হোম / আহতদের তালিকা / আনোয়ার হোসেন
  আনোয়ার হোসেন

আনোয়ার হোসেন

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

পেশা: চাকুরিজীবী

🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা

আন্দোলনের পটভূমি
আওয়ামী লীগ সরকার তার শাসন টিকিয়ে রাখতে শুরু থেকেই বেছে নিয়েছে দমন-পীড়নের পথ। ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে গুলি চালায় নিরপরাধ মানুষের বুকে, মঞ্চস্থ করে একপাক্ষিক নির্বাচন নামের প্রহসন। দিনের পর দিন চলতে থাকে গুম, খুন, বিচারহীনতা, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাস, এবং মতপ্রকাশের ওপর নিষ্ঠুর দমন। গোটা দেশ যেন পরিণত হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর রাষ্ট্রে, যেখানে মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, প্রতিবাদ করতে প্রাণ হারায়।
এই ভয়াবহতা ব্যতিক্রম ছিল না ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও। বহুদিন চুপ থাকলেও, সেই মাসে দেশের ছাত্র–তরুণ সমাজ যেন জেগে উঠেছিল ঘুম ভেঙে। শিক্ষাগত বৈষম্য, বেকারত্ব, পুলিশের বর্বরতা এবং রাষ্ট্রের উদাসীনতা তাদের রাস্তায় নামিয়ে আনে। ঢাকার উত্তরা, শাহবাগ, ফার্মগেট, আজিমপুর, মিরপুরসহ সারাদেশের রাজপথে ধ্বনিত হয় প্রতিবাদের স্লোগান -“স্বৈরাচারের পতন চাই!”
নিরস্ত্র, সাহসী ছাত্ররা হাতে প্ল্যাকার্ড আর চোখে আগুন নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সত্যের পক্ষে। কিন্তু সরকার তাদের জবাব দেয় আগুন দিয়ে। গুলি চালানো হয় পাখির মতো। বেধড়ক লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান - সব একত্র হয়ে গড়ে তোলে এক বিভীষিকাময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতা।
রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা মিলে যেন ঘোষণা দেয়: “প্রতিবাদ করলেই মৃত্যু”। শত শত তরুণ আহত হয়, কেউ কেউ চিরতরে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তাজা রক্তে ভিজে যায় রাজপথ। কেউ হারায় চোখের দৃষ্টি, কেউ হারায় শরীরের অঙ্গ। সূচনা হয় ইতিহাসের নির্মম এক কালো অধ্যায়ের।

অদম্য আনোয়ার হোসেন
২০২৪ এর জুলাইয়ে নির্মম গণহত্যা ছুয়ে যায় আনোয়ার হোসেনের মনেও। হাজারো লাখো জনতার মতো তিনিও ঘরে বসে থাকতে পারেন নি। সকলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বেরিয়ে পরেন আগস্টের আন্দোলনে।
আনোয়ার হোসেন, জন্ম ২১ জানুয়ারি ২০০২। বাড়ি লস্করহাট, ফেনী। পিতা একরাম হক। একজন ওয়ার্কশপ মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন ফেনী শহরের একটি প্রাইভেট ওয়ার্কশপে। প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হয়ে কঠোর পরিশ্রম করতেন পরিবারের জন্য।


শহীদ মিনার, ফেনী ট্রাংক রোড
৫ আগস্ট ২০২৪। ফেনী শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শহীদ মিনার এলাকা, যা বহুদিন ধরে গণআন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সেদিন শহীদ মিনারে সমবেত হয়েছিল শত শত ছাত্র-জনতা। সকলের দাবি ছিল একটিই- খুনী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন। আনোয়ার হোসেনও সেই মিছিলের অংশ ছিলেন, কারণ তিনি মনে করতেন এই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের নয়, এই সমাজের প্রতিটি মানুষের।

জেলখানার দিক থেকে ছাত্রলীগের গুলি
দুপুরের দিকে নিশ্চিত হয় খুনী হাসিনার পলায়নের খবর। কিন্তু তখনও থেমে যায়নি তার পোষা হায়েনার দলেরা। দুপুর ২ টার সময় ফেনীর শহীদ মিনার এলাকায় নেমে আসে এক বিভীষিকা। হঠাৎ শুরু হয় ভয়াবহ হামলা। ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসীরা, বিশেষ করে স্থানীয় নেতা জিয়া উদ্দীন বাবলু-এর নেতৃত্বে, ফেনী জেলখানার দিক থেকে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে। সন্ত্রাসীদের এ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল না জনতা। সরাসরি গুলি চালানো হয় জনতার উপর। গুলির আঘাতে অনেকেই মারাত্নক আহত হন। অনেকেই লুটিয়ে পরেন মাটিতে। আহত হন আনোয়ার হোসেন, একটি গুলি লাগে বাম পায়ে, আরেকটি ডান পায়ে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যান রাস্তায়। চারপাশে তখন শুধু রক্ত আর আর্তনাদ।

চিকিৎসা
আহত হওয়ার পরপরই স্থানীয়রা ও আশপাশের মানুষ আনোয়ার হোসেনকে টেনে তুলে নেয় উপশম হাসপাতালে। তার দুই পা রক্তাক্ত, গুলির ক্ষত গভীর। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন কিছু সময়ের জন্য।
হাসপাতালে বাম পায়ের গুলি অপারেশন করে বের করা হয়। তবে ডান পায়ের গুলিটি আজও শরীরে রয়ে গেছে। হাঁটতে কষ্ট হয়, পা ফুলে যায়, অনেক সময় জ্বর আসে।


চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
ডান পায়ের গুলি এখনও শরীরেই আছে। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন এবং প্রয়োজনীয় অপারেশন এর মাধ্যমে গুলি বের করা প্রয়োজন।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রস্তাবনা:
তিনি একজন দিনমজুর মিস্ত্রী। তার কর্মসংস্থানের জন্য আর্থিক অনুদান দিলে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

প্রস্তাবিত বাজেট:
তাকে এককালীন ১/২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হলে নিজ ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। এছাড়াও মাসিক ১০,০০০ টাকা অনুদান দিলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

ব্যক্তিগত বিবরণ
নাম : আনোয়ার হোসেন
জন্ম তারিখ : ২১-১-২০০২
জন্মস্থান : মোটবী, লস্করহাট, ফেনী
পেশা/ পদবী : চাকুরি
নিজ জেলা : ফেনী
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মোটবী, লস্করহাট, ইউনিয়ন: মোটবী, থানা: ফেনী, জেলা: ফেনী
বর্তমান ঠিকানা : বাসা/মহল্লা: লস্করহাট, এলাকা: লস্করহাট, ইউনিয়ন: মোটবী, থানা: ফেনী, জেলা: ফেনী

পরিবারের তথ্য:
পিতার নাম : একরাম হক
মায়ের নাম : মৃত সুরমা আক্তার
মায়ের পেশা ও বয়স : মৃত
পারিবারিক অবস্থা : মাসিক আয় ৯০০০
আয়ের উৎস : চাকরী
পরিবারের সদস্য সংখ্যা : ৬
ভাই – ইরফান হক, প্রবাসী, বয়স ২৭

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍