আব্দুল্লাহ আল মিজান
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠানের নাম: আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : কৈয়গ্রাম, ৭ নং জিরি ইউনিয়ন, পটিয়া, চট্টগ্রাম
স্থায়ী ঠিকানা : কৈয়গ্রাম, ৭ নং জিরি ইউনিয়ন, পটিয়া, চট্টগ্রাম
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্মপরিচয়
আব্দুল্লাহ আল মিজান ২০০৪ সালের ২২ জুন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কৈয়গ্রাম নামের এক সবুজ শ্যামল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের প্রথম আলো দেখার মুহূর্ত থেকেই তিনি যেন গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বেড়ে উঠেছেন। কৈয়গ্রামের চারপাশের সবুজ ধানক্ষেত, গাছপালার ছায়া, পাখির কলতান ও নদীর ধ্বনি তাঁর শৈশবকে করেছে সমৃদ্ধ ও মুগ্ধকর। এমন এক প্রাকৃতিক পরিবেশের কোলে জন্ম নেওয়ায় তাঁর হৃদয়ে শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে সরলতা, সততা এবং মানবিকতার প্রতি এক অটুট টান।
তাঁর পিতা মোঃ হোসাইন একজন পরিশ্রমী কৃষক। মাঠের ঘাম ঝরানো শ্রম, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম—এসব দিয়েই তিনি সংসার চালান, সন্তানদের স্বপ্ন পূরণের ভিত্তি গড়ে তোলেন। হোসাইনের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই যেন তাঁর সন্তানদের জন্য প্রেরণার এক অবিনশ্বর দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে মাতা লায়লা বেগম একজন নিবেদিতপ্রাণ গৃহিণী। সংসারের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর ভালোবাসা, ত্যাগ ও সহমর্মিতা পরিবারকে করেছে আলোকিত। মায়ের কোলে পাওয়া শিক্ষাই মিজানকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সহানুভূতি এবং আত্মমর্যাদার মূল্য। এভাবেই পিতা-মাতার শ্রম ও স্নেহে আব্দুল্লাহ আল মিজানের ব্যক্তিত্ব শৈশব থেকেই গড়ে ওঠে এক দৃঢ় ভিত্তির উপর।
শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই প্রবল ছিল। গ্রামীণ পরিবেশে সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। অধ্যবসায় ও মেধার কারণে তিনি শিক্ষাজীবনে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষার্থী হিসেবে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন। জ্ঞানের প্রতি তাঁর তৃষ্ণা কেবল পাঠ্যবইয়ের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি জ্ঞানকে দেখতে চান মানবমুক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের আলোকবর্তিকা হিসেবে।
স্থায়ী ঠিকানা তাঁর কৈয়গ্রাম, ৭ নং জিরি ইউনিয়ন, পটিয়া, চট্টগ্রাম। এখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন, এখানেই তাঁর শিকড় প্রোথিত। গ্রামের মাঠ, হাওয়ায় দুলতে থাকা শস্য, সন্ধ্যার আজান, ভোরের আলোর কোমলতা—সবকিছুই তাঁর হৃদয়ে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে। যদিও তিনি আজ উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন জগতে পদার্পণ করেছেন, তবুও শিকড়ের প্রতি তাঁর টান সবসময় অটুট থাকবে।
আব্দুল্লাহ আল মিজান বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা কেবল নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের মুক্তির পথ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের হাতিয়ার। তাঁর লক্ষ্য হলো জ্ঞানের আলোয় নিজেকে সমৃদ্ধ করা এবং সেই আলো ছড়িয়ে দেওয়া চারপাশে, যাতে সমাজ, দেশ এবং মানবতা উপকৃত হয়। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দেশের সেবায়, মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করবেন।
তাঁর জীবন যেন এক অগ্রযাত্রার প্রতীক—যেখানে আছে পিতার শ্রমের ঘ্রাণ, মাতার স্নেহের উষ্ণতা, গ্রামের শ্যামল প্রকৃতির অনুপ্রেরণা এবং জ্ঞানের প্রতি অদম্য আগ্রহ। আব্দুল্লাহ আল মিজান এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথযাত্রী, যিনি শিক্ষা, সততা ও মানবিকতার মাধ্যমে সমাজে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পদক্ষেপে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দিনটি ছিল এক ঐতিহাসিক সংগ্রামের দিন। দেশজুড়ে যখন একদফা একদাবির দাবিতে উত্তাল জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছে, আমরাও তখন বুকভরা আশা, অদম্য সাহস আর অটল বিশ্বাস নিয়ে মিছিলের পতাকা হাতে রাস্তায় নামি। দুপুর ঠিক বারোটার দিকে সহযোদ্ধা ছাত্র-জনতার সঙ্গে আমি বেরিয়ে পড়ি মিছিলের অগ্রভাগে, উদ্দেশ্য অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে গণমানুষের দাবি প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের পদচারণায়, স্লোগানে আর দৃপ্ত কণ্ঠে চারপাশ কেঁপে উঠছিল। গন্তব্য ছিল চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট মোড়, যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম দেশের মানুষ আর অত্যাচার সহ্য করবে না।
প্রখর রোদে দগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কারও মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না। সকলের চোখে ছিল অদম্য দৃঢ়তা, ঠোঁটে ছিল প্রতিজ্ঞার শপথ। নিউমার্কেট মোড়ে আমরা একত্রিত হয়ে অবস্থান নিতে শুরু করি। চারদিক থেকে ভেসে আসছিল স্লোগান "এক দফা, এক দাবি স্বৈরাচারী সরকারের পতন চাই!" এ যেন কেবল স্লোগান নয়, বরং যুগ যুগ ধরে শোষিত মানুষের হাহাকার আর আশার মিশ্রণ।
কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই অবস্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বিকেল তিনটার কিছু আগেই দেখা গেল, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী ও তাদের দোসর সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ মিলে আমাদের উপর নেমে এলো বজ্রাঘাতের মতো। হঠাৎ করেই চারদিকের পরিবেশ পাল্টে গেল—স্লোগানের জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক, মানুষের আর্তচিৎকারে ভরে উঠল চারপাশ। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, ধাওয়ার সঙ্গে যোগ হলো ছাত্রলীগের বর্বরোচিত আক্রমণ। হাতে লাঠি, রড আর লোহার রড নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর।
আমি তখনও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে স্লোগান তুলছিলাম। আচমকা ছাত্রলীগের এক সন্ত্রাসী আমার দিকে ছুটে এসে লাঠি দিয়ে পায়ে প্রচণ্ড আঘাত হানে। আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে আমি মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পা থেকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে লাগল গোটা শরীরে, চোখে অন্ধকার নেমে এলো। রক্তক্ষরণের সঙ্গে সঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণায় আমি প্রায় অচেতন হয়ে যাই। মনে হচ্ছিল, আর হয়তো দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।
এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় আমার সহযোদ্ধা ছাত্র-জনতা ছুটে আসে। তারা আমাকে কাঁধে তুলে ধরে পুলিশের ধাওয়া উপেক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে ডাক্তাররা আমাকে শয্যায় শুইয়ে দেন। পায়ের অবস্থা ছিল মারাত্মক—আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাঁটার ক্ষমতা বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শুরু করা হয়—ব্যান্ডেজ, ইনজেকশন, ওষুধ দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসার পর যখন অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে, তখন আমাকে বাসায় ফিরতে দেওয়া হয়।
কিন্তু সত্যি বলতে কী, বাসায় ফেরার পরও সেই আঘাতের ব্যথা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি হাঁটার চেষ্টায় মনে হয় ৪ আগস্টের সেই বিভীষিকাময় বিকেল আবারও ফিরে এসেছে। আমি জানি, শরীর হয়তো ধীরে ধীরে সেরে উঠবে, কিন্তু আন্দোলনের জন্য পাওয়া এই ক্ষত একদিনও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। এই আঘাত আমার কাছে কেবল শারীরিক ক্ষত নয়, বরং এক জীবন্ত স্মৃতি—আমাদের সংগ্রামের, আমাদের ত্যাগের, এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক ভয়াল সাক্ষ্য। আমি আহত হয়েছি, কিন্তু ভেঙে পড়িনি। বরং আরও দৃঢ় হয়েছে আমার মনোবল। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই রক্ত, আমাদের এই যন্ত্রণা একদিন আলোকিত ভোরের সূচনা করবে—এক নতুন দিনের, এক মুক্ত বাংলাদেশের।
চিকিৎসা
আন্দোলনের উত্তাল মিছিলে স্বপ্ন আর প্রতিবাদের শপথ বুকে নিয়ে যখন রাস্তায় নামি, তখনও জানতাম না সামনে অপেক্ষা করছে এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। সেদিন সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নৃশংস আক্রমণে আমি গুরুতরভাবে আহত হই। তীব্র আঘাতে আমার শরীর ভেঙে পড়ে রাস্তায়, ব্যথা ও রক্তক্ষরণের যন্ত্রণায় নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছিল। চারপাশের হৈচৈ, মানুষের আর্তনাদ আর পুলিশের বর্বরোচিত গর্জনের মধ্যে কোনো মতে প্রাণ বাঁচিয়ে আমাকে সহযোদ্ধারা বাসায় পৌঁছে দেয়।
কিন্তু সেই যন্ত্রণায় শরীরকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আমাকে দ্রুত চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসকরা সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। চিকিৎসক দলের নিবিড় পরিচর্যা, ওষুধ প্রয়োগ ও দীর্ঘ সময়ের সেবা-যত্নে আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসি। তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং আধুনিক চিকিৎসার ফলে ধীরে ধীরে আমার ক্ষত কিছুটা সেরে ওঠে। কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসকরা আমাকে পর্যবেক্ষণে রেখে অবশেষে বাসায় ফেরার অনুমতি দেন।
তবে হাসপাতালের সেই দিনগুলো আমার জীবনে ছিল এক ভিন্ন বাস্তবতার অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ইনজেকশন, প্রতিটি স্যালাইন, প্রতিটি ক্ষত-পরিষ্কার যেন আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুধু স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর জন্য দিতে হয় রক্ত, সহ্য করতে হয় অমানবিক যন্ত্রণা।
চিকিৎসা শেষে আমি বাসায় ফিরলেও আমার কষ্ট এখানেই শেষ হয়নি। এখনো মাঝেমধ্যে ক্ষতের জায়গায় অসহনীয় ব্যথা অনুভব করি। হঠাৎ ব্যথা এমনভাবে শরীরকে গ্রাস করে যে হাঁটাচলা কিংবা স্বাভাবিক কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে আমাকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হচ্ছে—কখনও গরম-ঠান্ডা সেঁক, কখনও শারীরিক ব্যায়াম, কখনও বিশেষ চিকিৎসা-সরঞ্জামের সহায়তা নিতে হয়। প্রতিটি থেরাপি সেশনে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করা হলেও এটি আমার জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আন্দোলনের সময় যে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিলাম, তার ফলে আমার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে। যদিও আমাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে কিছুদিন ধরে ওষুধ ও থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা চলতে থাকে, তবুও এ চিকিৎসা আমার সুস্থতার জন্য যথেষ্ট হয়নি। এখনো ক্ষতের জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভব করি, শরীরের দুর্বলতা আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিচ্ছে না। প্রতিদিনের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি হয়, চলাফেরার সময় অস্বস্তি ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন আমার আরও উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি, নাহলে ভবিষ্যতে এ আঘাতের জটিলতা বাড়তে পারে। তাই আমার সুস্থতার জন্য উন্নত হাসপাতাল ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কেবল আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারব না, বরং দেশ ও সমাজের জন্য নতুন করে অবদান রাখার সুযোগও পাব।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আন্দোলনে আহত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। বর্তমানে সুস্থ হওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও জীবনের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ আমার জীবনে নতুন আলো জ্বালাতে পারে। যদি আমি একটি উপযুক্ত চাকরি পাই, তবে নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া, সংসার চালানো এবং স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা সম্ভব হবে। চাকরি শুধু আমার ব্যক্তিগত জীবনের নিশ্চয়তা দেবে না, বরং আমাকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে, যাতে আমি সমাজ ও দেশের জন্যও কার্যকর অবদান রাখতে পারি। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আমার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
একনজরে
নাম: আব্দুল্লাহ আল মিজান
জন্মতারিখ: ২২/০৬/২০০৪
জন্মস্থান: কৈয়গ্রাম, পটিয়া, চট্টগ্রাম
পেশা: শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠানের নাম: আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
স্থায়ী ঠিকানা : কৈয়গ্রাম, ৭ নং জিরি ইউনিয়ন, পটিয়া, চট্টগ্রাম
পিতা: মো: হোসাইন (কৃষক)
মাতা: লায়লা বেগম (গৃহিণী)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৭
ভাই: ফরহাদ ছাত্র অনার্স
বোন: সুমাইয়া, ছাত্রী, দশম শ্রেণি
ঘটনার স্থান: নিউমার্কেট মোড়,চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী: সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময়: ০৪/০৮/২০২৪, বিকাল ৩টা
আব্দুল্লাহ আল মিজান ২০০৪ সালের ২২ জুন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কৈয়গ্রাম নামের এক সবুজ শ্যামল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের প্রথম আলো দেখার মুহূর্ত থেকেই তিনি যেন গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বেড়ে উঠেছেন। কৈয়গ্রামের চারপাশের সবুজ ধানক্ষেত, গাছপালার ছায়া, পাখির কলতান ও নদীর ধ্বনি তাঁর শৈশবকে করেছে সমৃদ্ধ ও মুগ্ধকর। এমন এক প্রাকৃতিক পরিবেশের কোলে জন্ম নেওয়ায় তাঁর হৃদয়ে শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে সরলতা, সততা এবং মানবিকতার প্রতি এক অটুট টান।
তাঁর পিতা মোঃ হোসাইন একজন পরিশ্রমী কৃষক। মাঠের ঘাম ঝরানো শ্রম, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম—এসব দিয়েই তিনি সংসার চালান, সন্তানদের স্বপ্ন পূরণের ভিত্তি গড়ে তোলেন। হোসাইনের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই যেন তাঁর সন্তানদের জন্য প্রেরণার এক অবিনশ্বর দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে মাতা লায়লা বেগম একজন নিবেদিতপ্রাণ গৃহিণী। সংসারের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর ভালোবাসা, ত্যাগ ও সহমর্মিতা পরিবারকে করেছে আলোকিত। মায়ের কোলে পাওয়া শিক্ষাই মিজানকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সহানুভূতি এবং আত্মমর্যাদার মূল্য। এভাবেই পিতা-মাতার শ্রম ও স্নেহে আব্দুল্লাহ আল মিজানের ব্যক্তিত্ব শৈশব থেকেই গড়ে ওঠে এক দৃঢ় ভিত্তির উপর।
শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই প্রবল ছিল। গ্রামীণ পরিবেশে সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। অধ্যবসায় ও মেধার কারণে তিনি শিক্ষাজীবনে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান এবং বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষার্থী হিসেবে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন। জ্ঞানের প্রতি তাঁর তৃষ্ণা কেবল পাঠ্যবইয়ের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি জ্ঞানকে দেখতে চান মানবমুক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের আলোকবর্তিকা হিসেবে।
স্থায়ী ঠিকানা তাঁর কৈয়গ্রাম, ৭ নং জিরি ইউনিয়ন, পটিয়া, চট্টগ্রাম। এখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন, এখানেই তাঁর শিকড় প্রোথিত। গ্রামের মাঠ, হাওয়ায় দুলতে থাকা শস্য, সন্ধ্যার আজান, ভোরের আলোর কোমলতা—সবকিছুই তাঁর হৃদয়ে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে। যদিও তিনি আজ উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন জগতে পদার্পণ করেছেন, তবুও শিকড়ের প্রতি তাঁর টান সবসময় অটুট থাকবে।
আব্দুল্লাহ আল মিজান বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা কেবল নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের মুক্তির পথ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের হাতিয়ার। তাঁর লক্ষ্য হলো জ্ঞানের আলোয় নিজেকে সমৃদ্ধ করা এবং সেই আলো ছড়িয়ে দেওয়া চারপাশে, যাতে সমাজ, দেশ এবং মানবতা উপকৃত হয়। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দেশের সেবায়, মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করবেন।
তাঁর জীবন যেন এক অগ্রযাত্রার প্রতীক—যেখানে আছে পিতার শ্রমের ঘ্রাণ, মাতার স্নেহের উষ্ণতা, গ্রামের শ্যামল প্রকৃতির অনুপ্রেরণা এবং জ্ঞানের প্রতি অদম্য আগ্রহ। আব্দুল্লাহ আল মিজান এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথযাত্রী, যিনি শিক্ষা, সততা ও মানবিকতার মাধ্যমে সমাজে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পদক্ষেপে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, দিনটি ছিল এক ঐতিহাসিক সংগ্রামের দিন। দেশজুড়ে যখন একদফা একদাবির দাবিতে উত্তাল জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছে, আমরাও তখন বুকভরা আশা, অদম্য সাহস আর অটল বিশ্বাস নিয়ে মিছিলের পতাকা হাতে রাস্তায় নামি। দুপুর ঠিক বারোটার দিকে সহযোদ্ধা ছাত্র-জনতার সঙ্গে আমি বেরিয়ে পড়ি মিছিলের অগ্রভাগে, উদ্দেশ্য অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে গণমানুষের দাবি প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের পদচারণায়, স্লোগানে আর দৃপ্ত কণ্ঠে চারপাশ কেঁপে উঠছিল। গন্তব্য ছিল চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট মোড়, যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম দেশের মানুষ আর অত্যাচার সহ্য করবে না।
প্রখর রোদে দগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কারও মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল না। সকলের চোখে ছিল অদম্য দৃঢ়তা, ঠোঁটে ছিল প্রতিজ্ঞার শপথ। নিউমার্কেট মোড়ে আমরা একত্রিত হয়ে অবস্থান নিতে শুরু করি। চারদিক থেকে ভেসে আসছিল স্লোগান "এক দফা, এক দাবি স্বৈরাচারী সরকারের পতন চাই!" এ যেন কেবল স্লোগান নয়, বরং যুগ যুগ ধরে শোষিত মানুষের হাহাকার আর আশার মিশ্রণ।
কিন্তু শান্তিপূর্ণ সেই অবস্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বিকেল তিনটার কিছু আগেই দেখা গেল, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী ও তাদের দোসর সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ মিলে আমাদের উপর নেমে এলো বজ্রাঘাতের মতো। হঠাৎ করেই চারদিকের পরিবেশ পাল্টে গেল—স্লোগানের জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক, মানুষের আর্তচিৎকারে ভরে উঠল চারপাশ। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, ধাওয়ার সঙ্গে যোগ হলো ছাত্রলীগের বর্বরোচিত আক্রমণ। হাতে লাঠি, রড আর লোহার রড নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর।
আমি তখনও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে স্লোগান তুলছিলাম। আচমকা ছাত্রলীগের এক সন্ত্রাসী আমার দিকে ছুটে এসে লাঠি দিয়ে পায়ে প্রচণ্ড আঘাত হানে। আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে আমি মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পা থেকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে লাগল গোটা শরীরে, চোখে অন্ধকার নেমে এলো। রক্তক্ষরণের সঙ্গে সঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণায় আমি প্রায় অচেতন হয়ে যাই। মনে হচ্ছিল, আর হয়তো দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।
এই ভয়ঙ্কর অবস্থায় আমার সহযোদ্ধা ছাত্র-জনতা ছুটে আসে। তারা আমাকে কাঁধে তুলে ধরে পুলিশের ধাওয়া উপেক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে ডাক্তাররা আমাকে শয্যায় শুইয়ে দেন। পায়ের অবস্থা ছিল মারাত্মক—আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাঁটার ক্ষমতা বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শুরু করা হয়—ব্যান্ডেজ, ইনজেকশন, ওষুধ দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসার পর যখন অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে, তখন আমাকে বাসায় ফিরতে দেওয়া হয়।
কিন্তু সত্যি বলতে কী, বাসায় ফেরার পরও সেই আঘাতের ব্যথা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি হাঁটার চেষ্টায় মনে হয় ৪ আগস্টের সেই বিভীষিকাময় বিকেল আবারও ফিরে এসেছে। আমি জানি, শরীর হয়তো ধীরে ধীরে সেরে উঠবে, কিন্তু আন্দোলনের জন্য পাওয়া এই ক্ষত একদিনও ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। এই আঘাত আমার কাছে কেবল শারীরিক ক্ষত নয়, বরং এক জীবন্ত স্মৃতি—আমাদের সংগ্রামের, আমাদের ত্যাগের, এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক ভয়াল সাক্ষ্য। আমি আহত হয়েছি, কিন্তু ভেঙে পড়িনি। বরং আরও দৃঢ় হয়েছে আমার মনোবল। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই রক্ত, আমাদের এই যন্ত্রণা একদিন আলোকিত ভোরের সূচনা করবে—এক নতুন দিনের, এক মুক্ত বাংলাদেশের।
চিকিৎসা
আন্দোলনের উত্তাল মিছিলে স্বপ্ন আর প্রতিবাদের শপথ বুকে নিয়ে যখন রাস্তায় নামি, তখনও জানতাম না সামনে অপেক্ষা করছে এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। সেদিন সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নৃশংস আক্রমণে আমি গুরুতরভাবে আহত হই। তীব্র আঘাতে আমার শরীর ভেঙে পড়ে রাস্তায়, ব্যথা ও রক্তক্ষরণের যন্ত্রণায় নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসছিল। চারপাশের হৈচৈ, মানুষের আর্তনাদ আর পুলিশের বর্বরোচিত গর্জনের মধ্যে কোনো মতে প্রাণ বাঁচিয়ে আমাকে সহযোদ্ধারা বাসায় পৌঁছে দেয়।
কিন্তু সেই যন্ত্রণায় শরীরকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আমাকে দ্রুত চট্টগ্রাম সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসকরা সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। চিকিৎসক দলের নিবিড় পরিচর্যা, ওষুধ প্রয়োগ ও দীর্ঘ সময়ের সেবা-যত্নে আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসি। তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং আধুনিক চিকিৎসার ফলে ধীরে ধীরে আমার ক্ষত কিছুটা সেরে ওঠে। কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসকরা আমাকে পর্যবেক্ষণে রেখে অবশেষে বাসায় ফেরার অনুমতি দেন।
তবে হাসপাতালের সেই দিনগুলো আমার জীবনে ছিল এক ভিন্ন বাস্তবতার অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ইনজেকশন, প্রতিটি স্যালাইন, প্রতিটি ক্ষত-পরিষ্কার যেন আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুধু স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর জন্য দিতে হয় রক্ত, সহ্য করতে হয় অমানবিক যন্ত্রণা।
চিকিৎসা শেষে আমি বাসায় ফিরলেও আমার কষ্ট এখানেই শেষ হয়নি। এখনো মাঝেমধ্যে ক্ষতের জায়গায় অসহনীয় ব্যথা অনুভব করি। হঠাৎ ব্যথা এমনভাবে শরীরকে গ্রাস করে যে হাঁটাচলা কিংবা স্বাভাবিক কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে আমাকে নিয়মিত থেরাপি নিতে হচ্ছে—কখনও গরম-ঠান্ডা সেঁক, কখনও শারীরিক ব্যায়াম, কখনও বিশেষ চিকিৎসা-সরঞ্জামের সহায়তা নিতে হয়। প্রতিটি থেরাপি সেশনে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করা হলেও এটি আমার জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আন্দোলনের সময় যে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছিলাম, তার ফলে আমার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে। যদিও আমাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে কিছুদিন ধরে ওষুধ ও থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা চলতে থাকে, তবুও এ চিকিৎসা আমার সুস্থতার জন্য যথেষ্ট হয়নি। এখনো ক্ষতের জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভব করি, শরীরের দুর্বলতা আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিচ্ছে না। প্রতিদিনের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি হয়, চলাফেরার সময় অস্বস্তি ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন আমার আরও উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি, নাহলে ভবিষ্যতে এ আঘাতের জটিলতা বাড়তে পারে। তাই আমার সুস্থতার জন্য উন্নত হাসপাতাল ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে কেবল আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারব না, বরং দেশ ও সমাজের জন্য নতুন করে অবদান রাখার সুযোগও পাব।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
আন্দোলনে আহত হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। বর্তমানে সুস্থ হওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও জীবনের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ আমার জীবনে নতুন আলো জ্বালাতে পারে। যদি আমি একটি উপযুক্ত চাকরি পাই, তবে নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া, সংসার চালানো এবং স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা সম্ভব হবে। চাকরি শুধু আমার ব্যক্তিগত জীবনের নিশ্চয়তা দেবে না, বরং আমাকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে, যাতে আমি সমাজ ও দেশের জন্যও কার্যকর অবদান রাখতে পারি। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা আমার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
একনজরে
নাম: আব্দুল্লাহ আল মিজান
জন্মতারিখ: ২২/০৬/২০০৪
জন্মস্থান: কৈয়গ্রাম, পটিয়া, চট্টগ্রাম
পেশা: শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠানের নাম: আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
স্থায়ী ঠিকানা : কৈয়গ্রাম, ৭ নং জিরি ইউনিয়ন, পটিয়া, চট্টগ্রাম
পিতা: মো: হোসাইন (কৃষক)
মাতা: লায়লা বেগম (গৃহিণী)
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৭
ভাই: ফরহাদ ছাত্র অনার্স
বোন: সুমাইয়া, ছাত্রী, দশম শ্রেণি
ঘটনার স্থান: নিউমার্কেট মোড়,চট্টগ্রাম
আক্রমণকারী: সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ বাহিনী
আহত হওয়ার সময়: ০৪/০৮/২০২৪, বিকাল ৩টা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍