মো: ইকতিয়ার হোসেন সাকিব
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: শিক্ষার্থী, ওমর গনি এম.এইস. ডিগ্রী কলেজ
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনকাল; বাংলাদেশের একটি কালো অধ্যায়
২০০৮ সালের একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ সরকার। ক্ষমতা লাভের পর থেকেই দেশের মানুষ জান, মাল, ইজ্জতের স্বাধীনতা হারায়। মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়। বাংলাদেশকে পরাধীন এবং মেরুদন্ডহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের নেতাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় দেশপ্রেমীক সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়। পর্যায়ক্রমে তাদের অমানবিক এবং নৃশংসতার ফিরিস্তি বাড়তে থাকে। শাপলা চত্ত্বরে তাওহিদী জনতার উপর গণহত্যা, খুন, গুম, দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে ফাসি দিয়ে নেতৃত্ব শুন্য করার চক্রান্ত চালিয়ে যায়। তিনটি বিনা ভোটের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতসহ সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং উন্নয়নের নামে সীমাহীন লুটপাটের মহা উৎসব চলতে থাকে। তাদের এই জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তীব্র হতে থাকে। ২০২৪ সালে যখন মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে আবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার নামে আওয়ামীলীগের দলীয় লোকদের মাধ্যমে সরকারী চাকরী কুক্ষিগতের ষড়যন্ত্র করা করা হয়। তখন এদেশের ছাত্র সমাজ প্রতিবাদ গড়ে তোলে। ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্মম হামলা এবং গুলি চালানো হলে সর্বস্তরের মানুষ এ আন্দোলনে নেমে আসে। তাদের গণপ্রতিরোধে খুনি হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মজীবী এবং ছাত্র জনতার আত্মত্যাগে রচিত হলো দুই হাজার চব্বিশের জুলাই বিপ্লব তথা দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
ইকতিয়ার হোসেন সাকিব – একটি সংগ্রামী জীবনের গল্প
জুলাই যোদ্ধা ইকতিয়ার হোসেন সাকিব একজন তরুণ ছাত্র, যিনি চট্টগ্রামের ওমর গনি এম.এইস. ডিগ্রী কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন। জন্মছেন ২০০০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে। তাঁর জন্মস্থান ও নিজ জেলা – দুটিই চট্টগ্রাম, এবং এই নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ঈদগাহ্ সি.এম.বি. কলোনীতেই তাঁর স্থায়ী বাসস্থান।
সাকিবের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সীমিত আয়ের একটি বড় পরিবারে। তাঁর পিতা মোঃ সৈয়দ আহমেদ একজন পেশাদার গাড়িচালক, যিনি বয়সের ভারে ৬৫ বছর বয়সেও পরিবারের হাল ধরে আছেন। তার মা রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী, যিনি ৪৫ বছর বয়সেও সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব দক্ষ হাতে সামলান।
সাকিব ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছিলেন। নিজের পড়াশোনার খরচ যোগানো এবং পরিবারের পাশে থাকার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন। আজ সাকিব শুধু একজন আহত শিক্ষার্থী নন, তিনি দেশের প্রতিবাদী তরুণদের প্রতীক। তার মত সাহসী তরুণদের স্বপ্ন একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখার।
যেভাবে সংগ্রামের সূচনা
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নানা কায়দায় দেশকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিনত করেছিল। দেশের মানুষকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। আলেম সমাজ এবং ইসলামপন্থী জনগণের উপর নেমে আসে অবর্ননীয় জুলুম। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নির্মূলের নানা পন্থা অবলম্বন করা হয়। জনগণের বাক-স্বাধীনতা থেকে শুরু করে জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয়। খুন, গুম, আয়নাঘর, বিনা ভোটের নির্বাচনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা অযোক্তিক কোটার নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করে দলীয় লোকদেরকে নিয়োগ দেয় অবৈধ সরকার।
তাদের এসকল জুলুম-নির্যানের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধতে শুরু করে। ২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে কোটা প্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা দিলেও ২০২৪ সালে প্রহসনমূলক রায়ের কোটার নামের জুলুম প্রথা আবার ফিরিয়ে আনা হয়। ১ জুলাইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোটা প্রথা বিলুপ্তির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে জবি, জাবি, চবি, রাবিসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবাদ মিছিল-কর্মসুচি হয়। ১৫ জুলাই ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা এবং ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হলে এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে যায়। তখন এ আন্দোলন আর কোটাবিরোধী আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ আন্দোলন দেশের সব শ্রেনির আন্দোলনে রুপ লাভ করে। ছাত্র-জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে পুরো মাস জুড়ে প্রতিবাদ চলতে থাকে। এবং চট্টগ্রামেও আন্দোলন চলে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার উপর হামলা করে। তাদের গুলিতে অনেকে শহীদ হন এবং দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অনেক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়।
জুলাই বিপ্লবের দিনগুলিতে ছাত্র-জনতার হত্যার বিচারের দাবিতে যখন দেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে তখন সাকিবও নিজে সে আন্দোলনে অংশগ্রহন করে। পরবর্তীতে এ আন্দোলন হাসিনা সরকারের পতনের এক দফাতে পরিণত হয়।
খুনি হাসিনার পতনের আগের দিন ৪ আগষ্ট ২০২৪, একদফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিলে হঠাৎ তাদের আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা। তাদের লাঠি, হকিস্টিক এবং দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সাকিবের চোখ ও মাথা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। চিকিৎসা করানো হলেও এখনও তিনি ভালোভাবে চোখে দেখতে পারেন না। মাথায় আঘাতের কারনে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরন
আহত ব্যক্তির জবানিতে নির্মমতার বিবরণ
“৪ আগষ্ট ২০২৪ দুপুর ১১.৩০টার দিকে যখন একদফা-একদাবী আন্দোলনের ডাকে মিছিল বের হয়, তখন আমরা সকলে মিলে অবস্থান নিই নিউমার্কেট মোড়ে । এ অবস্থায় আমরা আন্দোলন করতে থাকি, হঠাৎ পুলিশ ও ছাত্রলীগ মিলে হামলা করে। এতে আমার মাথায় তারা লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে আঘাত হানে, আমি মাথা ও চোখে মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হই। পরে ছাত্র-জনতা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখনো ডান চোখে দেখতে অসুবিধা হয়, আর মাথার আঘাতের কারণে কিছু মনে থাকে না।”
হামলাকারীদের তথ্য: ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, পুলিশ
ঘটনার স্থান: নিউমার্কেট, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল: বেলা ১১.৩০, ৪ আগস্ট ২০২৪
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তিনি মাথা ও চোখে মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। আহত অবস্থায় ছাত্র-জনতা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চোখের অপারেশন করা হয় ফজলিক চক্ষু হাসপাতালে এবং চোখের জন্য লায়ন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আর শরীরে আঘাতের জন্য মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেননি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া প্রয়োজন।
এক নজরে ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম: ইকতিয়ার হোসেন সাকিব
জন্ম তারিখ: ০১/০২/২০০০
জন্মস্থান: চট্টগ্রাম
পেশা : ছাত্র
জেলা: চট্টগ্রাম
প্রতিষ্ঠান: ওমর গনি এম.এইস. ডিগ্রী কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ঈদগাহ সি.এম.বি. কলোনী , ইউনিয়ন: ১২নং থানা: ডবলমুরিং, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা: ঐ
পরিবারের সংক্ষিপ্ত তথ্য
পিতার নাম: মো: সৈয়দ আহমেদ
পিতার পেশা ও বয়স: ড্রাইভার, ৬৫ বছর
মায়ের নাম: রোকেয়া বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৪৫ বছর
মাসিক আয়: ৯০০০
আয়ের উৎস: চাকরি
আহত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক: পিতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ১১
ভাই-বোনদের তথ্যঃ
ভাই: মোঃ রাকিব (২৭ বছর) – চাকরিজীবী
ভাই: মোঃ জাকির (২৮ বছর) – প্রতিবন্ধী
ভাই: মোঃ শাহজান (২৩ বছর) – ছাত্র
বোন: তাহমিনা আক্তার (২০ বছর) – অনার্স অধ্যয়নরত
২০০৮ সালের একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ সরকার। ক্ষমতা লাভের পর থেকেই দেশের মানুষ জান, মাল, ইজ্জতের স্বাধীনতা হারায়। মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়। বাংলাদেশকে পরাধীন এবং মেরুদন্ডহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের নেতাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় দেশপ্রেমীক সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়। পর্যায়ক্রমে তাদের অমানবিক এবং নৃশংসতার ফিরিস্তি বাড়তে থাকে। শাপলা চত্ত্বরে তাওহিদী জনতার উপর গণহত্যা, খুন, গুম, দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে ফাসি দিয়ে নেতৃত্ব শুন্য করার চক্রান্ত চালিয়ে যায়। তিনটি বিনা ভোটের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতসহ সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং উন্নয়নের নামে সীমাহীন লুটপাটের মহা উৎসব চলতে থাকে। তাদের এই জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তীব্র হতে থাকে। ২০২৪ সালে যখন মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে আবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রথা ফিরিয়ে আনার নামে আওয়ামীলীগের দলীয় লোকদের মাধ্যমে সরকারী চাকরী কুক্ষিগতের ষড়যন্ত্র করা করা হয়। তখন এদেশের ছাত্র সমাজ প্রতিবাদ গড়ে তোলে। ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্মম হামলা এবং গুলি চালানো হলে সর্বস্তরের মানুষ এ আন্দোলনে নেমে আসে। তাদের গণপ্রতিরোধে খুনি হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মজীবী এবং ছাত্র জনতার আত্মত্যাগে রচিত হলো দুই হাজার চব্বিশের জুলাই বিপ্লব তথা দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
ইকতিয়ার হোসেন সাকিব – একটি সংগ্রামী জীবনের গল্প
জুলাই যোদ্ধা ইকতিয়ার হোসেন সাকিব একজন তরুণ ছাত্র, যিনি চট্টগ্রামের ওমর গনি এম.এইস. ডিগ্রী কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন। জন্মছেন ২০০০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে। তাঁর জন্মস্থান ও নিজ জেলা – দুটিই চট্টগ্রাম, এবং এই নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ঈদগাহ্ সি.এম.বি. কলোনীতেই তাঁর স্থায়ী বাসস্থান।
সাকিবের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সীমিত আয়ের একটি বড় পরিবারে। তাঁর পিতা মোঃ সৈয়দ আহমেদ একজন পেশাদার গাড়িচালক, যিনি বয়সের ভারে ৬৫ বছর বয়সেও পরিবারের হাল ধরে আছেন। তার মা রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী, যিনি ৪৫ বছর বয়সেও সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব দক্ষ হাতে সামলান।
সাকিব ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছিলেন। নিজের পড়াশোনার খরচ যোগানো এবং পরিবারের পাশে থাকার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন। আজ সাকিব শুধু একজন আহত শিক্ষার্থী নন, তিনি দেশের প্রতিবাদী তরুণদের প্রতীক। তার মত সাহসী তরুণদের স্বপ্ন একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখার।
যেভাবে সংগ্রামের সূচনা
স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নানা কায়দায় দেশকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তিতে পরিনত করেছিল। দেশের মানুষকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। আলেম সমাজ এবং ইসলামপন্থী জনগণের উপর নেমে আসে অবর্ননীয় জুলুম। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের নির্মূলের নানা পন্থা অবলম্বন করা হয়। জনগণের বাক-স্বাধীনতা থেকে শুরু করে জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া হয়। খুন, গুম, আয়নাঘর, বিনা ভোটের নির্বাচনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা অযোক্তিক কোটার নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করে দলীয় লোকদেরকে নিয়োগ দেয় অবৈধ সরকার।
তাদের এসকল জুলুম-নির্যানের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধতে শুরু করে। ২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে কোটা প্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা দিলেও ২০২৪ সালে প্রহসনমূলক রায়ের কোটার নামের জুলুম প্রথা আবার ফিরিয়ে আনা হয়। ১ জুলাইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোটা প্রথা বিলুপ্তির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে জবি, জাবি, চবি, রাবিসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবাদ মিছিল-কর্মসুচি হয়। ১৫ জুলাই ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা এবং ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হলে এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে যায়। তখন এ আন্দোলন আর কোটাবিরোধী আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ আন্দোলন দেশের সব শ্রেনির আন্দোলনে রুপ লাভ করে। ছাত্র-জনতা হত্যার বিচারের দাবিতে পুরো মাস জুড়ে প্রতিবাদ চলতে থাকে। এবং চট্টগ্রামেও আন্দোলন চলে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার উপর হামলা করে। তাদের গুলিতে অনেকে শহীদ হন এবং দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অনেক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়।
জুলাই বিপ্লবের দিনগুলিতে ছাত্র-জনতার হত্যার বিচারের দাবিতে যখন দেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে তখন সাকিবও নিজে সে আন্দোলনে অংশগ্রহন করে। পরবর্তীতে এ আন্দোলন হাসিনা সরকারের পতনের এক দফাতে পরিণত হয়।
খুনি হাসিনার পতনের আগের দিন ৪ আগষ্ট ২০২৪, একদফা দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিলে হঠাৎ তাদের আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ এবং ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা। তাদের লাঠি, হকিস্টিক এবং দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সাকিবের চোখ ও মাথা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। চিকিৎসা করানো হলেও এখনও তিনি ভালোভাবে চোখে দেখতে পারেন না। মাথায় আঘাতের কারনে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরন
আহত ব্যক্তির জবানিতে নির্মমতার বিবরণ
“৪ আগষ্ট ২০২৪ দুপুর ১১.৩০টার দিকে যখন একদফা-একদাবী আন্দোলনের ডাকে মিছিল বের হয়, তখন আমরা সকলে মিলে অবস্থান নিই নিউমার্কেট মোড়ে । এ অবস্থায় আমরা আন্দোলন করতে থাকি, হঠাৎ পুলিশ ও ছাত্রলীগ মিলে হামলা করে। এতে আমার মাথায় তারা লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে আঘাত হানে, আমি মাথা ও চোখে মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হই। পরে ছাত্র-জনতা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখনো ডান চোখে দেখতে অসুবিধা হয়, আর মাথার আঘাতের কারণে কিছু মনে থাকে না।”
হামলাকারীদের তথ্য: ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, পুলিশ
ঘটনার স্থান: নিউমার্কেট, চট্টগ্রাম
আহত হওয়ার সময়কাল: বেলা ১১.৩০, ৪ আগস্ট ২০২৪
চিকিৎসা সম্পর্কিত সামগ্রিক বর্ণনা
দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তিনি মাথা ও চোখে মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। আহত অবস্থায় ছাত্র-জনতা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চোখের অপারেশন করা হয় ফজলিক চক্ষু হাসপাতালে এবং চোখের জন্য লায়ন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আর শরীরে আঘাতের জন্য মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেননি।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা
চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া প্রয়োজন।
এক নজরে ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম: ইকতিয়ার হোসেন সাকিব
জন্ম তারিখ: ০১/০২/২০০০
জন্মস্থান: চট্টগ্রাম
পেশা : ছাত্র
জেলা: চট্টগ্রাম
প্রতিষ্ঠান: ওমর গনি এম.এইস. ডিগ্রী কলেজ
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ঈদগাহ সি.এম.বি. কলোনী , ইউনিয়ন: ১২নং থানা: ডবলমুরিং, জেলা: চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা: ঐ
পরিবারের সংক্ষিপ্ত তথ্য
পিতার নাম: মো: সৈয়দ আহমেদ
পিতার পেশা ও বয়স: ড্রাইভার, ৬৫ বছর
মায়ের নাম: রোকেয়া বেগম
মায়ের পেশা ও বয়স: গৃহিণী, ৪৫ বছর
মাসিক আয়: ৯০০০
আয়ের উৎস: চাকরি
আহত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক: পিতা
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ১১
ভাই-বোনদের তথ্যঃ
ভাই: মোঃ রাকিব (২৭ বছর) – চাকরিজীবী
ভাই: মোঃ জাকির (২৮ বছর) – প্রতিবন্ধী
ভাই: মোঃ শাহজান (২৩ বছর) – ছাত্র
বোন: তাহমিনা আক্তার (২০ বছর) – অনার্স অধ্যয়নরত
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍