হোম / আহতদের তালিকা / মো: আব্দুল হাকিম
মো: আব্দুল হাকিম

মো: আব্দুল হাকিম

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা : ছাত্র, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা


জুলাই ২৪’র কোটা বিরোধী আন্দোলন; স্বৈরাচার পতনের বাতিঘর

এইতো কয়েকমাস কিংবা বছরখানেকের কথা,সবাই কি সব কিছু ভুলে গেছে-আসলেই কি ভোলা যায়।সবাই ভুলে গেলেও ভুলতে পারেনি জুলাইয়ের যোদ্ধারা।বাংলার বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের একটি দূর্গ ছিলো।ঢাকাসহ সাড়া দেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনের বারুদ যেখানে জ্বলতে থাকে সেখানে এই নগরীর ছাত্র-জনতা পিছিয়ে থাকার নয়।তারাও ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনে,তারা শুধু নিজের কথা ভেবে বসে থাকেনি বরং গোটা দেশের মুক্তি ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য সংগ্রাম শুরু করে।এভাবেই বাংলাদেশের প্রতিটি শহর,নগরের মতো চট্টগ্রামও ছিলো স্বৈরতন্ত্র পতনের বাতিঘর।

জুলাইয়ের এক অদম্য বীর; আব্দুল হাকিম

বৈষম্যবিরোধী ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অকুতোভয় যোদ্ধা আব্দুল হাকিম,যার শরীর আজও বয়ে বেড়াচ্ছে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ক্ষতচিহ্ন,তার জন্ম ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর,চট্টগ্রাম জেলার সন্দীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে এক সরল-নির্মল গ্রামীণ পরিবেশে। হাকিম,পরিবারের বড় সন্তান। বাবা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা(প্রবাসী) হওয়ার সুবাদে পরিবারের সকল দায়িত্বভার বড় সন্তান হিসেবে তার কাঁধে। হাকিমের মা,রাশেদা বেগম(৪২) একজন গৃহিণী।সংসারের ভার,সন্তানদের লালন-পালনে সর্বোচ্চ ধৈর্য আর স্নেহের পরিচয় দিয়েছেন।একজন মমতাময়ী মায়ের মতো তিন সন্তানকে আগলে রেখেছেন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। আব্দুল হাকিম বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-র একজন অধ্যয়নরত ছাত্র। আলোকিত ভবিষ্যৎ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু কে জানতো স্বপ্নবাজ এই তরুণের জীবনে নেমে আসবে গুলির গর্জন ও রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের নির্মম হাত। তার পরিবারে আরো ছোট দুই বোন রয়েছে। একজনের নাম বিবি খাদিজা(১৫), দশম শ্রেণীর ছাত্রী। অন্যজন বিবি হুমাইরা(১২), ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।

সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ (জুলাই যোদ্ধার জবানি)

কোটা আন্দোলনের রত্নগর্ভা ছাত্র-জনতার দলে যোগদান করি,সেইদিন অর্থাৎ আমাদের আন্দোলন ১৬ জুলাই ২৪ বিকেল ৩টায় আমরা ২নং গেইট জি.ই.সির মোড়ে(চট্টগ্রাম শহর) অবস্থান নেয়। আমরা নানা ধরনের শ্লোগানে আশপাশ মুখরিত করে তুলি। এমতাবস্থায় পুলিশ,স্থানীয় ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ অতর্কিতভাবে (লাঠি,হকিষ্টিক ও ধারালো অস্ত্র) আমাদের উপর হামলা করে। আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকি।উক্ত হামলায় আমার হাতে ও পায়ে প্রচন্ড আঘাত করা হয় । আমি গুরুতর আহত হলে আমার সহযোদ্ধারা আমাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে।সেখানেই আমি আমার অপারেশন করি এবং বাসায় বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছি।

চিকিৎসা সর্ম্পকিত সামগ্রিক বর্ণনা
আমি গুরুতর আহত হলে আমার সহযোদ্ধারা আমাকে নিয়ে হালিশহর আই ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করে,সেখানেই আমি আমার অপারেশন করে।মাথায় ও পায়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে,আমার পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায়।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সে স্থান গুলোতে সেলাই করে,বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়(মাথায় ও পায়ে ৩টি সেলাই করা হয়েছে এছাড়াও সারা শরীরে আঘাত প্রাপ্ত ছিল) ।উক্ত আই ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আমাকে বাসায় আনা হয়,বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছি। ডাক্তার আরো দীর্ঘ সময় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেছেন।

একনজরে আব্দুল হাকিম

ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : আব্দুল হাকিম
জন্ম তারিখ : ০৭-১০-২০০৪
জন্মস্থান : মুছাপুর,সন্দীপ,চট্টগ্রাম
পেশা : ছাত্র
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম:মুছাপুর, ইউনিয়ন:মুছাপুর,থানা: সন্দীপ, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : এলাকা: ব্লক-জে, লেইন-১, থানা: হালিশহর, জেলা: চট্টগ্রাম

পরিবারের তথ্য:
পিতা : মোহাম্মদ আব্দুল হালিম
পিতার পেশা ও বয়স : প্রবাসী, ৫২বছর
মায়ের নাম : রাশেদা বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪২বছর
পারিবারিক অবস্থা : মধ্যবিত্ত
আয়ের উৎস : প্রবাসী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৫ জন
বোনের নাম : বিবি খাদিজা(১৫), দশম শ্রেণির ছাত্রী
বোনের নাম : বিবি হুমাইরা(১২), ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী
ঘটনার স্থান: জি.ই.সি ২নং গেট ও জি.ই.সি মোড়ের মাঝে,চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী: স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ
আহত হওয়ার সময়কাল: বিকাল ৩.৩০ মিনিট, ১৬ জুলাই ২০২৪