মোঃ ওবায়দুল্লাহ
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শিক্ষার্থী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম পরিচয়
মোঃ ওবায়দুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন ৩০ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে কুমিল্লার এলাহাবাদ, দেবিদ্বার উপজেলায়। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও নৈতিকতা, সততা এবং আত্মউন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার, সমাজ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বড় হয়ে তিনি শৈশবকাল থেকে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দায়িত্ববোধের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি নিয়মিত অধ্যয়ন ও পাঠচর্চার মাধ্যমে জ্ঞান, মনন ও বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থায়ী ঠিকানা এলাহাবাদ, দেবিদ্বার, কুমিল্লা এবং বর্তমান ঠিকানাও একই। পিতা মোঃ আঃ ছালাম কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের জবাবদিহিতা পালন করেন।
মাতা মমতাজ বেগম গৃহিণী হিসেবে পরিবারের যত্ন ও সন্তানদের শিক্ষাজীবনের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। পরিবারের সহানুভূতি, ভালবাসা এবং সামাজিক শিক্ষার প্রভাবের মধ্যে দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নৈতিকতা, সহমর্মিতা এবং দায়িত্বশীলতার মানসিকতা অর্জন করেছেন।শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে মোঃ ওবায়দুল্লাহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনভাবে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছেন
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
মোঃ ওবায়দুল্লাহ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্বরোডে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের একদফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সহপাঠী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে আন্দোলন শুরু করেন। তারা মূলত শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা,গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনঃস্থাপন এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে সড়কে অবস্থান নেন।
শুরু থেকেই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও, সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ কিছু সশস্ত্র পক্ষ আচমকাই শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালায়। তারা ইঁট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ এবং গালমন্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। এই সহিংস পরিস্থিতিতে মোঃ ওবায়দুল্লাহসহ আন্দোলনকারীরা বাধ্য হয়ে নিরাপদ স্থান খুঁজে সরে যান, কিন্তু তাদের লক্ষ্য ও সংকল্প ভাঙা যায়নি।দুপুর ১২টার দিকে, মোঃ ওবায়দুল্লাহ ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা পুনরায় কুমিল্লা বিশ্বরোডে পৌঁছান। ঠিক তখনই সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের ৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ আব্দুল আল জাবেদ সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি নিজেই একটি সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের উপর ভয়ঙ্কর সহিংসতার নিদর্শন স্থাপন করেন। গুলিতে মোঃ ওবায়দুল্লাহ গুরুতরভাবে আহত হন—একটি ছররা গুলি তাঁর বাম চোখে লাগে, একটি মাথায় লাগে এবং আরেকটি পিঠে প্রহর করে।
এসময় সহপাঠী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত তার পাশে এগিয়ে আসেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তাকে উদ্ধার করেন।আহতের পর মোঃ ওবায়দুল্লাহকে অবিলম্বে কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিন্তু গুরুতর আঘাত এবং চোখের ছররা গুলির কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় তাঁকে দ্রুত ঢাকায় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ, সাহসিকতা এবং ধৈর্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অনন্য উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মোঃ ওবায়দুল্লাহর এই ত্যাগ ও সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য শিক্ষার্থীরা কখনো হার মানবে না, বরং সমস্ত বাধা ও সহিংসতার মধ্যেও তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে।
চিকিৎসা
ওবায়দুল্লাহ আহত হওয়ার পর অবিলম্বে তাকে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় চিকিৎসকরা তার অবস্থার গুরুতর প্রকৃতি মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। উক্ত পরামর্শ অনুযায়ী, একই দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ওবায়দুল্লাহকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সহকারী নার্সদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে ভর্তি করা হয়।
পরদিন, ৫ আগস্ট, তার চোখে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়, যা তার দৃষ্টি সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। অস্ত্রোপচারের পরে, তার শরীরে থাকা রাবার বুলেট—যার একটি পিঠে এবং একটি মাথায় লেগেছিল—ডাক্তার কামরুল হাসান মুন্সির তত্ত্বাবধানে সফলভাবে অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়। এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ওবায়দুল্লাহকে উচ্চমানের চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তার চক্ষু চিকিৎসা এখনও চলমান রয়েছে। বর্তমানে তার সুস্থতা ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
ওবায়দুল্লাহর ওপর আঘাতের ফলে তার চোখে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে তার সম্পূর্ণ সুস্থতার সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়। ইতিমধ্যে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং পিঠ ও মাথায় থাকা রাবার বুলেট অপসারণ করা হয়েছে, তবে দৃষ্টি পুনরুদ্ধারের জন্য আরও উন্নত এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এই চিকিৎসা শুধুমাত্র দেশের সীমিত সুবিধায় সম্ভব নয়; তাই বিদেশে বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা গ্রহণ করা ওবায়দুল্লাহর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত জরুরি। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা তার চোখের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করতে, দৃষ্টি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এবং সুস্থ জীবন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। এছাড়া, প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরামর্শ, উন্নত অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি এবং পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ অপরিহার্য।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
ওবায়দুল্লাহর ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহিংসতার শিকার হওয়ার ফলে তার জীবনে এক গভীর প্রভাব পড়েছে। আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য ধীরে ধীরে শিক্ষাজীবন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার এবং পরিবারের জীবিকাভরণ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই ওবায়দুল্লাহকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ স্কলারশিপ প্রদান অথবা সরকারি/বেসরকারি চাকরির সুযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এসব সুযোগ তাকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম করবে। এছাড়া, তার সাহসিকতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেও এই ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
নাম : মোঃ ওবায়দুল্লাহ
জন্মতারিখ : ৩০-১-১৯৯৭
জন্মস্থান : এলহাবাদ, কুমিল্লা
পেশা : শিক্ষার্থী
স্থায়ী ঠিকানা : এলহাবাদ,দেবিদ্বার,কুমিল্লা
বর্তমান ঠিকানা : একই
পিতা : মোঃ আঃ ছালাম (কৃষক)
মাতা : মমতাজ বেগম (গৃহিণী)
আয় : ১৫,০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ১০
ভাই : মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (চাকরি)
মোহাম্মদ উল্যাহ (ছাত্র)
ঘটনার স্থান : কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ্বরোড
আক্রমণকারী : মোঃ আব্দুল আল জাবেদ (৩নং ওয়ার্ড কাউনসিলর, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন)
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১.১৫
মোঃ ওবায়দুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন ৩০ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে কুমিল্লার এলাহাবাদ, দেবিদ্বার উপজেলায়। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও নৈতিকতা, সততা এবং আত্মউন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার, সমাজ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে বড় হয়ে তিনি শৈশবকাল থেকে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দায়িত্ববোধের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি নিয়মিত অধ্যয়ন ও পাঠচর্চার মাধ্যমে জ্ঞান, মনন ও বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।স্থায়ী ঠিকানা এলাহাবাদ, দেবিদ্বার, কুমিল্লা এবং বর্তমান ঠিকানাও একই। পিতা মোঃ আঃ ছালাম কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের জবাবদিহিতা পালন করেন।
মাতা মমতাজ বেগম গৃহিণী হিসেবে পরিবারের যত্ন ও সন্তানদের শিক্ষাজীবনের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। পরিবারের সহানুভূতি, ভালবাসা এবং সামাজিক শিক্ষার প্রভাবের মধ্যে দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নৈতিকতা, সহমর্মিতা এবং দায়িত্বশীলতার মানসিকতা অর্জন করেছেন।শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে মোঃ ওবায়দুল্লাহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনভাবে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছেন
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
মোঃ ওবায়দুল্লাহ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্বরোডে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের একদফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সহপাঠী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে আন্দোলন শুরু করেন। তারা মূলত শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা,গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনঃস্থাপন এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে সড়কে অবস্থান নেন।
শুরু থেকেই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও, সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ কিছু সশস্ত্র পক্ষ আচমকাই শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালায়। তারা ইঁট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ এবং গালমন্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। এই সহিংস পরিস্থিতিতে মোঃ ওবায়দুল্লাহসহ আন্দোলনকারীরা বাধ্য হয়ে নিরাপদ স্থান খুঁজে সরে যান, কিন্তু তাদের লক্ষ্য ও সংকল্প ভাঙা যায়নি।দুপুর ১২টার দিকে, মোঃ ওবায়দুল্লাহ ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা পুনরায় কুমিল্লা বিশ্বরোডে পৌঁছান। ঠিক তখনই সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের ৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ আব্দুল আল জাবেদ সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি নিজেই একটি সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের উপর ভয়ঙ্কর সহিংসতার নিদর্শন স্থাপন করেন। গুলিতে মোঃ ওবায়দুল্লাহ গুরুতরভাবে আহত হন—একটি ছররা গুলি তাঁর বাম চোখে লাগে, একটি মাথায় লাগে এবং আরেকটি পিঠে প্রহর করে।
এসময় সহপাঠী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত তার পাশে এগিয়ে আসেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তাকে উদ্ধার করেন।আহতের পর মোঃ ওবায়দুল্লাহকে অবিলম্বে কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিন্তু গুরুতর আঘাত এবং চোখের ছররা গুলির কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় তাঁকে দ্রুত ঢাকায় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ, সাহসিকতা এবং ধৈর্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অনন্য উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মোঃ ওবায়দুল্লাহর এই ত্যাগ ও সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য শিক্ষার্থীরা কখনো হার মানবে না, বরং সমস্ত বাধা ও সহিংসতার মধ্যেও তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে।
চিকিৎসা
ওবায়দুল্লাহ আহত হওয়ার পর অবিলম্বে তাকে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় চিকিৎসকরা তার অবস্থার গুরুতর প্রকৃতি মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। উক্ত পরামর্শ অনুযায়ী, একই দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ওবায়দুল্লাহকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সহকারী নার্সদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে ভর্তি করা হয়।
পরদিন, ৫ আগস্ট, তার চোখে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়, যা তার দৃষ্টি সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। অস্ত্রোপচারের পরে, তার শরীরে থাকা রাবার বুলেট—যার একটি পিঠে এবং একটি মাথায় লেগেছিল—ডাক্তার কামরুল হাসান মুন্সির তত্ত্বাবধানে সফলভাবে অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়। এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ওবায়দুল্লাহকে উচ্চমানের চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তার চক্ষু চিকিৎসা এখনও চলমান রয়েছে। বর্তমানে তার সুস্থতা ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
ওবায়দুল্লাহর ওপর আঘাতের ফলে তার চোখে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত চিকিৎসার সীমাবদ্ধতার কারণে তার সম্পূর্ণ সুস্থতার সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়। ইতিমধ্যে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং পিঠ ও মাথায় থাকা রাবার বুলেট অপসারণ করা হয়েছে, তবে দৃষ্টি পুনরুদ্ধারের জন্য আরও উন্নত এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এই চিকিৎসা শুধুমাত্র দেশের সীমিত সুবিধায় সম্ভব নয়; তাই বিদেশে বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা গ্রহণ করা ওবায়দুল্লাহর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত জরুরি। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা তার চোখের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করতে, দৃষ্টি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এবং সুস্থ জীবন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। এছাড়া, প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরামর্শ, উন্নত অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি এবং পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ অপরিহার্য।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
ওবায়দুল্লাহর ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহিংসতার শিকার হওয়ার ফলে তার জীবনে এক গভীর প্রভাব পড়েছে। আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য ধীরে ধীরে শিক্ষাজীবন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার এবং পরিবারের জীবিকাভরণ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। তাই ওবায়দুল্লাহকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ স্কলারশিপ প্রদান অথবা সরকারি/বেসরকারি চাকরির সুযোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এসব সুযোগ তাকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম করবে। এছাড়া, তার সাহসিকতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেও এই ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
নাম : মোঃ ওবায়দুল্লাহ
জন্মতারিখ : ৩০-১-১৯৯৭
জন্মস্থান : এলহাবাদ, কুমিল্লা
পেশা : শিক্ষার্থী
স্থায়ী ঠিকানা : এলহাবাদ,দেবিদ্বার,কুমিল্লা
বর্তমান ঠিকানা : একই
পিতা : মোঃ আঃ ছালাম (কৃষক)
মাতা : মমতাজ বেগম (গৃহিণী)
আয় : ১৫,০০০ টাকা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ১০
ভাই : মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (চাকরি)
মোহাম্মদ উল্যাহ (ছাত্র)
ঘটনার স্থান : কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ্বরোড
আক্রমণকারী : মোঃ আব্দুল আল জাবেদ (৩নং ওয়ার্ড কাউনসিলর, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন)
আহত হওয়ার সময় : ৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১.১৫
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍