হোম / আহতদের তালিকা / কাওছার ইবনে হোসাইন
কাওছার ইবনে হোসাইন

কাওছার ইবনে হোসাইন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

গ্রামের কাঁচা রাস্তা, মেঠোপথ, খেলার মাঠ আর স্কুলের বই এসবের মধ্য দিয়েই তার শৈশব কাটতো। ভাইবোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়দের পরেই, তাই দায়িত্ববোধও দ্রুত জন্মেছিলো।ভাই জুবাইর ও জাবেরের সাথে বই পড়া, ছোট বোনদের পড়াশোনায় সাহায্য করা এসবেই তার দিনভর ব্যস্ততা থাকত। গ্রামের মানুষ জানতো, কাওছার বড় হয়ে একজন আলোকিত মানুষ হবে। আর সেই উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি ভর্তি হন রামপুর আদর্শ আলিম মাদরাসায়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
কাওছার যখন মাদরাসায় পড়াশোনা করছিলেন, তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিলো। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে প্রথম আন্দোলন হয়েছিলো। সেই আন্দোলন ছাত্রসমাজের মধ্যে নতুন এক সচেতনতা তৈরি করেছিলো। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০২৪ সালে নতুন করে আন্দোলনের ঝড় বয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাদরাসা ও কলেজ—সর্বত্রই ছাত্ররা এক হয়ে যায়। কাওছারও বন্ধুদের সাথে যোগ দেন এই আন্দোলনে। তার বিশ্বাস ছিলো সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন হওয়া উচিত। পরিবারের লোকেরা তাকে সাবধান করত রাজনীতির ভিড়ে যেয়ো না। কিন্তু কাওসারের মনে ছিলো দেশের প্রতি ভালোবাসা, ন্যায়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। তাই তিনি চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ছাত্রদের সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে থাকেন।
আহত হওয়ার ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ৪ই আগস্ট, সকাল ১১টা। চাঁদপুরের ব্যস্ত বাস টার্মিনাল এলাকায় ছাত্ররা এক দফা দাবিতে সমাবেশ করেছিলো। কাওছারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। চারপাশে স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ, ব্যানার হাতে ছাত্ররা দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ করে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে হামলে পড়ে। চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ দৌড়াতে শুরু করে। কাওছারও দৌড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পিছন থেকে লাঠির আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার পায়ে ও শরীরে আঘাত লাগে। ব্যথায় কাতর কাওছারকে সহপাঠীরা উদ্ধার করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি কিছুক্ষণ জ্ঞান হারান। চারপাশের বিশৃঙ্খলার মধ্যে তার চোখে ভেসে ওঠে একটি মাত্র প্রশ্ন “শুধু ন্যায়ের কথা বলেছিলাম, তবে কেন এই আক্রমণ?”
চিকিৎসা
আহতের পরপরই কাওছারকে স্থানীয়ভাবে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে হাসান উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ডাক্তাররা কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখেন।
তার শরীর জুড়ে আঘাতের দাগ ছিলো, হাঁটতে কষ্ট হতো। ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। অবশেষে ডাক্তারদের অনুমতি নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘিরে রাখে, ছোট ভাইবোনেরা চোখে জল নিয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। মা বারবার তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। বাবা শিক্ষক হলেও, সেই মুহূর্তে সন্তানের যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছিলেন। যদিও শারীরিকভাবে এখন সুস্থ, তবুও কাওসারের হৃদয়ে আন্দোলনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অমলিন হয়ে রয়েছে। তিনি জানেন, সংগ্রাম থেমে নেই আর ন্যায়বিচারের জন্য এই লড়াই তিনি কখনো ভুলবেন না।
একনজরে
নাম : কাওছার ইবনে হোসাইন
জন্ম তারিখ : ২২/১১/২০০৩
জন্মস্থান : রামপুর
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : রামপুর আদর্শ আলিম মাদরাসা
নিজ জেলা : চাঁদপুর
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা
গ্রাম : রামপুর
ইউনিয়ন : ৫নং রামপুর
থানা : সদর
জেলা : চাঁদপুর
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মাওলানা মোঃ হোসাইন শহিদ
মায়ের নাম : মোসাঃ তামান্না আক্তার
পিতার পেশা ও বয়স : শিক্ষক, বয়স ৫১ বছর
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, বয়স ৪০ বছর
আয়ের উৎস : শিক্ষকতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ১০ জন
ভাইবোনের বিবরণ
১. জুবাইর ইবনে হোসাইন, বয়স: ১৯, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: একাদশ, সম্পর্ক: ভাই
২. জাবের ইবনে হোসাইন, বয়স: ১৭, পেশা: ছাত্র, শ্রেণি: ৯ম, সম্পর্ক: ভাই
৩. মরিয়ম বিনতে হোসাইন, বয়স: ১৪, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৯ম, সম্পর্ক: বোন
৪. খাদিজা বিনতে হোসাইন, বয়স: ১১, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৫ম, সম্পর্ক: বোন
৫. আয়েশা বিনতে হোসাইন, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ১ম, সম্পর্ক: বোন
৬. আরেফা বিনতে হোসাইন, পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ১ম, সম্পর্ক: বোন
৭. ফাতেমা বিনতে হোসাইন, বয়স: ৮, পেশা: শিশু, সম্পর্ক: বোন
ঘটনার স্থান : চাঁদপুর বাস টার্মিনাল
আহত হওয়ার সময়কাল : সকাল ১১টা, ৪ই আগস্ট ২০২৪ ইং
আক্রমণকারী : ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍