মাহিনুল করিম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
এই সংগ্রাম জুলাই থেকে নয়
২০১৮ সাল। কোটা আন্দোলনের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের আঘাতে আহত হই। এরপর ২০২১ সালে কুমিল্লায় এক মন্দিরে পবিত্র কুরআনুল কারিম অবমাননার বিচার চেয়ে আন্দোলন করি। ফেনী বড় মসজিদের সামনে আছরের নামাজের পর শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিজাম হাজারীর নির্দেশে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঝামেলা দেখে সেখান থেকে চলে যাই। প্রাইভেট পড়া শেষ করি। রাত ৯:০০ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের উপর চারিদিক থেকে হামলা চালায় নিজাম হাজারীর বাহিনীরা। পবিত্র কুরআন নিয়ে বিতর্কিত কথা বলায় জনতার টগবগে রক্ত দ্বিগুন টগবগে হয়ে যায়।
তখনও আমার এইচএসসি পরীক্ষার দুই মাস বাকী রয়েছে। ঘটনার ৭ -৮ দিন পরে বাসায় পুলিশ আসে। আমাকে না পেয়ে তৎকালীন সি আই ডি আফিসার হুমায়ুন আমার বড়ো মামাকে গ্রেফতার করে। মামার মোবাইল থেকে আমাকে কল করে বড মসজিদের সামনে ডেকে নেয়। আমার কাঁধে ব্যাগ ছিল। আমাকে জানায়, তোমার সাথে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ আছে। চলো আমার সাথে। কথা শেষ হলে আবারও ছেড়ে দিবে। এরপর আমাকে গাড়ীতে করে নিয়ে যায়। সেখানে ২-৩ জন সিআইডি অফিসার আমাকে হুমকি দেয়। আমি আমার কথায় অটল ছিলাম। আমি বলেছিলাম আমি কোন আপরাধ করিনি। এরপরও তারা ৩ দিন আামকে গোপন কক্ষে আটকে রাখে। চতুর্থ দিন আমার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে ছাত্র শিবিরের কর্মী আখ্যায়িত করে চালান করে দেওয়া হয়। তবে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত ছিলাম না। আমার আম্মু-আব্বুর চোখের পানি দেখে কষ্টে বুকটা ফেটে যেত। এখনো এই বিবরণী লেখার সময় আমার দুটি চোখ ছলছল করছে।
আমার কোনো আপরাধ না থাকলেও আমার নামে তিনটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এখনও সেই মিথ্যা মামলার হাজিরা দিতে হয়। গ্রেফতার থাকাকালীন আব্বু তৎকালীন জজ সাহেব ও উকিলের মাধ্যমে পরীক্ষা ও কারাগারে বই পাঠানোর অনুমতি নেয়। জেলের ভিতর ২ মাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করি। জেলখানার ভিতরে একটি কক্ষে একজন শিক্ষক ও দুজন পুলিশের তত্বাবধানে পরীক্ষা সমাপ্ত হয়। এরপর পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হলে আম্মু ছুটে আসে আমাকে জানানোর জন্য। পথমধ্যে ছিনতাই কারীরা স্প্রে করে আম্মুকে অচেতন করে সমস্ত গহনাগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। দুইদিন পর এই ঘটনা ও আমার রেজাল্ট জানাতে আব্বু ও মামা আসে। কাঁদতে কাঁদতে সমস্ত ঘটনা খূলে বলে এবং তারা জানায় আমি জিপিএ-৪.০৮ পেয়েছি।
কান্না করতে করতে বলে ঐঝঈ রেজাল্ট( কমার্স) ৪.০৮। দীর্ঘ নয় মাস কারাবরণ করার পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাই। জেলে থাকা অবস্থায় মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করে রাখে। কিন্তু জামিন দিরিতে হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে পারি না। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা দিই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২ মার্কের জন্য মিস ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। এই দেশের প্রতি জন্মায় তীব্র ঘৃণা। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চেষ্টা করি কিন্তু তাও রিফিউজ। এরপর শুরু হয় ২০২৪ এর কোটা আন্দোলন ১৭-১৮ তারিখ অংশগ্রহণ করলে ১৭ তারিখ ছাত্রলীগের হামলায় সরে যাই। ১৮ তারিখ বড় মসজিদের গলিতে আন্দোলন গঠিত করতে চাইলে পুলিশের গুলিতে আচ্ছা ছাএলীগের হামলায় রামপুরে দিকে হয়ে বাসায় চলে যাই। ৩ তারিখ সকল ছাত্রছাত্রীরা পুরো টাং রোড দখল নিয়ে আসে। ৪ তারিখ আরো বড় হবে আন্দোলন সকল স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী আমরা এক হবো। রাতে নিজাম হাজারীর পৌরসভায় তার বাড়ির আশেপাশে, পৌরসভায় অস্ত্রদারী সন্ত্রাসীদের জড়ো করে রাতেই বুজতে পারি কালকে ছাএদের ভুকে গুলি চালানো হবে তাও আন্দোলন অংশগ্রহণ করি সাথে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব, ভাই ব্রাদার নিয়ে। ডাউনলোডে কয়েক দফা গোলাগুলির পরে ছাত্রলীগ এগোতে থাকে মনিপাল ফ্লাইওভারের নিচে শর্ট গান, রাইফেল দিয়ে শুরু করে ছাত্রদের উপর আতঙ্কিত হামলা একদিনেই যরে পড়ে ৭ টি তাজা প্রাণ। চারদিকে রক্ত আহত প্রায় পাঁচশতাধিক। হঠাৎ করে গুলি আমার পায়ে লেগে আমি পড়ে যাই সাথে থাকা এক বড় ভাই টেনে তুলে তার বাইকে করে সাথে সাথে নিয়ে যায় জেড ইউ হাসপাতালে কিন্তু কেউ ভিতর ডুকতে দেয়না দরজা বন্ধ পরে রিকোয়েস্ট করলে ব্যান্ডেজ আর বায়োডিন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। সাথে সাথেই বাড়ির দিকে রওনা হই মোবাইল বন্ধ নেটওয়ার্ক বন্ধ যারা সাথে আসছে তাদের কাউকে আর পাচ্ছিনা।শহীদ শ্রাবণের লাশ দেখে সবাই ভেবেছিল আমি (তার আমার চেহারায় নাকি মিল) মারা গেছি ।নেট আসার পরে বন্ধুবান্ধবরা সবাই মেসেঞ্জারে হোয়াটসঅ্যাপে খবর খবর নিচ্ছিল শহীদ শ্রাবণের ছবি নিউজ পাঠাচ্ছিল এরপর সোনাগাজী গ্লোবালে ডাক্তার দেখালে এক্স রিপোর্টের পিলেট দুইটা পিলেট টাকা ছাড়া বের করেন ডা: তৌহিদ। ক্রিটিক্যাল জায়গার পিলেট বের করা সম্ভব হয় না বের করতে। এখনো আমার শরীরে গুলি পিলেট রয়েছে। মাঝে মাঝে মাজ রাতে শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা। থেরাপি, ভিটামিনের ইনডাকশন দেওয়া লাগে ব্যথা বেড়ে গেলে। কষ্ট ভেবে বেড়াচ্ছে শরীরে ২৪ এর আন্দোলন বাংলাদেশের স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন। আমরা চাই না আমাদের দেশে এরকম সরে এসে তৈরি হোক আমরা চাই না কারো মায়ের বুক খালি হোক নিজের শরীরের কষ্ট নিজেই বুঝি। সামনের আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর ভাবে যেন গড়ে উঠে। এটাই প্রত্যাশা স্বৈরাচার মানেই অন্যায়ের শাসন, যেখানে মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ থাকে,বাকস্বাধীনতা থাকে না, আর রাষ্ট্র পরিচালিত হয় ভয় ও দমননীতিরূ মাধ্যমে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী— বারবার এই দেশে ছাত্র ও জনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দাঁড়িয়েছে
আমাদের ছাত্র সমাজ কখনো নীরব দর্শক ছিল না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্র সমাজ ছিল অগ্রভাগে। তারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য।
জনতাও ছিল এই লড়াইয়ের প্রাণশক্তি। শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী— সবাই মিলেই রচনা করেছে একতার মহাকাব্য।
স্বৈরাচার সরকারের পতন মানেই শুধু এক শাসকের বিদায় নয়— এটি ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিকতার নতুন সূচনা। আর সেই সূচনা সফল করতে হলে প্রয়োজন গভীর ও সার্বিক সংস্কার।
প্রথমত, রাজনৈতিক সংস্কার —
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ইচ্ছাই যেন রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার —
দুর্নীতি, দলীয় প্রভাব ও অন্যায় দূর করে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার শুধু ধনীদের জন্য নয়— সবার জন্য হয়।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক সংস্কার —
জনগণের পরিশ্রমের ফল যেন কেবল এক শ্রেণির হাতে না থাকে। কৃষক, শ্রমিক ও তরুণদের সুযোগ দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, অর্থনীতিকে জনগণের কল্যাণমুখী করতে হবে।
চতুর্থত, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার যে ছাত্র সমাজ নিজের জীবন দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য, তাদের আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শিক্ষায় দেশপ্রেম, মানবতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকে।
পঞ্চমত, সামাজিক পুনর্গঠন —
যারা ত্যাগ ও রক্ত দিয়ে এই দেশকে গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে— সেই শহিদ ও আহত ছাত্র ও জনতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ছাত্র-জনতার ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই ত্যাগ যেন বিফল না হয়— সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।
চলুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি দেশ গড়ে তুলি যেখানে অন্যায় নেই, বৈষম্য নেই, ভয় নেই
যেখানে প্রতিটি নাগরিক মাথা উঁচু করে বলতে পারে,
“এই দেশ আমার, এই গণতন্ত্র আমার।
নাম : মাহিনুল করিম
জন্মতারিখ : জানুয়ারি, ২০০০
জন্মস্থান : ফেনী, সোনাগাজী
পেশা : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
স্থায়ী ঠিকানা : সোনাগাজী, ফেনী
পারিবারিক তথ্য:
পিতা : শিল্পী নুরুল করিম (ব্যবসায়ী)
মাতা : মমতাজ আক্তার (গৃহিণী)
ঘটনার স্থান : ফেনী, মহিপাল ওভার ব্রিজের নিচে
ঘটনার তারিখ ও সময়: ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর আনুমানিক ৩:০০ টা
আহত হওয়ার কারণ: আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ
২০১৮ সাল। কোটা আন্দোলনের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের আঘাতে আহত হই। এরপর ২০২১ সালে কুমিল্লায় এক মন্দিরে পবিত্র কুরআনুল কারিম অবমাননার বিচার চেয়ে আন্দোলন করি। ফেনী বড় মসজিদের সামনে আছরের নামাজের পর শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিজাম হাজারীর নির্দেশে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঝামেলা দেখে সেখান থেকে চলে যাই। প্রাইভেট পড়া শেষ করি। রাত ৯:০০ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের উপর চারিদিক থেকে হামলা চালায় নিজাম হাজারীর বাহিনীরা। পবিত্র কুরআন নিয়ে বিতর্কিত কথা বলায় জনতার টগবগে রক্ত দ্বিগুন টগবগে হয়ে যায়।
তখনও আমার এইচএসসি পরীক্ষার দুই মাস বাকী রয়েছে। ঘটনার ৭ -৮ দিন পরে বাসায় পুলিশ আসে। আমাকে না পেয়ে তৎকালীন সি আই ডি আফিসার হুমায়ুন আমার বড়ো মামাকে গ্রেফতার করে। মামার মোবাইল থেকে আমাকে কল করে বড মসজিদের সামনে ডেকে নেয়। আমার কাঁধে ব্যাগ ছিল। আমাকে জানায়, তোমার সাথে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ আছে। চলো আমার সাথে। কথা শেষ হলে আবারও ছেড়ে দিবে। এরপর আমাকে গাড়ীতে করে নিয়ে যায়। সেখানে ২-৩ জন সিআইডি অফিসার আমাকে হুমকি দেয়। আমি আমার কথায় অটল ছিলাম। আমি বলেছিলাম আমি কোন আপরাধ করিনি। এরপরও তারা ৩ দিন আামকে গোপন কক্ষে আটকে রাখে। চতুর্থ দিন আমার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে ছাত্র শিবিরের কর্মী আখ্যায়িত করে চালান করে দেওয়া হয়। তবে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত ছিলাম না। আমার আম্মু-আব্বুর চোখের পানি দেখে কষ্টে বুকটা ফেটে যেত। এখনো এই বিবরণী লেখার সময় আমার দুটি চোখ ছলছল করছে।
আমার কোনো আপরাধ না থাকলেও আমার নামে তিনটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এখনও সেই মিথ্যা মামলার হাজিরা দিতে হয়। গ্রেফতার থাকাকালীন আব্বু তৎকালীন জজ সাহেব ও উকিলের মাধ্যমে পরীক্ষা ও কারাগারে বই পাঠানোর অনুমতি নেয়। জেলের ভিতর ২ মাস পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করি। জেলখানার ভিতরে একটি কক্ষে একজন শিক্ষক ও দুজন পুলিশের তত্বাবধানে পরীক্ষা সমাপ্ত হয়। এরপর পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশিত হলে আম্মু ছুটে আসে আমাকে জানানোর জন্য। পথমধ্যে ছিনতাই কারীরা স্প্রে করে আম্মুকে অচেতন করে সমস্ত গহনাগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। দুইদিন পর এই ঘটনা ও আমার রেজাল্ট জানাতে আব্বু ও মামা আসে। কাঁদতে কাঁদতে সমস্ত ঘটনা খূলে বলে এবং তারা জানায় আমি জিপিএ-৪.০৮ পেয়েছি।
কান্না করতে করতে বলে ঐঝঈ রেজাল্ট( কমার্স) ৪.০৮। দীর্ঘ নয় মাস কারাবরণ করার পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাই। জেলে থাকা অবস্থায় মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করে রাখে। কিন্তু জামিন দিরিতে হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে পারি না। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা দিই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২ মার্কের জন্য মিস ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। এই দেশের প্রতি জন্মায় তীব্র ঘৃণা। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চেষ্টা করি কিন্তু তাও রিফিউজ। এরপর শুরু হয় ২০২৪ এর কোটা আন্দোলন ১৭-১৮ তারিখ অংশগ্রহণ করলে ১৭ তারিখ ছাত্রলীগের হামলায় সরে যাই। ১৮ তারিখ বড় মসজিদের গলিতে আন্দোলন গঠিত করতে চাইলে পুলিশের গুলিতে আচ্ছা ছাএলীগের হামলায় রামপুরে দিকে হয়ে বাসায় চলে যাই। ৩ তারিখ সকল ছাত্রছাত্রীরা পুরো টাং রোড দখল নিয়ে আসে। ৪ তারিখ আরো বড় হবে আন্দোলন সকল স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী আমরা এক হবো। রাতে নিজাম হাজারীর পৌরসভায় তার বাড়ির আশেপাশে, পৌরসভায় অস্ত্রদারী সন্ত্রাসীদের জড়ো করে রাতেই বুজতে পারি কালকে ছাএদের ভুকে গুলি চালানো হবে তাও আন্দোলন অংশগ্রহণ করি সাথে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব, ভাই ব্রাদার নিয়ে। ডাউনলোডে কয়েক দফা গোলাগুলির পরে ছাত্রলীগ এগোতে থাকে মনিপাল ফ্লাইওভারের নিচে শর্ট গান, রাইফেল দিয়ে শুরু করে ছাত্রদের উপর আতঙ্কিত হামলা একদিনেই যরে পড়ে ৭ টি তাজা প্রাণ। চারদিকে রক্ত আহত প্রায় পাঁচশতাধিক। হঠাৎ করে গুলি আমার পায়ে লেগে আমি পড়ে যাই সাথে থাকা এক বড় ভাই টেনে তুলে তার বাইকে করে সাথে সাথে নিয়ে যায় জেড ইউ হাসপাতালে কিন্তু কেউ ভিতর ডুকতে দেয়না দরজা বন্ধ পরে রিকোয়েস্ট করলে ব্যান্ডেজ আর বায়োডিন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। সাথে সাথেই বাড়ির দিকে রওনা হই মোবাইল বন্ধ নেটওয়ার্ক বন্ধ যারা সাথে আসছে তাদের কাউকে আর পাচ্ছিনা।শহীদ শ্রাবণের লাশ দেখে সবাই ভেবেছিল আমি (তার আমার চেহারায় নাকি মিল) মারা গেছি ।নেট আসার পরে বন্ধুবান্ধবরা সবাই মেসেঞ্জারে হোয়াটসঅ্যাপে খবর খবর নিচ্ছিল শহীদ শ্রাবণের ছবি নিউজ পাঠাচ্ছিল এরপর সোনাগাজী গ্লোবালে ডাক্তার দেখালে এক্স রিপোর্টের পিলেট দুইটা পিলেট টাকা ছাড়া বের করেন ডা: তৌহিদ। ক্রিটিক্যাল জায়গার পিলেট বের করা সম্ভব হয় না বের করতে। এখনো আমার শরীরে গুলি পিলেট রয়েছে। মাঝে মাঝে মাজ রাতে শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা। থেরাপি, ভিটামিনের ইনডাকশন দেওয়া লাগে ব্যথা বেড়ে গেলে। কষ্ট ভেবে বেড়াচ্ছে শরীরে ২৪ এর আন্দোলন বাংলাদেশের স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন। আমরা চাই না আমাদের দেশে এরকম সরে এসে তৈরি হোক আমরা চাই না কারো মায়ের বুক খালি হোক নিজের শরীরের কষ্ট নিজেই বুঝি। সামনের আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর ভাবে যেন গড়ে উঠে। এটাই প্রত্যাশা স্বৈরাচার মানেই অন্যায়ের শাসন, যেখানে মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ থাকে,বাকস্বাধীনতা থাকে না, আর রাষ্ট্র পরিচালিত হয় ভয় ও দমননীতিরূ মাধ্যমে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী— বারবার এই দেশে ছাত্র ও জনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দাঁড়িয়েছে
আমাদের ছাত্র সমাজ কখনো নীরব দর্শক ছিল না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্র সমাজ ছিল অগ্রভাগে। তারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য।
জনতাও ছিল এই লড়াইয়ের প্রাণশক্তি। শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী— সবাই মিলেই রচনা করেছে একতার মহাকাব্য।
স্বৈরাচার সরকারের পতন মানেই শুধু এক শাসকের বিদায় নয়— এটি ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিকতার নতুন সূচনা। আর সেই সূচনা সফল করতে হলে প্রয়োজন গভীর ও সার্বিক সংস্কার।
প্রথমত, রাজনৈতিক সংস্কার —
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ইচ্ছাই যেন রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার —
দুর্নীতি, দলীয় প্রভাব ও অন্যায় দূর করে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার শুধু ধনীদের জন্য নয়— সবার জন্য হয়।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক সংস্কার —
জনগণের পরিশ্রমের ফল যেন কেবল এক শ্রেণির হাতে না থাকে। কৃষক, শ্রমিক ও তরুণদের সুযোগ দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, অর্থনীতিকে জনগণের কল্যাণমুখী করতে হবে।
চতুর্থত, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার যে ছাত্র সমাজ নিজের জীবন দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য, তাদের আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শিক্ষায় দেশপ্রেম, মানবতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকে।
পঞ্চমত, সামাজিক পুনর্গঠন —
যারা ত্যাগ ও রক্ত দিয়ে এই দেশকে গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে— সেই শহিদ ও আহত ছাত্র ও জনতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ছাত্র-জনতার ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই ত্যাগ যেন বিফল না হয়— সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।
চলুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি দেশ গড়ে তুলি যেখানে অন্যায় নেই, বৈষম্য নেই, ভয় নেই
যেখানে প্রতিটি নাগরিক মাথা উঁচু করে বলতে পারে,
“এই দেশ আমার, এই গণতন্ত্র আমার।
নাম : মাহিনুল করিম
জন্মতারিখ : জানুয়ারি, ২০০০
জন্মস্থান : ফেনী, সোনাগাজী
পেশা : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
স্থায়ী ঠিকানা : সোনাগাজী, ফেনী
পারিবারিক তথ্য:
পিতা : শিল্পী নুরুল করিম (ব্যবসায়ী)
মাতা : মমতাজ আক্তার (গৃহিণী)
ঘটনার স্থান : ফেনী, মহিপাল ওভার ব্রিজের নিচে
ঘটনার তারিখ ও সময়: ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর আনুমানিক ৩:০০ টা
আহত হওয়ার কারণ: আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍