মো: নাছির উদ্দিন
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা : ব্যবসী, মৎস খাবারের দোকান
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্মপরিচয়
নাসির উদ্দিন একটি নাম, যা আজ শুধু একজন মানুষের পরিচয় নয়, বরং একটি সময়ের, একটি সংগ্রামের, একটি প্রতিবাদী চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার ৭ নম্বর মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামে এক প্রাচীন, সংস্কার-আচ্ছন্ন সমাজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মামুদুল হক ছিলেন একজন প্রবাসী, যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরাতেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য, আর মা মেহেরুন নেছা একজন স্নেহময়ী গৃহিণী। ঘরের ভেতরেই গড়ে তুলেছিলেন ভালোবাসা, নৈতিকতা ও সাহসের পাঠশালা। সাত সদস্যের একটি ঘনিষ্ঠ পরিবারে বেড়ে উঠা নাসির ছোটবেলা থেকেই ছিলেন একটু আলাদা, একটু বেশি সচেতন, একটু বেশি প্রশ্নকারী।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখে ধরা পড়তে থাকে চারপাশের অসাম্য, দুর্নীতি আর ক্ষমতার দম্ভ। সাধারণ জীবনযাপনের মাঝে থেকেও তার ভিতরে গড়ে উঠতে থাকে এক অসাধারণ দৃঢ়তা। মৎস্য খাদ্য ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও তিনি কখনও নিজেকে কেবল ব্যবসায়ী ভাবেননি—বরং নিজেকে ভাবতেন সমাজের পরিবর্তনের একজন ক্ষুদ্র সৈনিক। ফেনীর মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল জীবিকার সন্ধান করেননি, বরং নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় যখন সারাদেশ জ্বলছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আগুনে, তখন নাসির উদ্দিন নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীনচেতা অধিকার আদায়ের এক অগ্রগামী যোদ্ধা, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে কুণ্ঠিত হননি। সহযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, মিছিল-মিটিংয়ে সাহসের সঙ্গে অংশ নেওয়া এবং সর্বোপরি নিজের অস্তিত্ব দিয়ে প্রতিবাদী চেতনার উদাহরণ স্থাপন করা—এই ছিল তার কাজ, এই ছিল তার পরিচয়। সেই আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনতার কণ্ঠস্বর, এক অবিচল উপস্থিতি, যার চোখে ছিল জেগে ওঠা সময়ের স্বপ্ন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে, চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্বরে আমি এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সহিংসতার শিকার হই, যা আমার জীবনের দিক পরিবর্তনকারী একটি কালো অধ্যায়ে পরিণত হয়। সেদিন আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পি.টি.আই. গেটসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে, যেন চারপাশের পরিবেশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সেই নির্মম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বর্ষিত গুলির মধ্যে একটি আমার ডান পায়ে ঢুকে দেহ ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে যায় এবং আরেকটি গুলি আমার বাম পায়ে প্রবেশ করে গভীরভাবে আটকে যায়, যার ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ ও অসহ্য যন্ত্রণায় আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। চারদিকে তখন আতঙ্ক, হাহাকার আর প্রাণ বাঁচানোর আকুতি—মানুষ ছুটছে জীবন হাতে করে, আর আমি নিথর হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় আশপাশের কিছু সহৃদয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ থাকলেও, কয়েকদিন পর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ঢাকার শ্যামলির সেফা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার বাম পায়ের ভিতরে আটকে থাকা গুলি অপসারণ করা হয়।
এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন আমাকে ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণা ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, তেমনি মানসিকভাবে একটি গহ্বরের মধ্যে পড়ে যাই, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সীমারেখা ছিল খুবই অস্পষ্ট। কিন্তু এই ব্যক্তিগত ক্ষতই হয়ে ওঠে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক—একটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, ক্ষমতার অহংকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা লড়াইয়ের নীরব সাক্ষ্য। এই ঘটনা আজ শুধু আমার একার নয়, বরং আমাদের সময়ের এক গূঢ় সত্যের নির্মম দলিল।
চিকিৎসা
গুরুতর আহত অবস্থায় আমি যখন ট্রাংক রোডের রক্তাক্ত রাজপথে পড়ে ছিলাম, তখন চারপাশের আতঙ্ক ও মৃত্যুভয়ের মাঝেও কয়েকজন সহৃদয় মানুষ আমার পাশে দাঁড়ান—যেন সেই নৃশংসতার মাঝেও মানবতার একটি দীপ্ত আলো। তাদের সহায়তায় আমি কোনোরকমে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফেনীর মহিপাল উপশম জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। গুলির ক্ষতস্থান থেকে অবিরাম রক্তপাত, অসহনীয় যন্ত্রণা, আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে মৃত্যুর চাপা উপস্থিতি আমাকে এক অজানা শূন্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। চিকিৎসকরা আপৎকালীনভাবে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন, কিন্তু গুলিটি আমার শরীরে গভীরভাবে বসে থাকায় তা তখন বের করা সম্ভব হয়নি।
পরদিন, ৬ আগস্ট ২০২৪ বাম পায়ের ক্রমাগত ফোলা, পচন এবং যন্ত্রণার কারণে আমি আবার চিকিৎসা নিতে বাধ্য হই। সেদিন ফেনী সদর হাসপাতালের আউটডোরে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। ততক্ষণে ব্যথা আমার স্নায়ু ছুঁয়ে গেছে—শরীর তখন শুধু রক্তের নয়, আতঙ্ক, ক্ষোভ আর প্রতিকারহীন এক নিরব প্রতিবাদের ভাষায় কাঁদছিল। কিন্তু সেখানেও গুলিটি অপসারণের মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। অবশেষে জীবন যখন অবিচার ও অবহেলার মাঝখানে দুলছিল, তখন আমি ঢাকার শ্যামলির সেফা জেনারেল হাসপাতালের দ্বারস্থ হই। ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেখানে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার বাম পায়ের গভীরে আটকে থাকা সেই ঘাতক গুলিটি অপসারণ করা হয়।
কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা ও ক্ষত তখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। দীর্ঘ এক মাস পর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে, আবারও ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি। সেখানে নতুন করে ব্যান্ডেজ, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানালেন, পায়ের মাংসপেশি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সঠিক পুনর্বাসন ছাড়া স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হতে পারে। আমি সেই কঠিন সময়কে মোকাবিলা করেছি ধৈর্য, যন্ত্রণা আর মনের শক্তি দিয়ে যেন প্রতিটি সেলাই, প্রতিটি ওষুধ আর প্রতিটি যন্ত্রণাদায়ক শ্বাস আমাকে নতুন করে জন্ম দিয়েছিল।
একনজরে
নাম :নাসির উদ্দিন
জন্মতারিখ: ০১//১/১৯৮৮
জন্মস্থান : আস্রাফপুর, ফেনী
পেশা : ব্যবসী, মৎস খাবারের দোকান
স্থায়ী ঠিকানা: ও বর্তমান ঠিকানাঃ ফেনী
গ্রাম : আশ্রাফপুর
ইউনিয়ন : ৭ নং মাতুভূঞা
থানা : দাগনভূঞা
জেলা : ফেনী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মামুদুল হক
পিতার পেশাঃ প্রবাসী,
মায়ের নাম : মেহেরুন নেছা গৃহীনি
পরিবারের সদস্য সংখ্যাঃ ০৭
ঘটনার স্থানঃ ট্রাঙ্ক রোড দোয়েল চত্বর
আহত হওয়ার সময়কাল :০৫/০৮/২০২৪
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউদ্দিন বাবলু ও অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসী
নাসির উদ্দিন একটি নাম, যা আজ শুধু একজন মানুষের পরিচয় নয়, বরং একটি সময়ের, একটি সংগ্রামের, একটি প্রতিবাদী চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে। ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার ৭ নম্বর মাতুভূঞা ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামে এক প্রাচীন, সংস্কার-আচ্ছন্ন সমাজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা মামুদুল হক ছিলেন একজন প্রবাসী, যিনি নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরাতেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য, আর মা মেহেরুন নেছা একজন স্নেহময়ী গৃহিণী। ঘরের ভেতরেই গড়ে তুলেছিলেন ভালোবাসা, নৈতিকতা ও সাহসের পাঠশালা। সাত সদস্যের একটি ঘনিষ্ঠ পরিবারে বেড়ে উঠা নাসির ছোটবেলা থেকেই ছিলেন একটু আলাদা, একটু বেশি সচেতন, একটু বেশি প্রশ্নকারী।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখে ধরা পড়তে থাকে চারপাশের অসাম্য, দুর্নীতি আর ক্ষমতার দম্ভ। সাধারণ জীবনযাপনের মাঝে থেকেও তার ভিতরে গড়ে উঠতে থাকে এক অসাধারণ দৃঢ়তা। মৎস্য খাদ্য ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও তিনি কখনও নিজেকে কেবল ব্যবসায়ী ভাবেননি—বরং নিজেকে ভাবতেন সমাজের পরিবর্তনের একজন ক্ষুদ্র সৈনিক। ফেনীর মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি কেবল জীবিকার সন্ধান করেননি, বরং নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় যখন সারাদেশ জ্বলছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আগুনে, তখন নাসির উদ্দিন নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছিলেন স্বাধীনচেতা অধিকার আদায়ের এক অগ্রগামী যোদ্ধা, যিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে কুণ্ঠিত হননি। সহযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, মিছিল-মিটিংয়ে সাহসের সঙ্গে অংশ নেওয়া এবং সর্বোপরি নিজের অস্তিত্ব দিয়ে প্রতিবাদী চেতনার উদাহরণ স্থাপন করা—এই ছিল তার কাজ, এই ছিল তার পরিচয়। সেই আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনতার কণ্ঠস্বর, এক অবিচল উপস্থিতি, যার চোখে ছিল জেগে ওঠা সময়ের স্বপ্ন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে, চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্বরে আমি এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সহিংসতার শিকার হই, যা আমার জীবনের দিক পরিবর্তনকারী একটি কালো অধ্যায়ে পরিণত হয়। সেদিন আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পি.টি.আই. গেটসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে, যেন চারপাশের পরিবেশ মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সেই নির্মম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বর্ষিত গুলির মধ্যে একটি আমার ডান পায়ে ঢুকে দেহ ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে যায় এবং আরেকটি গুলি আমার বাম পায়ে প্রবেশ করে গভীরভাবে আটকে যায়, যার ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ ও অসহ্য যন্ত্রণায় আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। চারদিকে তখন আতঙ্ক, হাহাকার আর প্রাণ বাঁচানোর আকুতি—মানুষ ছুটছে জীবন হাতে করে, আর আমি নিথর হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় আশপাশের কিছু সহৃদয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ থাকলেও, কয়েকদিন পর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ঢাকার শ্যামলির সেফা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার বাম পায়ের ভিতরে আটকে থাকা গুলি অপসারণ করা হয়।
এই নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন আমাকে ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণা ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, তেমনি মানসিকভাবে একটি গহ্বরের মধ্যে পড়ে যাই, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সীমারেখা ছিল খুবই অস্পষ্ট। কিন্তু এই ব্যক্তিগত ক্ষতই হয়ে ওঠে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক—একটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, ক্ষমতার অহংকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা লড়াইয়ের নীরব সাক্ষ্য। এই ঘটনা আজ শুধু আমার একার নয়, বরং আমাদের সময়ের এক গূঢ় সত্যের নির্মম দলিল।
চিকিৎসা
গুরুতর আহত অবস্থায় আমি যখন ট্রাংক রোডের রক্তাক্ত রাজপথে পড়ে ছিলাম, তখন চারপাশের আতঙ্ক ও মৃত্যুভয়ের মাঝেও কয়েকজন সহৃদয় মানুষ আমার পাশে দাঁড়ান—যেন সেই নৃশংসতার মাঝেও মানবতার একটি দীপ্ত আলো। তাদের সহায়তায় আমি কোনোরকমে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফেনীর মহিপাল উপশম জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। গুলির ক্ষতস্থান থেকে অবিরাম রক্তপাত, অসহনীয় যন্ত্রণা, আর প্রতিটি নিঃশ্বাসে মৃত্যুর চাপা উপস্থিতি আমাকে এক অজানা শূন্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। চিকিৎসকরা আপৎকালীনভাবে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন, কিন্তু গুলিটি আমার শরীরে গভীরভাবে বসে থাকায় তা তখন বের করা সম্ভব হয়নি।
পরদিন, ৬ আগস্ট ২০২৪ বাম পায়ের ক্রমাগত ফোলা, পচন এবং যন্ত্রণার কারণে আমি আবার চিকিৎসা নিতে বাধ্য হই। সেদিন ফেনী সদর হাসপাতালের আউটডোরে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। ততক্ষণে ব্যথা আমার স্নায়ু ছুঁয়ে গেছে—শরীর তখন শুধু রক্তের নয়, আতঙ্ক, ক্ষোভ আর প্রতিকারহীন এক নিরব প্রতিবাদের ভাষায় কাঁদছিল। কিন্তু সেখানেও গুলিটি অপসারণের মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। অবশেষে জীবন যখন অবিচার ও অবহেলার মাঝখানে দুলছিল, তখন আমি ঢাকার শ্যামলির সেফা জেনারেল হাসপাতালের দ্বারস্থ হই। ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সেখানে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার বাম পায়ের গভীরে আটকে থাকা সেই ঘাতক গুলিটি অপসারণ করা হয়।
কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা ও ক্ষত তখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। দীর্ঘ এক মাস পর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে, আবারও ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি। সেখানে নতুন করে ব্যান্ডেজ, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানালেন, পায়ের মাংসপেশি অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সঠিক পুনর্বাসন ছাড়া স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হতে পারে। আমি সেই কঠিন সময়কে মোকাবিলা করেছি ধৈর্য, যন্ত্রণা আর মনের শক্তি দিয়ে যেন প্রতিটি সেলাই, প্রতিটি ওষুধ আর প্রতিটি যন্ত্রণাদায়ক শ্বাস আমাকে নতুন করে জন্ম দিয়েছিল।
একনজরে
নাম :নাসির উদ্দিন
জন্মতারিখ: ০১//১/১৯৮৮
জন্মস্থান : আস্রাফপুর, ফেনী
পেশা : ব্যবসী, মৎস খাবারের দোকান
স্থায়ী ঠিকানা: ও বর্তমান ঠিকানাঃ ফেনী
গ্রাম : আশ্রাফপুর
ইউনিয়ন : ৭ নং মাতুভূঞা
থানা : দাগনভূঞা
জেলা : ফেনী
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম : মামুদুল হক
পিতার পেশাঃ প্রবাসী,
মায়ের নাম : মেহেরুন নেছা গৃহীনি
পরিবারের সদস্য সংখ্যাঃ ০৭
ঘটনার স্থানঃ ট্রাঙ্ক রোড দোয়েল চত্বর
আহত হওয়ার সময়কাল :০৫/০৮/২০২৪
আক্রমণকারী : আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউদ্দিন বাবলু ও অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসী
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍