মুয়াজ ইবনে কাসেম
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
* পেশা: শিক্ষার্থী (আল জামিয়াতুল সালেহীয়া কামিল মাদ্রাসা)
🩸 আহত হওয়ার ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ণনা
ভূমিকা:
১৮ জুলাই এবং ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড ও মহীপালে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে মুয়াজ ইবনে কাসেমকে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হতে হয়। শান্তিপূর্ণ অবস্থায় নামাজরত অবস্থায় ও মিছিল চলাকালীন তাকে লাঠি, পাথর এবং গুলির আঘাত সহ্য করতে হয়েছে, যা তার বাম হাত ও শরীরে মারাত্মক ক্ষত তৈরি করেছে। এই ঘটনা তার জীবনের সাহস ও ধৈর্যের এক গভীর পরীক্ষা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
জন্মপরিচয়ঃ
মুয়াজ ইবনে কাসেম—এক কিশোর শিক্ষার্থী, যার নাম আজ আন্দোলনের ইতিহাসে লেখা থাকবে সাহস আর ত্যাগের প্রতীক হিসেবে। জন্ম ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, ফেনী জেলার সোনাগাজীর এক সাধারণ গ্রামে—চান্দলায়। তাঁর জন্ম এক দরিদ্র কিন্তু ধর্মপ্রাণ পরিবারে, যেখানে পিতা মোঃ আব্দুল কাশেম ছিলেন গ্রামের মসজিদের ইমাম, বয়স বর্তমানে ৫৬। মাতা জান্নাতুল ফেরদৌস, ৪৬ বছর বয়সী এক গৃহিণী, সংসারের অভাব-অভিযোগ সত্ত্বেও ছেলেদের মানুষ করেছেন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোয়। ছয় সদস্যের এই পরিবারে মুয়াজ ছিলেন সবার আদরের ছোট ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর শিক্ষার ঠিকানা ছিল ফেনীর বিখ্যাত আল জামিয়াতুল সালেহীয়া কামিল মাদ্রাসা। বইয়ের পাতার ভেতর দিয়ে যেমন জ্ঞান অন্বেষণ করতেন, তেমনি হৃদয়ে গেঁথেছিলেন ন্যায় ও সত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।
আজকের এই মুয়াজ, কেবল একজন সাধারণ ছাত্র নন, বরং দেশের সংকটকালে রাজপথে দাঁড়ানো এক তরুণ প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর বর্তমান ঠিকানা ফেনী শহরের নন্দন কটেজ, সালাহিয়া রোডে হলেও, মনে প্রাণে তিনি রয়ে গেছেন চান্দলার সেই গ্রামের সন্তান হিসেবেই।
আন্দোলনে অংশগ্রহণঃ
২০২৪ সালের জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে যখন বাংলাদেশের রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে, তখন হাজারো মানুষের ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়েছিলেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী মুয়াজ। একজন মাদ্রাসাছাত্র হয়েও তিনি রাজনীতির ঝান্ডা হাতে নেননি; তাঁর হাতে ছিল কেবল সত্যের প্রতি আস্থা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, আর আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস।
১৮ জুলাইয়ের সকালে ফেনী শহরের ট্রাঙ্ক রোডের দিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা। তাঁদের হাতে ছিল না কোনো অস্ত্র, ছিল কেবল শ্লোগান আর প্রতিবাদের সুর। মুয়াজও মিছিলে হাঁটছিলেন, কিশোর বয়সের নিষ্পাপ মুখে ফুটে উঠেছিল এক অদম্য দৃঢ়তা।
৪ আগস্ট মহীপালে আবারও একইভাবে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। নামাজরত অবস্থায়ও তাঁদের ওপর নেমে এসেছিল সন্ত্রাস ও গুলির ঝাঁজ। মুয়াজ তখন বুঝেছিলেন—ন্যায়ের লড়াই কখনো সহজ হয় না। তবুও ভয় না পেয়ে তিনি ছিলেন তাঁর অবস্থানে দৃঢ়।
আক্রমণ/ঘটনার বিবরণঃ
১৮ জুলাই, সকাল ১১টার দিকে ট্রাঙ্ক রোডে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আকস্মিকভাবে আক্রমণ চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তপু ও আজিজ নামের দুজন তাদের দলের নেতৃত্বে এসে নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর বর্বর লাঠিচার্জ চালায়। সে সময় মুয়াজের বাম হাতের বাহুতে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। ব্যথা অসহনীয় হলেও তিনি সেদিন হাল ছাড়েননি।
এরপর ৪ আগস্ট, দুপুর দুইটার দিকে মহীপালে ফের একই দৃশ্য। সেদিন ছাত্রলীগের জাবেদসহ আরো কিছু সন্ত্রাসী গুলি বর্ষণ করে ছাত্রদের ওপর। গুলির ছিটা লাগে মুয়াজের শরীরে। শুধু তাই নয়, ভাঙা ইট-পাথরের আঘাতে পূর্বেই আঘাতপ্রাপ্ত তাঁর হাতে আরও মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়। এই আঘাত ছিল কেবল তাঁর শরীরে নয়—বরং গোটা প্রজন্মের স্বাধীন কণ্ঠে সন্ত্রাসের ছুরি চালানোর এক প্রতিচ্ছবি।
চিকিৎসাঃ
১৮ জুলাইয়ের আক্রমণের পরপরই রক্তাক্ত মুয়াজকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে। সেখানে তাঁকে দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা—কিছু ব্যান্ডেজ, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, আর কিছুটা আশ্বাস। তাঁর ছোট্ট কণ্ঠ তখন কেবল বলেছিল, “আমি ভালো আছি,” কিন্তু সেই কথার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অসহনীয় যন্ত্রণার চাপা কান্না।
৪ আগস্টের ঘটনায় আবারও তিনি আহত হলে সেদিন তাড়াহুড়ো করে কোনো সরকারি হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তাঁরা সাহস পাননি। তখন তাঁর ভাইয়ের এক বন্ধু ওষুধ এনে দেন, সেগুলো খেয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হন। তবুও আজও তাঁর হাতে ব্যথা থেকে যায়, ক্ষতস্থানের যন্ত্রণা তাঁকে মাঝেমধ্যেই মনে করিয়ে দেয় সেই কালো দিনগুলোর কথা।
চিকিৎসার দিক থেকে মুয়াজের জন্য এখনো বড় কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়নি। পরিবারটির সামর্থ্য নেই উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করার। সুযোগ ও অর্থের যোগান পেলে হয়তো তাঁর হাতের ক্ষত আরও ভালোভাবে সারানো সম্ভব হবে।
পরিবার ও আর্থিক অবস্থাঃ
মুয়াজের পরিবার সংখ্যায় ছয়জন। পিতা মোঃ আব্দুল কাশেম একজন ইমাম, মাসিক আয় মাত্র ২০,০০০ টাকা। এই আয়ের ওপর নির্ভর করে চলছে পুরো সংসার। মা জান্নাতুল ফেরদৌস একজন গৃহিণী, সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তিনিই সামলান। দুই বড় ভাইয়ের মধ্যে আহমদ মুত্তাকী (২৫) চাকরিজীবী আর জুবাইর আল মুজাহিদ (২৩) পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে। ভাইয়েরা কেউই ধনী নন, কিন্তু প্রত্যেকেই সংগ্রামী।
সংসারের এমন অবস্থায় মুয়াজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব। পরিবারের সদস্যরা চান তাঁর উন্নত চিকিৎসা হোক, কিন্তু অর্থের অভাবে তাঁরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। তবুও তাঁদের মুখে হতাশা নেই; আছে এক অদম্য বিশ্বাস—ন্যায়ের লড়াই বৃথা যায় না।
একনজরে:
* নাম: মুয়াজ ইবনে কাসেম
* জন্মতারিখ: ১৫/০১/২০০৯
* জন্মস্থান: ফেনী
* পেশা: শিক্ষার্থী (আল জামিয়াতুল সালেহীয়া কামিল মাদ্রাসা)
* বর্তমান ঠিকানা: নন্দন কটেজ, সালাহিয়া রোড, ফেনী সদর
* স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম চান্দলা, ইউনিয়ন চর মজলিশপুর ১ নং, থানা সোনাগাজী, জেলা ফেনী
* পিতার নাম: মোঃ আব্দুল কাশেম (ইমাম, বয়স ৫৬)
* মাতার নাম: জান্নাতুল ফেরদৌস (গৃহিণী, বয়স ৪৬)
* ভাই: আহমদ মুত্তাকী (২৫, চাকরিজীবী), জুবাইর আল মুজাহিদ (২৩, ছাত্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)
* পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৬
* মাসিক আয়: ২০,০০০ টাকা (আয়ের উৎস – ইমামতি)
* ঘটনার স্থান: ফেনী ট্রাঙ্ক রোড ও মহীপাল
* আক্রমণকারী: ছাত্রলীগ নেতা তপু, আজিজ, জাবেদসহ অন্যান্য
* আহত হওয়ার সময়কাল: ১৮ জুলাই সকাল ১১টা, ৪ আগস্ট দুপুর ২টা
* চিকিৎসা: প্রাথমিক চিকিৎসা ও অল্প কিছু ওষুধ; এখনো বড় কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়নি
১৮ জুলাই এবং ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড ও মহীপালে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে মুয়াজ ইবনে কাসেমকে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হতে হয়। শান্তিপূর্ণ অবস্থায় নামাজরত অবস্থায় ও মিছিল চলাকালীন তাকে লাঠি, পাথর এবং গুলির আঘাত সহ্য করতে হয়েছে, যা তার বাম হাত ও শরীরে মারাত্মক ক্ষত তৈরি করেছে। এই ঘটনা তার জীবনের সাহস ও ধৈর্যের এক গভীর পরীক্ষা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
জন্মপরিচয়ঃ
মুয়াজ ইবনে কাসেম—এক কিশোর শিক্ষার্থী, যার নাম আজ আন্দোলনের ইতিহাসে লেখা থাকবে সাহস আর ত্যাগের প্রতীক হিসেবে। জন্ম ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, ফেনী জেলার সোনাগাজীর এক সাধারণ গ্রামে—চান্দলায়। তাঁর জন্ম এক দরিদ্র কিন্তু ধর্মপ্রাণ পরিবারে, যেখানে পিতা মোঃ আব্দুল কাশেম ছিলেন গ্রামের মসজিদের ইমাম, বয়স বর্তমানে ৫৬। মাতা জান্নাতুল ফেরদৌস, ৪৬ বছর বয়সী এক গৃহিণী, সংসারের অভাব-অভিযোগ সত্ত্বেও ছেলেদের মানুষ করেছেন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোয়। ছয় সদস্যের এই পরিবারে মুয়াজ ছিলেন সবার আদরের ছোট ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর শিক্ষার ঠিকানা ছিল ফেনীর বিখ্যাত আল জামিয়াতুল সালেহীয়া কামিল মাদ্রাসা। বইয়ের পাতার ভেতর দিয়ে যেমন জ্ঞান অন্বেষণ করতেন, তেমনি হৃদয়ে গেঁথেছিলেন ন্যায় ও সত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।
আজকের এই মুয়াজ, কেবল একজন সাধারণ ছাত্র নন, বরং দেশের সংকটকালে রাজপথে দাঁড়ানো এক তরুণ প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর বর্তমান ঠিকানা ফেনী শহরের নন্দন কটেজ, সালাহিয়া রোডে হলেও, মনে প্রাণে তিনি রয়ে গেছেন চান্দলার সেই গ্রামের সন্তান হিসেবেই।
আন্দোলনে অংশগ্রহণঃ
২০২৪ সালের জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে যখন বাংলাদেশের রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে, তখন হাজারো মানুষের ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়েছিলেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী মুয়াজ। একজন মাদ্রাসাছাত্র হয়েও তিনি রাজনীতির ঝান্ডা হাতে নেননি; তাঁর হাতে ছিল কেবল সত্যের প্রতি আস্থা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, আর আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস।
১৮ জুলাইয়ের সকালে ফেনী শহরের ট্রাঙ্ক রোডের দিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা। তাঁদের হাতে ছিল না কোনো অস্ত্র, ছিল কেবল শ্লোগান আর প্রতিবাদের সুর। মুয়াজও মিছিলে হাঁটছিলেন, কিশোর বয়সের নিষ্পাপ মুখে ফুটে উঠেছিল এক অদম্য দৃঢ়তা।
৪ আগস্ট মহীপালে আবারও একইভাবে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। নামাজরত অবস্থায়ও তাঁদের ওপর নেমে এসেছিল সন্ত্রাস ও গুলির ঝাঁজ। মুয়াজ তখন বুঝেছিলেন—ন্যায়ের লড়াই কখনো সহজ হয় না। তবুও ভয় না পেয়ে তিনি ছিলেন তাঁর অবস্থানে দৃঢ়।
আক্রমণ/ঘটনার বিবরণঃ
১৮ জুলাই, সকাল ১১টার দিকে ট্রাঙ্ক রোডে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আকস্মিকভাবে আক্রমণ চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তপু ও আজিজ নামের দুজন তাদের দলের নেতৃত্বে এসে নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর বর্বর লাঠিচার্জ চালায়। সে সময় মুয়াজের বাম হাতের বাহুতে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। ব্যথা অসহনীয় হলেও তিনি সেদিন হাল ছাড়েননি।
এরপর ৪ আগস্ট, দুপুর দুইটার দিকে মহীপালে ফের একই দৃশ্য। সেদিন ছাত্রলীগের জাবেদসহ আরো কিছু সন্ত্রাসী গুলি বর্ষণ করে ছাত্রদের ওপর। গুলির ছিটা লাগে মুয়াজের শরীরে। শুধু তাই নয়, ভাঙা ইট-পাথরের আঘাতে পূর্বেই আঘাতপ্রাপ্ত তাঁর হাতে আরও মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়। এই আঘাত ছিল কেবল তাঁর শরীরে নয়—বরং গোটা প্রজন্মের স্বাধীন কণ্ঠে সন্ত্রাসের ছুরি চালানোর এক প্রতিচ্ছবি।
চিকিৎসাঃ
১৮ জুলাইয়ের আক্রমণের পরপরই রক্তাক্ত মুয়াজকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে। সেখানে তাঁকে দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা—কিছু ব্যান্ডেজ, কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, আর কিছুটা আশ্বাস। তাঁর ছোট্ট কণ্ঠ তখন কেবল বলেছিল, “আমি ভালো আছি,” কিন্তু সেই কথার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অসহনীয় যন্ত্রণার চাপা কান্না।
৪ আগস্টের ঘটনায় আবারও তিনি আহত হলে সেদিন তাড়াহুড়ো করে কোনো সরকারি হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হুমকির কারণে তাঁরা সাহস পাননি। তখন তাঁর ভাইয়ের এক বন্ধু ওষুধ এনে দেন, সেগুলো খেয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হন। তবুও আজও তাঁর হাতে ব্যথা থেকে যায়, ক্ষতস্থানের যন্ত্রণা তাঁকে মাঝেমধ্যেই মনে করিয়ে দেয় সেই কালো দিনগুলোর কথা।
চিকিৎসার দিক থেকে মুয়াজের জন্য এখনো বড় কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়নি। পরিবারটির সামর্থ্য নেই উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করার। সুযোগ ও অর্থের যোগান পেলে হয়তো তাঁর হাতের ক্ষত আরও ভালোভাবে সারানো সম্ভব হবে।
পরিবার ও আর্থিক অবস্থাঃ
মুয়াজের পরিবার সংখ্যায় ছয়জন। পিতা মোঃ আব্দুল কাশেম একজন ইমাম, মাসিক আয় মাত্র ২০,০০০ টাকা। এই আয়ের ওপর নির্ভর করে চলছে পুরো সংসার। মা জান্নাতুল ফেরদৌস একজন গৃহিণী, সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব তিনিই সামলান। দুই বড় ভাইয়ের মধ্যে আহমদ মুত্তাকী (২৫) চাকরিজীবী আর জুবাইর আল মুজাহিদ (২৩) পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে। ভাইয়েরা কেউই ধনী নন, কিন্তু প্রত্যেকেই সংগ্রামী।
সংসারের এমন অবস্থায় মুয়াজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব। পরিবারের সদস্যরা চান তাঁর উন্নত চিকিৎসা হোক, কিন্তু অর্থের অভাবে তাঁরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। তবুও তাঁদের মুখে হতাশা নেই; আছে এক অদম্য বিশ্বাস—ন্যায়ের লড়াই বৃথা যায় না।
একনজরে:
* নাম: মুয়াজ ইবনে কাসেম
* জন্মতারিখ: ১৫/০১/২০০৯
* জন্মস্থান: ফেনী
* পেশা: শিক্ষার্থী (আল জামিয়াতুল সালেহীয়া কামিল মাদ্রাসা)
* বর্তমান ঠিকানা: নন্দন কটেজ, সালাহিয়া রোড, ফেনী সদর
* স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম চান্দলা, ইউনিয়ন চর মজলিশপুর ১ নং, থানা সোনাগাজী, জেলা ফেনী
* পিতার নাম: মোঃ আব্দুল কাশেম (ইমাম, বয়স ৫৬)
* মাতার নাম: জান্নাতুল ফেরদৌস (গৃহিণী, বয়স ৪৬)
* ভাই: আহমদ মুত্তাকী (২৫, চাকরিজীবী), জুবাইর আল মুজাহিদ (২৩, ছাত্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)
* পরিবারের সদস্য সংখ্যা: ৬
* মাসিক আয়: ২০,০০০ টাকা (আয়ের উৎস – ইমামতি)
* ঘটনার স্থান: ফেনী ট্রাঙ্ক রোড ও মহীপাল
* আক্রমণকারী: ছাত্রলীগ নেতা তপু, আজিজ, জাবেদসহ অন্যান্য
* আহত হওয়ার সময়কাল: ১৮ জুলাই সকাল ১১টা, ৪ আগস্ট দুপুর ২টা
* চিকিৎসা: প্রাথমিক চিকিৎসা ও অল্প কিছু ওষুধ; এখনো বড় কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়নি
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍