। আজও তিনি সেই গুলির আঘাত থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। তার এখনো নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এবং মাথার ব্যথা তার দৈনন্দিন জীবনকে প্রতিনিয়ত কষ্টদায়ক করে তুলছে।
এই হামলা শুধু একজন শিক্ষার্থীর ওপর নয়—এটি শিক্ষাঙ্গনে লীগের সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাবের এক জঘন্য উদাহরণ। শান্তিপূর্ণভাবে চলাফেরা করাও যখন নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণ
ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়ে গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন নূর মোহাম্মদ। ৪ আগস্টের সেই দুঃসহ দিনে গুলিটি তাঁর মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ফেনী শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জেড ইউ মডেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হলেও, সেটিই তাঁর জীবনের এক নতুন সংগ্রামের সূচনা করে। অপারেশনের পর থেকে নূর মোহাম্মদ শারীরিকভাবে চরম কষ্টের মধ্যে আছেন।
বর্তমান শারীরিক সমস্যা
অস্ত্রোপচারের পরপরই তাঁর মাথার পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কিছুটা কমলেও এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।
বিশেষ করে রাতের বেলায় ব্যথা বেড়ে যায়, যার কারণে ঘুম ব্যাহত হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, তিনি প্রায়ই রাতে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন এবং সাথে আসে উচ্চমাত্রার জ্বর। চিকিৎসকদের মতে, এটি অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ইনফেকশন বা স্নায়বিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
বর্তমানে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসার ধাপ ও প্রয়োজনীয়তা: ৪ আগস্ট: জনসেবা মেডিকেল ক্লিনিকে জরুরি অস্ত্রোপচারে মাথার পেছনের গুলিটি অপসারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পরবর্তী চিকিৎসা: অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স, নিয়মিত ড্রেসিং, ব্যথানাশক ও স্নায়ুবিষয়ক ওষুধ, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে অ্যান্টি-সিজার ওষুধ
বর্তমান শারীরিক অবস্থা: মাথায় তীব্র ব্যথা (বিশেষ করে রাতে), ঘন ঘন খিঁচুনি ও উচ্চ জ্বর, দুর্বলতা ও ঘুমের ব্যাঘাত
নাম : নূর মোহাম্মদ
জন্মতারিখ : ১৬ জানুয়ারি, ১৯৯৯
জন্মস্থান : দক্ষিণ লালপুর, দাগনভূঞা, ফেনী
পেশা : কলেজ শিক্ষার্থী (ফেনী সরকারি কলেজ)
স্থায়ী ঠিকানা : পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার, ফেনী সদর, ফেনী
পারিবারিক তথ্য
পিতার নাম : জইনাল আবেদীন
পিতার পেশা ও বয়স : কৃষক, ৭৫
মাতার নাম : ফাতেমা আক্তার
মাতার পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৫৭
ভাই-বোনের তথ্যাদি
১. আলাউদ্দিন, পেশা: পিয়ন
২. রোকেয়া বেগম, বয়স: ৩৪, পেশা: গৃহিণী
আহত হওয়ার স্থান : মহিপাল, ফেনী (ওভার ব্রিজের আশপাশে)
আহত হওয়ার সময় : ০৪ আগস্ট ২০২৪, আনুমানিক দুপুর ২:০০টা
আহত হওয়ার কারণ : শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় ঘাতক ছাত্রলীগের গুলিতে আহত (মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ)
চিকিৎসা : জেড ইউ মডেল হাসপাতাল -এ জরুরি অস্ত্রোপচার
বর্তমান অবস্থা : স্নায়বিক জটিলতা, মাথাব্যথা, খিঁচুনি, রাতে ঘুমে ব্যাঘাত
চলমান চিকিৎসা : নিয়মিত চেকআপ, স্নায়ুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং উন্নত পরীক্ষার প্রয়োজন
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍