মোঃ জাহিদ হাসান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ছাত্র
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
মোঃ জাহিদ হাসান জন্মগ্রহণ করেছিলেন ২০ জানুয়ারি ২০১০ সালে, বি-বাড়িয়ার ইব্রাহিমপুরে। তাঁর পরিবারে সদস্য সংখ্যা তিনজন। জাহিদ হাসান এবং তার মা ও বাবা মিলে ছোট্ট সংসার। ছোটবেলা থেকেই জাহিদ অত্যন্ত বুদ্ধিমান, চঞ্চল ও নীরবমনা ছিল।ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে তাঁর শৈশব কাটে। সকালবেলা পাখির কিচিরমিচিরে, দুপুরে মাঠের সবুজে, আর সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে আড্ডা সবই জাহিদের জীবনকে সুন্দর ও সহজ করেছে। স্কুলে তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র।
প্রবর্তক স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেনন।জাহিদের মা, রেহেনা বেগম, গার্মেন্ট শিল্পে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন এবং তার বাবা একজন প্রবাসী। তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও সহমর্মিতা জাহিদের চরিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই জাহিদ শিখেছে কিভাবে নিজের পথ খুঁজে চলতে হয়, আর পরিবারে ভালোবাসার স্নিগ্ধতা পেয়েছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মেধার যেন মূল্যায়ন হয়। সেজন্য তারা ৫৬% কোটার সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে বরং তাদের উপর পুলিশ নির্যাতন করে। প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে সরকার কোটা ব্যবস্থা মেনে নিলেও সেটার কোন স্থায়ী সমাধান দিয়েছিলেন না। যার ফলে ২০২৪ সালে নতুন করে কোটার সংস্কারের আন্দোলন গড়ে উঠে। আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।জাহিদ, যিনি তখন কেবল ১৪ বছর বয়সী, মানসিকভাবে দৃঢ় ও সমাজ সচেতন ছিলেন। বদ্দারাট মোড়ে পুলিশের ও ছাত্রলীগের উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্রদের সংহতি এবং সমাজের ন্যায়ের প্রতি আগ্রহ জাহিদের ভেতরে আরও দৃঢ় প্রত্যয় জন্মায়।যদিও তিনি তরুণ, কিন্তু তাঁর সাহস ও ন্যায়পরায়ণ মনোভাব তাঁকে নেতৃত্ব দিতে প্রেরণা দেয়। জাহিদ জানতেন, তাঁর অবদান ছোট হলেও তা বৃহৎ আন্দোলনের অংশ হতে পারে।
আহত হওয়ার ঘটনার বিবরণ
১৮ জুলাই ২০২৪, বিকেল ৪ টার সময়, বদ্দারাট মোড়ে জাহিদ সহ ছাত্ররা আন্দোলন করছিল। ১৬ ই জুলাইয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে সারাদেশ বিক্ষোভে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে ছিল কিন্ত পুলিশ ও ছাত্রলীগ তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে রাবার বুলেট, ছড়াগুলি, টিয়ার গ্যাস দিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা শুরু করে। জাহিদ সামনের সারিতে ছিলেন। তাঁর শরীরে তিনটি গুলি লাগে, তবে আল্লাহর রহমতে কোনোটি জীবনঘাতী হয়নি। মুখে টিয়ারশেল লেগে চোখ ও নাক পোড়ে। সে তাড়াহুড়ো করে লুকানোর চেষ্টা করে। তারপর তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই মুহূর্তটি জাহিদের জীবনের একটি ভয়ঙ্কর অধ্যায়। বর্মহীন সাহস, ভয়, ব্যথা সব মিলিয়ে একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে তিনি যান।
চিকিৎসা ও প্রাথমিক পুনর্বাসন
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রাত ৫টায় পৌঁছানোর পর, ডাক্তাররা জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। তিনটি গুলির মধ্যে একটি সহজেই বের করা যায়। বাকী দুইটি জাহিদ নিজের সাহস ও সহনশীলতার কারণে প্রাথমিকভাবে বের করতে সক্ষম হন। চিকিৎসা শেষে ডাক্তাররা তাঁকে প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেন। জাহিদ ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেন। তাঁর মা ও পরিবার সার্বক্ষণিক মনোযোগ দেন। আল্লাহর রহমতে, তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।জাহিদের গল্প শুধু আহত হওয়ার নয়, বরং সাহস, ন্যায়পরায়ণ মনোভাব ও তরুণ হওয়ার পরিপক্বতার গল্প। তাঁর মনোবল ও দৃঢ়তা অন্যান্য ছাত্রদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
নাম : মো: জাহিদ হাসান
জন্ম তারিখ : ২০/০১/২০১০
জন্মস্থান : বি-বাড়িয়া
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : প্রবর্তক স্কুল এন্ড কলেজ, ১০ম শ্রেণি, ২০২৫ ব্যাচ
নিজ জেলা : বি-বাড়িয়া
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ইব্রাহিমপুরে, ইউনিয়ন: পালবাজার, থানা: নবীনগর, জেলা: বি-বাড়িয়া
বর্তমান ঠিকানা: বাসা/মহল্লা: ডক্টর নাসির সাহেবের বাড়ি, চকবাজার, পাঁচলাইশ, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মো: জামান উদ্দিন, প্রবাসী
মায়ের নাম: রেহেনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স: গার্মেন্ট সুপারভাইজার
আয়ের উৎস: চাকরি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৩ জন
ঘটনার স্থান: বদ্দারাট মোড় থেকে-ব্রিজের নিচে, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল: ১৮ জুলাই২০২৪, বিকেল ৪:৩০ মিনিট
আক্রমণকারী: পুলিশ
মোঃ জাহিদ হাসান জন্মগ্রহণ করেছিলেন ২০ জানুয়ারি ২০১০ সালে, বি-বাড়িয়ার ইব্রাহিমপুরে। তাঁর পরিবারে সদস্য সংখ্যা তিনজন। জাহিদ হাসান এবং তার মা ও বাবা মিলে ছোট্ট সংসার। ছোটবেলা থেকেই জাহিদ অত্যন্ত বুদ্ধিমান, চঞ্চল ও নীরবমনা ছিল।ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে তাঁর শৈশব কাটে। সকালবেলা পাখির কিচিরমিচিরে, দুপুরে মাঠের সবুজে, আর সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে আড্ডা সবই জাহিদের জীবনকে সুন্দর ও সহজ করেছে। স্কুলে তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্র।
প্রবর্তক স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেনন।জাহিদের মা, রেহেনা বেগম, গার্মেন্ট শিল্পে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন এবং তার বাবা একজন প্রবাসী। তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও সহমর্মিতা জাহিদের চরিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই জাহিদ শিখেছে কিভাবে নিজের পথ খুঁজে চলতে হয়, আর পরিবারে ভালোবাসার স্নিগ্ধতা পেয়েছে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মেধার যেন মূল্যায়ন হয়। সেজন্য তারা ৫৬% কোটার সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে বরং তাদের উপর পুলিশ নির্যাতন করে। প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে সরকার কোটা ব্যবস্থা মেনে নিলেও সেটার কোন স্থায়ী সমাধান দিয়েছিলেন না। যার ফলে ২০২৪ সালে নতুন করে কোটার সংস্কারের আন্দোলন গড়ে উঠে। আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।জাহিদ, যিনি তখন কেবল ১৪ বছর বয়সী, মানসিকভাবে দৃঢ় ও সমাজ সচেতন ছিলেন। বদ্দারাট মোড়ে পুলিশের ও ছাত্রলীগের উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্রদের সংহতি এবং সমাজের ন্যায়ের প্রতি আগ্রহ জাহিদের ভেতরে আরও দৃঢ় প্রত্যয় জন্মায়।যদিও তিনি তরুণ, কিন্তু তাঁর সাহস ও ন্যায়পরায়ণ মনোভাব তাঁকে নেতৃত্ব দিতে প্রেরণা দেয়। জাহিদ জানতেন, তাঁর অবদান ছোট হলেও তা বৃহৎ আন্দোলনের অংশ হতে পারে।
আহত হওয়ার ঘটনার বিবরণ
১৮ জুলাই ২০২৪, বিকেল ৪ টার সময়, বদ্দারাট মোড়ে জাহিদ সহ ছাত্ররা আন্দোলন করছিল। ১৬ ই জুলাইয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ সরাসরি গুলি করে হত্যা করলে সারাদেশ বিক্ষোভে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করতে ছিল কিন্ত পুলিশ ও ছাত্রলীগ তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে রাবার বুলেট, ছড়াগুলি, টিয়ার গ্যাস দিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা শুরু করে। জাহিদ সামনের সারিতে ছিলেন। তাঁর শরীরে তিনটি গুলি লাগে, তবে আল্লাহর রহমতে কোনোটি জীবনঘাতী হয়নি। মুখে টিয়ারশেল লেগে চোখ ও নাক পোড়ে। সে তাড়াহুড়ো করে লুকানোর চেষ্টা করে। তারপর তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই মুহূর্তটি জাহিদের জীবনের একটি ভয়ঙ্কর অধ্যায়। বর্মহীন সাহস, ভয়, ব্যথা সব মিলিয়ে একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে তিনি যান।
চিকিৎসা ও প্রাথমিক পুনর্বাসন
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে রাত ৫টায় পৌঁছানোর পর, ডাক্তাররা জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। তিনটি গুলির মধ্যে একটি সহজেই বের করা যায়। বাকী দুইটি জাহিদ নিজের সাহস ও সহনশীলতার কারণে প্রাথমিকভাবে বের করতে সক্ষম হন। চিকিৎসা শেষে ডাক্তাররা তাঁকে প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেন। জাহিদ ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেন। তাঁর মা ও পরিবার সার্বক্ষণিক মনোযোগ দেন। আল্লাহর রহমতে, তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।জাহিদের গল্প শুধু আহত হওয়ার নয়, বরং সাহস, ন্যায়পরায়ণ মনোভাব ও তরুণ হওয়ার পরিপক্বতার গল্প। তাঁর মনোবল ও দৃঢ়তা অন্যান্য ছাত্রদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
নাম : মো: জাহিদ হাসান
জন্ম তারিখ : ২০/০১/২০১০
জন্মস্থান : বি-বাড়িয়া
পেশা : ছাত্র
প্রতিষ্ঠান : প্রবর্তক স্কুল এন্ড কলেজ, ১০ম শ্রেণি, ২০২৫ ব্যাচ
নিজ জেলা : বি-বাড়িয়া
স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ইব্রাহিমপুরে, ইউনিয়ন: পালবাজার, থানা: নবীনগর, জেলা: বি-বাড়িয়া
বর্তমান ঠিকানা: বাসা/মহল্লা: ডক্টর নাসির সাহেবের বাড়ি, চকবাজার, পাঁচলাইশ, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মো: জামান উদ্দিন, প্রবাসী
মায়ের নাম: রেহেনা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স: গার্মেন্ট সুপারভাইজার
আয়ের উৎস: চাকরি
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৩ জন
ঘটনার স্থান: বদ্দারাট মোড় থেকে-ব্রিজের নিচে, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল: ১৮ জুলাই২০২৪, বিকেল ৪:৩০ মিনিট
আক্রমণকারী: পুলিশ
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍