হোম / আহতদের তালিকা / মো নাজমুল হাসান
মো নাজমুল হাসান

মো নাজমুল হাসান

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : শিক্ষার্থী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
মো: নাজমুল হাসান ২০০২ সালের ১ মার্চ ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি একজন ছাত্র নিজেকে গড়ে তোলার স্বপ্নে অধ্যবসায়ী, শান্ত ও দায়িত্বশীল। তার শিকড় মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর যশপুর গ্রামে; সেখানে পরিবারের স্নেহ আর মাটির গন্ধ তাকে শক্তি জোগায়। বর্তমানে তিনি ফেনী সদর থানার পাঠান বাড়ী মহল্লায় বসবাস করেন এবং নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে বড় হওয়ার চেষ্টায় অবিচল। তার পরিবার পাঁচ সদস্যের; পিতা মো: আহসান উল্লাহ একজন চাকুরিজীবী পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস চাকরি, মাসিক আয় প্রায় ৪০,০০০ টাকা আর মাতা নাজমুন নাহার একজন স্নেহময়ী গৃহিণী, যিনি ঘরের ভরসা ও প্রেরণা। ছোট-বড় সবার পাশে থেকে ভাই মো: নাইমুল হাসানও তার পথচলার সাথী। নাজমুল বিশ্বাস করেন, শিক্ষাই তার ভবিষ্যৎ বদলের সবচেয়ে বড় শক্তি; তাই প্রতিটি দিন তিনি সততা, পরিশ্রম ও মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে চলেন।

আন্দলনে অংশগ্রহণ
আমি পড়াশোনার সুবাদে চট্টগ্রামে থাকি। সেখানে ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করি। দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর ডাক, অবিচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান এসব আমাকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য করে। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের চেয়ে আন্দোলনের মঞ্চ আমার কাছে হয়ে ওঠে বড় পাঠশালা। কিন্তু ৩ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত চট্টগ্রামে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। পুলিশের হঠাৎ রেড ও ব্যাচেলার বাসায় তল্লাশির কারণে বাধ্য হয়ে ফেনীতে ফিরে আসি।
ফেনীতে এসে জানতে পারি, ৪ আগস্টে বড় পরিসরে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বপ্ন বাঁচানোর সেই ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকার উপায় ছিল না। আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু সকাল ১০টার সময় ঘর থেকে বের হই। সেদিনের সকালটি অন্যরকম ছিল আকাশ যেন ভারী হয়ে ঝুলে আছে, শহর জুড়ে উত্তেজনার ঢেউ বইছে। জোহরের নামাজের পর পরেই হঠাৎ দেখি, ট্রাংক রোড থেকে মহিপাল অভিমুখে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা ঝাঁকে ঝাঁকে এগিয়ে আসছে। হাতে অস্ত্র, মুখে উগ্রতা এ যেন রাষ্ট্রেরই পোষা ঘাতক বাহিনী, যারা নিজেদের ভাইদের রক্তে স্নান করতে এসেছে। তারা সামনে এগিয়ে আসতে আসতে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। নিরীহ সাধারণ ছাত্ররা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, জীবন বাঁচানোর তাগিদে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে।
আমি ও আমার বন্ধুরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে যাই পাঁচগাছিয়া নোয়াখালী রোডের দিকে। কিন্তু আন্দোলনের আগুন সহজে নিভে যাওয়ার নয় কয়েকবার ধাওয়া আর পাল্টা ধাওয়ার পরও আমরা হাল ছাড়িনি। এই দেশপ্রেম, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস আমাদের বুক ভরা শক্তি জুগিয়েছে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা আমাদের কাবু করে ফেলে। মহিপাল জিরো পয়েন্টে দুপুর ২টার দিকে আমি গুলিবিদ্ধ হই। সেই মুহূর্তে পৃথিবী যেন থমকে দাঁড়াল। চোখের সামনে শুধু রক্ত, চিৎকার আর আতঙ্ক যেন ঘাতকরা মানবতার বুক চিরে বিজয় উৎসব করছে।
আওয়ামী ঘাতক বাহিনীর এই নৃশংসতা শুধু আমার শরীরকে রক্তাক্ত করেনি, বরং মাটির গভীরে দাগ কেটেছে। ছাত্রদের বুকের রক্ত দিয়ে তারা ক্ষমতার সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। অথচ আমরা চেয়েছিলাম ন্যায়, চেয়েছিলাম পরিবর্তন, চেয়েছিলাম একটি মুক্ত বাংলাদেশ। কিন্তু সেদিন মহিপালে আমার গুলিবিদ্ধ শরীর যেন সাক্ষী হয়ে রইল স্বৈরাচারের হাতে এই জাতি কীভাবে বারবার রক্তাক্ত হয়।
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণ
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আমাকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থার ক্রমবর্ধমান জটিলতার কারণে আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে একটি বেডে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে সেখানে ছাত্রলীগের আক্রমণের ফলে আমার বন্ধুদের সহায়তায় আমাকে পিছনের গেট দিয়ে নিরাপদভাবে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর আমি নিজ খরচে ফেনী আল কেমী হাসপাতাল, ফেনী কনসেপ্ট হাসপাতাল, চট্টগ্রাম পার্ক ভিউ এবং সর্বশেষ ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই। এই চিকিৎসার মধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে আমার অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার মাথায় দুইটি এবং হাতে একটি গুলি এখনও রয়েছে, যা অপারেশন করে বের করা প্রয়োজন। চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। পেশাগতভাবে আমি একজন ছাত্র; চলমান পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্কলারশিপের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, নিজ জীবনযাত্রা ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি চাকরির প্রয়োজনও অপরিহার্য। সামগ্রিকভাবে, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়া আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে এবং যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তার মাধ্যমে আমি পূর্ণ সুস্থতার দিকে এগোতে চাই।

নাম : মো: নাজমুল হাসান
জন্ম তারিখ : ০১-০৩-২০০২
জন্মস্থান : ছাগলনাইয়া, ফেনী
পেশা : শিক্ষার্থী
প্রতিষ্ঠান : ছাত্র
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: উত্তর যশপুর, ইউনিয়ন: মহামায়া, থানা: ছাগলনাইয়া, জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা : এলাকা/মহল্লা: পাঠান বাড়ী, থানা: ফেনী সদর, জেলা: ফেনী
পারিবারিক তথ্য
পিতার নাম : মো: আহসান উল্লাহ
পিতার পেশা : চাকরি
মাতার নাম : নাজমুন নাহার
মাতার পেশা : গৃহিণী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
মাসিক আয় : ৪০,০০০/-
আয়ের উৎস : চাকরি
ভাই- বোনের তথ্যাদি
মো: নাইমুল হাসান, সম্পর্ক: ভাই
আহত হওয়ার স্থান : ফেনী, মহিপাল জিরো পয়েন্ট
আহত হওয়ার সময় : ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর ২টা
আক্রমণকারী : আওয়ামীলীগ ও ঘাতক পুলিশের গুলিতে
আহত ধরণ : মাথায় দুটি, হাতে একটি গুলি, একাধিক ছররা গুলি, হাড়ে বিদ্ধ
চিকিৎসা : ১. প্রাথমিক চিকিৎসা ফেনী সদর হাসপাতালে, ২. চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও ন্যাশনাল
মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি, ৩. ফেনী আল কেমী হাসপাতাল, কনসেপ্ট হাসপাতাল,
চট্টগ্রাম পার্ক ভিউ ও ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসা, ৪. অপারেশনের
প্রয়োজন (গুলি বের করতে হবে), ৫. বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: ১. উন্নত চিকিৎসা অপরিহার্য, অপারেশন করা প্রয়োজন, ২. পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার
জন্য স্কলারশিপ প্রয়োজন, ৩. জীবনধারণ ও চিকিৎসার খরচ নির্বাহের জন্য চাকরির প্রয়োজন

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍