হোম / আহতদের তালিকা / নূর মোহাম্মদ শহীন
  নূর মোহাম্মদ শহীন

নূর মোহাম্মদ শহীন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, পোস্ট গ্রাজুয়েশন, নিউট্রেশন এন্ড ফুড সায়েন্স, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়
নূর মোহাম্মদ শহীন, ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ফেনীর চর খোয়াজ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিভাগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন পর্যায়ে অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থী। তার পিতা আব্দুল মান্নান একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং মাতা রহেলা বেগম গৃহিণী। পরিবারে তিন ভাইবোনের মধ্যে শহীন বড়, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া গ্রামে। সাদাসিধে জীবনযাপন করলেও শহীন ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক।

২০২৫ সালের ৪ আগস্ট, বিকাল ৪:৩০ মিনিটে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার ১দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনীর যৌথ হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় শহরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তাকে ফেনীতে না নিয়ে দাগনভুঁইয়ার ছালেহা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই বুলেটবিদ্ধ শরীর নিয়েই তিনি আবারও প্রস্তুত হচ্ছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে একজন সত্যিকারের সাহসী নাগরিক হিসেবে।

আন্দোলনে অংশগ্রহন ও অবদান

নূর মোহাম্মদ শাহীন এক প্রতিবাদী চেতনার নাম

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কিছু দিন থাকে রক্তে রঞ্জিত, যেসব দিনে সাহসীরা ইতিহাস লেখে। ২০২৪ সালের ৪ই আগস্ট, ফেনী জেলার মহিপাল মোড় যেন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সেদিন ছাত্র-জনতার হাসিনা পতনের ১ দফা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন নূর মোহাম্মদ শাহীন এক সাহসী যুবা, এক প্রতিবাদী কণ্ঠ, যিনি কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।

যোহরের নামাজ শেষ হয়েছে। দুপুরের প্রচণ্ড রোদ তখনো মাথার উপর খাঁড়ার মতো ঝুলে আছে। কিন্তু ছাত্রদের চোখে ছিল আগুন, ছিল বুকে লালসবুজের স্বপ্ন। এমন সময় হঠাৎ করেই শুরু হয় গুলির ঝাঁঝ। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা অতর্কিতে আক্রমণ চালায় আন্দোলনকারীদের উপর। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে বুলেটের বৃষ্টি, আগুনে পোড়া ধোঁয়া, আর উত্তাল ইট-পাটকেলের প্রতিরোধ।

এই রণক্ষেত্রের মাঝেই শাহীন গুলিবিদ্ধ হন একটি গুলি হাত ভেদ করে যায়, আরেকটি পায়ের মাংস ছিঁড়ে দেয়। তবুও থেমে থাকেননি, সাহস হারাননি। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাকে ফেনী শহরের দিকে নেওয়া হয়নি। পেছনের পথ ধরে দাগনভুঁইয়া উপজেলার ছালেহা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করেন।

আন্দোলনের পরে বিশ দিনেই তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হন, কিন্তু তার চেতনায় ক্ষত হয়ে রয়ে যায় সেই রক্তাক্ত দিন। তিনি ফিরে আসেন রাজপথে, আবারো দাঁড়ান জনগণের পক্ষে, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে। ১৫ বছরের দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত ছিল তার জন্য এক একটি প্রতিবাদের নাম।

শাহীন শুধু একজন কর্মী নন, তিনি এক অনন্ত প্রতিরোধের প্রতীক। তার মতো সাহসীরা না থাকলে ইতিহাসে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে যেত। ৪ই আগস্টের রক্তাক্ত দুপুর সেই ভাষারই এক জ্বলন্ত অধ্যায়, যেখানে নূর মোহাম্মদ শাহীন নিজের রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন একটি জাতির অধিকারের কাহিনি।

চিকিৎসা
গুলির শব্দ থেমে গেলেও, শরীরের যন্ত্রণা আর মনোবেদনা তখনো থামেনি। রক্তে ভেজা কাপড় আর কাঁপতে থাকা হাত-পা নিয়ে যখন নূর মোহাম্মদ শাহীন নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন, তখন চারদিকে ছড়িয়ে ছিল আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। ফেনী শহরের রাজপথে তখনো আওয়ামী নেতাকর্মীদের সশস্ত্র মহড়া চলছে যা যেন বার্তা দিচ্ছে, এ শহর কারো নয়, এ শহর একদলীয় দখলে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাহসীরা সিদ্ধান্ত নেন শাহীনকে ফেনী শহরে নেওয়া যাবে না। তাকে নিরাপদ রাখতে, জীবনের জন্য দাগনভুঁইয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছালেহা মেডিকেলে প্রথমে গুলির ক্ষতস্থানগুলো পরিষ্কার করা হয়, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শরীর তখনো নিস্তেজ, কিন্তু চেতনায় ছিল আগুন।

ছালেহা মেডিকেল থেকে পরে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে, যেখানে দায়িত্বশীল এক চিকিৎসক তাঁর শরীর ও ক্ষত গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ। শুরু হয় এন্টিবায়োটিক ও মেডিসিনের নিয়মিত সেবন। ঘুমহীন রাত, যন্ত্রণাময় দিন পার করেও শাহীন হার মানেননি। তাঁর আরোগ্যের পথে প্রতিটি দিন ছিল একেকটি যুদ্ধ, একেকটি আত্মসংঘর্ষ

একনজরে
নাম: নূর মোহাম্মদ শহীন
জন্মতারিখ: ০৪/০১/১৯৯৭
জন্মস্থান: চর খোয়াজ, ফেনী
পেশা: শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী, পোস্ট গ্রাজুয়েশন, নিউট্রেশন এন্ড ফুড সায়েন্স, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
স্থায়ী ঠিকানা: চর চান্দিয়া, চর খোয়াজ, ৭নং সদর, সোনাগাজী, ফেনী
বর্তমান ঠিকানা: চর চান্দিয়া, চর খোয়াজ, ৭নং সদর, সোনাগাজী, ফেনী
পিতা: আব্দুল মান্নান (ব্যবসা, ৫২)
মাতা: রহেলা বেগম (গৃহিণী, ৪৫)
আয়: প্রায় ২০,০০০ টাকা (মাছের ব্যবসা)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৫
বোন: রাবেয়া ( ২৫), জয়নব ( ২২)
ঘটনার স্থান: মহিপাল, ফেনী
আক্রমণকারী: আওয়ামীলীগ ও পুলিশ বাহীনি
আহত হওয়ার সময়: ৪ আগস্ট বিকাল ৪:৩০ মিনিটে

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍