হোম / আহতদের তালিকা / মো: জবল হক
  মো: জবল হক

মো: জবল হক

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: ব্যবসায়ী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

জন্ম পরিচয়

মোঃ জবল হক একজন ব্যবসায়ী, যিনি ফেনি জেলার ছাগলনাইয়া থানার পশ্চিম দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার জন্ম ১৯৮৪ সালের ৯ জানুয়ারি পোদ্দার বাড়ীতে। বর্তমানে তিনি মুনুর হাটে অবস্থিত হক স্টোর-এ ব্যবসার সাথে জড়িত। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই গ্রাম পশ্চিম দেবপুর, ইউনিয়ন মহামায়া, থানা ছাগলনাইয়া, জেলা ফেনি। পারিবারিকভাবে তিনি মৃত নুর ইসলামের সন্তান এবং তার মা মায়না খাতুন একজন গৃহিণী। পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট ১০ জন। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। জারিফুল হক জায়ান (৪ বছর) ও আনাবিয়া হক জাইফা (১৫ মাস)। বর্তমানে তার মাসিক আয় প্রায় ২০,০০০ টাকা যা মূলত ব্যবসা থেকে আসে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে ফেনীর মহিপালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার জন্য একটি বাড়ির সামনে আশ্রয় নিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং হাঁটু ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরবর্তীতে এক আত্মীয়ের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আন্দলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মোঃ জবল হক সাহসীভাবে দেশের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জানতেন যে, এই আন্দোলন শুধু নিজের অধিকার রক্ষার নয়, বরং পুরো সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। সেই দিন দুপুরে, যখন শহরের প্রধান সড়ক ও মহিপালের আশেপাশের এলাকায় মানুষ একত্রিত হচ্ছিল, তিনি তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও নিজেকে আন্দোলনের ভিড়ে মেলান।

তিনি ভীড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে দেশের জন্য আওয়াজ তুলছিলেন। তাঁর চোখে ছিল চেতনা ও দায়িত্ববোধের দীপ্তি, এবং হৃদয়ে ছিল দেশের প্রতি অটল ভালোবাসা। নিজের পরিবার ও সন্তানদের কথা মাথায় রেখেও তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি। আন্দোলনের সময়ে তিনি নীরব দৃষ্টিতে আশেপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন, যাতে কেউ আহত না হয়। কিন্তু হঠাৎই পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে; সন্ত্রাসীরা দেশি ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে মোঃ জবল হক আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।

তাঁর সাহস ও দৃঢ়তা শুধু নিজেকে বাঁচানোর জন্য নয়, বরং সহকর্মী আন্দোলনকারীদেরও সুরক্ষা দিতে ছিল। আহত হওয়ার পরও তিনি ভীড়ে থাকা মানুষদের সতর্ক করে দেন এবং চেষ্টা করেন যাতে কেউ ভয় পেয়ে না যায়। এই অভিজ্ঞতা মোঃ জবল হকের জীবনে এক গভীর আঘাতের পাশাপাশি দেশের জন্য দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বিবরণ
হামলার পর থেকে মোঃ জবল হক গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং হাঁটু ও পায়ের মারাত্মক আঘাতের কারণে তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। ঘটনার পরপরই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়। সেই সময় তিনি নিয়মিত ঔষধ সেবন করেছেন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলেছেন। তবে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়া সত্ত্বেও শারীরিক অবস্থা আশানুরূপ উন্নতি পায়নি।বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। কোমরের হাড়ের ভাঙন এবং পায়ের আঘাতের কারণে তিনি প্রচণ্ড ব্যথায় ভুগছেন। নিয়মিত ঔষধ সেবন ও পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও সঠিক উন্নতি না হওয়ায় এখন তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাড়ের অস্ত্রোপচার ও ফিজিওথেরাপির মতো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছাড়া তার পূর্ণ সুস্থতা সম্ভব নয়। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব উন্নত হাসপাতাল বা বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে প্রয়োজনীয় অপারেশন ও থেরাপি গ্রহণ করা উচিত। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

একনজরে
নাম: মোঃ জবল হক
জন্ম তারিখ: ০৯-০১-১৯৮৪
জন্মস্থান: পোদ্দার বাড়ী, ফেনী
পেশা: ব্যবসায়ী
প্রতিষ্ঠান: হক স্টোর, মুনুর হাট, ছাগলনাইয়া
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পশ্চিম দেবপুর, ইউনিয়ন: মহামায়া, থানা: ছাগলনাইয়া, জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম: পশ্চিম দেবপুর, ইউনিয়ন: মহামায়া, থানা: ছাগলনাইয়া, জেলা: ফেনী
পারিবারিক তথ্য: পিতার নাম: মৃত নুর ইসলাম
মাতার নাম: মায়না খাতুন (পেশা: গৃহিণী)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ১০ জন
স্ত্রী ও সন্তান:
১. জারিফুল হক জায়ান (৪ বছর)
২. আনাবিয়া হক জাইফা (১৫ মাস)
মাসিক আয়: ২০,০০০ টাকা (উৎস: ব্যবসা)
ঘটনার স্থান: মহিপাল, ফেনী
ঘটনার তারিখ ও সময়: ০৪/০৮/২০২৪, দুপুর আনুমানিক ২টা
আহতের ধরন: কোমরের হাড় ভেঙে গেছে, হাঁটু ও পায়ে মারাত্মক আঘাত
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন (অস্ত্রোপচার ও ফিজিওথেরাপি আবশ্যক)

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍