মোঃ সাইফুল ইসলাম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পেশা: চাকরি প্রত্যাশী
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
জন্ম
মোঃ সাইফুল ইসলামের জন্ম ২০০২ সালের ১৮ আগস্ট, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের চাম্বল গ্রামে। এটি একটি উপকূলবর্তী, নিম্নআয়ের জনপদ যেখানে প্রধান পেশা মৎস্য শিকার ও কৃষিকাজ। তাঁর জন্ম এমন এক পরিবারে, যেখানে প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামই একমাত্র চেনা দৃশ্য। তাঁর বাবা মোঃ আমান উল্লাহ একজন জেলে, যার বয়স বর্তমানে ৫৪ বছর। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সমুদ্রে মাছ ধরতে যান তিনি, মাসে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে পরিবার চলে। মা শামশুজ্জাহান গৃহিণী; তিনি সংসার সামলান অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট সদস্যের পরিবারটি চরম অর্থকষ্টে বেড়ে উঠেছে। সাইফুলের ছোটবেলা কেটেছে নানা প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যে। শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ থাকলেও, দারিদ্র্যের দেয়াল পেরোনো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। লেখাপড়া শেষ না করেই জীবনের প্রয়োজনে তাঁকে পেশা খুঁজে বের করতে হয়। তবে তাঁর মধ্যে ছিল তীব্র আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে নিজের পথ খোঁজার এক অদম্য চেষ্টা। তিনি ছোটবেলা থেকেই বুঝতেন, এই সমাজে গরিবের জন্য ন্যায়বিচার এক দূরাশা। তাঁর চাওয়া ছিল নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দুঃখ মোচন করা। স্বপ্ন ছিল ছোট্ট একটা খামার গড়ে তোলা, যেখানে তিনি গরু পালবেন, সবজি চাষ করবেন। এই গ্রামীণ জীবনের নিঃশব্দ কাব্যের মধ্যেই সাইফুল গড়ে তুলছিলেন এক প্রতিবাদী চরিত্র, যার ভিতরে ছিল প্রতিরোধের আগুন।
কর্ম
সাইফুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে এক সময় খামারের কাজে যুক্ত হন। স্থানীয় এক খামারে গরু ও হাঁস-মুরগি দেখভালের কাজ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়েতে ফটোগ্রাফি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতেন। যেমন সাউন্ড সিস্টেম বসানো, স্টেজ বানানো, আলো লাগানো ইত্যাদি। যদিও এইসব কাজ ছিল অনিয়মিত ও পারিশ্রমিক কম, কিন্তু তিনি কখনো কোনো অপরাধমূলক বা অপমানজনক কাজ বেছে নেননি। স্বপ্ন ছিল নিজে একটি খামার গড়ে তোলা, যেখানে সৎভাবে উপার্জনের সুযোগ থাকবে এবং পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হবে। সাইফুলের ভাবনা ছিল, যদি নিজ এলাকায় কিছু জমি পেতেন বা কেউ সহযোগিতা করতো, তবে ছোট পরিসরে হলেও গরু, হাঁস-মুরগির খামার করে স্বনির্ভর হওয়া যেত। দুর্ভাগ্যক্রমে বাড়িঘর ছাড়া তাঁর পরিবারে আর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তাঁর কর্মদক্ষতা ছিল পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ। কখনো হাল ছাড়েননি। নিজের শ্রমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি প্রতিদিন ছুটেছেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের চোখে তিনি কেবল একটি সংখ্যা, আর একদিন সেই সংখ্যা হয়ে ওঠেন আহতদের তালিকায়।
পারিবারিক বর্ণনা
সাইফুল ইসলামের পরিবার আট সদস্যের। পরিবারটি একটি ভাঙাচোরা কাঁচা ঘরে বাস করে, যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে ছাউনি থেকে পানি পড়ে, আর শীতকালে রাত কাটে কাঁপতে কাঁপতে। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হলেন তাঁর পিতা আমান উল্লাহ, যিনি পেশায় একজন জেলে। বয়সের ভারে তাঁর শ্রমশক্তি কমে গেলেও এখনো সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরতে হয়। তাঁর মাসিক আয় গড়ে ১৪,০০০ টাকা, যা দিয়ে কোনোভাবেই আটজনের সংসার চলে না। মা শামশুজ্জাহান একজন গৃহিণী, বয়স ৪৬। তিনি সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। খাবার, চিকিৎসা, সন্তানদের দেখভাল সব কিছু। ভাইবোনদের মধ্যে বড় বোন শাফিয়া জান্নাত (১৯) বিবাহিতা, বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। অপর বোন সায়মা সুলতানা (১৪) অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, এবং ছোট ভাই শাকের উল্লাহ (১১) এখনো ছাত্র। সাইফুল নিজে ছিলেন এই পরিবারের ভবিষ্যতের আশা, যিনি একদিন চাকরি করে পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে টেনে তুলবেন। এমন বিশ্বাস ছিল মা-বাবার চোখে। কিন্তু তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সেই স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন চিকিৎসার খরচ, ঔষধ, এবং সংসারের চাপে পরিবারটি একেবারে বিপর্যস্ত। তাঁরা দিন গুনছেন, কখন কোথা থেকে একটু সহানুভূতি বা সাহায্য এসে তাঁদের সন্তানটিকে আবার সুস্থ করে তুলবে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সাল ছিল এক নির্মম অত্যাচার আর গণবিরোধী নীতির প্রতিবাদে জেগে ওঠার বছর। ছাত্রসমাজ, চাকরি প্রত্যাশী তরুণরা এবং সাধারণ জনগণ মিলে একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে পরিচিত সেই গণপ্রতিরোধ। রাষ্ট্রীয় নিয়োগে দলীয়করণ, চাকরিতে বৈষম্য, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো যোগ্য তরুণের সামনে রাস্তা খোলা না থাকা, মেধাবীদের পদে পদে বঞ্চিত হওয়ার চিত্র দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছিল। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী, যশোর থেকে ঢাকায়। সর্বত্র এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। বাঁশখালীর চাম্বল ছিল এর অন্যতম এক ঘাঁটি, যেখানে স্থানীয় ছাত্রদের পাশাপাশি তরুণ বেকার যুবকরাও একত্র হয়েছিল। এই আন্দোলন ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ, স্লোগানে স্লোগানে মুখর। কিন্তু সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এই আন্দোলন দমনে মরিয়া হয়ে ওঠে। কোথাও পুলিশ, কোথাও ছাত্রলীগ। তারা একযোগে রাস্তায় রক্ত ঝরায়। এই প্রেক্ষাপটেই চাম্বলের সাহসী তরুণ সাইফুল ইসলাম প্রতিবাদের মিছিলে যোগ দেন, বুক চিতিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, যে তাঁর নিজের বুকেই সেদিন গুলি এসে থামবে। রাষ্ট্র যে ভয় পায় প্রতিবাদী যুবকদের, তার প্রমাণ হয়ে ওঠে সাইফুল।
আন্দোলনে যোগদান
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, একটি বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক পড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল বাজারে। এই মিছিল ছিল রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ছাত্র ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতি অবিচার, এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের দাবিতে। মোঃ সাইফুল ইসলাম সে দিন এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর দৃষ্টিতে এই আন্দোলন ছিল তাঁর নিজের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ তিনিও এক বেকার তরুণ, যাকে শত চেষ্টা করেও চাকরির কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। মিছিলটি চাম্বল বাংলাবাজার মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎই চারপাশ থেকে আক্রমণ শুরু হয়। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, স্থানীয় চেয়ারম্যান মুজিবের নেতৃত্বে।যাদের হাতে ছিল ইট, পাটকেল, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র। তারা মিছিল লক্ষ্য করে হিংস্র হামলা চালায়। এদের সাথে পুলিশ বাহিনীও যুক্ত হয়। হঠাৎই গুলি ছোড়া শুরু হয়, যার একটি এসে সাইফুল ইসলামের বুকে বিদ্ধ হয়।একবার নয়, দুইবার। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা আন্দোলনকারীরা তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, একটি বাসায় আশ্রয় নেন এবং পরে স্থানীয় এক চিকিৎসক ডেকে আনা হয়। চিকিৎসক একটি বুলেট বের করলেও আরেকটি থেকে যায় বুকে। রাষ্ট্র যাকে অবজ্ঞা করেছিল, সেই সাইফুল এখন হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রীয় বর্বরতার জীবন্ত সাক্ষী। তাঁর বুকের বুলেট এখন যেন প্রতিটি বৈষম্যের প্রতীক। এক নিরীহ যুবক যিনি খামার গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁকে রাষ্ট্রের বন্দুক বন্দী করে রাখে আজও।
আহত পরবর্তী জীবন
গুলিবিদ্ধ হবার পর মোঃ সাইফুল ইসলামের জীবন এক কঠিন যন্ত্রণার অধ্যায়ে প্রবেশ করে। চিকিৎসা না পাওয়ার কষ্ট, পরিবারে অর্থসংকট, বুকের ভেতরে রয়ে যাওয়া বুলেটের অসহ্য ব্যথা। সব মিলিয়ে তিনি এক অন্ধকারে ডুবে যান। প্রথম দিকে গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ খেয়েছিলেন, কিন্তু তারপরে আর কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি পরিবারের অর্থনৈতিক অসামর্থ্যের কারণে। বুকের বাঁ পাশে রয়ে যাওয়া বুলেটটি এখন মাঝেমধ্যে অসহ্য ব্যথা সৃষ্টি করে, হাঁটা-চলার সময়, ঠান্ডা বাতাসে, কিংবা শুয়ে থাকার সময় ব্যথা তীব্র হয়। তিনি এখন দৈনন্দিন কাজও করতে পারেন না, ফলে আগের মতো খামারে কাজ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা কোনো শ্রমভিত্তিক কাজ করার মতো শারীরিক সামর্থ্য আর নেই। তাঁর আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরেছে, মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। যে যুবক একদিন পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন, এখন নিজেই এক অসহায় শরীর ও মনে পরিণত হয়েছেন। তাঁর মা-বাবা প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় দিন কাটান, কখন আবার সাইফুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষেও তাঁকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আজও তিনি বুকে গুলির ব্যথা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। কেউ যদি পাশে এসে দাঁড়ায়, কেউ যদি বলেন, “চলো, তোমার চিকিৎসা করিয়ে দিই।”
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
সাইফুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথম চিকিৎসা করা হয় এক স্থানীয় ডাক্তার দ্বারা। তিনি একটি বুলেট তাঁর বুক থেকে বের করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরবর্তী এক্স-রে রিপোর্টে জানা যায়, তাঁর বুকের বাঁ পাশের মাংসপেশিতে আরেকটি বুলেট আটকে রয়েছে। এই বুলেটটি গভীরে প্রবেশ করায় অপারেশন ছাড়া বের করা সম্ভব নয়। বর্তমানে এই বুলেটটি তাঁর প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মাঝেমধ্যে প্রচণ্ড বুকে ব্যথা ওঠে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এবং রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করতে না পারলে শরীরে ইনফেকশন, স্থায়ী পঙ্গুত্ব কিংবা হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর পরিবারের মাসিক আয় ১৪,০০০ টাকা। যা দিয়ে সংসার চালানোই দুষ্কর, সেখানে অপারেশন ও ওষুধপত্রের খরচ বহন করা একেবারেই অসম্ভব। এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল বা সরকারি সহায়তা তিনি পাননি। চিকিৎসার অভাবে আজও বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা সেই বুলেটটি তাঁর শরীরকে তিলে তিলে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় চিকিৎসা ছাড়া তাঁর আরোগ্য সম্ভব নয়। প্রয়োজন দ্রুত অপারেশন, সঠিক ওষুধ এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা।
প্রস্তাবনা
প্রথমত, তাঁর দেহে অবস্থানরত বুলেটটি অপারেশনের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা অত্যাবশ্যক।
দ্বিতীয়ত, চিকিৎসার পুরো ব্যয়, হাসপাতালের ভর্তি, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পথ্য ও বিশ্রামের সময়ের ভরণপোষণ, সবকিছু রাষ্ট্রীয় বা দাতব্য সহায়তার মাধ্যমে বহন করা উচিত।
তৃতীয়ত, সাইফুল একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, যিনি আগে খামারের কাজ করতেন। তাঁর আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁকে একটি ছোট খামার স্থাপনের জন্য প্রাথমিক অনুদান ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। চাম্বল গ্রামে একটি গরু-ছাগলের খামার, সাথে হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুললে তিনি আবার আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। এ জন্য তাঁকে অল্প জমি ভাড়া, ঘর নির্মাণ, পশুপালন উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা জরুরি। পাশাপাশি, তাঁর চলাফেরার জন্য একটি বাইসাইকেল বা সহজ যানবাহন দেওয়া গেলে গ্রামে ও আশেপাশে নিজ ব্যবসা পরিচালনায় সুবিধা হবে।
সর্বোপরি, তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ তিনি নিজের স্বার্থে নয়, গোটা জাতির ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
একনজরে
আহত ব্যক্তির পুরো নাম : সাইফুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১৮-০৮-২০০২
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা: চাকরি প্রত্যাশী
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চাম্বল, ইউনিয়ন : চাম্বল, থানা : বাঁশখালী জেলা : চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা : মুন্সীখীল, থানা: মুন্সীখীল, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মোঃ আমান উল্লাহ
পিতার পেশা ও বয়স : জেলে, ৫৪
মায়ের নাম : শামশুজ্জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৬
মাসিক আয় ১৪,০০০
আয়ের উৎস : পিতার উপার্জন
পূর্বে যে ধরণের পেশায় নিয়োজিত: খামারের কাজ, ফটোগ্রাফি, ইভ্যান্ট ম্যানেজমেন্ট
বাড়ি: মাটির ঘর
সম্পদ: ঘর ছাড়া কোন জায়গা নেই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ০৮
ভাই-বোনদের পরিচয়
১. শাফিয়া জান্নাত, বয়স: ১৯, বিবাহিতা, সম্পর্ক: বোন
২. সায়মা সুলতানা, বয়স: ১৪ পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক : বোন
৩. শাকের উল্লাহ, বয়স: ১১, পেশা: ছাত্র, ভাই
ঘটনার স্থান: চাম্বল বাংলাবাজার মোড়
আক্রমণকারী: পুলিশ ও ছাত্রলীগ (চাম্বল চেয়ারম্যান মুজিব, বেলাল, নেজাম, ফারুক, বাবুল)
আহত হওয়ার সময়কাল ০৪-০৮-২০২৪, বিকাল ৪টা
মোঃ সাইফুল ইসলামের জন্ম ২০০২ সালের ১৮ আগস্ট, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের চাম্বল গ্রামে। এটি একটি উপকূলবর্তী, নিম্নআয়ের জনপদ যেখানে প্রধান পেশা মৎস্য শিকার ও কৃষিকাজ। তাঁর জন্ম এমন এক পরিবারে, যেখানে প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামই একমাত্র চেনা দৃশ্য। তাঁর বাবা মোঃ আমান উল্লাহ একজন জেলে, যার বয়স বর্তমানে ৫৪ বছর। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সমুদ্রে মাছ ধরতে যান তিনি, মাসে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে পরিবার চলে। মা শামশুজ্জাহান গৃহিণী; তিনি সংসার সামলান অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট সদস্যের পরিবারটি চরম অর্থকষ্টে বেড়ে উঠেছে। সাইফুলের ছোটবেলা কেটেছে নানা প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যে। শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ থাকলেও, দারিদ্র্যের দেয়াল পেরোনো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। লেখাপড়া শেষ না করেই জীবনের প্রয়োজনে তাঁকে পেশা খুঁজে বের করতে হয়। তবে তাঁর মধ্যে ছিল তীব্র আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে নিজের পথ খোঁজার এক অদম্য চেষ্টা। তিনি ছোটবেলা থেকেই বুঝতেন, এই সমাজে গরিবের জন্য ন্যায়বিচার এক দূরাশা। তাঁর চাওয়া ছিল নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দুঃখ মোচন করা। স্বপ্ন ছিল ছোট্ট একটা খামার গড়ে তোলা, যেখানে তিনি গরু পালবেন, সবজি চাষ করবেন। এই গ্রামীণ জীবনের নিঃশব্দ কাব্যের মধ্যেই সাইফুল গড়ে তুলছিলেন এক প্রতিবাদী চরিত্র, যার ভিতরে ছিল প্রতিরোধের আগুন।
কর্ম
সাইফুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে এক সময় খামারের কাজে যুক্ত হন। স্থানীয় এক খামারে গরু ও হাঁস-মুরগি দেখভালের কাজ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়েতে ফটোগ্রাফি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতেন। যেমন সাউন্ড সিস্টেম বসানো, স্টেজ বানানো, আলো লাগানো ইত্যাদি। যদিও এইসব কাজ ছিল অনিয়মিত ও পারিশ্রমিক কম, কিন্তু তিনি কখনো কোনো অপরাধমূলক বা অপমানজনক কাজ বেছে নেননি। স্বপ্ন ছিল নিজে একটি খামার গড়ে তোলা, যেখানে সৎভাবে উপার্জনের সুযোগ থাকবে এবং পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হবে। সাইফুলের ভাবনা ছিল, যদি নিজ এলাকায় কিছু জমি পেতেন বা কেউ সহযোগিতা করতো, তবে ছোট পরিসরে হলেও গরু, হাঁস-মুরগির খামার করে স্বনির্ভর হওয়া যেত। দুর্ভাগ্যক্রমে বাড়িঘর ছাড়া তাঁর পরিবারে আর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তাঁর কর্মদক্ষতা ছিল পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে পূর্ণ। কখনো হাল ছাড়েননি। নিজের শ্রমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি প্রতিদিন ছুটেছেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের চোখে তিনি কেবল একটি সংখ্যা, আর একদিন সেই সংখ্যা হয়ে ওঠেন আহতদের তালিকায়।
পারিবারিক বর্ণনা
সাইফুল ইসলামের পরিবার আট সদস্যের। পরিবারটি একটি ভাঙাচোরা কাঁচা ঘরে বাস করে, যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে ছাউনি থেকে পানি পড়ে, আর শীতকালে রাত কাটে কাঁপতে কাঁপতে। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হলেন তাঁর পিতা আমান উল্লাহ, যিনি পেশায় একজন জেলে। বয়সের ভারে তাঁর শ্রমশক্তি কমে গেলেও এখনো সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরতে হয়। তাঁর মাসিক আয় গড়ে ১৪,০০০ টাকা, যা দিয়ে কোনোভাবেই আটজনের সংসার চলে না। মা শামশুজ্জাহান একজন গৃহিণী, বয়স ৪৬। তিনি সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। খাবার, চিকিৎসা, সন্তানদের দেখভাল সব কিছু। ভাইবোনদের মধ্যে বড় বোন শাফিয়া জান্নাত (১৯) বিবাহিতা, বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। অপর বোন সায়মা সুলতানা (১৪) অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, এবং ছোট ভাই শাকের উল্লাহ (১১) এখনো ছাত্র। সাইফুল নিজে ছিলেন এই পরিবারের ভবিষ্যতের আশা, যিনি একদিন চাকরি করে পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে টেনে তুলবেন। এমন বিশ্বাস ছিল মা-বাবার চোখে। কিন্তু তাঁর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সেই স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন চিকিৎসার খরচ, ঔষধ, এবং সংসারের চাপে পরিবারটি একেবারে বিপর্যস্ত। তাঁরা দিন গুনছেন, কখন কোথা থেকে একটু সহানুভূতি বা সাহায্য এসে তাঁদের সন্তানটিকে আবার সুস্থ করে তুলবে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সাল ছিল এক নির্মম অত্যাচার আর গণবিরোধী নীতির প্রতিবাদে জেগে ওঠার বছর। ছাত্রসমাজ, চাকরি প্রত্যাশী তরুণরা এবং সাধারণ জনগণ মিলে একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে পরিচিত সেই গণপ্রতিরোধ। রাষ্ট্রীয় নিয়োগে দলীয়করণ, চাকরিতে বৈষম্য, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো যোগ্য তরুণের সামনে রাস্তা খোলা না থাকা, মেধাবীদের পদে পদে বঞ্চিত হওয়ার চিত্র দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছিল। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী, যশোর থেকে ঢাকায়। সর্বত্র এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। বাঁশখালীর চাম্বল ছিল এর অন্যতম এক ঘাঁটি, যেখানে স্থানীয় ছাত্রদের পাশাপাশি তরুণ বেকার যুবকরাও একত্র হয়েছিল। এই আন্দোলন ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ, স্লোগানে স্লোগানে মুখর। কিন্তু সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এই আন্দোলন দমনে মরিয়া হয়ে ওঠে। কোথাও পুলিশ, কোথাও ছাত্রলীগ। তারা একযোগে রাস্তায় রক্ত ঝরায়। এই প্রেক্ষাপটেই চাম্বলের সাহসী তরুণ সাইফুল ইসলাম প্রতিবাদের মিছিলে যোগ দেন, বুক চিতিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, যে তাঁর নিজের বুকেই সেদিন গুলি এসে থামবে। রাষ্ট্র যে ভয় পায় প্রতিবাদী যুবকদের, তার প্রমাণ হয়ে ওঠে সাইফুল।
আন্দোলনে যোগদান
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, একটি বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক পড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল বাজারে। এই মিছিল ছিল রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ছাত্র ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতি অবিচার, এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের দাবিতে। মোঃ সাইফুল ইসলাম সে দিন এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর দৃষ্টিতে এই আন্দোলন ছিল তাঁর নিজের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ তিনিও এক বেকার তরুণ, যাকে শত চেষ্টা করেও চাকরির কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। মিছিলটি চাম্বল বাংলাবাজার মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎই চারপাশ থেকে আক্রমণ শুরু হয়। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, স্থানীয় চেয়ারম্যান মুজিবের নেতৃত্বে।যাদের হাতে ছিল ইট, পাটকেল, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র। তারা মিছিল লক্ষ্য করে হিংস্র হামলা চালায়। এদের সাথে পুলিশ বাহিনীও যুক্ত হয়। হঠাৎই গুলি ছোড়া শুরু হয়, যার একটি এসে সাইফুল ইসলামের বুকে বিদ্ধ হয়।একবার নয়, দুইবার। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা আন্দোলনকারীরা তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, একটি বাসায় আশ্রয় নেন এবং পরে স্থানীয় এক চিকিৎসক ডেকে আনা হয়। চিকিৎসক একটি বুলেট বের করলেও আরেকটি থেকে যায় বুকে। রাষ্ট্র যাকে অবজ্ঞা করেছিল, সেই সাইফুল এখন হয়ে ওঠেন রাষ্ট্রীয় বর্বরতার জীবন্ত সাক্ষী। তাঁর বুকের বুলেট এখন যেন প্রতিটি বৈষম্যের প্রতীক। এক নিরীহ যুবক যিনি খামার গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁকে রাষ্ট্রের বন্দুক বন্দী করে রাখে আজও।
আহত পরবর্তী জীবন
গুলিবিদ্ধ হবার পর মোঃ সাইফুল ইসলামের জীবন এক কঠিন যন্ত্রণার অধ্যায়ে প্রবেশ করে। চিকিৎসা না পাওয়ার কষ্ট, পরিবারে অর্থসংকট, বুকের ভেতরে রয়ে যাওয়া বুলেটের অসহ্য ব্যথা। সব মিলিয়ে তিনি এক অন্ধকারে ডুবে যান। প্রথম দিকে গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ খেয়েছিলেন, কিন্তু তারপরে আর কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি পরিবারের অর্থনৈতিক অসামর্থ্যের কারণে। বুকের বাঁ পাশে রয়ে যাওয়া বুলেটটি এখন মাঝেমধ্যে অসহ্য ব্যথা সৃষ্টি করে, হাঁটা-চলার সময়, ঠান্ডা বাতাসে, কিংবা শুয়ে থাকার সময় ব্যথা তীব্র হয়। তিনি এখন দৈনন্দিন কাজও করতে পারেন না, ফলে আগের মতো খামারে কাজ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা কোনো শ্রমভিত্তিক কাজ করার মতো শারীরিক সামর্থ্য আর নেই। তাঁর আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরেছে, মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। যে যুবক একদিন পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন, এখন নিজেই এক অসহায় শরীর ও মনে পরিণত হয়েছেন। তাঁর মা-বাবা প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় দিন কাটান, কখন আবার সাইফুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষেও তাঁকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আজও তিনি বুকে গুলির ব্যথা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। কেউ যদি পাশে এসে দাঁড়ায়, কেউ যদি বলেন, “চলো, তোমার চিকিৎসা করিয়ে দিই।”
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
সাইফুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথম চিকিৎসা করা হয় এক স্থানীয় ডাক্তার দ্বারা। তিনি একটি বুলেট তাঁর বুক থেকে বের করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরবর্তী এক্স-রে রিপোর্টে জানা যায়, তাঁর বুকের বাঁ পাশের মাংসপেশিতে আরেকটি বুলেট আটকে রয়েছে। এই বুলেটটি গভীরে প্রবেশ করায় অপারেশন ছাড়া বের করা সম্ভব নয়। বর্তমানে এই বুলেটটি তাঁর প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মাঝেমধ্যে প্রচণ্ড বুকে ব্যথা ওঠে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এবং রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করতে না পারলে শরীরে ইনফেকশন, স্থায়ী পঙ্গুত্ব কিংবা হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর পরিবারের মাসিক আয় ১৪,০০০ টাকা। যা দিয়ে সংসার চালানোই দুষ্কর, সেখানে অপারেশন ও ওষুধপত্রের খরচ বহন করা একেবারেই অসম্ভব। এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল বা সরকারি সহায়তা তিনি পাননি। চিকিৎসার অভাবে আজও বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা সেই বুলেটটি তাঁর শরীরকে তিলে তিলে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় চিকিৎসা ছাড়া তাঁর আরোগ্য সম্ভব নয়। প্রয়োজন দ্রুত অপারেশন, সঠিক ওষুধ এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা।
প্রস্তাবনা
প্রথমত, তাঁর দেহে অবস্থানরত বুলেটটি অপারেশনের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা অত্যাবশ্যক।
দ্বিতীয়ত, চিকিৎসার পুরো ব্যয়, হাসপাতালের ভর্তি, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পথ্য ও বিশ্রামের সময়ের ভরণপোষণ, সবকিছু রাষ্ট্রীয় বা দাতব্য সহায়তার মাধ্যমে বহন করা উচিত।
তৃতীয়ত, সাইফুল একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, যিনি আগে খামারের কাজ করতেন। তাঁর আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁকে একটি ছোট খামার স্থাপনের জন্য প্রাথমিক অনুদান ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। চাম্বল গ্রামে একটি গরু-ছাগলের খামার, সাথে হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুললে তিনি আবার আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। এ জন্য তাঁকে অল্প জমি ভাড়া, ঘর নির্মাণ, পশুপালন উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা জরুরি। পাশাপাশি, তাঁর চলাফেরার জন্য একটি বাইসাইকেল বা সহজ যানবাহন দেওয়া গেলে গ্রামে ও আশেপাশে নিজ ব্যবসা পরিচালনায় সুবিধা হবে।
সর্বোপরি, তাঁর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ তিনি নিজের স্বার্থে নয়, গোটা জাতির ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
একনজরে
আহত ব্যক্তির পুরো নাম : সাইফুল ইসলাম
জন্ম তারিখ : ১৮-০৮-২০০২
জন্মস্থান : বাঁশখালী
পেশা: চাকরি প্রত্যাশী
নিজ জেলা : চট্টগ্রাম
ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: চাম্বল, ইউনিয়ন : চাম্বল, থানা : বাঁশখালী জেলা : চট্টগ্রাম
বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা : মুন্সীখীল, থানা: মুন্সীখীল, জেলা: চট্টগ্রাম
পরিবার সংক্রান্ত তথ্য
পিতার নাম: মোঃ আমান উল্লাহ
পিতার পেশা ও বয়স : জেলে, ৫৪
মায়ের নাম : শামশুজ্জাহান
মায়ের পেশা ও বয়স : গৃহিণী, ৪৬
মাসিক আয় ১৪,০০০
আয়ের উৎস : পিতার উপার্জন
পূর্বে যে ধরণের পেশায় নিয়োজিত: খামারের কাজ, ফটোগ্রাফি, ইভ্যান্ট ম্যানেজমেন্ট
বাড়ি: মাটির ঘর
সম্পদ: ঘর ছাড়া কোন জায়গা নেই
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ০৮
ভাই-বোনদের পরিচয়
১. শাফিয়া জান্নাত, বয়স: ১৯, বিবাহিতা, সম্পর্ক: বোন
২. সায়মা সুলতানা, বয়স: ১৪ পেশা: ছাত্রী, শ্রেণি: ৮ম, সম্পর্ক : বোন
৩. শাকের উল্লাহ, বয়স: ১১, পেশা: ছাত্র, ভাই
ঘটনার স্থান: চাম্বল বাংলাবাজার মোড়
আক্রমণকারী: পুলিশ ও ছাত্রলীগ (চাম্বল চেয়ারম্যান মুজিব, বেলাল, নেজাম, ফারুক, বাবুল)
আহত হওয়ার সময়কাল ০৪-০৮-২০২৪, বিকাল ৪টা
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍