আবদুল্লাহ আহমাদ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
আবদুল্লাহ আহমাদ এর জন্ম মাদারীপুরের শিবচরের রাজারচর মৃধাকান্দি গ্রামে ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল। আবদুল্লাহ আহমাদ ছিল এক স্বপ্ন বুকে নেওয়া কিশোর, যার লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মেধাবী দ্বাদশ শ্রেণির এই ছাত্র নিয়ম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সহপাঠীদের কাছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের কাভার্ড ভ্যান তাঁর পায়ের ওপর তুলে দিলে ছিঁড়ে যায় লিগামেন্ট থেমে যায় তার স্বপ্নের দিগন্ত। সাতটি অস্ত্রোপচার, মাসের পর মাস হাসপাতালের বিছানা আর অচল পায়ের যন্ত্রণা সত্ত্বেও তাঁর চোখে আজও টিকে আছে একটাই আলো ন্যায়ের প্রতীক্ষা। আবদুল্লাহ আজ সেই তরুণদের প্রতীক, যাদের স্বপ্ন ভাঙা মানেই দেশের ভবিষ্যৎ আহত হওয়া।
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
পায়ের উপর কাভার্ড ভ্যান চালিয়ে দিলো স্বৈরাচারী পুলিশ
(লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে)
আবদুল্লাহ আহমাদ
ক্রমিক: ০৪৭
আইডি: ঢাকা সিটি ০৪৭
জন্ম
আবদুল্লাহ আহমাদ ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার রাজারচর মৃধাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: শাহাদাৎ হোসেন মুন্না একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যিনি পাশাপাশি লেখালেখির সাথেও যুক্ত। মা মোছা: বিলকিস আক্তার একজন গৃহিণী। বর্তমানে তারা ঢাকার কাফরুল থানার ইব্রাহীমপুর এলাকার ৪৩/৩/বি নম্বর বাসায় বসবাস করছেন। পিতা-মাতার সীমিত আয়ের সংসারে বেড়ে ওঠে দুই ভাই। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বর্তমানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ গড়া। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই স্বপ্নের প্রাণ। তিনি শুধু মেধাবী ছিলেন না, বরং ছিলেন সাহসী, কর্তব্যপরায়ণ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক কিশোর।
শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আব্দুল্লাহ বর্তমানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার জীবন ছিল অনুশাসন আর অধ্যবসায়ে পূর্ণ। শ্রেণিতে সবসময় প্রথম সারির ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা।
ছেলেবেলা থেকেই তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতেন বাবা-মা। শারীরিকভাবে সবসময় সচল, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বদানে দক্ষ আব্দুল্লাহ ছিলেন বন্ধুদের অনুপ্রেরণা। প্রতিদিনের দিনযাপন ছিল ব্যস্ত কিন্তু সুশৃঙ্খল। সকালে কলেজ, বিকেলে কনিষ্ঠ ভাইকে পড়ানো, রাতে নিজের পড়াশুনা করতেন। এই জীবনযাপনই ছিল তার প্রস্তুতি একটি গৌরবময় ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ আজ ভেঙে চূর্ণ। পুলিশের কাভার্ড ভ্যানের নিচে থেঁতলে যাওয়ার পর তার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন আজ প্রায় অসম্ভব। হাঁটু আর ভাঁজ করা যাবে না ডাক্তারদের এমন ঘোষণায় যেন পৃথিবীটা থমকে গেছে তার জন্য।
আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার বিবরণ
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দেশব্যাপী চলছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। তরুণ সমাজ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। আব্দুল্লাহও এতে ছিলেন অগ্রসার সারির যোদ্ধা। ১৮ জুলাই থেকে তিনি নিয়মিত ইসিবি চত্বরে আন্দোলনে অংশ নেন। ৩ ও ৪ আগস্টেও তিনি প্রতিবাদের কেন্দ্রে ছিলেন। ৪ আগস্ট ইসিবি চত্বরে আন্দোলন চলার সময়, ছাত্রদের শক্তি দেখে পুলিশ পিছু হটে। আন্দোলনকারী ছাত্ররা তখন মিরপুর-১০ এর দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। মিরপুর ১৩ নম্বর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ একটি কাভার্ড ভ্যান উঠিয়ে দেয় সরাসরি তার শরীরের উপর। ডান পা ও বাম পায়ের কিছু অংশ থেতলে যায়। ছিড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট। পুলিশের সদস্যরা শুধু গাড়ি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, গুলিও ছোঁড়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে। ভাগ্যের ফেরে বেঁচে যান আব্দুল্লাহ, কিন্তু জীবনের গতি চিরতরে পাল্টে যায়।
চিকিৎসা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা
আব্দুল্লাহ আহত হওয়ার পর পরই তাকে দ্রুত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি টানা ১০ মাস ভর্তি ছিলেন। এই সময়ে ৭টি জটিল অপারেশন হয়, যার মধ্যে হাড়ের সার্জারি, টিস্যু প্রতিস্থাপন ও স্নায়ুর অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত ছিল। চিকিৎসকদের মতে, তিনি আর কখনো হাঁটু ভাজ করতে পারবেন না। এমনকি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। হাঁটা-চলা করতে হয় অন্যের সাহায্যে বা হুইল চেয়ারে বসে। থেরাপি চলমান, কিন্তু উন্নতির আশাও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শারীরিক যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কষ্ট দেয় মানসিক যন্ত্রণা। সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন, জীবন যুদ্ধের সাহস, শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সব আজ অন্ধকারে তলিয়ে গেছে। পায়ে ব্যথা যেমন হয়, তেমনই বুকে জমে থাকে অদৃশ্য বোঝা।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পরিবারের প্রভাব
আব্দুল্লাহর পরিবার মূলত তার বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসার আয়ে চলে। সেই আয়েই সংসার, বাসা ভাড়া, ভাইয়ের পড়ালেখা, মায়ের ওষুধ এবং খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু ছেলের দীর্ঘ চিকিৎসা অপারেশন, হাসপাতালে থাকা, থেরাপি এসব খরচে সংসারের ভীত একেবারে নড়বড়ে হয়ে গেছে। বাবা এখন আর আগের মতো ব্যবসা চালাতে পারেন না। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, শরীরেও দুর্বলতা। মা দিনের পর দিন হাসপাতালে ছেলের পাশে কাটিয়েছেন, ফলে সংসার হয়ে পড়েছে আরও অচল। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখাও থেমে যাওয়ার উপক্রম। এত বিপদের মধ্যেও পরিবারটি এখনও চেষ্টা করছে নিজেদের ধরে রাখার। বর্তমানে বাসা ভাড়া দিতে হয়তো দু'মাস পিছিয়ে গেছে, বিদ্যুৎ বিল বাকি, মুদির দোকানে বাকির খাতা ফুলে উঠেছে। আব্দুল্লাহ নিজে কিছু করতে পারছেন না এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
আবদুল্লাহ আহমাদ একজন ছাত্র, একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, একজন ভবিষ্যতের সৈনিক। রাষ্ট্র যদি এখন তার পাশে না দাঁড়ায়, তবে রাষ্ট্রই দায়ী থাকবে আরেকটি প্রতিভার পতনের জন্য। আব্দুল্লাহর পুনর্বাসন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটাই ন্যায়।
সহায়তা, পুনর্বাসন ও প্রস্তাবনা
আবদুল্লাহ আহমাদের জীবনবৃত্তান্ত এক নির্মম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দলিল। তার জীবনের এই করুণ পরিণতির দায় এড়াতে পারে না রাষ্ট্র। তাই তাকে পুনর্বাসনের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নেয়া
আবশ্যক:
১. এককালীন আর্থিক অনুদান চিকিৎসার খরচ, থেরাপি ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে তাৎক্ষণিক ভাতা প্রদান জরুরি। চাকরি বা বৃত্তির ব্যবস্থা তার চলাফেরার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় ঘরে বসে কাজ করার উপযোগী চাকরি বা শিক্ষা সহায়ক ভাতা।
পুনর্বাসন কেন্দ্র মানসিক কাউন্সেলিং দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি ও মনোচিকিৎসা ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিবারের খাদ্য সহায়তা ও ভাতা, অন্তত এক বছরের জন্য পরিবারকে সহায়তা দিতে হবে যেন তারা এই সংকটকালে বেঁচে থাকতে পারে।
এক নজরে আবদুল্লাহ আহমাদ
নাম: আবদুল্লাহ আহমাদ
জন্ম তারিখ: ১০-০৪-২০০৭
জন্মস্থান: মাদারীপুর
পেশা: ছাত্র (দ্বাদশ শ্রেণি)
প্রতিষ্ঠান: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
নিজ জেলা: মাদারীপুর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রাজারচর মৃধাকান্দি, পোষ্ট: সন্ন্যাসীরচর, উপজেলা: শিবচর, জেলা: মাদারীপুর
বর্তমান ঠিকানা: ৪৩/৩/বি, সৃজনী সড়ক, ইব্রাহীমপুর, কাফরুল, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মো: শাহাদাৎ হোসেন মুন্না
মায়ের নাম: মোছা: বিলকিস আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ৪০
মায়ের পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৩৪
আয়ের উৎস: বাবার পেশা
ভাই: আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, দশম শ্রেণির ছাত্র
আহত হওয়ার স্থান: রোড ১৩, মিরপুর ১০, ঢাকা
আহত হওয়ার তারিখ
৪ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী: পুলিশ
(লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে)
আবদুল্লাহ আহমাদ
ক্রমিক: ০৪৭
আইডি: ঢাকা সিটি ০৪৭
জন্ম
আবদুল্লাহ আহমাদ ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার রাজারচর মৃধাকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: শাহাদাৎ হোসেন মুন্না একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যিনি পাশাপাশি লেখালেখির সাথেও যুক্ত। মা মোছা: বিলকিস আক্তার একজন গৃহিণী। বর্তমানে তারা ঢাকার কাফরুল থানার ইব্রাহীমপুর এলাকার ৪৩/৩/বি নম্বর বাসায় বসবাস করছেন। পিতা-মাতার সীমিত আয়ের সংসারে বেড়ে ওঠে দুই ভাই। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বর্তমানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ গড়া। আব্দুল্লাহ ছিলেন সেই স্বপ্নের প্রাণ। তিনি শুধু মেধাবী ছিলেন না, বরং ছিলেন সাহসী, কর্তব্যপরায়ণ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এক কিশোর।
শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আব্দুল্লাহ বর্তমানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তার জীবন ছিল অনুশাসন আর অধ্যবসায়ে পূর্ণ। শ্রেণিতে সবসময় প্রথম সারির ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা।
ছেলেবেলা থেকেই তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতেন বাবা-মা। শারীরিকভাবে সবসময় সচল, আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বদানে দক্ষ আব্দুল্লাহ ছিলেন বন্ধুদের অনুপ্রেরণা। প্রতিদিনের দিনযাপন ছিল ব্যস্ত কিন্তু সুশৃঙ্খল। সকালে কলেজ, বিকেলে কনিষ্ঠ ভাইকে পড়ানো, রাতে নিজের পড়াশুনা করতেন। এই জীবনযাপনই ছিল তার প্রস্তুতি একটি গৌরবময় ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ আজ ভেঙে চূর্ণ। পুলিশের কাভার্ড ভ্যানের নিচে থেঁতলে যাওয়ার পর তার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন আজ প্রায় অসম্ভব। হাঁটু আর ভাঁজ করা যাবে না ডাক্তারদের এমন ঘোষণায় যেন পৃথিবীটা থমকে গেছে তার জন্য।
আন্দোলনের সময় আহত হওয়ার বিবরণ
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে দেশব্যাপী চলছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। তরুণ সমাজ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। আব্দুল্লাহও এতে ছিলেন অগ্রসার সারির যোদ্ধা। ১৮ জুলাই থেকে তিনি নিয়মিত ইসিবি চত্বরে আন্দোলনে অংশ নেন। ৩ ও ৪ আগস্টেও তিনি প্রতিবাদের কেন্দ্রে ছিলেন। ৪ আগস্ট ইসিবি চত্বরে আন্দোলন চলার সময়, ছাত্রদের শক্তি দেখে পুলিশ পিছু হটে। আন্দোলনকারী ছাত্ররা তখন মিরপুর-১০ এর দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। মিরপুর ১৩ নম্বর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ একটি কাভার্ড ভ্যান উঠিয়ে দেয় সরাসরি তার শরীরের উপর। ডান পা ও বাম পায়ের কিছু অংশ থেতলে যায়। ছিড়ে যায় পায়ের লিগামেন্ট। পুলিশের সদস্যরা শুধু গাড়ি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, গুলিও ছোঁড়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে। ভাগ্যের ফেরে বেঁচে যান আব্দুল্লাহ, কিন্তু জীবনের গতি চিরতরে পাল্টে যায়।
চিকিৎসা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা
আব্দুল্লাহ আহত হওয়ার পর পরই তাকে দ্রুত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি টানা ১০ মাস ভর্তি ছিলেন। এই সময়ে ৭টি জটিল অপারেশন হয়, যার মধ্যে হাড়ের সার্জারি, টিস্যু প্রতিস্থাপন ও স্নায়ুর অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত ছিল। চিকিৎসকদের মতে, তিনি আর কখনো হাঁটু ভাজ করতে পারবেন না। এমনকি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। হাঁটা-চলা করতে হয় অন্যের সাহায্যে বা হুইল চেয়ারে বসে। থেরাপি চলমান, কিন্তু উন্নতির আশাও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শারীরিক যন্ত্রণার চেয়ে বেশি কষ্ট দেয় মানসিক যন্ত্রণা। সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন, জীবন যুদ্ধের সাহস, শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সব আজ অন্ধকারে তলিয়ে গেছে। পায়ে ব্যথা যেমন হয়, তেমনই বুকে জমে থাকে অদৃশ্য বোঝা।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পরিবারের প্রভাব
আব্দুল্লাহর পরিবার মূলত তার বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসার আয়ে চলে। সেই আয়েই সংসার, বাসা ভাড়া, ভাইয়ের পড়ালেখা, মায়ের ওষুধ এবং খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু ছেলের দীর্ঘ চিকিৎসা অপারেশন, হাসপাতালে থাকা, থেরাপি এসব খরচে সংসারের ভীত একেবারে নড়বড়ে হয়ে গেছে। বাবা এখন আর আগের মতো ব্যবসা চালাতে পারেন না। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, শরীরেও দুর্বলতা। মা দিনের পর দিন হাসপাতালে ছেলের পাশে কাটিয়েছেন, ফলে সংসার হয়ে পড়েছে আরও অচল। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখাও থেমে যাওয়ার উপক্রম। এত বিপদের মধ্যেও পরিবারটি এখনও চেষ্টা করছে নিজেদের ধরে রাখার। বর্তমানে বাসা ভাড়া দিতে হয়তো দু'মাস পিছিয়ে গেছে, বিদ্যুৎ বিল বাকি, মুদির দোকানে বাকির খাতা ফুলে উঠেছে। আব্দুল্লাহ নিজে কিছু করতে পারছেন না এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
আবদুল্লাহ আহমাদ একজন ছাত্র, একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, একজন ভবিষ্যতের সৈনিক। রাষ্ট্র যদি এখন তার পাশে না দাঁড়ায়, তবে রাষ্ট্রই দায়ী থাকবে আরেকটি প্রতিভার পতনের জন্য। আব্দুল্লাহর পুনর্বাসন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটাই ন্যায়।
সহায়তা, পুনর্বাসন ও প্রস্তাবনা
আবদুল্লাহ আহমাদের জীবনবৃত্তান্ত এক নির্মম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দলিল। তার জীবনের এই করুণ পরিণতির দায় এড়াতে পারে না রাষ্ট্র। তাই তাকে পুনর্বাসনের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নেয়া
আবশ্যক:
১. এককালীন আর্থিক অনুদান চিকিৎসার খরচ, থেরাপি ও ওষুধের ব্যয় মেটাতে তাৎক্ষণিক ভাতা প্রদান জরুরি। চাকরি বা বৃত্তির ব্যবস্থা তার চলাফেরার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় ঘরে বসে কাজ করার উপযোগী চাকরি বা শিক্ষা সহায়ক ভাতা।
পুনর্বাসন কেন্দ্র মানসিক কাউন্সেলিং দীর্ঘমেয়াদী ফিজিওথেরাপি ও মনোচিকিৎসা ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিবারের খাদ্য সহায়তা ও ভাতা, অন্তত এক বছরের জন্য পরিবারকে সহায়তা দিতে হবে যেন তারা এই সংকটকালে বেঁচে থাকতে পারে।
এক নজরে আবদুল্লাহ আহমাদ
নাম: আবদুল্লাহ আহমাদ
জন্ম তারিখ: ১০-০৪-২০০৭
জন্মস্থান: মাদারীপুর
পেশা: ছাত্র (দ্বাদশ শ্রেণি)
প্রতিষ্ঠান: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
নিজ জেলা: মাদারীপুর
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: রাজারচর মৃধাকান্দি, পোষ্ট: সন্ন্যাসীরচর, উপজেলা: শিবচর, জেলা: মাদারীপুর
বর্তমান ঠিকানা: ৪৩/৩/বি, সৃজনী সড়ক, ইব্রাহীমপুর, কাফরুল, ঢাকা
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মো: শাহাদাৎ হোসেন মুন্না
মায়ের নাম: মোছা: বিলকিস আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ৪০
মায়ের পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৩৪
আয়ের উৎস: বাবার পেশা
ভাই: আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, দশম শ্রেণির ছাত্র
আহত হওয়ার স্থান: রোড ১৩, মিরপুর ১০, ঢাকা
আহত হওয়ার তারিখ
৪ আগস্ট ২০২৪
আক্রমণকারী: পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍