হোম / আহতদের তালিকা / রাকিবুল হাসান সাইমন
রাকিবুল হাসান সাইমন

রাকিবুল হাসান সাইমন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছত্র ও ব্যাবসায়ী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্মপরিচয়
পশ্চিম ফতেপুর, ছাগলনাইয়ার চাঁদগাজীর মাটিতে ২০০৩ সালের ১০ অক্টোবর জন্ম নেয় এক কিশোর, নাম রাকিবুল হাসান সাইমন। ছোটবেলায় বাবা শরিয়ত উল্লাহ আর মা জোসনা আক্তারের ভালোবাসায় বেড়ে উঠলেও, পরবর্তীতে দুজনকেই হারাতে হারিয়েছেন। এতিম হয়ে ওঠা রাকিবুল তখন থেকেই নিজেকে গড়ে তুলেছে জীবনের কঠিন পাঠশালায়। পেট চালাতে দিনে ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ, আর রাতে বইয়ের পাতায় চোখ। এই দ্বৈত পরিচয়ের ভার নিয়ে সে বড় হচ্ছে একজন সাহসী তরুণ হিসেবে। বর্তমানে সে পশ্চিম ফতেহপুর, দাগনভূঞাঁর একটি ছোট ঘরে তার ভাই-বোনদের নিয়ে পাঁচজনের সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে আয় মাত্র পাঁচ হাজার টাকা।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপাল এলাকায় রাজপথে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ নিতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক ভয়ংকর ঝড়। বিকেল ২টা থেকে ২টা ৩০-এর মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ ঘাতক আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায়। বেধড়ক মারধরে রাকিবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, রক্তে ভিজে যায় তার জামা-কাপড়। সেখান থেকে আহত অবস্থায় তাকে তুলতে হয় হাসপাতালে, ওঠে হাসপাতালের বেডে। সেখানে শুয়ে থেকেও তার চোখে ছিল না পরাজয়ের ছাপ, ছিল না ভয় বরং ছিল এক নিঃশব্দ জেদ, ছিল বুকের ভেতর গর্জে ওঠা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। রাকিবুল তখন শুধু একজন আহত তরুণ নয়, বরং হয়ে উঠেছিল একটি প্রতিরোধের নাম।
আন্দোলনে অংশগ্রহন ও ভূমিকা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—একটি দিন, যা রাকিবুল ইসলামের জীবনে শুধু রক্তাক্ত স্মৃতি নয়, বরং হয়ে উঠেছে এক জাতীয় বেদনার দিন। মহিপাল মোড়, যেখানে হাজারো ছাত্র-জনতা “এক দফা, এক দাবি” আন্দোলনের ব্যানারে একত্রিত হয়েছিল, সেই স্থানে দুপুর ২টা নাগাদ নেমে আসে ভয়ঙ্কর নৃশংসতা। যোহরের নামাজ শেষ, বাতাসে তখনো ছিল শান্ত এক প্রত্যাশা। হঠাৎই ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ট্রাংক রোড দিয়ে মিছিলের দিকে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ছুটে আসে। আশপাশে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে জনতা, কিন্তু রাকিবুল তখনও পিছু হটেনি। নিজের অবস্থান আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেই একে একে শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি গুলি—ডান হাতে একটি, ডান পায়ে দুটি এবং বাম পায়ে একটি। সে মুহূর্তেই সে লুটিয়ে পড়ে রাজপথে—রক্তে ভিজে যায় পিচঢালা মাটি।
কিন্তু এ আক্রমণ ছিল শুধু কোনো মিছিলের ওপর নয়, বরং ছিল একটি পুরো প্রজন্মকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেখানে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ আর বর্বরের মতো আচরণকারী পুলিশ বাহিনী এক হয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করতে শুরু করে। সেই ফ্যাসিবাদী চেহারারই নগ্ন প্রকাশ ঘটে মহিপালে। গুলি চালানো, পেটানো, রক্তাক্ত করা—এসব ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর দমননীতির অংশ। রাকিবুল ইসলাম, যিনি তখন একজন সাধারণ ছাত্র এবং খণ্ডকালীন ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে জীবিকা চালাতেন, সেই দিনে পরিণত হন রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের এক প্রত্যক্ষ শিকার। তাঁর ওপর চালানো হামলা ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক নগ্ন নজির।
তবে রাকিবুলের গল্প এখানেই শেষ নয়—বরং এখান থেকেই শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। তিনি শুধু আহত হননি, বরং তাঁর সেই রক্তাক্ত শরীরই আন্দোলনের এক শক্তিশালী চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়। জুলাই মাসজুড়ে রাজপথে তার সাহসী অংশগ্রহণ, প্রতিদিনের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় উপস্থিতি, “হাসিনা কবে যাবি” স্লোগানে গলা মেলানো—সবই প্রমাণ করে, এই কিশোর ছিল এক নীরব প্রতিবাদ থেকে জেগে ওঠা বজ্রনিনাদ। আজ রাকিবুল ইসলাম শুধু একজন গুলিবিদ্ধ তরুণ নয়, বরং ফ্যাসিবাদী জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একটি নাম, একটি চেতনা, একটি অঙ্গীকার। যে ন্যায় কে চুপ করাতে চেয়েছিল, রক্ত ঝরিয়ে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, তারা জানে না—এই তরুণরাই ইতিহাস লেখে।
চিকিৎসাঃ শারীরিক আঘাতের তীব্রতা ও সংকটময় অবস্থায় তিনি দ্রুত নোয়াখালী চলে যান। সেখানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
শরীর কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর, উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি স্থানান্তরিত হন ফেনীর দাগনভূঞাঁ সদর হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হয়।
চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় পরে তিনি দাগনভূঞাঁ ডায়াবেটিস হাসপাতালে যান, যেখানে তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে বিশেষায়িত চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

একনজর বিবরণী
নাম : রাকিবুল হাসান সাইমন
জন্মতারিখ : ১০-১০-২০০৩
জন্মস্থান : পশ্চিম ফতেপুর, চাঁদগাজী, ছাগলনাইয়া,ফেনী
পেশা : ছত্র ও ব্যাবসায়ী
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা : পশ্চিম ফতেহপুর, দাগনভূঞা, ফেনী
পিতা : মৃত শরিয়ত উল্লাহ
মাতা : মৃত জোসনা আক্তার
আয় : ৫০০০ (ইলেক্ট্রিশিয়ান)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
ঘটনার স্থান : মহিপাল, ফেনী
আক্রমণকারী : আওয়ামীলীগ ও পুলিশ বাহীনি
আহত হওয়ার তারিখ : ২:০০ -২:৩০, ৪/৮/২০২৪

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍